রাওয়ালপিন্ডি গণহত্যা (১৯৪৭)
| রাওয়ালপিন্ডি গণহত্যা (১৯৪৭) | |||
|---|---|---|---|
রাওয়ালপিন্ডিতে গণহত্যা চলাকালীন অগ্নিদগ্ধে মৃত মানুষের কঙ্কাল অবশেষ, থামালি | |||
| তারিখ | মার্চ ১৯৪৭ | ||
| অবস্থান | রাওয়ালপিন্ডি বিভাগ, পাঞ্জাব, ব্রিটিশ ভারত | ||
| কারণ | মুসলিম জনতা | ||
| লক্ষ্য | |||
| পদ্ধতি | |||
| পক্ষ | |||
| ক্ষয়ক্ষতি | |||
| নিহত | ২,০০০–৭,০০০ | ||
১৯৪৭ সালের রাওয়ালপিন্ডি গণহত্যা (অথবা ১৯৪৭ এর রাওয়ালপিন্ডি দাঙ্গা ) [১] বলতে ১৯৪৭ সালের মার্চ মাসে ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের রাওয়ালপিন্ডি বিভাগে মুসলিম জনতা কর্তৃক হিন্দু ও শিখদের উপর ব্যাপক সহিংসতা, গণহত্যা এবং ধর্ষণের কথা বোঝায়। ভারত বিভাগের পূর্বে এই সহিংসতা সংঘটিত হয়েছিল এবং মুসলিম লীগের জঙ্গি শাখা মুসলিম লীগ ন্যাশনাল গার্ডস - এবং লীগের স্থানীয় ক্যাডার–রাজনীতিবিদরা মুসলিম সৈন্য, স্থানীয় কর্মকর্তা এবং পুলিশ সদস্যদের ক্ষমতাচ্যুত করেছিল। [২] [৩]
এটি পাঞ্জাব ইউনিয়নিস্ট, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এবং আকালি দলের জোট সরকারের পতনের পর ঘটে, যা মুসলিম লীগের ছয় সপ্তাহের প্রচারণার মাধ্যমে সম্পাদন করা হয়েছিল। এই দাঙ্গায় ২০০০ থেকে ৭০০০ শিখ ও হিন্দু নিহত হন এবং রাওয়ালপিন্ডি বিভাগ থেকে তাদের ব্যাপক নিষ্ক্রমণ শুরু হয়। [৪] [৫] এপ্রিলের শেষ নাগাদ ৮০,০০০ শিখ এবং হিন্দু রাওয়ালপিন্ডি ত্যাগ করে চলে গেছে বলে অনুমান করা হয়েছিল। [৬] এই ঘটনাগুলি ছিল পাঞ্জাবে দেশভাগ-সম্পর্কিত সহিংসতার প্রথম উদাহরণ যা জাতিগত নির্মূলীকরণের স্পষ্ট প্রকাশ, [৭] [৮]এবং দেশভাগের সাথে সাথে নারীদের বিরুদ্ধে পদ্ধতিগত সহিংসতার সূচক, যেখানে ব্যাপক যৌন সহিংসতা, ধর্ষণ এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তর ঘটে, বহু নারী তাদের সন্তানদের সাথে গণ-আত্মহত্যা অবলম্বন করে এবং অপহরণ এবং ধর্ষণের ভয়ে তাদের পুরুষ আত্মীয়দের দ্বারা বহু হত্যা সংঘটিত হয়। [৯] [১০] ঘটনাগুলিকে কখনও কখনও রাওয়ালপিন্ডির ধর্ষণ হিসাবে উল্লেখ করা হয়।[১১][১২]
পটভূমি
[সম্পাদনা]
১৯৪৬ সালের পাঞ্জাব প্রাদেশিক নির্বাচনে, মুসলিম লীগ (এম.এল) প্রদেশের ৮৬টি মুসলিম আসনের মধ্যে ৭৫টিতে জয়লাভ করে এবং বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়, কিন্তু কোনও অমুসলিম দল জিততে ব্যর্থ হয় এবং ১৭৫টি আসনের বিধানসভায় গুপ্ত সংখ্যা থেকে পিছিয়ে পড়ে। মুসলিম জমিনদার নেতৃত্বাধীন ধর্মনিরপেক্ষ ইউনিয়নিস্ট পার্টি ১৮টি আসন জিতেছিল, যার মধ্যে ১০টি মুসলিম আসন, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস সাথে একটি জোট সরকার গঠন করে, যা এমএল-এর পরে দ্বিতীয় বৃহত্তম বিজয়ী হিসেবে ৫১টি আসনে জয়লাভ করেছিল এবং শিরোমণি আকালি দল শিখ নির্বাচনী এলাকা থেকে ২০টি আসনে জয়ী হয়েছিল।[ক] ইউনিয়নবাদী নেতা খিজার হায়াত তিওয়ানা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।[খ][১৫]
১৯৪৬ সালের জুলাই মাসে ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনা থেকে সরে আসার পর, মুসলিম লীগ নেতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ আগস্ট মাসে "প্রত্যক্ষ সংগ্রাম" এর ডাক দেন। প্রত্যক্ষ সংগ্রাম আহ্বানের পর কলকাতায় ব্যাপক দাঙ্গা এবং সহিংসতা শুরু হয়, যা পরবর্তী কয়েক মাসে নোয়াখালী, বিহার, মুঙ্গের, ভাগলপুর সহ অন্যান্য স্থানে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে। [১৬]১৯৪৬ সালের ডিসেম্বরে, উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের (এন.ডাব্লু.এফ.পি) হাজারা জেলা থেকে সেই প্রদেশে কংগ্রেস সরকারকে উৎখাত করার উদ্দেশ্যে মুসলিম লীগের প্রচারের পর দাঙ্গার খবর পাওয়া যায়।