রাজকন্যা মানমতি
| জগৎ গোসাঁই | |||||
|---|---|---|---|---|---|
![]() হাতে বুলবুল পাখি নিয়ে জগৎ গোঁসাই, আনু. ১৭শ শতাব্দী | |||||
| জন্ম | শ্রী মানবতী বাইজিলাল সাহিবা ১৩ মে ১৫৭৩ যোধপুর বা ফলোদি, মারোয়াড় রাজ্য, মুঘল সাম্রাজ্য (বর্তমান রাজস্থান, ভারত) | ||||
| মৃত্যু | ৮ এপ্রিল ১৬১৯ (বয়স ৪৫) আকবরাবাদ, আগ্রা সুবাহ, মুঘল সাম্রাজ্য (বর্তমান আগ্রা, উত্তর প্রদেশ, ভারত) | ||||
| সমাধি | দেহরা বাগ, আগ্রা (বর্তমান অর্জুন নগরে জোধাবাই কি ছত্রী, আগ্রা) | ||||
| জাহাঙ্গীর (বি. ১৫৮৬) | |||||
| বংশধর |
| ||||
| |||||
| বংশ | |||||
| পিতা | রাজা উদয় সিং (মোটা রাজা উদয় সিংহ) | ||||
| মাতা | রানি রাজাবাত কাছবাহি মানরাং দেবী | ||||
| ধর্ম | হিন্দুধর্ম | ||||
মানবতী বাঈ (১৩ মে ১৫৭৩ – ৮ এপ্রিল ১৬১৯), যার নামের বানান মনবতী বাঈ হিসেবেও লেখা হয়, তবে তিনি তাঁর উপাধি জগৎ গোসাঁই ( আক্ষ. 'বিশ্বের পূজ্য সাধ্বী বা ‘জগতের গোসাঁই' ) নামেই অধিক পরিচিত।), ছিলেন চতুর্থ মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের দ্বিতীয় স্ত্রী এবং সম্রাজ্ঞী এবং তাঁর উত্তরাধিকারী শাহজাহানের মাতা। [১] [২]
তিনি মানি বাঈ,[৩][৪] মনমতী,[৫][৬] জোধ বাঈ (আক্ষ. 'জোধপুরের রাজকুমারী')[৭] তাজ বিবি[৮] (আক্ষ. 'মুকুটের মহীয়সী') নামেও পরিচিত ছিলেন। তাঁকে মরণোত্তর বিলকিস মাকানি (আক্ষ. 'পবিত্র আবাসের মহীয়সী') উপাধিতে ভূষিত করা হয়।[৯][১০] পর্তুগিজ ধর্মযাজক সেবাস্তিয়ান মানরিক ভুলবশত তাঁকে বালমতী বেগম নামে উল্লেখ করেছিলেন। [১১][১২] তাঁকে তাঁর শাশুড়ি মরিয়ম-উজ-জামানির সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়। ইউরোপীয় ঐতিহাসিকরা ভুল করে মারিয়ম-উজ-জামানিকে "জোধা বাঈ" নামে উল্লেখ করেছিলেন, কারণ জোধপুর অঞ্চলের রাজপরিবারের যেকোনো কন্যাকেই প্রচলিতভাবে "জোধা বাঈ" বা "জোধপুরের রাজকুমারী নামে অভিহিত করা হতো।" [১৩]
জন্মসূত্রে তিনি মারওয়ারের (বর্তমান যোধপুর) একজন রাজপুত রাজকুমারী ছিলেন। তিনি মারওয়ারের শাসক রাজা রাজা উদয় সিং (জনপ্রিয়ভাবে মোটা রাজা নামে অধিক পরিচিত)-এর কন্যা এবং মারওয়ারের আরেক শাসক সওয়াই রাজা সুর সিং-এর সহোদরা (একই মায়ের গর্ভে জন্ম নেওয়া আপন বোন) ছিলেন। এছাড়া কিষাণগড়ের প্রতিষ্ঠাতা মহারাজা কিষাণ সিং -এর আপন বোন।[১৪] [১৫] [১৬] [১৭]
পরিবার
[সম্পাদনা]১৫৭৩ সালের ১৩ মে মনাবতী বাঈ নামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তিনি জোধ বাঈ (অর্থাৎ, যোধপুরের রাজকুমারী) নামেও সুপরিচিত ছিলেন।[১৮][১৯][২০][২১] তিনি রাজপুতদের রাঠোর বংশে জন্মগ্রহণ করেন এবং মারওয়ারের (বর্তমান যোধপুর) শাসক রাজা উদয় সিংহ-এর কন্যা ছিলেন।[২২][২৩] উদয় সিংহ মোটা রাজা উপাধিতে অধিক পরিচিত ছিলেন।[২৪] তাঁর মাতা ছিলেন রাজাবত কচ্ছওয়াহি মনরং দেবী, যিনি উদয় সিংহের প্রধান পত্নী এবং নরওয়ারের রাজা আস্করণ-এর কন্যা ছিলেন। আসকরণ (মৃত্যু ১৫৯৯) তাঁর কাকা ভারমলের পক্ষে সিংহাসনচ্যুত হওয়ার পূর্বে স্বল্প সময়ের জন্য আম্বর-এরও রাজা ছিলেন।[২৫][২৬][২৭][২৮]
তাঁর পিতামহ ছিলেন মালদেও রাঠোর, যার শাসনামলে মারওয়ার একটি শক্তিশালী রাজপুত রাজ্যে পরিণত হয়, যা বিদেশি শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং উত্তর ভারতের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আগ্রাসী শক্তিগুলোর মোকাবিলা করে।[২৯] ১৫৫৫ সালে হুমায়ূন উত্তর ভারতের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের পরও মালদেও রাঠোর সূর সাম্রাজ্য কিংবা মুঘল সাম্রাজ্য—কোনোটির সঙ্গেই জোটবদ্ধ হতে অস্বীকৃতি জানান। পরবর্তীকালে তাঁর পুত্র ও উত্তরসূরি চন্দ্রসেন রাঠোরও একই নীতি অনুসরণ করেন।[৩০]
