রমাকান্ত দেশাই

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
রমাকান্ত দেশাই
রমাকান্ত দেশাই.jpg
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামরমাকান্ত ভিকাজি দেশাই
জন্ম(১৯৩৯-০৬-২০)২০ জুন ১৯৩৯
বোম্বে, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু২৮ এপ্রিল ১৯৯৮(1998-04-28) (বয়স ৫৮)
মুম্বই, ভারত
ডাকনামটিনি
উচ্চতা৫ ফুট ৪ ইঞ্চি (১.৬৩ মিটার)
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম
ভূমিকাবোলার, প্রশাসক
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৯০)
৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৯ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
শেষ টেস্ট১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৮ বনাম নিউজিল্যান্ড
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ২৮ ১৫০
রানের সংখ্যা ৪১৮ ২,৩৮৪
ব্যাটিং গড় ১৩.৪৮ ১৮.১৯
১০০/৫০ ০/১ ১/৯
সর্বোচ্চ রান ৮৫ ১০৭
বল করেছে ৫,৫৯৭ ২৩,৯০৬
উইকেট ৭৪ ৪৬৮
বোলিং গড় ৩৭.৩১ ২৪.১০
ইনিংসে ৫ উইকেট ২২
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৬/৫৬ ৭/৪৬
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৯/০ ৫০/০
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ৯ জানুয়ারি, ২০২০

রমাকান্ত ভিকাজি দেশাই (এই শব্দ সম্পর্কেউচ্চারণ ; ইংরেজি: रमाकांत देसाई; জন্ম: ২০ জুন, ১৯৩৯ - মৃত্যু: ২৮ এপ্রিল, ১৯৯৮) তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বোম্বে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ভারতীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। ভারত ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৫৯ থেকে ১৯৬৮ সময়কালে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে মুম্বই দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম বোলার হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে কার্যকরী ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন ‘টিনি’ ডাকনামে পরিচিত রমাকান্ত দেশাই

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৫৮-৫৯ মৌসুম থেকে ১৯৭৫-৭৬ মৌসুম পর্যন্ত রমাকান্ত দেশাইয়ের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। নমনীয় দূরত্ব অতিক্রম করে প্রয়োজনীয় পেস সঞ্চালনপূর্বক বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ভারতীয় ফাস্ট বোলার হিসেবে ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ছিলেন। এ কারণে তিনি "টিনি' ডাকনামে পরিচিতি পান।

রঞ্জী ট্রফি প্রতিযোগিতায় নিজস্ব প্রথম বছরেই ১১.১০ গড়ে ৭ খেলায় ৫০ উইকেট লাভের কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন।[১] অদ্যাবধি বোম্বে দলের পক্ষে রেকর্ড হিসেবে টিকে রয়েছে। তন্মধ্যে, সৌরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৫/১০ ও ৬/২৮ লাভ করেছিলেন তিনি।[২] ১৯৬০-৬১ মৌসুমের রঞ্জী ট্রফির চূড়ান্ত খেলায় রাজস্থানের বিপক্ষে বোম্বের জয়ী হওয়া খেলায় ৭/৪৬ ও ৪/৭৪ লাভ করেছিলেন।[৩] দুই বছর পর একই দলের বিপক্ষে চূড়ান্ত খেলায় প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তার একমাত্র শতরানের ইনিংস খেলেছিলেন। ১০৭ রানের ঐ ইনিংসের কল্যাণে তার দল জয়লাভ করেছিল।[৪] ১৯৫৮-৫৯ মৌসুম থেকে ১৯৬৮-৬৯ মৌসুম পর্যন্ত ১১ বছরে বোম্বে দলের পক্ষে খেলে কখনো পরাজয়ের মুখোমুখি হননি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ২৮টি টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন রমাকান্ত দেশাই। ১৯৫৯ সালে ইংল্যান্ড, ১৯৬১-৬২ মৌসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ১৯৬৭-৬৮ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড গমন করেছিলেন তিনি। ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৯ তারিখে দিল্লিতে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৮ তারিখে ডুনেডিনে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

১৯৫৮-৫৯ মৌসুমে ১৯ বছর বয়সী রমাকান্ত দেশাইকে দিল্লি টেস্টের পূর্বে খসড়া খেলোয়াড় হিসেবে রাখা হয়েছিল। ঐ মৌসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল ভারত গমনে আসে। অভিষেক টেস্টেই সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একমাত্র ইনিংসে ৪৯ ওভার বোলিং করে ৪/১৬৯ লাভ করেছিলেন। ক্রমাগত বাউন্সারে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ব্যাটসম্যানদেরকে ব্যতিব্যস্ত রাখেন যা ঐ সময়ের ভারতীয় বোলারদের কাছ থেকে অপ্রত্যাশিত বিষয় ছিল।

