রাজনৈতিক বৈধতা

রাষ্ট্রবিজ্ঞানে বৈধতা বলতে কোনও শাসনব্যবস্থায় শাসিতের কাছে শাসকের গ্রহণযোগ্যতা বা যথাযোগ্যতাকে বোঝায়। এটি এমন একটি ধারণা যা পাশবিক শক্তিকে ক্ষমতায় রূপান্তরিত করে। কোনও শাসক, আইন বা শাসনব্যবস্থার কর্তৃত্বের অধিকার ও গ্রহণযোগ্যতা অন্তত আনুষ্ঠানিকভাবে কারও নির্মম, পাশবিক শক্তির উপর ভিত্তি করে তৈরি করা, অথবা জনগণকে জোর করে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সাথে একাত্মতাবোধে বাধ্য করা অসম্ভব।[১] যেখানে কর্তৃত্ব একটি প্রতিষ্ঠিত সরকারের একটি নির্দিষ্ট অবস্থানকে বোঝায়, বৈধতা শব্দটি সরকার ব্যবস্থাকে বোঝায় - যেখানে সরকার বলতে "প্রভাব বলয়" বোঝায়। বৈধ হিসাবে বিবেচিত একটি কর্তৃপক্ষের প্রায়শই ক্ষমতা প্রয়োগের অধিকার ও যুক্তিযুক্ত কারণ থাকে। রাজনৈতিক বৈধতাকে শাসনের জন্য একটি মৌলিক শর্ত হিসাবে বিবেচনা করা হয়। এটির অবর্তমানে একটি সরকারের আইনসভা অচলাবস্থার সম্মুখীন হবে ও সরকারের পতন হবে। যেসব রাষ্ট্রব্যবস্থায় এমনটি ঘটে না, সেখানে অজনপ্রিয় শাসনব্যবস্থা টিকে থাকে, কারণ একটি ছোট, প্রভাবশালী অভিজাত শ্রেণী সেগুলিকে বৈধ বলে স্বীকৃতি দেয়। চীনা রাজনৈতিক দর্শনে চৌ রাজবংশের ঐতিহাসিক সময়কাল (১০৪৬-২৫৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) থেকে একজন শাসক ও সরকারের রাজনৈতিক বৈধতা দৈব আজ্ঞাক্রমে উদ্ভূত হত, এবং অন্যায্য শাসকরা যারা উক্ত আজ্ঞা হারাত, তারা জনগণকে শাসন করার অধিকার হারিয়ে ফেলত।
নৈতিক দর্শনে বৈধতা শব্দটিকে প্রায়শই ইতিবাচকভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। এক্ষেত্রে একটি শাসিত জনসমষ্টি তাদের শাসকদের প্রতিষ্ঠান, পদ এবং কর্মকাণ্ডের উপর প্রদত্ত আদর্শিক মর্যাদা হিসাবে বৈধতা প্রদান করে। তাদের সরকারের কর্মকাণ্ড হল আইনসিদ্ধভাবে গঠিত সরকারের ক্ষমতার যথাযথ ব্যবহার, এই বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে উক্ত বৈধতা দান করা হয়।[২]
আলোকিত যুগের ব্রিটিশ সমাজবিজ্ঞানী জন লক (১৬৩২-১৭০৪) বলেছিলেন যে রাজনৈতিক বৈধতা শাসিতদের প্রত্যক্ষ এবং অপ্রত্যক্ষ জনপ্রিয় সম্মতি থেকে উদ্ভূত হয়: "[দ্বিতীয়] গ্রন্থের যুক্তি হল যে সরকার শাসিতদের সম্মতিতে পরিচালিত না হলে বৈধ নয়।" জার্মান রাজনৈতিক দার্শনিক ডল্ফ ষ্টের্নবের্গার বলেন যে "বৈধতা হল প্রযুক্ত সরকারি ক্ষমতার ভিত্তি, যেখানে সরকার পক্ষ সচেতন যে তার শাসন করার অধিকার রয়েছে এবং একই সাথে শাসিতরা সেই অধিকারের কিছু স্বীকৃতি দেয়"। মার্কিন রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞানী সিমোর মার্টিন লিপসেট বলেছেন যে "বিদ্যমান রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলি সমাজের জন্য যে সবচেয়ে উপযুক্ত, সেই বিশ্বাসটি একটি রাষ্ট্রব্যবস্থার সৃষ্টি করা ও বজায় রাখার সামর্থ্যের" সাথে বৈধতা জড়িত। মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রবার্ট এ. ডাল বৈধতাকে একটি জলাধার হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন: যতক্ষণ জল একটি নির্দিষ্ট স্তরে থাকে, ততক্ষণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে, যদি তা প্রয়োজনীয় স্তরের নিচে নেমে যায়, তাহলে রাজনৈতিক বৈধতা বিপন্ন হয়।
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]- অবৈধকরণ
- পরিচালন ব্যবস্থার ব্যর্থতা
- দলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ
- রাষ্ট্রের বৈধতার পক্ষে সমর্থন
- আইনি বৈধতা
- বৈধকরণ
- আজ্ঞা (রাজনীতি)
- দৈব আজ্ঞা
- একচেটিয়া সহিংসতা
- প্রাধিকার
- প্রায়-স্বশাসিত বেসরকারী সংস্থা
- প্রায়-বৈচারিক সংস্থা
- অস্তিত্বের অধিকার
- উচ্চতর আইন অনুযায়ী শাসন
- আইনের শাসন
- নিজভাগ্য নির্ধারণ
- ভৌগোলিক অখণ্ডতা
- চীনা বৈধতা প্রশ্ন
আরও পড়ুন
[সম্পাদনা]- Schoon, Eric W. (2022). "Operationalizing Legitimacy." American Sociological Review.
- Weigand, Florian (2015). "Investigating the Role of Legitimacy in the Political Order of Conflict-torn Spaces." Security in Transition.
- Weigand, Florian (2022). Waiting for Dignity: Legitimacy and Authority in Afghanistan. Columbia University Press. ISBN 978-0-231-55364-3.
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Cox, Robert W. (১৯৯৭)। The New Realism। Macmillan। পৃ. ৮৬। ডিওআই:10.1007/978-1-349-25303-6। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৩৩৩-৬৬৫৮৪-৮।
- ↑ Phelps, Martha Lizabeth (ডিসেম্বর ২০১৪)। "Doppelgangers of the State: Private Security and Transferable Legitimacy": ৮২৪–৮৪৯। ডিওআই:10.1111/polp.12100।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য|journal=প্রয়োজন (সাহায্য)