১৫৬২ সালে মালদেও রাঠোরের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার নিয়ে ভ্রাতৃঘাতী সংঘর্ষ শুরু হয় এবং চন্দ্রসেন যোধপুরে নিজেকে শাসক হিসেবে অভিষিক্ত করেন। কিন্তু তাঁর শাসন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি; একই বছর সম্রাট আকবর-এর বাহিনী মেরতা দখল করে এবং ১৫৬৩ সালে যোধপুর অধিকার করে।[৩১]
১৫৮১ সালের জানুয়ারিতে রাও চন্দ্রসেনের মৃত্যুর পর মারওয়ারকে সরাসরি মুঘল প্রশাসনের অধীনে আনা হয়। ১৫৮৩ সালের আগস্টে আকবর মারওয়ারের সিংহাসন উদয় সিংহের কাছে পুনর্বহাল করেন। তিনি তাঁর পূর্বসূরিদের বিপরীতে মুঘলদের বশ্যতা স্বীকার করেন এবং পরবর্তীকালে মুঘল রাজকীয় প্রশাসনে যোগদান করেন।[৩১]
জাহাঙ্গীরের সঙ্গে বিবাহ
[সম্পাদনা]
মুনি লালের মতে, যুবরাজ সেলিম প্রথম জগৎ গোসাঁইকে দেখতে পান, যখন তিনি তাঁর মাতা এবং মুঘল অন্দরমহলের অন্যান্য প্রবীণ নারীদের সঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। কথিত আছে, তাঁকে দেখেই সেলিম অবিলম্বে বিবাহের প্রস্তাব দেন। সম্রাট আকবর প্রথমে এ প্রস্তাবে সম্মতি দিতে অনিচ্ছুক ছিলেন; পরে হামিদা বানু বেগমের মধ্যস্থতায় তিনি সম্মতি প্রদান করেন। [৩২]
১৫৮৬ সালের ১১ জানুয়ারি তিনি ১৬ বছর বয়সি যুবরাজ সেলিমকে (যিনি পরবর্তীকালে সিংহাসনে আরোহণের পর 'জাহাঙ্গীর' নামে পরিচিত হন) বিবাহ করেন।[৩৩] এই বিবাহের মোহরানা পঁচাত্তর লক্ষ টঙ্কা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সম্রাট আকবর নিজে অন্দরমহলের নারীদের সঙ্গে নিয়ে রাজা উদয় সিংহের গৃহে উপস্থিত হন, যেখানে বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।[৩৪][৩৫]
বিবাহ অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ছিল। অনুষ্ঠানে একদিকে ব্রাহ্মণ পুরোহিতের সংস্কৃত মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে হিন্দু বৈদিক অগ্নিসংক্রান্ত বিবাহ-অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়, অন্যদিকে কাজির উপস্থিতিতে এবং সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের সমাবেশে মুসলিম রীতিনীতি অনুসরণ করা হয়।[৩৬]
কবিরাজ মুরারিদানের [৩৭] বর্ণনায় জানা যায়, এই বিবাহে জগৎ গোসাঁইয়ের পিতৃসূত্রে চাচাতো ভাই রানা কল্যাণ দাস রাঠোর অসন্তুষ্ট হন এবং মোটা রাজা উদয় সিংহের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্তব্য করেন—
একজন কন্যাকে তুর্কিদের সঙ্গে কেন বিবাহ দেওয়া হয়েছে? আমি যুবরাজ এবং মোটা রাজাকে হত্যা করব![যাচাইকরণ ব্যর্থ হয়েছে]
মোটা রাজা এই মন্তব্যের কথা জানতে পেরে সম্রাট আকবরকে অবহিত করেন। আকবর কল্যাণ দাসকে হত্যা করার নির্দেশ দিলে তিনি সাম্রাজ্যিক শিবির থেকে সিওয়ানায় পালিয়ে যান। উদয় সিংহ তাঁর দুই পুত্র ভূপত ও জয়সিংহকে সিওয়ানায় পাঠালেও দুর্গের প্রতিরক্ষা এতই শক্তিশালী ছিল যে তাঁরা পশ্চাদপসরণ করতে বাধ্য হন। এই ব্যর্থতার পর মোটা রাজা আকবরের অনুমতি নিয়ে সাম্রাজ্যিক শিবির ত্যাগ করেন। মারওয়ারে ফিরে তিনি নিজেই সিওয়ানার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন। পরাজয় অনিবার্য বুঝতে পেরে কল্যাণ দাস তাঁর স্ত্রীদের দিয়ে জহর সম্পন্ন করান এবং নিজে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে নিহত হন। এই বিজয়ের পর সিওয়ানা মোটা রাজার অধীনে ন্যস্ত হয়।[৩৮]
