রাত্রিকালীন ভীতি
| রাত্রিকালীন ভীতি | |
|---|---|
| প্রতিশব্দ | ঘুমের আতঙ্ক, রাতের আতঙ্ক |
| বিশেষত্ব | মনোরোগবিদ্যা, ঘুমের ওষুধ, ক্লিনিকাল সাইকোলজি |
| লক্ষণ | আতঙ্ক বা ভয়ের অনুভূতি, হঠাৎ পেশি সঞ্চালন বেড়ে যাওয়া, ধাক্কাধাক্কি করা, ঘাম হওয়া, দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস, হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি |
| রোগের সূত্রপাত | শৈশবকাল; বয়স বাড়ার সাথে সাথে লক্ষণগুলি হ্রাস পেতে থাকে |
| স্থিতিকাল | ১ থেকে ১০ মিনিট যাবত |
| পার্থক্যমূলক রোগনির্ণয় | মৃগীরোগ, দু;স্বপ্ন |
রাত্রিকালীন ভীতি একপ্রকার নিদ্রাজনিতনিত ব্যাধি। একে ঘুমের আতঙ্কও বলা হয়। এ ব্যাধিতে ঘুমের মধ্যে আতঙ্ক বা ভয়ের অনুভূতি সৃষ্টি হয়। এটি সাধারণত ঘুমের ৩য় বা ৪র্থ পর্যায়ের নন-র্যাপিড আই মুভমেন্ট (এনআরইএম) চলাকালীন সময়ে হয়। এটি ঘুমের প্রথম ঘন্টাগুলোয় ঘটে[১] এবং ১ থেকে ১০ মিনিট সময়ব্যাপী স্থায়ী হয়।[২] তবে, বিশেষত শিশুদের ক্ষেত্রে, এটি দীর্ঘস্থায়ীও হতে পারে।[২] রাত্রিকালীন ভীতিকে আন্তর্জাতিক শ্রেণীবিভাগের ঘুমের ব্যাধি অনুসারে এনআরইএম-সম্পর্কিত প্যারাসোমনিয়া বিভাগে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে।[৩] আরইএম-সম্পর্কিত প্যারাসোমনিয়া এবং অন্যান্য প্যারাসোমনিয়া নামে আরও দুটি বিভাগ রয়েছে।[৩] প্যারাসোমনিয়া হলো ঘুমের শুরুতে, ঘুমের মধ্যে বা ঘুমের উত্তেজনার সময় ঘটা অবাঞ্ছিত শারীরিক ঘটনা বা অভিজ্ঞতা।[৪]
রাত্রিকালীন আতঙ্ক সাধারণত শৈশবে শুরু হয় এবং বয়স বাড়ার সাথে সাথে কমে যায়।[২] রাত্রিকালীন আতঙ্কের কারণের মধ্যে রয়েছে- অল্প বয়স, ঘুমের অভাব, ওষুধ, মানসিক চাপ, জ্বর এবং অন্তর্নিহিত ঘুমের ব্যাধি।[৫] ব্যক্তিভেদে এর তীব্রতা এবং মাত্রা ভিন্ন হয়। এর ঘটনাগুলির ব্যবধান সপ্তাহ পর্যন্ত দীর্ঘ এবং মিনিট বা ঘন্টার মতো ছোট হতে পারে। তবে অনেকেই দুঃস্বপ্নকে রাত্রিকালীন আতঙ্ক মনে করে বিভ্রান্ত হতে পারে।[৬]
সাধারণত ডেল্টা স্লিপ বা ধীর-তরঙ্গের ঘুম উত্তেজনার সময় রাত্রিকালীন আতঙ্ক ঘটে।[৭][৬] ডেল্টা স্লিপ প্রায়শই ঘুম চক্রের প্রথমার্ধে ঘটে। এতে বোঝা যায় যে বেশি ডেল্টা-স্লিপ অ্যাক্টিভিটি সম্পন্ন ব্যক্তিদের এই আতঙ্কের প্রবণতা বেশি থাকে। তবে দিনের বেলায় ঘুমানোর সময়ও এটি ঘটতে পারে। অনেকেই রাত্রিকালীন আতঙ্ককে বিভ্রান্তিকর উত্তেজনা ভেবে ভুল করে।[৭]
শৈশবে দুঃস্বপ্ন (আরইএম ঘুমের সময় দেখা খারাপ স্বপ্ন; যা ভয় বা ভয়ের অনুভূতি সৃষ্টি করে) তুলনামূলকভাবে সাধারণ। শৈশবে রাত্রিকালীন আতঙ্ক কম দেখা যায়।[৮] সাধারণভাবে এর প্রকোপ অজানা।[২] ছোট বাচ্চাদের মধ্যে ১৮ মাস বয়সে শতকরা ৩৬.৯% এবং ৩০ মাস বয়সে শতকরা ১৯.৭% রাত্রিকালীন আতঙ্কের অভিজ্ঞতা (ঘুমের আতঙ্কের ব্যাধি থেকে আলাদা। এটি বারবার ঘটে এবং কষ্ট বা দুর্বলতার সৃষ্টি করে) দেখা যায়।[২] প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে মাত্র ২.২% এর মধ্যে এই প্রবণতা দেখা যায়।[২] প্রাচীনকাল থেকেই এই আতঙ্কের কথা জানা যায়। যদিও দ্রুত চোখের নড়াচড়া অধ্যয়ন করার আগ পর্যন্ত দুঃস্বপ্ন থেকে রাত্রিকালীন আতঙ্ককে আলাদা করা অসম্ভব ছিল।[৬]
লক্ষণ ও উপসর্গ
[সম্পাদনা]