[গ][১৮] প্রতিবেশী রাওয়ালপিন্ডি বিভাগে হাজার হাজার হিন্দু ও শিখ শরণার্থী আশ্রয় নেয়, যাদের হাজারা জেলা থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল। [১৯] [২০] ১৯৪৭ সালের জানুয়ারিতে, তিওয়ানা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ এবং মুসলিম লীগ ন্যাশনাল গার্ড নিষিদ্ধ করেন। এর ফলে প্রদেশ জুড়ে মুসলিম লীগ কর্তৃক বিশাল "প্রত্যক্ষ সংগ্রাম" বিক্ষোভ শুরু হয় যা পরে সহিংস হয়ে ওঠে। [২১] [২২] মুসলিম লীগের প্রচারণা প্রদেশে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তোলে, যা গত বছরের নির্বাচনী প্রচারণার পরে ইতিমধ্যেই উত্থাপিত হয়েছিল। [২৩] ১৯৪৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্লিমেন্ট অ্যাটলি ঘোষণা করেন, ব্রিটিশরা ১৯৪৮ সালের জুনের মধ্যে ভারত ত্যাগ করবে। [২৪]
ঘটনাবলী
[সম্পাদনা]১৯৪৭ সালের ২রা মার্চ খিজার হায়াত তিওয়ানা মুসলিম লীগের আন্দোলন ও তার মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে প্রচারণা তথা ব্রিটিশ শাসন অবসানের আসন্ন আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন।[১৭][১৮] যদিও প্রত্যাশিত ছিল যে, মুসলিম লীগ নেতৃত্বাধীন জোট গঠন করা সম্ভব হয়নি কারণ অমুসলিম আইন প্রণেতাদের ভয় দূর করতে লীগ অক্ষম ছিল, যারা ক্রমশ লীগ এবং পাকিস্তান দাবির প্রতি বিরূপ হয়ে উঠছিল। [২৫]আকালি দলের নেতা মাস্টার তারা সিং ৩রা মার্চ পাঞ্জাব বিধানসভার বাইরে পাকিস্তান দাবির প্রতি প্রাকাশ্যে তাঁর অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।[ঘ][২৬][২৭] ৪ঠা মার্চ পাকিস্তান দাবির বিরুদ্ধে হিন্দু ও শিখরা বিক্ষোভ শুরু করলে লাহোর ও অমৃতসরে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা শুরু হয়। ৫ই মার্চ হিন্দুদের হোলি উৎসবের দিন, সশস্ত্র মুসলিম জনতা পশ্চিম পাঞ্জাবের বেশ কয়েকটি শহরে হিন্দু ও শিখদের উপর আক্রমণ শুরু করে, যার মধ্যে রাওয়ালপিন্ডি এবং মুলতানের সেনানিবাস শহরও অন্তর্ভুক্ত ছিল। সেখানে প্রায় ২০০ জন নিহত হয়, যাদের বেশিরভাগই হিন্দু ছিল। [২৮] [২৯] মুলতান জেলার বেশ কয়েকটি গ্রামে সন্ধ্যার পর আক্রমণ করা হয় এবং অনেক হিন্দুকে হত্যা করা হয়, তাদের সম্পত্তি লুট বা ধ্বংস করা হয়। কোন সরকার না থাকায়, গভর্নর ইভান জেনকিন্স পাঞ্জাবে গভর্নরের শাসন জারি করেন। [৩০]
দাঙ্গা শীঘ্রই শহর থেকে উত্তর পাঞ্জাবের রাওয়ালপিন্ডি বিভাগের গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। রাওয়ালপিন্ডির বিভাগীয় সদর দপ্তরে হিন্দু ও শিখদের প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়ে, মুসলিম জনতা একত্রিত হয়ে গ্রামাঞ্চলের দিকে ঝুঁকে পড়ে। [৩১] [১৮] [৩২]মুসলিম জনতা দ্বারা রাওয়ালপিন্ডি, ঝিলাম এবং কাম্বেলপুর (বর্তমান অ্যাটক) জেলায় একের পর এক গ্রামে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, গণহত্যা এবং ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।[ঙ] তাদের প্রাথমিক লক্ষ্যবস্তু শিখরা হলেও, হিন্দুদেরও আক্রমণ করা হয়েছিল। একটি ঘটনা হল, ৭ই মার্চ, তক্ষশিলায় একটি ট্রেনে জনতা অভিযান চালায়, যেখানে ২২ জন হিন্দু ও শিখ যাত্রী নিহত হন।[৩৪] কাহুটা গ্রামের শিখ ও হিন্দু মহল্লার বাড়িঘর আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়, যেখানে বাসিন্দারা ভেতরে উপস্থিত ছিলেন, এবং নারীদের ধর্ষণের উদ্দেশ্যে অপহরণ করা হয়। [৩৫]