তাঁর প্রজ্ঞা ও বিদ্যাবত্তার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে "জগৎ গোসাঁই" উপাধিতে ভূষিত করা হয়।[৩৯] এই বিবাহ মারওয়ারের রাজবংশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। জাহাঙ্গীর ও শাহজাহানের সঙ্গে রক্তের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত না হলে ধর্মীয় দূরত্বের কারণে মারওয়ার ও মুঘলদের মধ্যে গড়ে ওঠা জোট ভেঙে যেতে পারত। এই বিবাহের পর উদয় সিংহ এবং জোধ বাঈয়ের ভ্রাতৃবর্গ ও ভ্রাতুষ্পুত্ররা সমসাময়িক শাসকদের আস্থা অর্জন করেন এবং রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন।[৪০]
যদিও এই বিবাহ ছিল রাজনৈতিক, তবুও জগৎ গোসাঁই কেবল তাঁর সৌন্দর্য, আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব ও মধুর কণ্ঠস্বরের জন্যই নয়, তাঁর বুদ্ধিমত্তা, সাহস এবং তাৎক্ষণিক উপস্থিতবুদ্ধির জন্যও সুপরিচিত ছিলেন। এসব গুণ তাঁদের দাম্পত্য জীবনের প্রথমদিকে জাহাঙ্গীরের কাছে তাঁকে অত্যন্ত প্রিয় করে তুলেছিল।[৪১][৪২] তিনি একজন দক্ষ গায়িকা ছিলেন এবং সঙ্গীতে বিশেষ পারদর্শী ছিলেন বলেও জানা যায়। বিবাহের পর তাঁকে নিয়মিত সঙ্গীতশিক্ষার জন্য একদল অভিজ্ঞ সঙ্গীতজ্ঞের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়।[৪৩][৪৪]
১৫৯০ সালে তিনি তাঁর প্রথম সন্তান, বেগম সুলতান নামে এক কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। শিশুটি এক বছর বয়সেই মৃত্যুবরণ করে।[৪৫] ১৫৯২ সালের ৫ জানুয়ারি তিনি সেলিমের তৃতীয় পুত্রের জন্ম দেন। সম্রাট আকবর তাঁর নাম রাখেন খুররম (অর্থাৎ "আনন্দময়"), যিনি পরবর্তীকালে সম্রাট শাহজাহান নামে পরিচিত হন।[৪৬]
খুররমের জন্মকোষ্ঠীকে শুভ বিবেচনা করে সম্রাট আকবরের নির্দেশে তাঁকে সেলিমের প্রাসাদের পরিবর্তে সম্রাটের নিজ প্রাসাদেই লালন-পালন করা হয়। তাঁকে আকবরের প্রধান পত্নী রুকাইয়া বেগম-এর তত্ত্বাবধানে দেওয়া হয়, যিনি মুঘল অন্দরমহলে বাস করতেন এবং স্নেহের সঙ্গে তাঁকে প্রতিপালন করেছিলেন।
১৬০৫ সালে আকবরের মৃত্যুর পর যুবরাজ খুররমকে তাঁর পিতার গৃহে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। ফলে তিনি পুনরায় তাঁর মায়ের সান্নিধ্যে ফিরে আসেন, যাঁকে তিনি গভীরভাবে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসতেন। দরবারি ইতিহাসে তিনি তাঁর মাকে হজরত বলে উল্লেখ করেছেন।[৪৭][৪৮][৪৯] এর মধ্যবর্তী সময়ে, ১৫৯৭ সালে জগৎ গোসাঁই তাঁর তৃতীয় ও সর্বকনিষ্ঠ সন্তান, লুজ্জত-উন-নিসা নামে এক কন্যার জন্ম দেন, যিনি শৈশবেই মৃত্যুবরণ করেন।[৪৫]
ফিন্ডলির মতে, বিবাহের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই জগৎ গোসাঁই স্বামীর অনুগ্রহ হারিয়েছিলেন।[৫০] অন্যদিকে এস. এস. গুপ্তের মতে, মুঘল অন্দরমহলে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী নূর জাহান-এর আগমন পর্যন্ত জগৎ গোসাঁই-ই জাহাঙ্গীরের প্রিয়তমা স্ত্রী ছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে প্রকাশ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল, যা নিয়ে নানা জনশ্রুতি প্রচলিত হয়।[৫১] ১৬১১ সালে জাহাঙ্গীর নূর জাহানকে বিবাহ করেন এবং সেই সময় থেকে তাঁর মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত নূর জাহান নিঃসন্দেহে তাঁর সর্বাধিক প্রিয় স্ত্রী ছিলেন।[৫২] তবে নূর জাহানকে বিবাহের আগেই জাহাঙ্গীরের প্রধানা সম্রাজ্ঞী ও পাদশাহ বেগম ছিলেন তাঁর স্ত্রী সালিহা বানু বেগম। বিবাহের পর থেকে ১৬২০ সালে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তিনি এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন; তাঁর মৃত্যুর পর এই মর্যাদাপূর্ণ উপাধি নূর জাহান লাভ করেন।[৪৬]
