রসায়নের ইতিহাস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

খ্রীস্টপূর্ব ১০০০ বছরেরও পূর্বে প্রাচীন সভ্যতার মানুষ যেসব প্রযুক্তি ব্যবহার করতো, তাই পরবর্তিতে রসায়নের বিভিন্ন মৌলিক শাখা গঠন করে। আকরিক থেকে ধাতু নিষ্কাশন, মৃৎশিল্প নির্মাণ, ধাতুর প্রলেপন, মদ তৈরি, প্রসাধনী ও রঙের জন্য রঞ্জক পদার্থ তৈরি, উদ্ভিদ থেকে রাসায়নিক পদার্থ আহরণ এবং তা দিয়ে সুগন্ধি ও ঔষধ তৈরি, পনির তৈরি, কাপড়ের রঙ, চামড়া সংরক্ষণ, চর্বি হতে সাবান উৎপাদন উত্যাদি নানা প্রকার পদ্ধতি প্রাচীন সভ্যতার মানুষ অবলম্বন করতো।

পদার্থের প্রকৃতি ও রূপান্তর সম্বন্ধে দার্শনিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। এছাড়া আলকেমির বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও ভুল প্রমাণিত হল। তবে এসংক্রান্ত পরীক্ষা এবং ফলাফল সংরক্ষণ বিজ্ঞানের ভিত্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে। রবার্ট বয়েলের অনুসন্ধান ও গবেষণার ফলে যখন আলকেমি এবং রসায়নের মধ্যে সতন্ত্র পার্থক্য সূচিত হয় তখন থেকেই আধুনিক রসায়নের উদ্ভব ঘটতে শুরু করে। রসায়ন বিজ্ঞানের একটি পূর্ণাঙ্গ শাখায় পরিণত হয় যখন অ্যান্তনি ল্যাভয়শিয়ে ভরের নিত্যতা সূত্র আবিষ্কার করলেন। এই সূত্র রাসায়নিক ঘটনাবলির সূক্ষ পরিমাপ এবং পরিমাণগত পর্যবেক্ষণ ব্যাখ্যা করে। তাই যখন আলকেমি এবং রসায়ন কেবল পদার্থের প্রকৃতি ও রূপান্তর সম্বন্ধে আলোচনা করত তখন রসায়নবিদগণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে রসায়নের মৌলিক বিষয়াবলি উদ্ভাবনের চেষ্টা করতেন। রসায়নের ইতিহাস তাপগতিবিদ্যার ইতিহাসের সাথে পরস্পরগ্রন্থিত, বিশেষ করে বিজ্ঞানী উইলিয়ার্ড গিবসের কাজের জন্যে।

আগুন থেকে পরমাণুবাদ[সম্পাদনা]

তর্কসাপেক্ষে মানুব সভ্যতার প্রথম নিয়ন্ত্রণ উপযোগী রাসায়নিক বিক্রিয়া ছিল আগুন জ্বালানো। বহু শতাব্দীকাল ধরে আগুনের রহস্যময়ী প্রভাব অর্থাৎ কোন একটি বস্তুকে অন্য একটি বস্তুতে পরিণত করা বা পুড়িয়ে ফেলার বৈজ্ঞানিক কারণ মানুষের অজ্ঞাত ছিল। আদিম সমজে আগুন বিভিন্ন বিষয়কে প্রভাবিত করেছিল, প্রতিদিনের জীবনের নিত্যকার্য যেমন- রান্না করা থেকে আরও অগ্রসর কাজ যেমন- মৃৎশিল্প, ইট ইত্যাদি নির্মাণ বা ধাতু গলানো।

বিভিন্ন অবস্থায় (কঠিন, তরল ও বায়বীয়) পদার্থের ভৌত ধর্মের ( বর্ণ, গন্ধ, ঘনত্ব ইত্যাদি) পার্থক্য এবং পরিবেশে তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যাখ্যা করার লক্ষ্যে দার্শনিক মতবাদ সৃষ্টির প্রচেষ্টা প্রকৃতি বা রসায়নের প্রথম তত্ত্ব আবিষ্কারের পথ উন্মোচন করে। এধরনের রসায়ন সম্বন্ধীয় দার্শনিক তত্ত্ব সৃষ্টির ইতিহাস প্রায় প্রতিটি প্রাচিন সভ্যতাতেই পাওয়া যায়। এসকল তত্ত্বের সাধারণ বিষয়টি হল পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা শনাক্তকরণের প্রচেষ্টা, যে কণা দিয়ে সমস্ত পদার্থ গঠিত। ভূমি, পানি, বায়ু এবং শক্তির বিভিন্ন রূপ যেমন- আলো, আগুন এবং আরো বিমূর্ত ধারণা যেমন স্বর্গ, নরক ইত্যাদি বিষয় প্রাচীন সভ্যতাতে সাধারণ ছিল। প্রায় সকল প্রাচীন দার্শনিকগণই বায়ু, পানি, ভূমি এবং আগুনকে প্রাথমিক পদার্থ হিসেবে গণ্য করত।

পরমাণুবাদের ইতিহাস রচিত হয়েছিল প্রাচীন গ্রিস এবং প্রাচীন ভারতে