থোহা খালসা গ্রামটি ছিল বহুল প্রচারিত এক গণহত্যার স্থান। একটি সশস্ত্র মুসলিম জনতা গ্রামটি ঘেরাও করে শিখ বাসিন্দাদের ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হতে বলে। আক্রমণকারীদের দ্বারা নিহত হওয়ার পূর্বেই, শিখ পুরুষরা তাদের পরিবারের নারীদের অপহরণ এবং ধর্ষণ রোধ করার জন্য হত্যা করেছিল। ধর্ষণ এড়াতে ৯০ জনেরও বেশি শিখ নারী ও শিশু কুয়োয় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে। [৩৬] [৬] [৩৭] [৩৮] গ্রামে মৃতের সংখ্যা প্রায় ৩০০ বলে অনুমান করা হয়। একই ধরনের গণহত্যা, গণ-আত্মহত্যা এবং লুটপাট শিখ গ্রাম ধামালি এবং চোয়া খালসা গ্রামেও হয়েছিল, যেখানে প্রায় ১৫০ জন শিখ- অল্প সংখ্যক হিন্দু-নিহত হয়েছিল।[৩৯]
বেওয়াল নামক গ্রামে, গ্রামবাসীরা আশ্রয় নিয়েছিল, সেই বাড়িটি ঘেরাও করা হয়েছিল এবং গ্রামবাসীদের তাদের অস্ত্র সমর্পণ করে ইসলাম গ্রহণ করতে বলা হয়েছিল। গ্রামবাসীদের একটি দল প্রস্তাবটি গ্রহণ করে এবং পরবর্তীতে ধর্মান্তরিত হয়, বাকিদের উপর পর্যায়ক্রমে আক্রমণ করা হয়। বাড়িটিতে অগ্নিসংযোগ করা হয়, এরপর গ্রামবাসীরা একটি গুরুদ্বারে চলে যায় যেখানে তাদের উপর আক্রমণ করা হয় এবং গণহত্যা করা হয়। একজন জীবিত ব্যক্তি দাবি করেছেন যে মোট ৫০০ জন হিন্দু ও শিখ গ্রামবাসীর মধ্যে মাত্র ৭৬ জন বেঁচে ছিলেন, যাদের প্রায় অর্ধেককে অপহরণ করা হয়। [৪০] মুঘল এবং বাসালী গ্রামেও একই রকম আক্রমণ ঘটেছিল। [৪১] কল্লার, দুবেরান, ঝিকা গলি ও কুড়িতেও হামলা চালানো হয়। [৪২] [৪৩] বেঁচে যাওয়া কিছু নারীর দেহ বিকৃত ও বিকলাঙ্গ করা হয়, ধর্ষিতা বহু নারীর স্তন কেটে নেওয়া হয়। [৪৪] গুজর খান এবং ক্যাম্বেলপুর জেলার গ্রামগুলি ধ্বংস করা হয়, শিশুদের মৃতদেহ গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং এগারো বছরের কম বয়সী মেয়েদের গণধর্ষণ করা হয়েছিল। [৪৩] অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটি, সহিংসতা সম্পর্কিত তাদের প্রতিবেদনে, আক্রমণের কৌশলটি নিম্নরূপ বর্ণনা করেছে: [৪৫]
প্রথমে স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় পবিত্র কুরআনের উপর শান্তিপূর্ণ শপথের আশ্বাস দিয়ে সংখ্যালঘুদের নিরস্ত্র করা হয়েছিল। এরপর, অসহায় ও নিরস্ত্র সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণ করা হয়েছিল। তাদের প্রতিরোধ ভেঙে পড়ার পর, তালা ভেঙে লুটেরার দল তাদের খচ্চর, গাধা এবং উটের পরিবহন বাহিনী নিয়ে আক্রমণ করে। তারপর পেট্রোল এবং কেরোসিন তেলের টিন নিয়ে 'মুজাহিদিন'রা এসে লুণ্ঠিত দোকান এবং গৃহগুলিতে অগ্নিসংযোগ করে। তারপর মৌলভিদের সাথে নাপিতরা ছিল যারা কোনওভাবে হত্যা এবং ধর্ষণ থেকে রক্ষা পেয়েছিল। নাপিতরা চুল এবং দাড়ি কামিয়ে দিতেন এবং ভুক্তভোগীদের খৎনা করতেন। মৌলভিরা কালাম পাঠ করতেন এবং জোরপূর্বক বিবাহ অনুষ্ঠান করতেন। এরপর লুটেরারা এসেছিল, যার মধ্যে মহিলা এবং শিশুরাও ছিল।
বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের দ্বারা পুলিশকে প্রদত্ত প্রাথমিক তথ্য প্রতিবেদনে (এফ.আই.আর) হামলার অনুরূপ বিবরণ উল্লেখ করা হয়েছে। [৪৬]

আক্রমণগুলি পূর্বপরিকল্পিত ছিল, এবং মুসলিম গ্রামবাসীদের উত্তেজিত করার জন্য মসজিদের মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। [৩] [৪৭] আক্রমণকারীরা বাইরে থেকে অস্ত্র এবং তহবিল পেয়েছিল বলে জানা গেছে, এবং আংশিকভাবে মুসলিম লীগ তাদের অর্থায়ন করেছিল। [৪৮] তাদের হাতে ছিল বন্দুক, রাইফেল, কুড়াল, তরবারি, বর্শা, লাঠি এবং দুটি ক্ষেত্রে হাতবোমা। [৪৯] বিতাড়িতদের ঘরবাড়ি ভেঙে ফেলা হয় এবং পরবর্তীতে সমতল করে দেওয়া হয় যাতে তারা ফিরে এসে গৃহ পুনর্নির্মাণ করতে না পারে। [৫০] [৫১] আক্রমণকারীরা যাতে অমুসলিমদের ঘর আলাদা করতে পারে, তাই কখনও কখনও তাদের বাসিন্দারা মুসলিম বাড়িগুলিকে চিহ্নিত করত। তারা সিং-এর পৈতৃক বাড়িটিও ভস্মীভূত হয়ে যায়। জনতা বাধাহীনভাবে তাদের লুটপাট এবং গণহত্যার অভিযান চালিয়ে যায়। [৫০] পশ্চিম পাঞ্জাবের বহু জায়গায় মুসলিম পুলিশ সদস্যরা সহিংসতায় সহায়তা ও উস্কানি দিয়েছিল, এবং মাঝে মাঝে সাহায্যের জন্য আবেদন করার ক্ষেত্রেও তারা অত্যধিক বিলম্বে সাড়া দিয়েছিল। [৫২]হামলায় মুসলিম লীগ ক্যাডার এবং স্থানীয় রাজনীতিবিদদের জড়িত থাকার প্রমাণ রয়েছে, তবে জিন্নাসহ মুসলিম লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি জড়িত করার প্রমাণ খুব কম।[চ][৫৪][৩] তৎসত্ত্বেও, জাতীয় বা প্রাদেশিক মুসলিম লীগের কোনও নেতাই এই গণহত্যার নিন্দা করেননি। [৫৫][ছ]