আগ্রা দুর্গের জাহাঙ্গীরি মহল জগৎ গোসাঁইয়ের আবাসস্থল ছিল, যা জাহাঙ্গীর তাঁর জন্য নির্ধারণ করেছিলেন।[৫৩][৫৪] দীর্ঘাকার কুলুঙ্গিবেষ্টিত চত্বরটির পশ্চিমাংশে, যেখানে হিন্দু দেবদেবীর প্রতিকৃতি খোদাই করা রয়েছে, সেখানে তাঁর মন্দির অবস্থিত ছিল।[৫৫]

সিকান্দ্রায় অবস্থিত কাঞ্চ মহল, যা কখনও কখনও জোধ বাঈ-এর মহল নামেও পরিচিত, জাহাঙ্গীর জগৎ গোসাঁইয়ের জন্য নির্মাণ করেছিলেন বলে মনে করা হয়।[৫৬] আগ্রার তাজগঞ্জ এলাকার নামও তাঁর সম্মানেই রাখা হয়েছে বলে মনে করা হয়।[৫৭]
এছাড়াও, তিনি সোহাগপুরা নামে একটি গ্রামের প্রতিষ্ঠাতা বলেও জনশ্রুতি রয়েছে, যা সম্পূর্ণরূপে কাঁচের চুড়ি নির্মাণশিল্পের জন্য নিবেদিত ছিল।[৫৮]
অসুস্থতা, মৃত্যু ও সমাধি
[সম্পাদনা]১৬১৯ সালে ফতেপুর সিক্রিতে অবস্থানকালে জগৎ গোসাঁই অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর জন্য যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল, তা কোনো ফল দেয়নি।[৫৯] অবশেষে, তিনি ১৬১৯ সালের ৮ এপ্রিল আকবরাবাদে (বর্তমান আগ্রা) মৃত্যুবরণ করেন।[৬০] সম্রাট জাহাঙ্গীর তাঁর মৃত্যুর বিষয়ে উল্লেখ করেন:
শুক্রবার, ৩০ তারিখে, শাহজাহানের মাতা (জোধ বাঈ) খোদার রহমত লাভ করেন।
— জাহাঙ্গীর, ভারতের সম্রাট, তুজুক-ই-জাহাঙ্গীরী, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৮৪
জাহাঙ্গীর আরও উল্লেখ করেন যে, শাহজাহান মাতৃবিয়োগে শোকাহত হয়ে পড়েছিলেন এবং
পরদিন আমি নিজেই সেই প্রিয় পুত্রের গৃহে গমন করি এবং তাঁকে সর্বপ্রকারে সমবেদনা জ্ঞাপন করে তাঁকে আমার সঙ্গে প্রাসাদে নিয়ে আসি।
— জাহাঙ্গীর, ভারতের সম্রাট, তুজুক-ই-জাহাঙ্গীরি, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৮৪
মুনি লালের মতে, মাতার মৃত্যুশোকে শাহজাহান এতটাই মর্মাহত হয়েছিলেন যে, তিনি "একুশ দিন পর্যন্ত কোনো জনসমাগম বা রাজকীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেননি এবং কেবল সাধারণ নিরামিষ আহার গ্রহণ করেছিলেন"। এ সময় আরজুমান্দ বানু "তিন সপ্তাহব্যাপী শোকপালনকালে দরিদ্রদের মধ্যে খাদ্য বিতরণের তত্ত্বাবধান ব্যক্তিগতভাবে করেন এবং প্রতিদিন সকালে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের ব্যবস্থা করেন"। পাশাপাশি তিনি "জীবন ও মৃত্যুর তাৎপর্য সম্পর্কে স্বামীকে বহু উপদেশ দেন এবং তাঁকে অতিরিক্ত শোক না করার জন্য অনুরোধ করেন"।[৬১]
তাঁর মৃত্যুর পর, জাহাঙ্গীর নির্দেশ দেন যে, সকল সরকারি নথিপত্রে তাঁকে বিলকিস মাকানি ("পবিত্র আবাসের মহীয়সী") নামে উল্লেখ করা হবে।[৬২][৬৩] তাঁর মৃত্যু এবং মরিয়ম-উজ-জামানির রাজনীতি থেকে অবসর গ্রহণের ফলে মুঘল দরবারে রাজপুতদের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।[৬৪]