রাত্রিকালীন আতঙ্কের সার্বজনীন বৈশিষ্ট্য হল অস্থিরতা, যা খানিকটা প্যানিক অ্যাটাকের মতো।[৯] এসময় আক্রান্তরা সাধারণত চোখ খোলা রেখে "সোজা হয়ে দাঁড়ায়" এবং তাদের মুখে ভয়ের ছাপ থাকে। আক্রান্ত ব্যক্তিরা প্রায়শই ঘুমন্ত অবস্থায় চিৎকার করে বা কথা বলার চেষ্টা করে। তবে এই ধরনের কথা প্রায়শই বোধগম্য হয় না। তাছাড়া তারা সাধারণত ঘামতে থাকে, দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে থাকে এবং তাদের হৃদস্পন্দন দ্রুত (স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত) থাকে। কিছু ক্ষেত্রে ব্যক্তিদের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে আঘাত করতে দেখা যায়। যার মধ্যে ঘুষি মারা বা পালিয়ে যাওয়া অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। ধারণা করা হয় ব্যক্তিরা নিজেদের রক্ষা করার এবং/অথবা শারীরিক আঘাতের সম্ভাব্য হুমকি থেকে পালানোর চেষ্টা করছে। এই আতঙ্কের সময় আক্রান্তরা জেগে থাকলেও তারা বিভ্রান্ত ও অস্থির থাকে। ফলে তাদের সাথে যোগাযোগ করার প্রচেষ্টা বৃথা বলে মনে হবে এবং তাদের পরিচিতজনদের নাও চিনতে পারে। মাঝে মাঝে রাত্রিকালীন আতঙ্কে আক্রান্ত ব্যক্তি জেগে উঠে এবং তাকে জাগানো ব্যক্তির উপর আক্রমণ করতে পারে। যা জাগানো ব্যক্তির জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। রাত্রিকালীন আতঙ্কে আক্রান্তরা তাদের বেশিরভাগই পরের দিন ঘটনাটি মনে রাখেন না।[৭] তবে ছোট স্বপ্নের ছবি বা হ্যালুসিনেশন হতে পারে এবং মনে পড়তে পারে।[৪] ঘুমের মধ্যে হাঁটা এবং রাত্রিকালীন আতঙ্ক একই রকম প্যারাসোমনিয়া প্রকাশ করে বলে রাত্রিকালীন আতঙ্কের সময় ঘুমের মধ্যে হাঁটাও সাধারণ।[৬][১০] শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্ক উভয়ই কোনো ভয়াবহ ঘটনা থেকে পালানোর চেষ্টা করার মতো আচরণ প্রদর্শন করতে পারে; কেউ কেউ বিছানা থেকে উঠে অসহায় অবস্থায় লক্ষ্যহীনভাবে হাঁটতে বা দৌড়াতে শুরু করতে পারে, যা দুর্ঘটনাজনিত আঘাতের ঝুঁকি বাড়ায়।[১১] আশেপাশের লোকজনদের অসাবধানতাবশত উস্কানি দ্বারা অন্যদের আঘাতের ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে শান্ত করার প্রচেষ্টার ফলে সে পালানোর চেষ্টার সময় শারীরিকভাবে হিংসাত্মক প্রতিক্রিয়াও দেখা দিতে পারে।[১২]
পলিসমনোগ্রাফির সময় রাত্রিকালীন আতঙ্কে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ইলেক্ট্রোএনসেফালোগ্রাফি (ইইজি) ডেল্টা অ্যাক্টিভিটির উচ্চ ভোল্টেজ, পেশীর কার্যকলাপ বৃদ্ধি এবং দ্বিগুণ বা দ্রুত হৃদস্পন্দন দেখা যায়। ইইজি দ্বারা পর্যবেক্ষণ করা হলে একটি সাধারণ পর্বের সময় মস্তিষ্কের কার্যকলাপ থিটা এবং আলফা কার্যকলাপ দেখায়। পর্বগুলির মধ্যে ট্যাকিকার্ডিয়া বা উচ্চ হৃদস্পন্দন অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে ট্যাকিপনিয়া (দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়া), ত্বকের লালচেভাব, ডায়াফোরেসিস বা ঘাম হওয়া এবং মাইড্রিয়াসিসের (চোখের মনি বড় হয়ে যাওয়া) দেখা যায়।[৯]
