রাজিন্দ্র পাল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
রাজিন্দ্র পাল
রাজিন্দ্র পাল.jpg
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামরাজিন্দ্র পাল
জন্ম(১৯৩৭-১১-১৮)১৮ নভেম্বর ১৯৩৭
দিল্লি, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু৯ মে ২০১৮(2018-05-09) (বয়স ৮০)
দেরাদুন, উত্তরখণ্ড, ভারত
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম
ভূমিকাবোলার, কোচ
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
একমাত্র টেস্ট
(ক্যাপ ১০৭)
২১ জানুয়ারি ১৯৬৪ বনাম ইংল্যান্ড
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৯৮
রানের সংখ্যা ১০৪৬
ব্যাটিং গড় ৬.০০ ১১.১২
১০০/৫০ -/- -/-
সর্বোচ্চ রান ৪৫
বল করেছে ৭৮ ১৪৮২৬
উইকেট  – ৩৩৭
বোলিং গড়  – ২১.৮৯
ইনিংসে ৫ উইকেট  – ২৩
ম্যাচে ১০ উইকেট  –
সেরা বোলিং  – ৮/২৭
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং -/- ৪৯/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২১ জুন ২০২০

রাজিন্দ্র পাল (এই শব্দ সম্পর্কেউচ্চারণ ; হিন্দি: राजिन्द्र पाल; জন্ম: ১৮ নভেম্বর, ১৯৩৭ - মৃত্যু: ৯ মে, ২০১৮) তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের দিল্লি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ভারতীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন।[১][২] ভারত ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৬০-এ দশকের মাঝামাঝি সময়কালে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে দিল্লি, হরিয়ানা, পাঞ্জাব ও দক্ষিণ পাঞ্জাব দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ফাস্ট-বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন তিনি।

শৈশবকাল[সম্পাদনা]

উদ্বোধনী বোলার রাজিন্দ্র পাল ১৭ বছর বয়সে ১৯৫৪-৫৫ মৌসুমে দিল্লির সদস্যরূপে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেছেন। অধ্যয়নকালীন ইন্ডিয়ান ইউনিভার্সিটিজের সদস্যরূপে ১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে নিউজিল্যান্ডীয় একাদশ১৯৫৯-৬০ মৌসুমে অস্ট্রেলীয় একাদশের বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নেন। এছাড়াও, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতায় দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৫৯-৬০ মৌসুমে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্যরূপে রোহিতন বাড়িয়া ট্রফি প্রতিযোগিতার শিরোপা জয়ী খেলায় তিনি আট উইকেট লাভ করেছিলেন।[৩]

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৫৪-৫৫ মৌসুম থেকে ১৯৭৩-৭৪ মৌসুম পর্যন্ত রাজিন্দ্র পালের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। সবমিলিয়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ২১.৮৮ গড়ে ৩৩৯ উইকেট পান। তন্মধ্যে, রঞ্জী ট্রফিতেই ১৮.৮৮ গড়ে ২৯৮ উইকেট পেয়েছিলেন।

১৯৫৯-৬০ মৌসুমের রঞ্জী ট্রফি প্রতিযোগিতায় দিল্লির সদস্যরূপে রেলওয়েজের বিপক্ষে ৮/৫৪ ও ৪/১২৫ বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করেছিলেন। ১৯৬০-৬১ ও ১৯৬১-৬২ মৌসুমের প্রতিযোগিতায় দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। অধিনায়ক হিসেবে প্রথম খেলায় ৬/৩ ও ৩/১৭ বোলিং করে চমৎকার ভূমিকা রাখেন। এ পর্যায়ে জম্মু ও কাশ্মীর দলের বিপক্ষে বোলিং অপরিবর্তিত অবস্থায় রেখে ২৩ ও ২৮ রানে গুটিয়ে দিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন তিনি।[৪]