তাঁর ইচ্ছানুসারে তাঁকে নূর মঞ্জিলের নিকটবর্তী দেহরা বাগে (বর্তমান আগ্রার অর্জুন নগর) সমাহিত করা হয়।[৫৯] তাঁর সমাধিটি ছিল চারদিকে ৭৮ ফুট দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট একটি বর্গাকার স্থাপনা, যার মধ্যে একটি উঁচু গম্বুজ, প্রবেশদ্বার, মিনারসদৃশ টাওয়ার এবং সেনানিবাস এলাকার মধ্যে অবস্থিত একটি উদ্যান ছিল। সমাধির নিচে একটি বৃহৎ খিলানযুক্ত ভূগর্ভস্থ প্রকোষ্ঠ ছিল, যেখানে চারটি ঢালু পথ নেমে গিয়েছিল। ধারণা করা হয়, সেখানে একটি মার্বেলের ছদ্মসমাধি (সেনোটাফ) ছিল। সমাধিটি দুটি চত্বরের ওপর নির্মিত ছিল, যার একটি অন্যটির তুলনায় উঁচু। প্রথম চত্বরটি সমাধি থেকে ৩৮ ফুট এবং দ্বিতীয়টি প্রথম চত্বর থেকে প্রায় ৪৪ ফুট পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। পূর্ব দিকে ৬৭০ ফুট দূরে একটি সুবিশাল প্রবেশদ্বার এবং পশ্চিম দিকে ৬৫৭ ফুট দূরে একটি মসজিদ অবস্থিত ছিল। সমাধি ও প্রবেশদ্বারের মধ্যবর্তী স্থানে এবং সমাধি ও মসজিদের মধ্যবর্তী স্থানে উভয় পাশে ৪২ ফুট বর্গাকার দুটি উঁচু চত্বর ছিল।[৬৫] ১৮৩২ সালে ব্রিটিশরা নির্মাণসামগ্রী—বিশেষত পাথর ও ইট—সংগ্রহের উদ্দেশ্যে এবং স্থানের প্রয়োজন মেটাতে গানপাউডার ব্যবহার করে সমগ্র স্থাপনাটি উড়িয়ে দেয়।[৬৬]

১৯২১ সালে প্রত্নতাত্ত্বিক সুপারিনটেনডেন্টের কার্যালয়ে প্রস্তুত নকশা অনুসারে তাঁর সমাধিস্থল চিহ্নিত করতে একটি ছত্রী নির্মাণ করা হয়। ছত্রিটি মূল ভূগর্ভস্থ সমাধিকক্ষের ঠিক ওপরেই নির্মিত হয়। এর নির্মাণব্যয় বহন করেন বর্ধমানের মহারাজাধিরাজ এবং ১৯২১ সালে এর ব্যয় ছিল প্রায় ২০০ রুপি। এই ছত্রিটি 'সম্রাজ্ঞী জোধ বাঈ-এর সমাধিস্থল-চিহ্নিতকারী ছত্রী'' অথবা সংক্ষেপে ''জোধবাঈএর ছত্রী'' নামে পরিচিত।[৬৭][৬৮]
সন্তান
[সম্পাদনা]জাহাঙ্গিরের সঙ্গে জগৎ গোসাঁইয়ের তিনটি সন্তান ছিল:
- বেগম সুলতান বেগম (৯ অক্টোবর ১৫৯০, লাহোর, মুঘল সাম্রাজ্য – সেপ্টেম্বর ১৫৯১, মুঘল সাম্রাজ্য);
- মুহাম্মদ খুররম (৫ জানুয়ারি ১৫৯২, লাহোর, মুঘল সাম্রাজ্য – ২২ জানুয়ারি ১৬৬৬, আগ্রা দুর্গ, আগ্রা, মুঘল সাম্রাজ্য; আগ্রার তাজ মহল-এ সমাহিত), যিনি পরবর্তীকালে শাহজাহান নামে মুঘল সাম্রাজ্যের পঞ্চম সম্রাট হিসেবে জাহাঙ্গীরের উত্তরসূরি হন;
- লুজ্জত-উন-নিসা বেগম (২৩ সেপ্টেম্বর ১৫৯৭, কাশ্মীর, মুঘল সাম্রাজ্য – আনু. ১৬০৩, এলাহাবাদ, মুঘল সাম্রাজ্য)।
জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে
[সম্পাদনা]- জগৎ গোসাঁই ইন্দু সুন্দরেশনের পুরস্কারপ্রাপ্ত ঐতিহাসিক উপন্যাস The Twentieth Wife (২০০২)-এর অন্যতম প্রধান চরিত্র।[৬৯] তিনি এর পরবর্তী খণ্ড The Feast of Roses (২০০৩)-এও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে উপস্থিত।[৭০]
- নয়নী দীক্ষিত এপিক চ্যানেলের ঐতিহাসিক ধারাবাহিক Siyaasat-এ জগৎ গোসাঁইয়ের চরিত্রে অভিনয় করেন। ধারাবাহিকটি The Twentieth Wife উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত।
- তনুশ্রী পোদ্দারের উপন্যাস Nur Jahan's Daughter (২০০৫)-এ জগৎ গোসাঁই একটি চরিত্র।[৭১]
- জ্যোতি জাফা-র উপন্যাস Nurjahan: A Historical Novel-এর অন্যতম প্রধান চরিত্র জগৎ গোসাঁই।[৭২]
- নিনা কনসুয়েলো এপটনের উপন্যাস Beloved Empress Mumtaz Mahal: A Historical Novel-এও জগৎ গোসাঁই একটি চরিত্র।[৭৩]
- অ্যালেক্স রাদারফোর্ডের উপন্যাস Ruler of the World (২০১১)-এ জগৎ গোসাঁই জোধ বাঈ নামে একটি চরিত্র। তিনি এর পরবর্তী খণ্ড The Tainted Throne (২০১২)-এও উপস্থিত, যা Empire of the Moghul ধারাবাহিকের অংশ।[৭৪][৭৫]
- টাইমেরি মুরারির উপন্যাস Taj, a Story of Mughal India-এ জগৎ গোসাঁই জোধি বাঈ নামে একটি চরিত্র।[৭৬]
- ২০০১ সালে দূরদর্শনের টেলিভিশন ধারাবাহিক Noorjahan-এও জগৎ গোসাঁই একটি চরিত্র হিসেবে উপস্থাপিত হন।