শিশুদের ক্ষেত্রে রাত্রিকালীন আতঙ্ক ও মানসিক রোগের মধ্যে কোনো যোগসূত্র নেই।[১৩] তবে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে রাত্রিকালীন আতঙ্কের সাথে সাইকোপ্যাথলজি এবং মানসিক ব্যাধিগুলির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। রাত্রিকালীন আতঙ্কের ঘটনা বৃদ্ধি পেতে পারে—বিশেষ করে পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (পিটিএসডি) এবং জেনারেলাইজড অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার (জিএডি) আক্রান্তদের মধ্যে। এই আতঙ্কে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে কিছু ব্যক্তিত্বের ব্যাধি- যেমন নির্ভরশীল, স্কিজয়েড এবং বর্ডারলাইন পার্সোনালিটি ডিসর্ডার দেখা দিতে পারে।[১৩] ঘন ঘন রাত্রিকালীন আতঙ্কে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে হতাশা এবং উদ্বেগের লক্ষণ বৃদ্ধি পায়। রক্তে শর্করার নিম্ন পরিমাণের সাথে শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্ক উভয়ের রাত্রিকালীন আতঙ্কের সম্পর্ক রয়েছে। মস্তিষ্ক এবং ব্রেনস্টেমের থ্যালামিক ক্ষতযুক্ত প্রাপ্তবয়স্কদের উপর করা একটি গবেষণা মাঝে মাঝে এ আতঙ্কের সাথে যুক্ত বলে প্রমাণিত হয়েছে।[১৪] রাত্রিকালীন আতঙ্ক ঘুমের মধ্যে হাঁটা এবং ফ্রন্টাল লোব মৃগীরোগের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।[১৫]
শিশু
[সম্পাদনা]রাত্রিকালীন আতঙ্ক সাধারণত তিন থেকে বারো বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে দেখা যায়। সাড়ে তিন বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে এর সর্বোচ্চ আক্রমণ দেখা যায়।[১৬] আনুমানিক ১-৬% শিশু এ আতঙ্ক অনুভব করে। ছেলে-মেয়ে উভয়ই এবং সমস্ত জাতির শিশুরা সমানভাবে আক্রান্ত হয়।[১৬] সাড়ে তিন বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে রাত্রিকালীন আতঙ্কের সর্বোচ্চ আক্রমণ প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে একটি পর্ব (বিরল ক্ষেত্রে ৩-৪টি পর্যন্ত)। বড় শিশুদের মধ্যে প্রতি মাসে রাত্রিকালীন আতঙ্কের সর্বোচ্চ এক বা দুটি আক্রমণ দেখা যায়। শিশুরা সম্ভবত পরের দিন পর্বটি মনে রাখে না। খিঁচুনির ব্যাধি বা শ্বাসকষ্টের কারণে রাত্রিকালীন আতঙ্ক হওয়ার সম্ভাবনা বাদ দেওয়ার জন্য শিশুদের মূল্যায়ন করা যেতে পারে।[১৬] শিশু বড় হবার সাথে সাথে এ আতঙ্ক বা ভীতি কেটে যায়।[১৭]
প্রাপ্তবয়স্ক
[সম্পাদনা]প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে রাত্রিকালীন আতঙ্কের ঘটনা সকল বয়সের ক্ষেত্রেই দেখা গেছে।[১৮] কিশোর-কিশোরী এবং প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে রাত্রিকালীন আতঙ্কের লক্ষণ একই রকম হলেও এর কারণ, লক্ষণ এবং চিকিৎসা ভিন্ন। এটি প্রতি রাতে ঘটতে পারে যদি ব্যক্তিটি সঠিক খাদ্য গ্রহণ না করে, উপযুক্ত পরিমাণে না ঘুমায় (যেমন- স্লিপ অ্যাপনিয়া), চাপপূর্ণ ঘটনা সহ্য করে এবং যদি সেগুলির চিকিৎসা না করা হয়। প্রাপ্তবয়স্কদের এ আতঙ্ক অনেক কম দেখা যায় এবং প্রায়শই ঘুমের সাথে সম্পর্কিত রোগগুলোর চিকিৎসা না করার জন্য তা হয়ে থাকে। রোগ ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যগত সমস্যার আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানগত শ্রেণীবিন্যাসে রাত্রিকালীন আতঙ্ককে মানসিক এবং আচরণগত ব্যাধি হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে।[১৯] প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে এই আতঙ্কের উপর করা একটি গবেষণায় বেশিরভাগ রোগীর মধ্যে অন্যান্য মানসিক লক্ষণগুলির প্রাদুর্ভাব নির্দেশ করা হয়েছে, যা সম্ভাব্য সহ-অসুস্থতার পরামর্শ দেয়।[৯] রাত্রিকালীন আতঙ্ক এবং হাইপোগ্লাইসেমিয়ার মধ্যে একটি সংযোগের কিছু প্রমাণ রয়েছে।[২০]