পরিণতি এবং প্রভাব
[সম্পাদনা]
মার্চের মাঝামাঝি সময়ে সহিংসতা বন্ধ হয়ে যায়। বহু জায়গায়, সেনাবাহিনী হতাবশিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্ধার করতে এগিয়ে যাওয়ার পরে আক্রমণ শেষ হয়।[জ] অনেক গ্রামের সম্পূর্ণ জনসংখ্যা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়, আবার কিছু গ্রামে বেঁচে থাকার ব্যক্তির সংখ্যা ছিল অতি অল্প। [৫৬] শুধুমাত্র রাওয়ালপিন্ডি জেলায় নিহত অমুসলিমদের সরকারি মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ২,২৬৩, [ঝ] তবে "বিশৃঙ্খলার ব্যাপক প্রকৃতি" এবং "স্বাভাবিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা" পতনের কারণে এই সংখ্যাটি ভুল বলে বিবেচিত হয়েছিল। [৫৭] এই সংখ্যাটি নিবন্ধিত পুলিশ মামলার উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয় "যেখানে পুরো পরিবার নিশ্চিহ্ন হওয়া এবং কোনও দাবি করা হয়নি" এমন ঘটনাবলী অন্তর্ভুক্ত ছিল না। [৫৭] সমসাময়িক শিরোমণি গুরুদ্বার প্রবন্ধক কমিটির প্রতিবেদনে মৃতের সংখ্যা ৭,০০০ এরও বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। [৫৮] পরবর্তী পণ্ডিতরা রাওয়ালপিন্ডির গ্রামীণ এলাকায় ৪,০০০ থেকে ৮,০০০ মৃতের অনুমান করেছেন। [৫৯] [৬০]
সহিংসতার সময় অনেক নারীকে অপহরণ করা হয়। ডোবেরান গ্রাম থেকে ৭০ জন, হরিয়াল থেকে ৪০ জন, তাইঞ্চ থেকে ৩০ জন, রাজার থেকে ৯৫ জন এবং বামালি থেকে ১০৫ জনকে অপহরণ করা হয়। কাহুতা থেকে আরও ৫০০ জন এবং রাওয়ালপিন্ডি থেকে ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে অপহরণ করা হয়। অপহৃতা নারীদের প্রায়শই একাধিকবার বিক্রি করা হত এবং তাদের অপহরণকারীরা ধর্ষণ করত। [৬১]
এই গণহত্যার পর, রাওয়ালপিন্ডি বিভাগ থেকে মধ্য ও পূর্ব পাঞ্জাব, শিখ-শাসিত দেশীয় রাজ্য, জম্মু ও কাশ্মীর, দিল্লি এবং সংযুক্ত প্রদেশে শিখ ও হিন্দুদের ব্যাপক অভিবাসন শুরু হয়। এই শরণার্থীদের উপর অত্যাচারের বর্ণনা প্রতিশোধের অনুভূতি জাগিয়ে তোলে, বিশেষ করে শিখদের মধ্যে। [৬২] [৬৩] [৬৪] এই গণহত্যা পাঞ্জাবের শিখ ও হিন্দুদের উপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল, যারা পরবর্তীতে প্রদেশের পূর্বাংশের মুসলমানদের উপর একই ধরণের সহিংসতা চালিয়ে তাদের প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল, যাতে পশ্চিম থেকে বিতাড়িত শরণার্থীদের বসতি স্থাপনের পথ তৈরি করা যায়। [৬] [৬৫] [৬৬] [৬৭] শিখরা বিশেষভাবে অপমানিত বোধ করেছিল কারণ মুসলিম সংবাদমাধ্যমের কিছু অংশ গণহত্যার পর তাদের উপহাস করেছিল। [৬৮] মুসলিম লীগের নেতাদের দ্বারা গণহত্যার নিন্দা না করায় লীগ এবং শিখদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বিভেদ আরও প্রশস্ত হয়। [৬৯] এই দাঙ্গার ফলে পাঞ্জাবের কংগ্রেস এবং শিখ নেতারা দেশভাগের দাবিতেও লিপ্ত হন। [৭০] ৮ মার্চ, কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি পাঞ্জাবকে বিভক্ত করার জন্য একটি প্রস্তাব পাস করে। [৭১] [৭২]