- ২০২৩ সালে ZEE5-এর ওয়েব ধারাবাহিক Taj: Divided by Blood-এ জগৎ গোসাঁইয়ের চরিত্রে অভিনয় করেন তানভি নেগি।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Tirmizi, S. A. I. (১৯৮৯)। Mughal Documents। Manohar। পৃ. ৩১।
- ↑ Sarkar, Jadunath (১৯৫২)। Mughal Administration। M. C. Sarkar। পৃ. ১৫৬–৫৭।
- ↑ Congress, Indian History (১৯৬৩)। Proceedings। খণ্ড ২৪। পৃ. ১৩৫।
- ↑ Hooja, Rima। A history of Rajasthan। পৃ. ১৬৩।
- ↑ Welch, Stuart Cary। The Emperors' Album: Images of Mughal India। পৃ. ১৩৭।
- ↑ Awan, Muhammad Tariq (১৯৯৪)। History of India and Pakistan: pt. 1. Great Mughals। পৃ. ৩৭৮।
- ↑ The Jahangirnama: memoirs of Jahangir, Emperor of India। Oxford Univ. Press। ১৯৯৯। পৃ. ১৩। আইএসবিএন ৯৭৮০১৯৫১২৭১৮৮।
- ↑ Sen Gupta, Subhadra। MAHAL: Power and Pageantry in the Mughal Harem।
- ↑ Sharma, Sudha (২০১৬)। The Status of Muslim Women in Medieval India (ইংরেজি ভাষায়)। SAGE Publications India। পৃ. ১৪৪। আইএসবিএন ৯৭৮৯৩৫১৫০৫৬৭৯।
- ↑ Lal, K.S. (১৯৮৮)। The Mughal harem। Aditya Prakashan। পৃ. ১৪৯। আইএসবিএন ৯৭৮৮১৮৫১৭৯০৩২।
- ↑ European Travel Accounts During the Reigns of Shahjahan and Aurangzeb। ১৯৯৪। পৃ. ৩৮।
- ↑ Manrique, Sebastian। Travels of Fray Sebāstien Manrique, 1629-1643। পৃ. ২৯৯।
- ↑ Jhala, Angma Dey (২০১১)। Royal Patronage, Power and Aesthetics in Princely India। Pickering & Chatto Limited। পৃ. ১১৯।
- ↑ Shujauddin, Mohammad; Shujauddin, Razia (১৯৬৭)। The Life and Times of Noor Jahan (ইংরেজি ভাষায়)। Caravan Book House। পৃ. ৫০।
- ↑ Balabanlilar, Lisa (২০১৫)। Imperial Identity in the Mughal Empire: Memory and Dynastic Politics in Early Modern South and Central Asia (ইংরেজি ভাষায়)। I.B.Tauris। পৃ. ১০। আইএসবিএন ৯৭৮০৮৫৭৭৩২৪৬০।
- ↑ The Mertiyo Rathors of Merta, Rajasthan ; Volume II। পৃ. ৪৬।
- ↑ Mukhoty, Ira (২০১৮)। Daughters of the Sun: Empresses, Queens and Begums of the Mughal Empire (ইংরেজি ভাষায়)। Aleph। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৩-৮৬০২১-১২-০।
- ↑ Findly, p. 125
- ↑ The Mertiyo Rathors of Merta, Rajasthan ; Volume II। পৃ. ৪৬।
- ↑ The Jahangirnama: Memoirs of Jahangir, Emperor of India। Freer Gallery of Art, Arthur M. Sackler Gallery। ২০১৯। পৃ. xiii।
- ↑ Tillotson, Giles (২০০৮)। Taj Mahal। Cambridge, Mass.: Harvard University Press। পৃ. ২৮। আইএসবিএন ৯৭৮০৬৭৪০৬৩৬৫৫।
- ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; "Thackston2" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ Chandra, Satish (২০০৫)। Medieval India : from Sultanat to the Mughals (Revised সংস্করণ)। New Delhi: Har-Anand Publications। পৃ. ১১৬। আইএসবিএন ৯৭৮৮১২৪১১০৬৬৯।
- ↑ Mehta, Jaswant Lal (১৯৮৬)। Advanced Study in the History of Medieval India। Sterling Publishers Pvt. Ltd। পৃ. ৪১৮। আইএসবিএন ৯৭৮৮১২০৭১০১৫৩।
- ↑ Richard Saran and Norman P. Ziegler, The Mertiyo Rathors of Merto, Rajasthan (2001), p. 45
- ↑ Bhargava, Visheshwar Sarup। Marwar And The Mughal Emperors (1526-1748)। পৃ. ৫৮।
- ↑ Soma Mukherjee, Royal Mughal Ladies and Their Contributions (2001), p. 128