রাত্রিকালীন আতঙ্কের সময় ব্যক্তির চিৎকার করে এবং লাথি মেরে ঘুম থেকে ওঠা স্বাভাবিক এবং সে কী বলছে তা চিনতে সক্ষম হয় না। ব্যক্তিটি এমনকি ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে পারে (প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে বেশি দেখা যায়), যা থেকে পরে আক্রমণাত্মক কর্মকাণ্ড দেখা যেতে পারে।[২১] দেখা গিয়েছে যে কিছু প্রাপ্তবয়স্ক যারা দীর্ঘমেয়াদী ইন্ট্রাথেকাল ক্লোনিডিন থেরাপি গ্রহণ করেছেন তাদের ঘুমের চক্রের শুরুতে রাত্রিকালীন আতঙ্কের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়, যেমন আতঙ্কের অনুভূতি।[২২] এটি সার্ভিকাল/মস্তিষ্কের ক্লোনিডিন ঘনত্বের সম্ভাব্য পরিবর্তনের কারণে ঘটে থাকে।[১৮] প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে রাত্রিকালীন আতঙ্ক স্নায়বিক রোগের লক্ষণ হতে পারে এবং এমআরআই এর মাধ্যমে সেবিষয়ে আরও তদন্ত করা প্রয়োজন।[২৩]
কারণসমূহ
[সম্পাদনা]কিছু প্রমাণ বলে যে রাত্রিকালীন ভীতি এবং অন্যান্য প্যারাসোমনিয়ার প্রবণতা জন্মগত হতে পারে। ব্যক্তিরা প্রায়শই রিপোর্ট করেন যে পরিবারের পূর্ববর্তী সদস্যদের হয় রাত্রিকালীন ভীতি ছিল অথবা ঘুমের মধ্যে হাঁটার ঘটনা ঘটেছে। কিছু গবেষণায় প্রথম-ডিগ্রি জৈবিক আত্মীয়দের মধ্যে রাত্রিকালীন ভীতির প্রাদুর্ভাবের দশগুণ বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে; তবে উত্তরাধিকারের সাথে সঠিক যোগসূত্রটি জানা যায়নি। পারিবারিক সমষ্টিগতভাবে উত্তরাধিকারের একটি অটোসোমাল মোড রয়েছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।[৯] এছাড়াও কিছু ফলাফল থেকে জানা গেছে যে ঘুমের অভাব এবং জ্বর থাকলে রাত্রিকালীন ভীতির সম্ভাবনা বেড়ে যেতে পারে।[২৪] অন্যান্য কারণগুলির মধ্যে রয়েছে রাত্রিকালীন হাঁপানি, গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স, কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের ওষুধব্যবহার করা[৯] এবং নাক বন্ধ থাকা।[২৫] ব্যক্তির নারকোলেপসি থাকলে এর সাথে কোনো যোগসূত্র বিশেষভাবে বিবেচনা করতে হবে। রাত্রিকালীন ভীতি প্রকাশের মধ্যে সাংস্কৃতিক পার্থক্যের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যদিও ধারণা করা হয় যে রাত্রিকালীন ভীতির তাৎপর্য এবং কারণ সংস্কৃতিভেদে ভিন্ন হয়।
এছাড়াও ছোট বাচ্চাদের তুলনায় বড় বাচ্চারা এবং প্রাপ্তবয়স্করা সুস্পষ্টভাবে বা কেবল অস্পষ্টভাবে মনে রাখতে পারে বলে তাদের রাত্রিকালীন ভীতির অত্যন্ত বিস্তারিত এবং বর্ণনামূলক চিত্র প্রদান করে। শিশুদের মধ্যে ঘুমের আতঙ্ক মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের মধ্যে বেশি দেখা যায়; প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে উভয়ের অনুপাত সমান। একটি গবেষণায় অভিন্ন এবং ভ্রাতৃত্বপূর্ণ উভয় যমজ সন্তানের পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে অভিন্ন যমজ সন্তানের তুলনায় ভ্রাতৃত্বপূর্ণ যমজ সন্তানের মধ্যে রাত্রিকালীন ভীতি বেশি হয়।[৯][২৬]
