রমনা বটমূলে গ্রেনেড বিস্ফোরণ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
রমনা বটমূল, যেখানে গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছিল

রমনা বটমূলে গ্রেনেড বিস্ফোরণ বাংলাদেশে সংঘটিত একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা। এই নৃশংস হত্যাকান্ডটিতে ১০ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি বহু মানুষ আহত হয়।[১]

স্থান ও সময়[সম্পাদনা]

২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল তারিখে (বাংলা ১৪০৮ সনের পহেলা বৈশাখ) রমনার বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে এই বোমা হামলাটি সংগঠিত হয়।[১]

ঘটনার বিবরণ[সম্পাদনা]

২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল তারিখ ছিলো বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন; বাংলা ১৪০৮ সনের পহেলা বৈশাখ। প্রতি বছরের মতো সেবারও রমনার বটমূলে ছায়ানট কর্তৃক ঐতিহ্যবাহী বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।[২] এই অনুষ্ঠানে গানের অনুষ্ঠান চলাকালীন বিস্ফোরণ ঘটে।[১][২] এতে ঘটনা স্থলে ৯ জন সাংস্কৃতিক কর্মী ও দর্শক প্রাণ হারানোর পাশাপাশি আহত হন আরো অগণিত মানুষ; পরবর্তীতে আরো একজন মারা যান। ঘটনাস্থলে নিহতরা হলেনঃ[৩]

  • চট্টগ্রামের আবুল কালাম আজাদ (৩৫),
  • বরগুনার মোঃ জসীম (২৩),
  • ঢাকার হাজারীবাগের এমরান (৩২),
  • পটুয়াখালীর অসীম চন্দ্র সরকার (২৫),
  • পটুয়াখালীর মোঃ মামুন,
  • ঢাকার দোহারের আফসার (৩৪),
  • নোয়াখালীর ইসমাইল হোসেন ওরফে স্বপন (২৭),
  • পটুয়াখালীর শিল্পী (২০) ও
  • অজ্ঞাত একজন।

মামলা ও তদন্ত[সম্পাদনা]

এই হত্যাকাণ্ডে ওই দিনই রমনা থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা করা হয়। ২০০৮ সালে ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ। বিচারের জন্য মামলা দুটি ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে যায় এবং ১৬ এপ্রিল মামলা দুটিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে হত্যা মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩ এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এ পাঠানো হয়।[৪]

বিচার কার্য[সম্পাদনা]

হত্যা মামলায় ২০১৪ সালের ২৩ জুন আটজনকে মৃত্যুদণ্ড ও ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে নিম্ন আদালত রায় ঘোষণা করে। আদালতে রায়ের পর আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স পাঠানো হয়। একইসঙ্গে কারাবন্দি আসামিরা আপিল করে। উভয় আবেদনের ওপর ২০১৭ সালের ৮ জানুয়ারি হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি শুরু হয়। আদালত বদল হওয়ায় শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে মামলাটি। বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলা এখনও নিম্ন আদালতে বিচারাধীন। [৫]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]