- ↑ Sarkar, J. N. (১৯৯৪) [1984]। A History of Jaipur (Reprinted সংস্করণ)। Orient Longman। পৃ. ৩৩। আইএসবিএন ৮১-২৫০-০৩৩৩-৯।
- ↑ Lal, K.S. (১৯৮৮)। The Mughal harem। New Delhi: Aditya Prakashan। পৃ. ২৭। আইএসবিএন ৯৭৮৮১৮৫১৭৯০৩২।
- ↑ Bose, Melia Belli (২০১৫)। Royal Umbrellas of Stone: Memory, Politics, and Public Identity in Rajput Funerary Art। BRILL। পৃ. ১৫০। আইএসবিএন ৯৭৮-৯-০০৪৩০-০৫৬-৯।
- 1 2 Sarkar 1994, পৃ. 41
- ↑ Lal, Muni (১৯৮৩)। Jahangir। পৃ. ২৪।
- ↑ Dimensions of Indian Womanhood, Volume 3। ১৯৯৩। পৃ. ৩৩৮।
- ↑ Jahangir, Emperor Of Hindustan (১৯৯৯)। The Jahangirnama: memoirs of Jahangir, Emperor of India। Thackston, W. M. কর্তৃক অনূদিত। Washington, D. C.: Freer Gallery of Art, Arthur M. Sackler Gallery, Smithsonian Institution; New York: Oxford University Press। পৃ. ৬। আইএসবিএন ৯৭৮০১৯৫১২৭১৮৮।
In 994 [1586], at an auspicious hour. His Majesty [Jahangir] was affianced to the daughter of Raja Udai Singh, whose nobility, status, army, and power were superior to all the rajas of India. His Majesty Arsh-Ashyani [Akbar] went with the ladies of the harem to the raja's house for the marriage and celebration. Raja Udai Singh was the son of Raja Mai Deo, who was one of the major rajas of puissance, and whose army numbered eighty thousand horsemen.
- ↑ Bhargava, Visheshwar Sarup (১৯৬৬)। Marwar And The Mughal Emperors (1526-1748)। পৃ. ৫৯।
- ↑ Nicoll, Fergus (৩ এপ্রিল ২০১৮)। Shah-Jahan: The Rise and Fall of the Mughal Emperor। Penguin Random House Private India Limited।
His wedding to Manmati Jodh-Bhai had been a characteristically lavish ceremony, featuring both Hindu fire ceremonies, with priests chanting Sanskrit verses, and the full Muslim proprieties, in the presence of the Qadi, the senior Islamic jurist, and an array of military and civilian dignitaries.
- ↑ Kaviraj Murardanji ki Khyat ka Tarjuma। পৃ. ৬০৫।
- ↑ The Mertiyo Rathors of Merta, Rajasthan Vol II। পৃ. ২৭৮–২৭৯।
- ↑ Lal Shrivastava, Ashirbadi (১৯৭৩)। Society, and culture in 16th century India। পৃ. ২৯৩।
Her original name was Man Mati and on account of her ability and learning she was given the title of Jagat Gosain
- ↑ Bhargava, Vishweshwar Sarup (১৯৬৬)। Marwar And The Mughal Emperors (1526-1748)। পৃ. ৫৯।
- ↑ Findly, p. 124
- ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; ":1" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ Singh, S. B.। Life and Times of Maulana Abul Kalam Azad। পৃ. ৩৭২।
- ↑ Azhar, Mirza Ali। King Wajid Ali Shah of Awadh, Volume 2। পৃ. ৬৭।
- 1 2 Moosvi, Shireen (২০০৮)। People, taxation, and trade in Mughal India। Oxford: Oxford University Press। পৃ. ১১৪। আইএসবিএন ৯৭৮০১৯৫৬৯৩১৫৭।
- 1 2 উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; "Findly, p. 125" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ Perston, Diana; Perston, Micheal। A Teardrop on the Cheek of Time: The Story of the Taj Mahal।
Although removed from his mother at birth, Shah Jahan had become devoted to her.