হত্যাকাণ্ডের পর এফ.আই.আর-এ বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা আক্রমণকারীদের তাদের নাম, পেশা এবং গ্রামের নাম শনাক্ত করেছিল। [৭৩] তথ্য-অনুসন্ধান কমিটি কর্তৃক চিহ্নিতকরণ সত্ত্বেও, আংশিকভাবে আইনি ব্যবস্থার সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের কারণে, অপরাধীদের মধ্যে খুব কমকেই বিচারের আওতায় আনা হয়। [৬৩] ব্রিটিশ প্রশাসন সরকারী অবহেলার সবচেয়ে খারাপ ঘটনার জন্য শাস্তির হুমকি দিয়েছিল, তবে এই অঞ্চল থেকে ব্রিটিশদের আসন্ন প্রত্যাহরণের কারণে এই হুমকির তেমন কোনও গুরুত্ব ছিল না। [৭৪] মুসলিম লীগের বক্তব্য অধিক তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হয়েছিল; লীগের একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ অ্যাটক জেলায় অপরাধীদের সুরক্ষা প্রদানের প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। [৭৪] এটি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণকারী কর্মকর্তা এবং পুলিশ সদস্যদের জন্য দায়মুক্তির একটি নজির স্থাপন করে। [৬৩] অপরাধীদের বিচারের এই ধরনের ব্যর্থতা দেশভাগের কাছাকাছি পাঞ্জাবে পরবর্তীকালে সহিংসতা ছড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করা হয়।[৭৫]
পরবর্তী প্রভাব
[সম্পাদনা]এই ঘটনাগুলি দেশভাগের সহিংসতার কিছু অবিস্মরণীয় চিত্র তৈরি করেছে। [৬] এটি পাঞ্জাবে দেশভাগ-সম্পর্কিত জাতিগত নির্মূলের সূচনা করেছিল। [৭] [৮] সহিংসতায় মৃতদের, বিশেষত আত্মহত্যায় মৃত অথবা অবশ্যম্ভাবী ধর্মান্তর, ধর্ষণ, অপহরণ বা জোরপূর্বক বিবাহ প্রতিরোধে তাদের পরিবারের দ্বারা নিহত ব্যক্তিদের- সম্প্রদায়ের সম্মানের লঙ্ঘন হিসাবে দেখা হত - তাদের আত্মত্যাগের জন্য বীরত্বপূর্ণ সম্মান জানানো হয়েছিল এবং শিখ সম্প্রদায়ে তাদের শহীদ হিসেবে দেখা হয়। [৭৬][ঞ][ট]
সাংস্কৃতিক চিত্রায়ন
[সম্পাদনা]গণহত্যার পরবর্তী চিত্রগুলি রাজনীতিবিদ প্রবোধ চন্দ্র দ্বারা সংকলিত হয়েছিল এবং গণহত্যার পরপরই ১৯৪৭ সালে রাওয়ালপিন্ডির ধর্ষণ শিরোনামের একটি পুস্তিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। পূর্ব পাঞ্জাবের মুসলমানদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার আশঙ্কায় সরকার এই পুস্তিকাটির প্রচার বন্ধ করে দেয়। [৫৮]বিভিন্ন ঘটনাবলী, বিশেষ করে থোহা খালসায় গণহত্যা এবং গণ-আত্মহত্যার ঘটনাগুলি ১৯৮৮ সালে গোবিন্দ নিহলানি পরিচালিত টেলিভিশন চলচ্চিত্র তামাসে চিত্রিত হয়েছিল।[ঠ] ছবিটি ভীষ্ম সাহনির একই নামের হিন্দি উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল। [৭৯]২০০৩ সালের খামোশ পানি চলচ্চিত্রে থোহা খালসা গণ আত্মহত্যার অনুরূপ একটি ঘটনা চিত্রিত হয়েছে।[ড] ১৯৪৮ সালে নানক সিং রচিত খুন দে সোহিলে নামে একটি পাঞ্জাবি উপন্যাস প্রকাশিত হয়। বইটি ইংরেজিতে হিমন্স ইন ব্লাড (২০২২) নামে অনুবাদ করা হয়েছিল। সহিংসতা-ভিত্তিক অন্যান্য রচনার মধ্যে রয়েছে কর্তার সিং দুগ্গলের ১৯৫১ সালের পাঞ্জাবি উপন্যাস নাহুন তে মাস (১৯৭৯ সালে ইংরেজিতে টুইস বর্ন টুইস ডেড নামে অনুবাদ করা হয়েছিল), শৌনা সিং বাল্ডউইনের ১৯৯৯ সালের ইংরেজি উপন্যাস হোয়াট দ্য বডি রিমেম্বার্স এবং মনজিৎ সচদেবার ২০১৩ সালের ইংরেজি উপন্যাস লস্ট জেনারেশনস । [৮১] [৮২]
নোট
[সম্পাদনা]- ↑ Bertrand Glancy, the governor of the province at the time, estimated that the League had the support of only 80 members overall.[১৩]
- ↑ The coalition ministry claimed to have the support of 94 members in total.[১৪]
- ↑ The Punjab province is said to have remained unaffected by such violence due to the coalition government in place.[১৭]
- ↑ Much of this increased hostility is blamed on the League’s communal election campaign and later agitations in Punjab.[২৫]
- ↑ Some mobs had also come from neighbouring Hazara.[৩৩]
- ↑ Muslims comprised close to 75% of the police force in the Punjab province as a whole.[৫৩]
