রবার্ট হানসেন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
রবার্ট হানসেন
রবার্ট হানসেন
ব্যক্তির তথ্য
জন্মের নামরবার্ট ক্রিস্টিয়ান হানসেন
জন্ম(১৯৩৯-০২-১৫)১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৯
এস্টারভীল, আইওয়া
মৃত্যু২১ আগস্ট ২০১৪(2014-08-21) (বয়স ৭৫)
শাস্তি৪৬১ বছরের কারাভোগ
হত্যাকাণ্ড
শিকারের সংখ্যা১৭-২১
দেশমার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
রাজ্যআলাস্কা
ধরার তারিখজুন ১৩, ১৯৮৩

রবার্ট ক্রিস্টিয়ান হানসেন (জন্ম: ফেব্রুয়ারি ১৫, ১৯৩৯) হলেন একজন আমেরিকান সিরিয়াল খুনি। ১৯৭১ এবং ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত তিনি ১৭ থেকে ২১ জনের কাছাকাছি নারীকে অ্যাংকারিজ, আলাস্কায় হত্যা করেছেন। ১৯৮৩ সালে তাকে দোষী সাব্যস্থ করা হয় এবং বর্তমানে তিনি আলাস্কার সেওয়ার্ডের স্প্রিং ক্রীক কারেকশনাল সেন্টারে ৪৬১ বছরের সাজা ভোগ করছেন।

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

হানসেন আইওয়ার এস্টারভীলেতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ক্রিস্টিয়ান ও মাতার নাম এডনা হানসেন। শৈশব ও কৈশোর সর্বত্র, হানসেনকে শান্তশিষ্ঠ ও একাকী হিসেবে বর্নানা করা হয়েছে এবং তার দাম্ভিক বাবার সাথে খুব একটা সম্পর্ক ছিল না। তার চিরস্থায়ী ব্রুণ ও গুরুতর তোতলামির জন্য সে সবসময়য় স্কুলে পীড়ন সহ্য করত। সে শিকার শুরু করেছিল এবং প্রায়ই সে লুকিয়ে লুকিয়ে শিকারে বের হত ও একসময় এটি তার অভ্যাসে পরিনত হয়।[১]: ১৯৫৭ সালে হানসেন যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে তালিকাভুক্ত হন এবং কার্যচ্যুত হওয়ার পূর্বে এক বছর সেনাবাহিনীতে সেবা প্রদান করেন। পরবর্তীতে হানসেন পোচাহন্টাস, আইওয়ার পুলিস একাডেমিতে একজন সহকারী কসরত প্রশিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। সেখানে তিনি তার চেয়ে ছোট একজন নারীর সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পরেন এবং ১৯৬০ সালের গ্রীষ্মে তার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

একই বছরের ৭ই ডিসেম্বর হানসেনকে পোচাহন্টাস কাউন্টির শিক্ষা বোর্ডের স্কুল বাস গ্যারেজে অগুন দেওয়ার অপরাধে গ্রেফতার করা হয়। এ অপরাধে তিনি আনামোসা স্টেট পেনিটেনশিয়ারিতে ২০ মাস কারাভোগ করেন। তার কারাভোগের সময় তার স্ত্রী তাকে তালাক দেন। পরবর্তী কয়েক বছর তিনি ছোট-খাটো চুরির অপরাধে কয়েকবার কারাবরণ করেন। ১৯৬৭ সালে তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রীর সাথে অ্যাংকারিজ, আলাস্কায় স্থানান্তরিত হন, যার সাথে তিনি ১৯৬৩ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। তাদের দুটি সন্তান রয়েছে। অ্যাংকারিজে তার প্রতীবেশিরা তাকে পছন্দ করত এবং তিনি তাদের কাছে স্থানীয় শিকারী চ্যাম্পিয়ান হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এছাড়াও তিনি ওয়ার্ল্ড হান্টিং রেকর্ড পোপ ও ইংসয়ের বইয়ে নিজের কয়েকটি রেকর্ড তালিকাভুক্ত করতে সক্ষম হন।.[১]:

১৯৭৭ সালে তিনি পুনরায় একটি চেইনশতে চুরির অপরাধে গ্রেফতার হন এবং তাকে তার মেজাজ নিয়ন্ত্রনের জন্য লিথিয়াম নেওয়ার জন্য বলা হয়; যাইহোক, তাকে কখনোই অনুষ্ঠানিকভাবে ঔষধ নেওয়ার জন্য বলা হয়নি।[১]

জ্ঞাত শিকার[সম্পাদনা]

রবার্ট সি. হানসেন আলাস্কার ৩০ জনেরও বেশি নারীকে ধর্ষিত ও লাঞ্ছিত করেন। তিনি কমপক্ষে ১৭ জন নারীকে হত্যা করেন; যাদের বয়স ১৬ থেকে ৪১ এর মধ্যে ছিল। তারা হলেনঃ

  • লিসা ফাটরেল, ৪১ (স্বীকৃত, হানসেনের সহয়তায় মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়)
  • মালাই লার্সেন, ২৮ (স্বীকৃত, হানসেনের সহয়তায় মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়)
  • জ্যান দুয়ে (স্বীকৃত, হানসেনের সহয়তায় মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়)
  • স্যু লুনা, ২৩ (স্বীকৃত, হানসেনের সহয়তায় মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়)
  • তামি পেডারসেন, ২০ (স্বীকৃত, হানসেনের সহয়তায় মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়)
  • অ্যাঞ্জেলা ফেডার্ন, ২৪ (স্বীকৃত, হানসেনের সহয়তায় মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়)
  • তেরেসা ওয়াটসন (স্বীকৃত, হানসেনের সহয়তায় মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়)
  • ডেলেন সুগার ফ্রে (স্বীকৃত, হানসেনের সহয়তায় মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়)
  • পলা গাল্ডিং (স্বীকৃত, মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়)
  • এন্দ্রিয়া ফিশ আল্টিয়ারি (সম্মত, হানসেনের সহয়তায় মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়)
  • শেরী মোরৌ, ২৩ (সম্মত, মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়)
  • একলুটনা অ্যানি (সম্মত, মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়)
  • জুয়ানা ম্যাসিনা (সম্মত, মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়)
  • রক্সানি আসলেন, ২৪ (স্বীকৃত, মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয় নি)
  • সিলিয়া বেথ ভ্যান জান্থেন, ১৭ (অস্বীকার, কিন্তু বিমান চালনা মানচিত্রের এক্স মার্কের জন্য সন্দেহ করা হয়েছিল, মৃতদেহ উদ্ধার)
  • ম্যাগান এমেরিক, ১৭ (অস্বীকার, কিন্তু বিমান চালনা মানচিত্রের এক্স মার্কের জন্য সন্দেহ করা হয়েছিল, মৃতদেহ উদ্ধার সম্ভব হয় নি)
  • ম্যারি থিল, ২৩ (অস্বীকার, কিন্তু বিমান চালনা মানচিত্রের এক্স মার্কের জন্য সন্দেহ করা হয়েছিল, মৃতদেহ উদ্ধার সম্ভব হয় নি)

উপরোক্ত ১৭ নারীর মধ্যে হানসেন মাত্র চারজন নারীকে হত্যার অপরাধে দোষী সাবস্থ হন। তারা হলেন, শেরী মোরৌ, জুয়ানা ম্যাসিনা, একলুটনা অ্যানি এবং এন্দ্রিয়া ফিশ আল্টিয়ারি। এছাড়াও চিন্ডে পলসনকে অপহরন ও ধর্ষণের অপরাধে দোষী সাব্যস্থ হয়েছিলেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Lohr, David। "Hunting Humans"truTV Crime Library। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-০৭-১২ 

আরো পড়ুন[সম্পাদনা]