- ↑ Faruqui, Munis D. (২৭ আগস্ট ২০১২)। Princes of the Mughal Empire, 1504–1719। Cambridge University Press। পৃ. ৭১। আইএসবিএন ৯৭৮-১-১০৭-০২২১৭-১।
- ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; ":02" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ Findly, p. 49
- ↑ Gupta, Subhadra Sen। MAHAL: Power and Pageantry in the Mughal Harem। Hachette, UK।
She was the favorite queen of Jahangir till the arrival of Nur Jahan, and there was an open rivalry between the two queens, which led to many gossipy stories about their encounter.
- ↑ Findly, p. 126
- ↑ Preservation of National Monuments: ... Report of the Curator of Ancient Monuments in India for the Year ..., Issue 1। India: Government Central Branch Press। ১৮৮২। পৃ. vi।
- ↑ Gazetteer Of Agra। ১৯০৫। পৃ. ২১৬।
- ↑ Havell, E. B.। A Handbook to Agra and the Taj Sikandra, Fatehpur-Sikri and the Neighbourhood। পৃ. ২৯।
- ↑ F.J. McBride, Sikandra 1840-1940 (Sikandra, 1940), p.13.
- ↑ Hooja, Rima (২০০৬)। A History of Rajasthan। Rajasthan, India: Rupa & Company। পৃ. ৫৩৬।
- ↑ Rawat, Dr. Sugandh (২০২০)। THE WOMEN OF MUGHAL HAREM। Evincepub Publishing। পৃ. ১৮২।
- 1 2 Kamboh, Muhammad Saleh। Amal I Salih।
During her stay at Fatehpur, the mother of Shah Jahan, Hazrat Bilqis Makani, a resident of Agra became ill. The treatment did not work. Finally, on 4th Jamadi-ul-Awal, she passed away and according to her will, she was buried at Dehra Bagh, near Noor Manzil.
- ↑ The Shah Jahan Nama of 'Inayat Khan। Oxford University Press। ১৯৯০। পৃ. xl।
In the fourteenth year of Jahangir's reign, corresponding to 1028 ( 18 April 1619 ), when His Majesty had attained the age of twenty - eight years, the Bilqis of the age, His Majesty's noble mother, died at Akbarabad .
- ↑ Lal, Muni (১৯৮৬)। Shah Jahan। Vikas Publishing House। পৃ. ৫২।
- ↑ Findly, p. 94
- ↑ Findly, p. 162
- ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; ":42" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ Beglar, J. D. (১৮৭১–১৮৭২)। "Delhi"। Archeological Survey of India। IV: ১২১–১২২ – Office of the Superintendent of Government Printing এর মাধ্যমে।
- ↑ Nath, R. (১৯৮৯)। Histographical Study of Indo-Muslim Study: Medieval Architecture of India and Pakistan। Historical Research Documentation Programme। পৃ. ১০। আইএসবিএন ৯৭৮-৮-১৮৫-১০৫১০-৯।
- ↑ Annual Report। Office of Archeological Survey of India। ১৯২২। পৃ. ২।
- ↑ Annual Progress Report of the Superintendent, Muhammadan and British Monuments, Northern Circle। Archeological Survey of India, Northern Circle। ১৯২১। পৃ. ১১।
- ↑ Sundaresan, Indu (২০০২)। Twentieth wife : a novel (Paperback সংস্করণ)। New York: Washington Square Press। পৃ. ১১। আইএসবিএন ৯৭৮০৭৪৩৪২৮১৮৭।
- ↑ Sundaresan, Indu (২০০৩)। The Feast of Roses: A Novel (ইংরেজি ভাষায়)। Simon and Schuster। আইএসবিএন ৯৭৮০৭৪৩৪৮১৯৬০।
- ↑ Podder, Tanushree (২০০৫)। Nur Jahan's Daughter। New Delhi: Rupa & Co.। আইএসবিএন ৯৭৮৮১২৯১০৭২২০।
- ↑ Jafa, Jyoti (১৯৭৮)। Nurjahan: A historical novel। India: Writer's Workshop।
- ↑ Epton, Nina Consuelo (১৯৯৬)। Beloved Empress Mumtaz Mahal: A Historical Novel। Roli Books।
- ↑ Rutherford, Alex (২০১১)। Ruler of the World। Hachette UK। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৭৫৫-৩৪৭৫৮-২।
- ↑ Rutherford, Alex (২০১২)। The Tainted Throne। Hachette UK। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৭৫৫-৩৪৭৬১-২।
- ↑ Murari, Timeri (২০০৪)। Taj, a Story of Mughal India। Penguin।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]| এই নিবন্ধটি অসম্পূর্ণ। আপনি চাইলে এটিকে সম্প্রসারিত করে উইকিপিডিয়াকে সাহায্য করতে পারেন। |