- ↑ Political scientist Ishtiaq Ahmed notes that Jinnah had issued strong condemnations for killings of Muslims in Bihar a few months earlier, but never did so for the Rawalpindi massacres.[৫৪]
- ↑ Attacks continued till 13 March, while at some places they continued till 15 March.
- ↑ This figure was mentioned in a note by the Home Secretary to Punjab Government in July 1947. The number of Muslim deaths stood at 38 according to it.[৫৭]
- ↑ An early example of this was when an April 1947 report in The Statesman compared the Thoha Khalsa mass suicide with the Rajput tradition of jauhar (self-immolation by women and children to avoid rape or enslavement by invaders in the face of defeat in a war).[৭৭]
- ↑ Many of those who remember the victims as martyrs are themselves survivors of the massacres, or descendants of survivors.
- ↑ Historian Yasmin Khan states that the booklet contained one-sided and inflammatory commentary.[৭৮]
- ↑ Sahni had visited Thoha Khalsa in the aftermath of the massacres.[৮০]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Saint, Tarun K. (২০১৯), Witnessing Partition: Memory, History, Fiction, Taylor & Francis, আইএসবিএন ৯৭৮০৪২৯৫৬০০০২
- ↑ Ahmed 2011, পৃ. 685।
- 1 2 3 Hajari 2015, পৃ. 108।
- ↑ Ahmed 2011, পৃ. 221, 374।
- ↑ Butalia 2000, পৃ. 183।
- 1 2 3 4 Pandey 2001, পৃ. 24।
- 1 2 Talbot 2019, পৃ. 10।
- 1 2 Talbot ও Singh 2009, পৃ. 67।
- ↑ Major 1995, পৃ. 59।
- ↑ Butalia 2013, পৃ. 73।
- ↑ Chandra, Prabodh (১৯৪৭)। "Rape of Rawalpindi" – archive.org এর মাধ্যমে।
- ↑ Ahmed 2011, পৃ. 221।
- ↑ Ahmed 2022, পৃ. 113।
- ↑ Talbot 2013, পৃ. 149-150।
- ↑ Talbot 2013, পৃ. 148।
- ↑ Brass 2003, পৃ. 76।
- 1 2 Talbot ও Singh 2009, পৃ. 178।
- 1 2 3 Pandey 2001, পৃ. 23।
- ↑ Hajari 2015, পৃ. 88।
- ↑ Ahmed 2022, পৃ. 131-132।
- ↑ Ahmed 2019, পৃ. 52।
- ↑ Hajari 2015, পৃ. 97-99।
- ↑ Talbot ও Singh 2009, পৃ. 74-75।
- ↑ "This Month in Constitution-Making (February 1947): Britain Announces …"। ২০ এপ্রিল ২০২৫। ২০ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
- 1 2 Talbot 2013, পৃ. 161।
- ↑ Hajari 2015, pp. 103-104: "A crowd of Leaguers had gathered outside [the Punjab Assembly] to heckle the Hindu and Sikh politicians, shouting "Quaid-i-Azam Zindabad!" and "Pakistan Zindabad!" Tara Singh whipped his kirpan out of his scabbard and waved it above his head. "Pakistan Murdabad!" he roared. Death to Pakistan!"।
- ↑ Khan 2017, পৃ. 84-85।
- ↑ Ahmed 2011, পৃ. 207।
- ↑ Hajari 2015, পৃ. 104।
- ↑ Ahmed 2019, পৃ. 53।
- ↑ Ahmed 2019, পৃ. 23।
- ↑ Ahmed 2011, পৃ. 239-240।
- ↑ Ahmed 2011, পৃ. 212।
- ↑ Ahmed 2022, পৃ. 219।
- ↑ Ahmed 2011, পৃ. 223।
- ↑ Butalia 2013, পৃ. 45।
- ↑ Hajari 2015, পৃ. 111।
- ↑ Singh, Ajmer। "The March Massacre in Pothohar"। The Tribune। ১৪ আগস্ট ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ আগস্ট ২০২৪।
- ↑ Ahmed 2022, পৃ. 223-231।
- ↑ Pandey 2002, পৃ. 173।
- ↑ Pandey 2002, পৃ. 172,175।
- ↑ Pandey 2002, পৃ. 177।
- 1 2 Talbot 2009, পৃ. 47।
- ↑ Ahmed 2011, পৃ. 238।
- ↑ Talbot ও Singh 2009, পৃ. 85।
- ↑ Pandey 2002, পৃ. 172।
