রাজাভুবন রাজবাড়ি
| রাজাভুবন রাজবাড়ি | |
|---|---|
২০২৫ সালে ধ্বংসপ্রাপ্ত রাজবাড়ি | |
![]() | |
| বিকল্প নাম | পুরোনো চাকমা রাজবাড়ি |
| সাধারণ তথ্যাবলী | |
| অবস্থা | ধ্বংসপ্রাপ্ত |
| ধরন | প্রাসাদ |
| ঠিকানা | রাজাভুবন, দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়ন, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা, চট্টগ্রাম জেলা |
| দেশ | বাংলাদেশ |
| স্থানাঙ্ক | ২২°৩১′৪৬″ উত্তর ৯২°০৩′১৫″ পূর্ব / ২২.৫২৯৫২৬৮° উত্তর ৯২.০৫৪৩০৩৯° পূর্ব |
| সম্পূর্ণ | আনুমানিক ১৮শ শতাব্দী |
| স্বত্বাধিকারী | চাকমা রাজপরিবার |
| ভূমিমালিক | বাংলাদেশ সরকার |
| কারিগরি বিবরণ | |
| তলার সংখ্যা | ২ |
| অন্যান্য তথ্য | |
| কক্ষসংখ্যা | ১০ |
রাজাভুবন রাজবাড়ি বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নে অবস্থিত একটি প্রাসাদ।
অবস্থান
[সম্পাদনা]এই রাজবাড়ি অধুনা বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের রাজাভুবন এলাকায় অবস্থিত। সড়কপথে চট্টগ্রাম থেকে চট্টগ্রাম–কাপ্তাই মহাসড়ক হয়ে গেলে এর দূরত্ব ৩৫ কিলোমিটার[১] এবং চট্টগ্রাম–রাঙ্গামাটি মহাসড়ক হয়ে গেলে এর দূরত্ব ৪৫ কিলোমিটার।[২] রাঙ্গুনিয়া থেকে পারুয়া–রাণীরহাট সড়ক হয়ে গেলে এর দূরত্ব ৭ কিলোমিটার।[১]
ইতিহাস
[সম্পাদনা]ষোড়শ শতাব্দীর দিকে রোসাঙ অঞ্চলে কর্ণফুলী নদীর পূর্বদিকে চাকমারা নিজেদের স্বতন্ত্র নৃগোষ্ঠী প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিল। ১৬৬৬ যালে আরাকান রাজবংশকে হটিয়ে মুঘল সাম্রাজ্য চট্টগ্রামে শাসন প্রতিষ্ঠা করলে চাকমারা মুঘলদের প্রশাসনের অধীনে চলে আসে। তৎকালীন চাকমা রাজ্যের রাজা জালাল খাঁয়ের সাথে মুঘল কর্তৃপক্ষের ১১ মণ কার্পাস পরিমাণ শুল্কের বিনিময়ে সমতলের ব্যবসায়ীদের সাথে চাকমা জনসাধারণকে বাণিজ্য করতে দেওয়ার চুক্তি হয়। কিন্তু পরবর্তীতে রাজা শুল্ক দিতে অস্বীকৃতি জানালে মুঘল ও চাকমার মাঝে সশস্ত্র সংঘাত শুরু হয় এবং মুঘল সাম্রাজ্যের সেনাবাহিনী চাকমাদের রাজধানী শুকবিলাস আক্রমণ করে জালাল খাঁর রাজপ্রাসাদ ধ্বংস করে দেয়। ফলে চাকমা রাজপরিবার পালিয়ে গিয়ে আরাকান রাজ্যে আশ্রয় গ্রহণ করে। তবে ১৭৩৭ সালে নতুন রাজা শেরমস্ত খাঁ মুঘলদের আনুগত্য শিকার করে নেয় এবং মুঘল সাম্রাজ্য তাকে রাঙ্গুনিয়ার কোদালা অঞ্চলের জমিদারি প্রদান করে। পরবর্তীতে চাকমারা বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলা থেকে রাঙ্গুনিয়াতে বসতি স্থাপন করা শুরু করে এবং সেখানে তাদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। ১৭৬০ সালে চট্টগ্রাম অঞ্চলের রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা কোম্পানি রাজ পেয়ে যায়। রাজস্ব আদায়ের নামে অনুপ্রবেশ ও নির্যাতনের জেরে চাকমারা ১৭৬৩ থেকে ১৭৮৭ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন চালিয়েছিল। এরপর দুই পক্ষের মাঝে সমঝোতা হয় এবং ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ চাকমা রাজাকে প্রকৃত শাসক হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং তার রাঙ্গুনিয়ার জমিদারি ফিরিয়ে দেয়। নতুন রাজা জান বখশ খাঁ রাজধানী স্থানান্তর করে ইছামতী নদীর তীরে রাজানগরে নিয়ে যান এবং সেখানে একটি রাজবাড়ি নির্মাণ শুরু করেন। অসুস্থতার ফলে জান বখশ খাঁ মৃত্যুবরণের পর পরবর্তী রাজা হন তার জ্যেষ্ঠ পুত্র তব্বর খাঁ। ফ্রান্সিস বুকানন ১৭৯৮ সালে রাঙ্গুনিয়ায় ভ্রমণকালে রাজাভুবনে তব্বর খাঁর একটি রাজবাড়ি দেখতে পেয়েছিলেন এবং চাকরাজের বংশধর দেবাশীষ রায়ের মতে তব্বর খাঁয়ের শাসনামলেই রাজাভুবনের রাজবাড়ি নির্মিত হয়েছিল।