১৯৬১-৬২ মৌসুমে এমসিসি দল ভারত গমন করে। ভারতীয় বোর্ড সভাপতি একাদশের সদস্যরূপে এমসিসি’র বিপক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন। ঐ খেলায় তিনি চার উইকেট পান। তন্মধ্যে, টেড ডেক্সটারকে ৩ রানে বোল্ড করেন।[৫] এছাড়াও, ১৯৬৩-৬৪ মৌসুমে এমসিসি দলের সফরকালীন প্রতিনিধিত্বমূলক খেলায় অংশ নেন। মাত্র এক উইকেট লাভ করলেও অব্যবহিত পরই দ্বিতীয় টেস্ট খেলার জন্যে তাকে দলে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন রাজিন্দ্র পাল। ২১ জানুয়ারি, ১৯৬৪ তারিখে মুম্বইয়ে সফরকারী ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। এটিই তার একমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল। এরপর আর তাকে কোন টেস্টে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়নি।

১৯৬৩-৬৪ মৌসুমে সফররত এমসিসি দলের বিপক্ষে পাঁচ-টেস্টের সবকটিতেই স্বাগতিক ভারত দল ড্র করে। পিচগুলো অত্যন্ত ধীরগতিসম্পন্ন ছিল। উইজডেনের প্রতিনিধি ই.এম. ওয়েলিংস মন্তব্য করেন যে, এতোটাই ধীরগতির পিচ ছিল যে, যে-কেউ সফলতার সাথে ব্যাটিং করতে পারতেন। খেলাগুলো অনেকাংশে পূর্ব-প্রস্তুতকৃত ড্রয়ের উপযোগী করে তৈরি করা হয়।[৬] ইয়ান ওলড্রিজ লেখেন যে, ভারত দলে একজনমাত্র ফাস্ট বোলারকে কৌশলগত কারণে রাখা হয়েছিল।[৭] প্রথম টেস্টে বসন্ত রঞ্জনে একটিমাত্র উইকেট পান।

দ্বিতীয় টেস্টের জন্যে রাজিন্দ্র পালকে বসন্ত রঞ্জনের স্থলাভিষিক্ত করা হয়। খেলায় ১৩ ওভারে ২২ রান খরচ করলেও কোন উইকেট পাননি তিনি।[৮] প্রথম ইনিংসে ১১ ওভার ও দ্বিতীয়টিতে মাত্র দুই ওভার বোলিং করার সুযোগ পান। জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় বেশ ভালো খেলা উপহার দিলেও দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টিতে পরেননি।

ইয়ান ওলড্রিজ তার অবদানকে পেসের সাথে তুলনান্তে অস্ট্রেলীয় স্পিনার জনি মার্টিনের সাথে তুলনা করেন। মন্তব্য করেন যে, তার বলগুলোয় বাউন্স আসলেও ব্যাটসম্যানেরা এ ধরনের বলকে আঘাত করতে প্রস্তুত ছিলেন।[৭] পরবর্তী দুই টেস্টে রমাকান্ত দেশাইকে রাজিন্দ্র পালের পরিবর্তে খেলানো হোয়। পঞ্চম টেস্টে ভারত দল কোন পেস বোলারকে মাঠে নামায়নি।[৯]

অবসর[সম্পাদনা]

১৯৬৫-৬৬ মৌসুম পর্যন্ত দিল্লির পক্ষে রঞ্জী ট্রফিতে খেলতে থাকেন। এরপর, ১৯৬৬-৬৭ মৌসুমে সাউদার্ন পাঞ্জাবের পক্ষে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৮-৬৯ মৌসুমে নতুন দল পাঞ্জাবের অধিনায়কত্ব করেন। এরপর, ১৯৬৯-৭০ মৌসুমে মালহোত্রা চমনলালের নেতৃত্বে খেলেন। ১৯৭১-৭২ মৌসুমে দিল্লিতে ফিরে যান। এরপর, ১৯৭২-৭৩ ও ১৯৭৩-৭৪ মৌসুমে হরিয়ানার পক্ষে খেলে খেলোয়াড়ী জীবনের ইতি ঘটান।