- ↑ Khosla 1989, p.107: "On March 6 meetings were held in the village mosques and the Muslims were told that the Jumma Masjid at Rawalpindi had been razed to the ground by Hindus and Sikhs and that the city streets were littered with Muslim corpses. The audience was exhorted to avenge these wrongs."।
- ↑ Abid, Abdul Majeed (২৯ ডিসেম্বর ২০১৪)। "The forgotten massacre"। The Nation। ২৫ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৭ মার্চ ২০২২।
- ↑ Pandey 2002, পৃ. 171।
- 1 2 Hajari 2015, পৃ. 109।
- ↑ Ahmed 2022, পৃ. 240।
- ↑ Talbot ও Singh 2009, পৃ. 87।
- ↑ Talbot ও Singh 2009, পৃ. 86।
- 1 2 Ahmed 2022, পৃ. 685।
- ↑ Ahmed 2022, পৃ. 220।
- ↑ Butalia 2013, পৃ. 198।
- 1 2 3 Khosla 1989, পৃ. 112।
- 1 2 Ahmed 2022, পৃ. 221।
- ↑ Butalia 2000, p.183: "Here [in Sikh villages around Rawalpindi], during an 8 day period from 6 March to 13 March much of the Sikh population was killed (estimates suggest 4–5,000 dead), houses were decimated, gurudwaras destroyed.।
- ↑ Talbot 2019, p.4: "The attacks on largely defenceless minority populations have earned the violence the title of the Rawalpindi Massacres. Outlying villages in the Rawalpindi district witnessed shocking violence against Sikh inhabitants. Around seven thousand to eight thousand people were estimated to have died."।
- ↑ Butalia 2000, পৃ. 187।
- ↑ Ahmed 2019, পৃ. 54।
- 1 2 3 Talbot 2019, পৃ. 5।
- ↑ Chattha 2011, পৃ. 161।
- ↑ Brass 2003, পৃ. 88।
- ↑ Hajari 2015, পৃ. 157।
- ↑ Ahmed 2022, পৃ. 65, 693।
- ↑ Pandey 2001, পৃ. 25।
- ↑ Ahmed 2022, পৃ. 2, 220।
- ↑ Talbot ও Singh 2009, পৃ. 138।
- ↑ Butalia 2013, পৃ. 91।
- ↑ Ahmed 2022, পৃ. 90।
- ↑ Pandey 2002, পৃ. 174–175।
- 1 2 Talbot 2009, পৃ. 48।
- ↑ Talbot 2009, পৃ. 52।
- ↑ Butalia 2000, পৃ. 189।
- ↑ Butalia 2000, পৃ. 190।
- ↑ Khan 2017, পৃ. 138।
- ↑ Saint 2020, পৃ. 99–105।
- ↑ Sahni, Bhisham; Singh, Pankaj K. (১৯৯৫)। "Making Connections"। Indian Literature। ৩৮ (3 (167)): ৮৯–৯৭। জেস্টোর 23335872। সংগ্রহের তারিখ ৮ এপ্রিল ২০২৩।
- ↑ Saint 2020, পৃ. 151–155।
- ↑ Ahmed, Ishtiyaq (১ জুলাই ২০১৪)। "The 'curse' over a Rawalpindi Sikh family"। Daily Times (original publisher)। Academy of the Punjab in North America (APNA)।
গ্রন্থপঞ্জি
[সম্পাদনা]- Ahmed, Ishtiaq (২০১১)। The Punjab Bloodied, Partitioned and Cleansed: Unravelling the 1947 Tragedy through Secret British Reports and First-Person Accounts। Rupa/OUP Pakistan। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৩-৫৫২০-৫৭৮-০। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৯০৬৪৭০-০।
- Ahmed, Ishtiaq (২০২২)। The Punjab: Bloodied, Partitioned and Cleansed। New Delhi: Rupa Publications। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৩-৫৫২০-৫৭৮-০।
- Ahmed, Ishtiaq (২০১৯)। "The 1947 Partition of Punjab"। Ranjan, Amit (সম্পাদক)। Partition of India: Postcolonial Legacies। Routledge। পৃ. ৪৩–৬০। আইএসবিএন ৯৭৮-১-১৩৮-০৮০০৩-৪।
- Ahmed, Ishtiaq (২০১৮)। "The 1947 Partition of Punjab"। Ranjan, Amit (সম্পাদক)। Partition of India: Postcolonial Legacies। Routledge। আইএসবিএন ৯৭৮-১-১৩৮-০৮০০৩-৪।
- Brass, Paul (২০০৩)। "The partition of India and retributive genocide in the Punjab, 1946–47: means, methods, and purposes"। Journal of Genocide Research। ৫ (1): ৭১–১০১। ডিওআই:10.1080/14623520305657। এস২সিআইডি 14023723।