কিশোর-কিশোরী এবং প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে রাত্রিকালীন ভীতির লক্ষণগুলি একই রকম হলেও এর কারণ, লক্ষণ এবং চিকিৎসা ভিন্ন। কিছু প্রমাণ বলে ব্যক্তি সঠিক খাদ্য গ্রহণ না করলে, উপযুক্ত পরিমাণে না ঘুমালে (যেমন- স্লিপ অ্যাপনিয়ার কারণে) অথবা চাপপূর্ণ ঘটনা থেকে রাত্রিকালীন ভীতি ঘটতে পারে। যৌন নির্যাতনের শিকার প্রাপ্তবয়স্কদের ঘুমের ব্যাধি নির্ণয়ের সম্ভাবনা বেশি এবং এর মধ্যে রাত্রিকালীন ভীতিও অন্তর্ভুক্ত।[২৭] সামগ্রিকভাবে প্রাপ্তবয়স্কদের এ ভীতি অনেক কম দেখা যায় এবং ঘুমের পরিমাণ ঠিক করলে এ ভীতি চলে যায়।
রোগ নির্ণয়
[সম্পাদনা]রাত্রিকালীন আতঙ্কজনিত ব্যাধির জন্য নিম্নলিখিত ডিএসএম-৫ ডায়াগনস্টিক মানদণ্ডগুলি প্রয়োজন:[২]
- বারবার এমন সময়কাল যেখানে ব্যক্তি হঠাৎ করে ঘুম থেকে জেগে ওঠে কিন্তু পুরোপুরি জেগে ওঠে না। এটি সাধারণত ঘুমের প্রথম ৩য় প্রধান সময়কালে ঘটে।
- ব্যক্তিটি শুরুতেই তীব্র ভয় অনুভব করে, আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার করে এবং স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র নিয়ন্ত্রিত উত্তেজনার লক্ষণ দেখা দেয়, যেমন হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি, ভারী শ্বাস-প্রশ্বাস এবং ঘাম বৃদ্ধি। এই পর্বের সময় ব্যক্তিকে শান্ত করা বা সান্ত্বনা দেওয়া যায় না।
- ব্যক্তি স্বপ্নের ছবি মনে রাখতে্যেপারে না অথবা প্রায় অক্ষম হয় (উদাহরণস্বরূপ শুধুমাত্র একটি দৃশ্যমান দৃশ্য মনে রাখতে পারে)।
- পর্বটি সম্পূর্ণরূপে ভুলে যায়।
- রাত্রিকালীন আতঙ্কের ঘটনাটি ব্যক্তির কার্যকারিতায় ক্লিনিক্যালি উল্লেখযোগ্য কষ্ট বা ব্যাঘাত ঘটায়।
- এই ঝামেলা কোনো পদার্থ, সাধারণ চিকিৎসা অবস্থা বা ওষুধের প্রভাবের কারণে হয় না।
- ঘুমের ভয়াবহতার পর্বগুলি সহাবস্থানকারী অন্যান্য মানসিক বা চিকিৎসাগত ব্যাধিগুলির ব্যাখ্যা দেয় না।
ডিফারেনশিয়াল ডায়াগনোসিস
[সম্পাদনা]রাত্রিকালীন আতঙ্ক ও দুঃস্বপ্ন দুটি আলাদা বিষয়।[২৮] দুঃস্বপ্নে প্রায় কখনোই কণ্ঠস্বর বা উত্তেজনা থাকে না এবং থাকলেও তা রাত্রিকালীন আতঙ্কের তুলনায় কম শক্তিশালী হয়।[২৮] এছাড়াও এনআরইএম ঘুমের সময়ের আতঙ্কের তুলনায় আরইএম ঘুমের সময় দুঃস্বপ্ন দেখা যায়।[২] দুঃস্বপ্নে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সম্পূর্ণভাবে এবং সহজেই জেগে উঠতে পারেন এবং তাদের স্বপ্নের স্পষ্ট এবং বিস্তারিত স্মৃতি তাদের মনে থাকতে পারে।[২][২৮]
রাত্রিকালীন আতঙ্ক এবং মৃগীরোগের মধ্যে পার্থক্য করা প্রয়োজন।[২৮] মৃগীরোগের খিঁচুনি রাতে এবং দিনে উভয় বেলাতেই হতে পারে।[২৮] উভয়ের মধ্যে পার্থক্য করার জন্য একটি ইইজি করা যেতে পারে। এতে কিছু অসঙ্গতি পাওয়া গেলে এটি মূলত একটি মৃগীরোগের খিঁচুনি ছিল বলা যাবে।[২৮]
মূল্যায়ন
[সম্পাদনা]এই ব্যাধির মূল্যায়ন অন্যান্য প্যারাসোমনিয়ার মূল্যায়নের অনুরূপ। নিম্নলিখিত বিষয়গুলো এতে অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে:[২৯]
- যখন ঘুমের সময় পর্বটি ঘটে
- শুরুর বয়স
- এই পর্বগুলি কত ঘন ঘন ঘটে (তীব্রতা) এবং কতক্ষণ স্থায়ী হয় (সময়কাল)
- পর্বগুলির সময় এবং পরে আচরণ, আবেগ এবং চিন্তাভাবনা সহ বর্ণনা
- এই পর্বের সময় রোগী বাহ্যিক উদ্দীপনার প্রতি কতটা প্রতিক্রিয়াশীল?