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ২১.৮৯ গড়ে ৩৩৭ উইকেটের সন্ধান পান। দূর্বল দলগুলোর বিপক্ষেই অধিকতর সফলতার স্বাক্ষর রাখেন; কিন্তু, শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে বিপরীত চিত্র বহন করে। রঞ্জী ট্রফিতে জম্মু ও কাশ্মীরের বিপক্ষে ১২ খেলায় অংশ নিয়ে ৯.৫৩ গড়ে ৬০ উইকেট পান।[১০] কিন্তু, দিলীপ ট্রফিতে উত্তর অঞ্চলের পক্ষে ১০ খেলায় ৪১.৮৭ গড়ে মাত্র ১৬ উইকেট পেয়েছিলেন।[১১]

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। নতুন দিল্লিভিত্তিক রাজিন্দ্র পাল ক্রিকেট একাডেমি পরিচালনা করেন। ১৯৭৯ সালে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ড গমনের পূর্বে কপিল দেব এক সপ্তাহ তার কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নেন।[১২]

২০০৪ সালে সাবেক টেস্ট ক্রিকেটারদের জন্যে ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (বিসিসিআই) অবসর সুবিধা গ্রহণের কথা ঘোষণা করলে রাজিন্দ্র পাল মন্তব্য করেন যে, তিনি এ অর্থ উত্তরাঞ্চলের ভবিষ্যৎ ক্রিকেটারদের উন্নয়নে ব্যয় করবেন।[১৩]

তার ভাই রবীন্দ্র পাল ১৯৬০-এর দশকে দিল্লির পক্ষে কয়েকটি খেলায় অংশ নেন।[১৪] ১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে দুজনে একত্রে জম্মু ও কাশ্মিরের বিপক্ষে বোলিং উদ্বোধনে নেমেছিলেন। এরপর, ১৯৬৫-৬৬ মৌসুমে প্রতিপক্ষীয় দল হিসেবে দিল্লি বনাম দক্ষিণ পাঞ্জাবের মধ্যকার খেলায় অংশ নিয়ে দুজনে ১৫ উইকেট পান।[১৫]

৯ মে, ২০১৮ তারিখে ৮০ বছর বয়সে উত্তরখণ্ডের দেরাদুন এলাকায় নিজ বাসভবনে রাজিন্দ্র পালের দেহাবসান ঘটে।[১৬] সতীর্থ মহিন্দার প্রতাপ পাণ্ডব তার মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করেন।[১৭]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Sportskeeda (১০ মে ২০১৮)। "Former Test cricketer Rajinder Pal passes away"। সংগ্রহের তারিখ ১০ মে ২০১৮ 
  2. "Former Test cricketer Rajinder Pal passes away"The Times of India। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৫-১০ 
  3. "The Home of CricketArchive"cricketarchive.com। সংগ্রহের তারিখ ১০ মে ২০১৮ 
  4. "The Home of CricketArchive"cricketarchive.com। সংগ্রহের তারিখ ১০ মে ২০১৮ 
  5. "The Home of CricketArchive"cricketarchive.com। সংগ্রহের তারিখ ১০ মে ২০১৮ 
  6. E.M. Wellings, "M.C.C. Team in India, 1963–64", Wisden 1965, p. 800.
  7. Ian Wooldridge, "Indian Summer for England", Australian Cricket, December 1968, p. 45.
  8. "The Home of CricketArchive"cricketarchive.com। সংগ্রহের তারিখ ১০ মে ২০১৮ 
  9. Wisden 1965, pp. 809–17.
  10. "The Home of CricketArchive"cricketarchive.com। সংগ্রহের তারিখ ১০ মে ২০১৮ 
  11. "The Home of CricketArchive"cricketarchive.com। সংগ্রহের তারিখ ১০ মে ২০১৮ 
  12. Mihir Bose, A History of Indian Cricket, Andre Deutsch, London, 1990, p. 303.
  13. "Kapil Dev donates his pension to orphanage" ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে Retrieved 11 July 2013
  14. "The Home of CricketArchive"cricketarchive.com। সংগ্রহের তারিখ ১০ মে ২০১৮ 
  15. "The Home of CricketArchive"cricketarchive.com। সংগ্রহের তারিখ ১০ মে ২০১৮ 
  16. "Former Test cricketer Rajinder Pal passes away"। India TV। ১০ মে ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মে ২০১৮ 
  17. "MP Pandove condoles death of Rajinder Pal"। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মে ২০১৮ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]