পাকিস্তানের মুখোমুখি[সম্পাদনা]

১৯৬০-৬১ মৌসুমে পাকিস্তান দল ভারত গমনে আসে। এ সিরিজে তিনি ২১ উইকেট দখল করেন। বোম্বের ব্রাবোর্ন স্টেডিয়ামে ১০ নম্বরে ব্যাটিং নেমে দ্রুতলয়ে ৮৫ রান সংগ্রহ করে তৎকালীন ভারতীয় রেকর্ড গড়েছিলেন। এ পর্যায়ে নানা জোশী’র সাথে নবম উইকেট জুটিতে রেকর্ডসংখ্যক ১৪৯ রান যুক্ত করেন।

১৯৫৯ সালে ইংল্যান্ড সফরে বোলিং আক্রমণের নেতৃত্বে ছিলেন তিনি। লর্ডস টেস্টে ইংল্যান্ড দলের সংগ্রহ এক পর্যায়ে ৮০/৬ হলে গভীর সঙ্কটে নিপতিত হয়। ঐ ইনিংসে তার বোলিং পরিসংখ্যান ছিল ৫/৮৯। উইজডেনে তার দূর্লভ যোগ্যতা, অসীম সাহসসহ আউট সুইঙ্গারের প্রশংসা করে। তবে, তার দল আশাহীন অবস্থায় অতিরিক্ত খেলে তাকে অতিরিক্ত বোলিং করতে হয়। প্রায়শই এ পন্থায় ভারত দল অগ্রসর হয়েছিল। অংশগ্রহণকৃত ২৮ টেস্টের মধ্যে মাত্র চারটিতে বিজয়ী দলের সদস্যে ছিলেন তিনি। ১৯৬০-৬১ মৌসুমে পাকিস্তানের হানিফ মোহাম্মদের উত্থানে বেশ রুখে দাড়িয়েছিলেন তিনি। তার বিভ্রান্তিকর বাউন্সারে নয় ইনিংসের চারটিতে আউট হন হানিফ মোহাম্মদ। ফলশ্রুতিতে, ভারতীয়রা তাকে ‘রমাকান্তের বাক্রা’ বা খরগোশ হিসেবে তুলে ধরে।

১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে নিউজিল্যান্ড দল ভারত গমনে আসে। বোম্বে সফরকারী বিপক্ষে ৬/৫৬ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। এটিই টেস্টে তার ব্যক্তিগত সেরা বোলিং করেন। ১৯৬৭-৬৮ মৌসুমে ভারত দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন।[৫] ডুনেডিনের কারিসব্রুক স্টেডিয়ামে ডিক মোৎজের বলে চোয়ালে মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হন। তাসত্ত্বেও, শেষ উইকেট জুটিতে বিষেন সিং বেদী’র সাথে ৫৭ রান সংগ্রহ করতে সমর্থ হন।

অবসর[সম্পাদনা]

ভারতীয় দলের একমাত্র পেস বোলার হিসেবে তিনি খেলাকালীন অতিরিক্ত চাপ বহন করে গেছেন। ১৯৬৮-৬৯ মৌসুমে শেষে নিয়মিত খেলোয়াড়ে হিসেবে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এসময় তার বয়স ছিল ২৯ বছর। পিএন সান্দারেসান তার সম্পর্কে মন্তব্য করেছিলেন যে, ভারতের নিষ্প্রাণ পিচে তিনি মনেপ্রাণে বোলিং করতেন। রঞ্জী ট্রফি ও অন্যান্য খেলায় তিনি তার বিচক্ষণ মেধার সংমিশ্রণ ঘটিয়ে দীর্ঘকাল তেজোঃদৃপ্ত বোলার হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।[৬]

১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে ভারতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। মৃত্যুর এক মাস পূর্বে এ পদ থেকে অব্যাহতি নেন। হৃদযন্ত্রক্রীয়ায় আক্রান্ত হবার পর তাকে হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এরপর, চারদিন পর অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নেয়াকালে মুম্বইয়ে ২৮ এপ্রিল, ১৯৯৮ তারিখে ৫৮ বছর বয়সে মুম্বই এলাকায় রমাকান্ত দেশাইয়ের দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

গ্রন্থপঞ্জী[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

পূর্বসূরী
গুণ্ডাপ্পা বিশ্বনাথ
ভারত জাতীয় ক্রিকেট দল নির্বাচক
অক্টোবর, ১৯৯৬ - মার্চ, ১৯৯৮
উত্তরসূরী
কিষাণ রাংতা