- রোগী যখন কোনো ঘটনা থেকে জেগে ওঠেন তখন তিনি কতটা সচেতন বা অবচেতন থাকেন
- পর্বটি পরে মনে পড়ে কিনা
- ট্রিগার বা অবক্ষেপণকারী কারণগুলি
- ঘুম থেকে ওঠার ধরণ এবং ঘুমের পরিবেশ
- দিনের বেলায় তন্দ্রাচ্ছন্নতা
- অন্যান্য ঘুমের ব্যাধি উপস্থিত আছে কিনা
- এনআরইএম প্যারাসোমনিয়া এবং অন্যান্য ঘুমের ব্যাধির পারিবারিক ইতিহাস
- চিকিৎসা, মনোরোগ এবং স্নায়বিক ইতিহাস
- ঔষধ ব্যবহারের ইতিহাস
উপরন্তু সঠিকভাবে রোগ নির্ণয়ের জন্য ভিডিও করে রাখা সহায়ক হতে পারে। অন্যান্য ব্যাধিগুলির সম্ভাবনা বাতিল করার জন্য একটি পলিসমনোগ্রাফি করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে ঘুমের পরীক্ষাগারে বাড়ির তুলনায় রাত্রিকালীন আতঙ্ক কম দেখা যায় বলে পলিসমনোগ্রাফি দ্বারা রাত্রিকালীন আতঙ্কের পর্ব রেকর্ড করতে ব্যর্থ হতে পারে।[২৯]
চিকিৎসা
[সম্পাদনা]বেশিরভাগ শিশুর ক্ষেত্রে এই আতঙ্ক বড় হতে হতে কমে যায় এবং কোনোরকম চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। শিশু এবং তাদের পরিবারকে তারা এই ব্যাধিটি কাটিয়ে উঠবে বলে আশ্বস্ত করা যেতে পারে।[৩০]
একেকটি পর্বের সময়কাল বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সংক্ষিপ্ত হয় কিন্তু বাবা-মা যদি শিশুকে জাগানোর চেষ্টা করলে এটি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।[৩১] শিশুকে জাগিয়ে তোলা তাদের উত্তেজনাকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।[৩১] এই সমস্ত কারণে রাত্রিকালীন আতঙ্কের পর্বটি কমার জন্য অপেক্ষা করা এবং সতর্ক থাকা গুরুত্বপূর্ণ যাতে তারা মাটিতে পড়ে না যায়।[৩১]
এই ঘটনা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে বলে শিশুর ঘুমানোর পরিবেশ সুরক্ষিত রাখা দরকার। জানালা বন্ধ করে দেওয়া উচিত এবং শোবার ঘর থেকে সম্ভাব্য বিপজ্জনক জিনিসপত্র সরিয়ে ফেলা উচিত। এছাড়াও অতিরিক্তভাবে অ্যালার্ম ইনস্টল করে শিশুটিকে নীচের তলার শোবার ঘরে রাখা যেতে পারে।[৩২]
ঘুমের অভাব বা খারাপ ঘুমের অভ্যাসের কারণে রাত্রিকালীন আতঙ্ক হতে পারে এমন কিছু প্রমাণ রয়েছে। এই ক্ষেত্রে শিশু যে পরিমাণ ঘুম পাচ্ছে তা বৃদ্ধি করলে উপকার হতে পারে।[৩০] সাথে সাথে ভালো ঘুমের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাও গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর রাত্রিকালীন আতঙ্ক থাকলে বাবা-মা তার ঘুমের স্বাস্থ্যবিধি পরিবর্তন করার চেষ্টা করতে পারেন।[৩১] আরেকটি বিকল্প হতে পারে শিশুর ঘুমের সময় এমনভাবে মানিয়ে নেওয়া যাতে ঘুম খুব বেশি দীর্ঘ বা খুব ছোট না হয়।[৩১] শিশুর জীবনে অতিরিক্ত চাপ বা দ্বন্দ্ব তাদের ঘুমের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই মানসিক চিকিৎসার সাথে মিলিতভাবে চাপ মোকাবেলা করার জন্য কিছু কৌশল অবলম্বন করলে এই ঘটনাগুলির তীব্রতা কমানো যেতে পারে। যদি শিশুর আতঙ্ক তবুও অব্যাহত থাকে তবে পলিসমনোগ্রাফির পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে।[৩১]
এক্ষেত্রে হিপনোসিসও কার্যকর হতে পারে। এতে ঘুমন্ত ব্যক্তিরা তাদের রাত্রিকালীন আতঙ্কের প্রতি কম সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে।[৩২]
রাত্রিকালীন আতঙ্ক শুরু হওয়ার ঠিক আগে ঘুম থেকে ওঠার মাধ্যমেও উপকার পাওয়া সম্ভব হতে পারে। নিয়মিতভাবে রাত্রিকালীন আতঙ্ক দেখা গেলে এই পদ্ধতি তাদের উপস্থিতি রোধ করতে পারে।[৩২]
কিছু ক্ষেত্রে সাইকোথেরাপি বা কাউন্সেলিং সহায়ক হতে পারে।
উপরক্ত পদ্ধতিগুলো কার্যকর না হলে বেনজোডিয়াজেপাইন (যেমন ডায়াজিপাম) বা ট্রাইসাইক্লিক অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে শুধুমাত্র তীব্রতর ক্ষেত্রেই ওষুধ সেবনের পরামর্শ দেওয়া হয়।[৩৩] অ্যাডিনয়েড অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণের মাধ্যমে অনুনাসিক শ্বাসনালী প্রশস্ত করার বিষয়টি আগে বিবেচনা করা হত এবং কার্যকর বলে প্রমাণিত হত।[২৫] তবে বর্তমানে আক্রমণাত্মক চিকিৎসা সাধারণত এড়িয়ে যাওয়া হয়।
গবেষণা
[সম্পাদনা]প্যারোক্সেটিনের একটি ছোট গবেষণায় কিছুটা উপকার পাওয়া গিয়েছে।[৩৪]