[৩] এটি ছিল নির্মাণ সম্পন্নের পর থেকে ১৮৮৭ সাল পর্যন্ত চাকমা রাজাদের দরবার। এরপর রাজা হরিশ্চন্দ্র রাজধানী রাঙ্গামাটিতে স্থানান্তর করেন এবং নতুন রাজধানীতে আরেকটি প্রাসাদ নির্মাণ করেন।[৪]
বর্তমান অবস্থা
[সম্পাদনা]অক্ষত রাজবাড়িটি কালক্রমে ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়েছে। চাকমা রাজপরিবার এটি রক্ষার প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। রাজপরিবারের সদস্য প্রমতোষ দেওয়ান ১৯৯৩ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত আমৃত্যু এটি রক্ষণাবেক্ষণে জড়িত ছিলেন। প্রমতোষ দেওয়ানের মৃত্যুর পর রুমেল দেওয়ান বাবার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০০৭ সালে চাকমা রাজা দেবাশীষ রায় ফখরুদ্দীন আহমদের মন্ত্রিসভার সদস্য হওয়ার পর এলাকাবাসী রাজবাড়িটি সংস্কারের দাবি তুলেছিল, এরপর ২০০৮ সালে তিনি রাজবাড়ি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যা তখন বাস্তবায়িত হয়নি।[৫] ২০২০[৬] ও ২০২৩ সালে খাগড়াছড়ি ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের অর্থায়নে প্রত্নসম্পদ বিশেষজ্ঞদের একটি দল রাজাভুবন রাজবাড়িকে জাদুঘরে রূপান্তর করার উদ্দেশ্যে সেখানে সমীক্ষা পরিচালনা করেছিল।[৫] ২০২৫ সাল অনুযায়ী রাজবাড়িটি বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের প্রত্নস্থলের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি, যার ফলে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এটি প্রায় নিশ্চিহ্ন হতে বসেছে।[৭] দেবাশীষ রায় স্বীকার করেছিলেন যে একাধিক কারণে তিনি এটি সংস্কার ও সংরক্ষণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি।[৮]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 হোসাইন, আব্বাস (২০ অক্টোবর ২০১৯)। "গা ছমছম করা রাজবাড়ি"। প্রথম আলো।
- ↑ "চাকমা রাজবাড়ি"। কালের কণ্ঠ। ১২ নভেম্বর ২০১৬।
- ↑ চাকমা, আনন্দ বিকাশ (২০২৫)। "চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় চাকমা শাসন (১৭৩৭–১৮৮৫): একটি ঐতিহাসিক পর্যালোচনা" (পিডিএফ)। সমাজবিজ্ঞান অনুষদ জার্নাল। ৩৪। চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
- ↑ "কাপ্তাই হ্রদের পানির নিচে চাকমা রাজার রাজবাড়ী"। যুগান্তর। ১৭ জুন ২০২৫।
- 1 2 নাসির, মাসুদ (২৬ অক্টোবর ২০২৪)। "রাজানগরের রাজবাড়ী সংরক্ষণে নতুন স্বপ্ন"। সমকাল।
- ↑ করিম, রেজাউল (২ নভেম্বর ২০২০)। "নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে রাঙ্গুনিয়ার চাকমা রাজবাড়ি"। রাইজিংবিডি.কম।
- ↑ উল্লাহ, মোহাম্মদ কলিম (২১ জুন ২০২৫)। "রাঙ্গুনিয়ার রাজানগরে দাঁড়িয়ে থাকা ৩০০ বছরের চাকমা রাজবাড়ী আজ নিঃসঙ্গ"। দৈনিক জনকণ্ঠ।
- ↑ চাকমা, সুশীল প্রসাদ (২৪ এপ্রিল ২০২৫)। "সংরক্ষণের অভাবে নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে চাকমা রাজের ঐতিহাসিক নিদর্শন রাঙ্গুনিয়ার রাজবাড়ী"। যুগান্তর।
