বিষয়বস্তুতে চলুন

রাওয়াল মল্লিনাথ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

রাওয়াল মল্লিনাথ হলেন ১৪ শতকের রাজস্থানের লোকনায়ক।[১] তিনি ছিলেন বাড়মের জেলার মেহওয়ানগরের শাসক রাও সালখাজির জ্যেষ্ঠ পুত্র। তাঁর জন্ম পাচপদ্রের কাছে গোপদীতে। পিতা তাঁর নাম রাখেন মল্লিনাথ। মল্লিনাথের ১২ বছর বয়সে রাও সালখাজি মারা যান। মল্লিনাথ এবং তাঁর স্ত্রী রানি রূপাড়ে পশ্চিম রাজস্থানে লোক সাধক হিসাবে সম্মানিত। রাওয়াল মল্লিনাথ ১৩৯৯ সালে দোদিয়ালীতে মারা যান। তাঁর স্ত্রী রূপাড়ে তাঁর চিতায় সতীমাতা হয়েছিলেন।।

সন্ত এবং একজন যোদ্ধা[সম্পাদনা]

রাওয়াল মল্লিনাথের রাজ্যক্ষেত্র ছিল পশ্চিমে সিন্ধ এবং উত্তরে জয়সলমের। ১৩৯৪ সালে, তিনি তাঁর ভাগ্নে রাও চুণ্ডার নেতৃত্বে মন্ডোরকে সংযুক্ত করার জন্য একটি দল পাঠান। রাও চুণ্ডা মুসলিম বাহিনীকে পরাজিত করে মন্ডোর দখল করে।[২]

তিনি একজন সাহসী যোদ্ধা ছিলেন। তিনি মালবের নিজ্জামুদিন এবং ফিরোজ শাহ তুগলকের মুসলমান সেনাবাহিনীর ত্রয়োদশ বিভাগকে পরাজিত করেন।[৩] তিনি যে অঞ্চলটি জয় করেন সেটি পরে মালানি নামে পরিচিত হয়। তিনিই এলাকার প্রথম প্রধান যিনি রাওয়াল উপাধি গ্রহণ করেন। জনশ্রুতি আছে যে তিনি ঐশ্বরিক ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন এবং দেবী নিজেই তাঁর সামনে উপস্থিত হয়েছিলেন।[৪]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

রাওয়াল মল্লিনাথের বংশধররা রাঠোর বংশ এবং মহেচা রাঠোর বংশের সমস্ত পরিবারের মধ্যে প্রাচীনতম। রাওয়াল মল্লিনাথ ছিলেন রাওয়াল সালখাজির জ্যেষ্ঠ পুত্র। সালখাজির অন্য দুই পুত্রের নাম ছিল বিরামদেও এবং জৈতমল। ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে, খেড়ের রাঠোররা খেড়ের চারপাশে তাদের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছিল। [৫] যোধপুর, বিকানের, রতলাম, সীতামাউ, সাইলানা, ইদার এবং আলিরাজপুরের পরিবারগুলির বংশসূত্র এসেছে বিরামদেওয়ের কাছ থেকে। গুদামালানি এবং কেলওয়ারের পরিবারগুলির বংশসূত্র এসেছে জৈতমালের কাছ থেকে।[৬]

১৬৭৫ সালের ১৪ই শ্রাবণ ভাদীতে, রাওয়াল মল্লিনাথের মূর্তিটি গোপদী গ্রামে স্থাপন করেছিলেন জয়সলমীরের শাসক রাওয়াল কল্যাণদাসের পুত্র কুঁয়র মনোহরদাস। মন্দির প্রতিষ্ঠার কারণ মনোহরদাসের মা মহেচা বংশের ছিলেন এবং মল্লিনাথ মনোহরদাসের কাছে শ্রদ্ধেয় ছিলেন। রাওয়াল মল্লিনাথকে একজন যোদ্ধা-সন্ত হিসাবে দেখা হয় এবং তাঁর বীরত্বপূর্ণ শৌর্য এবং সাধু মনোভাবকে নিয়ে রচিত গানগুলি এখনও পশ্চিম রাজস্থানের লোক গায়কেরা গেয়ে থাকে। তাঁর স্ত্রী রানি রূপাড়েও একজন সাধ্বী ছিলেন – তাঁর রচিত ভজনগুলি এখনও পশ্চিম রাজস্থানে জনপ্রিয়।

ঘটনা সমূহ[সম্পাদনা]

বারমের জেলার তিলওয়ারা-এ প্রতি বছর মল্লিনাথ গবাদি পশু মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এটি রাজস্থানের সবচেয়ে বড় গবাদি পশু মেলা। মল্লিনাথ মেলায় প্রায়ই গরু, উট, ভেড়া, ছাগল এবং ঘোড়া সহ অনেক জনপ্রিয় জাতের প্রাণী দেখা যায়। গুজরাত এবং মধ্যপ্রদেশের মতো দূরদূরান্তের মানুষও ভালো দামের পশুর জন্য এই মেলায় আসে। কথিত আছে যে রাওয়াল মল্লিনাথের ভক্তরা যখন ভাল জাতের পশুর উপর চড়ে তিলওয়াড়ায় জড়ো হয়েছিল জনপ্রিয় স্থানীয় নায়ক মল্লিনাথের সাথে দেখা করার জন্য, তখন থেকেই এই মেলার উৎপত্তি। এখানে মল্লিনাথের একটি মন্দির রয়েছে, যেখানে লোকেরা এই বিশ্বাস নিয়ে প্রার্থনা করে যে তাদের ইচ্ছা পূরণ হবে। ইচ্ছা পূরণ হলে মন্দিরে ধন্যবাদের চিহ্ন হিসাবে ঘোড়ার ক্ষুদ্র মূর্তি অর্পণ করার প্রথা রয়েছে। উত্তরপ্রদেশের মথুরা, আগ্রা এবং আলিগড় থেকে আসা ব্যবসায়ীদের কাঠ, পিতল এবং ব্রোঞ্জের ঘোড়া বিক্রি করতে দেখা যায়। সাধারণ পণ্যদ্রব্য, পশুখাদ্য এবং কৃষি সরঞ্জাম বিক্রির অন্যান্য দোকানও সেখানে রয়েছে।

মেলার সূচনা হয় রাওয়াল মল্লিনাথজির পতাকা উত্তোলন করে এবং তাঁর বীরত্ব ও মহত্ত্বের প্রশংসা করে লেখা গানের মাধ্যমে। মেলায় শুষ্ক নদীর তীরে ষাঁড়, উট এবং ঘোড়ার প্রতিযোগিতা দেখা যায়। বিজয়ী পশুদের সাদা তকমা পরানো হয় এবং মেলায় বেশি দামে বিক্রি করা হয়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Sir William Wilson Hunter, James Sutherland Cotton, Sir Richard Burn, Great Britain. India Office, Sir William Stevenson Meyer, Imperial gazetteer of India - Volume 17, page 93
  2. Gazetteers Of India Rajasthan (barmer) Page no. 33
  3. Glory of Marwar and glorious Rathores Page no. 27
  4. Glory of Marwar and glorious Rathores Page no. 34
  5. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ১ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ মার্চ ২০২২ 
  6. Dhananajaya Singh, The house of Marwar

আরও দেখুন[সম্পাদনা]