আরেকটি ছোট পরীক্ষায় এল-৫-হাইড্রোক্সিট্রিপটোফান (এল-৫-এইচটিপি) ব্যবহার করে উপকার পাওয়া গিয়েছে।[৩৫]
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]- এফিয়ালটিস (রোগ)
- ভয়াবহতা এবং আতঙ্ক
- ঘুমের পক্ষাঘাত
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Hockenbury, Don H. Hockenbury, Sandra E. (২০১০)। Discovering psychology (5th সংস্করণ)। Worth Publishers। পৃ. ১৫৭। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪২৯২-১৬৫০-০।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: একাধিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক) - 1 2 3 4 5 6 7 8 9 American Psychiatric Association (২২ মে ২০১৩)। Diagnostic and Statistical Manual of Mental Disorders (5th সংস্করণ)। American Psychiatric Association। ডিওআই:10.1176/appi.books.9780890425596। আইএসবিএন ৯৭৮-০৮৯০৪২৫৫৫৮।
- 1 2 Sateia, Michael J. (নভেম্বর ২০১৪)। "International Classification of Sleep Disorders-Third Edition"। Chest। ১৪৬ (5): ১৩৮৭–১৩৯৪। ডিওআই:10.1378/chest.14-0970। পিএমআইডি 25367475।
- 1 2 Goldstein, Cathy A. (জুলাই ২০১১)। "Parasomnias"। Disease-a-Month। ৫৭ (7): ৩৬৪–৩৮৮। ডিওআই:10.1016/j.disamonth.2011.04.007। পিএমআইডি 21807161।
- ↑ Mason, T. B. A.; Pack, A. I. (২০০৭)। "Pediatric Parasomnias"। Sleep। ৩০ (2): ১৪১–১৫১। ডিওআই:10.1093/sleep/30.2.141। পিএমআইডি 17326539।
- 1 2 3 4 Szelenberger, Waldemar; Niemcewicz, Szymon (২০০৯)। "Sleepwalking and night terrors: Psychopathological and psychophysiological correlates"। International Review of Psychiatry। ১৭ (4): ২৬৩–৭০। ডিওআই:10.1080/09540260500104573। পিএমআইডি 16194798। এস২সিআইডি 28776384।
- 1 2 3 Bjorvatn, Bjørn; Grønli, Janne (২০১০)। "Prevalence of different parasomnias in the general population"। Sleep Medicine। ১১ (10): ১০৩১–৪। ডিওআই:10.1016/j.sleep.2010.07.011। পিএমআইডি 21093361।
- ↑ "Facts for Families No. 34: Children's Sleep Problems"। AACAP.org। American Academy of Child and Adolescent Psychiatry। ২৭ ডিসেম্বর ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ ডিসেম্বর ২০১১।
- 1 2 3 4 5 6 Nguyen, B. H.; Perusse, D. (২০০৮)। "Sleep Terrors in Children: A Prospective Study of Twins"। Pediatrics। ১২২ (6): e১১৬৪–৭। ডিওআই:10.1542/peds.2008-1303। পিএমআইডি 19047218। এস২সিআইডি 10386957।
- ↑ Oudiette, D.; Leu, S. (২০০৯)। "Dreamlike mentations during sleepwalking and sleep terrors in adults"। Sleep। ৩২ (12): ১৬২১–৭। ডিওআই:10.1093/sleep/32.12.1621। পিএমসি 2786046। পিএমআইডি 20041598।
- ↑ "Sleep terrors (night terrors) - Symptoms and causes"। Mayo Clinic (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০।
- ↑ "Violent behavior that occurs during disorders of arousal is provoked"। American Academy of Sleep Medicine – Association for Sleep Clinicians and Researchers (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ১ আগস্ট ২০০৭। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জানুয়ারি ২০২১।
- 1 2 "Night Terrors Follow-up – Prognosis"। eMedicine.Medscape.com। Medscape Reference। সংগ্রহের তারিখ ২৬ মে ২০১৩।
- ↑ Di Gennaro, Giancarlo; Autret, Alain (২০০৪)। "Night terrors associated with thalamic lesion"। Clinical Neurophysiology। ১১৫ (11): ২৪৮৯–৯২। ডিওআই:10.1016/j.clinph.2004.05.029। পিএমআইডি 15465436। এস২সিআইডি 27573165।
- ↑ "Night Terrors - Pathophysiology"। eMedicine.Medscape.com। Medscape Reference। সংগ্রহের তারিখ ২৬ মে ২০১৩।
- 1 2 3 Connelly, Kevin। "Night Terrors"। WebMD। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুলাই ২০১১।
- ↑ Licht, Deborah (২০১৬)। Presenting Psychology। Worth Publisher। পৃ. ১৪৬। আইএসবিএন ৯৭৮১৩১৯০১৬৩৭১।