- Butalia, Urvashi (১৯৯৮)। The Other Side of Silence: Voices from the Partition of India। Penguin Books India। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৪-০২৭১৭১-৩।
- Butalia, Urvashi (২০১৩), The Other Side of Silence: Voices from the Partition of India, Penguin Books, আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৪০-২৭১৭১-৩
- Butalia, Urvashi (২০০০)। "Community, State and Gender: Some Reflections on the Partition of India"। Hasan, Mushirul (সম্পাদক)। Inventing Boundaries: Gender, Politics and the Partition of India। New Delhi: Oxford University Press। পৃ. ১৮৩। আইএসবিএন ০১৯-৫৬৫১০৩-০।
- Chandra, Prabodh (১৯৪৭)। "Rape of Rawalpindi"।
- Chattha, Ilyas (২০১১)। Partition and Locality: Violence, Migration and Development in Gujranwala and Sialkot, 1947–1961। Karachi: Oxford University Press। পৃ. ১৬১। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৯০৬১৭২-৩।
- Chatterjee, Chanda (১৯৯৮)। "Muslim League Direct Action and Popular Reaction in the Punjab: The Multan and Rawalpindi Riots, March 1947"। Proceedings of the Indian History Congress। ৫৯: ৮৩৪–৪৩। জেস্টোর 44147056। সংগ্রহের তারিখ ১২ এপ্রিল ২০২৩।
- Hajari, Nisid (২০১৫)। Midnight's Furies: The Deadly Legacy of India's Partition। Houghton Mifflin Harcourt। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫৪৭-৬৬৯২৪-৩।
- Khan, Yasmin (২০০৭)। The Great Partition: The Making of India and Pakistan। Yale University Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৩০০-১২০৭৮-৩।
- Khosla, Gopal Das (১৯৮৯), Stern Reckoning: A Survey of the Events leading up to and following the Partition of India, Delhi: Oxford University Press, আইএসবিএন ৯৭৮০১৯৫৬২৪১৭৫, ওসিএলসি 22415680
- Major, Andrew (১৯৯৫), "Abduction of women during the partition of the Punjab", South Asia: Journal of South Asian Studies, ১৮ (1), ডিওআই:10.1080/00856409508723244
- Pandey, Gyanendra (২০০১)। Remembering Partition: Violence, Nationalism and History in India। Cambridge University Press। আইএসবিএন ৯৭৮০৫২১৮০৭৫৯৩।
- Pandey, Gyanendra (২০০২)। "The Long Life of Rumor"। Alternatives: Global, Local, Political। ২৭ (2): ১৬৫–৯১। ডিওআই:10.1177/030437540202700203। জেস্টোর 40645044। এস২সিআইডি 142067944। সংগ্রহের তারিখ ১৩ এপ্রিল ২০২৩।
- Saint, Tarun K. (২০২০) [2010]। Witnessing Partition: Memory, History, Fiction (2nd সংস্করণ)। Routledge। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৩৬৭-২১০৩৬-৬।
- Talbot, Ian; Singh, Gurharpal (২০০৯)। The Partition of India। Cambridge University Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫২১-৬৭২৫৬-৬।
- Talbot, Ian (২০০৯)। "Indo-Pak massacres"। Forsythe, David P. (সম্পাদক)। Encyclopedia of Human Rights। খণ্ড ১। OUP USA। পৃ. ৪৫–৫৩। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৫৩৩৪০২-৯।
- Talbot, Ian (২০১৩) [1996]। Khizr Tiwana, the Punjab Unionist Party and the Partition of India। Routledge। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৭০০-৭০৪২৭-৯।
- Talbot, Ian (২০১৯)। "The 1947 Partition violence: Characteristics and interpretations"। Mohanram, Radhika; Raychaudhuri, Anindya (সম্পাদকগণ)। Partitions and Their Afterlives: Violence, Memories, Living। Rowman & Littlefield International। আইএসবিএন ৯৭৮১৭৮৩৪৮৮৪০৭।