রহমাতুল্লিল আলামিন (বই)
রহমাতুল্লিল আলামিন (উর্দু: رحمۃ للعالمین) কাজি মুহাম্মদ সুলায়মান মানসুরপুরী প্রণীত উর্দু ভাষায় রচিত একটি প্রখ্যাত, বহুল সমাদৃত ও অনন্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ সীরাতগ্রন্থ।[১] এটি তিন খণ্ডে রচিত, লেখকের ঐতিহাসিক অন্তর্দৃষ্টি, শৈল্পিক রচনাশৈলী, ইতিবাচক ও দাঈসুলভ বর্ণনাভঙ্গি, প্রাঞ্জল ও জ্ঞানগর্ভ উপস্থাপন এই গ্রন্থকে এক স্বতন্ত্র ও অনন্য স্থানে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এই গ্রন্থে পাশ্চাত্য মিশনারি ও প্রাচ্যতত্ত্ববিদদের পক্ষ থেকে রাসুল্লাহর বিরুদ্ধে উত্থাপিত আপত্তির যুক্তিপূর্ণ জবাব দেওয়া হয়েছে। ইঞ্জিল ও তাওরাত থেকেও প্রমাণ উপস্থাপন করে নবী করিম ﷺ-কে "রহমতুল্লিল আলামিন" হিসেবে প্রমাণ করা হয়েছে।[২]
বৈশিষ্ট্যাবলি
[সম্পাদনা]এই গ্রন্থের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। পুরো গ্রন্থে কোথাও কোনো অপ্রাসঙ্গিকতা নেই। পর্যাপ্ত যুক্তি-তথ্য উপস্থাপন, যথোপযুক্তভাবে আয়াত ও হাদীসসমূহের উদ্ধৃতি এর গুরুত্ব ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করেছে। প্রায় এক হাজার পৃষ্ঠার তিন খণ্ডজুড়ে লেখকের তেইশ বছরের সাধনার ফসল এই সীরাতগ্রন্থ। ঘটনাবলির বিশুদ্ধতার প্রতি যত্ন রেখে নবী করিম ﷺ-কে কেন্দ্র করে রচিত এই গ্রন্থ নিঃসন্দেহে একটি পরিপূর্ণ সীরাতগ্রন্থ। এই গ্রন্থে পাশ্চাত্য মিশনারি ও প্রাচ্যতত্ত্ববিদদের পক্ষ থেকে নবী করিম ﷺ-এর বিরুদ্ধে উত্থাপিত আপত্তির যুক্তিপূর্ণ জবাব দেওয়া হয়েছে। ইঞ্জিল ও তাওরাত থেকেও প্রমাণ উপস্থাপন করে নবী করিম ﷺ-কে "রহমতুল্লিল আলামিন" হিসেবে প্রমাণ করা হয়েছে।[৩]
খণ্ডভিত্তিক বৈশিষ্ট্য
[সম্পাদনা]প্রথম খণ্ডে, নবী করিম ﷺ-এর জীবনীর পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। পঞ্চম অধ্যায়ে নবী করিম ﷺ-এর শ্রেষ্ঠ চরিত্র অত্যন্ত বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে। সীরাতের এমন ধারাবাহিক বিবরণ দেওয়া হয়েছে যাতে ইসলাম, ফিকহে রাসুল ﷺ এবং হাদীসের দাওয়াত ও উৎসাহ প্রদান সম্পন্ন হয়।
দ্বিতীয় খণ্ডে, নবী করিম ﷺ-এর বংশলতিকা আদম (আ.) পর্যন্ত ব্যাপক গবেষণা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে। লেখক সম্ভবত প্রথম ব্যক্তি যিনি নবী করিম ﷺ-এর জীবনকে দিন, ঘণ্টা ও বিভিন্ন জাতির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী গবেষণাসমৃদ্ধভাবে উপস্থাপন করেছেন। কুরাইশ গোত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সংক্ষিপ্ত জীবনী, নবী করিম ﷺ-এর সময়কার ৮২টি গাযওয়া ও সারিয়ার বিস্তারিত চার্ট, নবীর বহুবিবাহ সংক্রান্ত মিথ্যা প্রচারের খণ্ডন এবং উম্মাহাতুল মু’মিনীন-এর সংক্ষিপ্ত জীবনীও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পঞ্চম অধ্যায়ে পূর্ববর্তী নবীগণের জীবনের সাথে নবী করিম ﷺ-এর সাদৃশ্য এবং তাঁদের দোয়াসমূহের আলোচনা করা হয়েছে। ষষ্ঠ অধ্যায়ে নবী করিম ﷺ-এর "রহমতুল্লিল আলামিন" হওয়ার প্রমাণ ও কারণসমূহ চমৎকারভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।
তৃতীয় খণ্ডটি নবী করিম ﷺ-এর খাসায়িসুন্নবী (বিশেষ বৈশিষ্ট্য)-এর জন্য নির্ধারিত। এতে তার মুজিযা, বৈশিষ্ট্যসমূহ, কুরআন, পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহ ও হাদীস দ্বারা প্রমাণিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। বিভিন্ন নবীর ঘটনাবলি উপস্থাপন করে নবী করিম ﷺ-এর আগমনকে তারিখ ও ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে সংযুক্ত করা হয়েছে।
পর্যালোচনা
[সম্পাদনা]লাহোরের বিখ্যাত পত্রিকা ওয়াতান-এর সম্পাদক মৌলভী মুহাম্মদ ইনশাআল্লাহ খান মন্তব্য করেন।
জনাব কাযি সুলায়মান মানসুরপুরী সাহেব তো সীরাত লিখেই ফেলেছেন, তাহলে আর (আল্লামা শিবলী নোমানী-এর সীরাত বিষয়ক গ্রন্থ) লেখার কী প্রয়োজন, এবং তার চেয়ে বেশি আর কী লেখা সম্ভব?
এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, রহমতুল্লিল আলামিন গ্রন্থটি তৎকালীন পাঠকমহলে পূর্ণাঙ্গ ও গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়েছিল। সেই সময়ে আরো আলেমদের থেকে বইটি প্রশংসিত হয়েছিলো। এবং পাঠকমহলে বই বিক্রিতে ভালো অবস্থান পেয়েছিলো। সেই সময় গ্রন্থটির ইংরেজি অনুবাদও সম্পন্ন হয়েছে।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "رحمۃ للعالمین | CPS GLOBAL"। cpsglobal.org (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৫ মে ২০২৫।
- ↑ رحمۃ للعالمین(جلد اول) | Rehmatul Aalameen - Jild 01 (উর্দু ভাষায়)। লাহোর: কিতাবুস সুন্নাহ। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ মে ২০২৫।
- ↑ "قاضی محمد سلیمان سلمان منصور پوری کی کتاب رحمت اللعالمین جلد-001 | ریختہ"। Rekhta (উর্দু ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৫ মে ২০২৫।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]- প্রথম খণ্ড ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখে
- দ্বিতীয় খণ্ড
- তৃতীয় খণ্ড
- আর্কাইভ.কম ওয়েবসাইটে রহমাতুল্লিল আলামিন