- 1 2 Bevacqua, Brian K.; Fattouh, Maher (২০০৭)। "Depression, Night Terrors, and Insomnia Associated with Long-Term Intrathecal Clonidine Therapy"। Pain Practice। ৭ (1): ৩৬–৮। ডিওআই:10.1111/j.1533-2500.2007.00108.x। পিএমআইডি 17305677। এস২সিআইডি 37035801।
- ↑ "Mental and behavioural disorders"।
- ↑ McMillan, Julia A. F. (২০০৬)। Oski's Pediatrics: Principles & Practice (4th সংস্করণ)। Lippincott Williams & Wilkins। পৃ. ২৩৫৩। আইএসবিএন ৯৭৮০৭৮১৭৩৮৯৪১।
- ↑ Kuhlmann, David। "Sleep Terrors"। American Academy of Sleep Medicine। ১৬ অক্টোবর ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৫ জুলাই ২০১১।
- ↑ Snyder, David M.; Goodlin-Jones, Beth L. (২০০৮)। "Inconsolable Night-Time Awakening: Beyond Night Terrors"। Journal of Developmental & Behavioral Pediatrics। ২৯ (4): ৩১১–৪। ডিওআই:10.1097/DBP.0b013e3181829f4c। পিএমআইডি 18698194।
- ↑ Guzman, Carlos Simon; Wang, Yuan Pang (২০০৮)। "Sleep terror disorder: A case report"। Revista Brasileira de Psiquiatria। ৩০ (2): ১৬৯। ডিওআই:10.1590/S1516-44462008000200016। পিএমআইডি 18592111।
- ↑ American Psychiatric Association (২০০০)। Diagnostic and Statistical Manual of Mental Disorders (4th (text revision) সংস্করণ)।
- 1 2 Agrell, I.-G.; Axelsson, A. (১৯৭২)। "The relationship between pavor nocturnus and adenoids"। Acta Paedopsychiatrica। ৩৯ (3): ৪৬–৫৩। পিএমআইডি 4565015।
- ↑ Poblano, Adrián; Poblano-Alcalá, Adriana (২০১০)। "Sleep-terror in a child evolving into sleepwalking in adolescence: Case report with the patient's point of view"। Revista Brasileira de Psiquiatria। ৩২ (3): ৩২১–৩২২। ডিওআই:10.1590/S1516-44462010000300022। পিএমআইডি 20945027।
- ↑ Chen, Laura P.; Murad, M. Hassan (২০১০)। "Sexual Abuse and Lifetime Diagnosis of Psychiatric Disorders: Systematic Review and Meta-analysis"। Mayo Clinic Proceedings। ৮৫ (7): ৬১৮–২৯। ডিওআই:10.4065/mcp.2009.0583। পিএমসি 2894717। পিএমআইডি 20458101।
- 1 2 3 4 5 6 Organisation Mondiale de la Santé (১৯৯৩)। CIM 10–Classification Internationale des troubles Mentaux et des troubles du comportement: descriptions cliniques et directives pour le diagnostic.।
- 1 2 Zadra, Antonio; Pilon, Mathieu (১ মার্চ ২০১২)। Parasomnias II। Oxford University Press। ডিওআই:10.1093/oxfordhb/9780195376203.013.0028।
- 1 2 Carter, K. A.; Hathaway, N. E. (২০১৪)। "Common sleep disorders in children"। American Family Physician। ৮৯ (5): ৩৬৮–৭৭। পিএমআইডি 24695508।
- 1 2 3 4 5 6 Pack, Allan I.; Mason, Thornton B. A. (১ সেপ্টেম্বর ২০০৫)। "Sleep Terrors in Childhood"। The Journal of Pediatrics। ১৪৭ (3): ৩৮৮–৩৯২। ডিওআই:10.1016/j.jpeds.2005.06.042। আইএসএসএন 0022-3476। পিএমআইডি 16182681।
- 1 2 3 Avidan, A. Y. (২০১৭)। "Non–rapid Eye Movement Parasomnias: Clinical Spectrum, Diagnostic Features, and Management"। Principles and Practice of Sleep Medicine। Elsevier। পৃ. ৯৮১–৯৯২।
- ↑ Fleetham, J. A.; Fleming, J. A. E. (২০১৪)। "Parasomnias"। Canadian Medical Association Journal। ১৮৬ (8): E২৭৩–৮০। ডিওআই:10.1503/cmaj.120808। পিএমসি 4016090। পিএমআইডি 24799552।
- ↑ Wilson, S. J.; Lillywhite, A. R. (১৯৯৭)। "Adult night terrors and paroxetine"। Lancet। ৩৫০ (9072): ১৮৫। ডিওআই:10.1016/s0140-6736(05)62351-3। পিএমআইডি 9250190। এস২সিআইডি 40910299।
- ↑ Bruni, Oliviero; Ferri, Raffaele (২০০৪)। "L -5-Hydroxytryptophan treatment of sleep terrors in children"। European Journal of Pediatrics। ১৬৩ (7): ৪০২–৭। ডিওআই:10.1007/s00431-004-1444-7। পিএমআইডি 15146330। এস২সিআইডি 8713465।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]- ↑ "Narcolepsy meaning in Bengali – English-Bangla.com"। সংগ্রহের তারিখ ১৯ মে ২০২৫।