বিষয়বস্তুতে চলুন

রবার্ট ম্যাককিমসন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
রবার্ট ম্যাককিমসন
চিত্র:McKimsonEarly30s.jpg
রবার্ট ম্যাককিমসন, ১৯৩০
জন্ম
রবার্ট পোর্টার ম্যাককিমসন

(১৯১০-১০-১৩)১৩ অক্টোবর ১৯১০
মৃত্যু২৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭৭(1977-09-29) (বয়স ৬৬)
অন্যান্য নামবব ম্যাককিমসন
বাক ম্যাককিমসন
পেশা
  • অ্যানিমেটর
  • চিত্রকর
কর্মজীবন১৯২৯-১৯৭৭
নিয়োগকারীWalt Disney Productions (1929–1930)
Romer Grey Studio (1930)
Harman and Ising (1930–1933)
Leon Schlesinger Productions/Warner Bros. Cartoons (1933–1963)
Cascade Studios (1953)
DePatie-Freleng Enterprises (1963–1968; 1969–1977)
Warner Bros.-Seven Arts (1968–1969)
দাম্পত্য সঙ্গীভায়োলা ম্যাককিমসন
সন্তান

রবার্ট পোর্টার ম্যাককিমসন সিনিয়র (১৩ অক্টোবর ১৯১০ - ২৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭৭) একজন আমেরিকান অ্যানিমেটর এবং চিত্রকর (অঙ্কনশিল্পী)। তিনি মূলত ওয়ার্নার ব্রাদার্স কার্টুন এবং পরবর্তী সময়ে ডিপ্যাটি-ফ্রেলেং এন্টারপ্রাইজ-এর লুনি টিউনসমেরি মেলোডিস কার্টুন সিরিজের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। তিনি বাগস বানি, ড্যাফি ডাক, পোর্কি পিগ, ফগহর্ন লেগহর্ন, হিপ্পেটি হপার, স্পিডি গঞ্জালেস এবং তাসমানিয়ান ডেভিল-এর মতো জনপ্রিয় সব চরিত্র নিয়ে অসংখ্য স্বল্পদৈর্ঘ্য কার্টুন লিখেছেন ও পরিচালনা করেছেন। এছাড়া ১৯৪৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত টর্টোয়েজ উইন্স বাই আ হেয়ার নামক কার্টুনটিতে বাগস বানি'র আধুনিক নকশাটিও (চরিত্রটির অবয়ব বা চেহারা) তিনিই তৈরি করেছিলেন।

জীবনের প্রথমার্ধ

[সম্পাদনা]

রবার্ট ম্যাককিমসন ১৯১০ সালের ১৩ অক্টোবর কলোরাডোর ডেনভারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯২৬ সালে পাকাপাকিভাবে লস অ্যাঞ্জেলেসে বসবাস শুরু করার আগে তাঁর পরিবার কলোরাডোটেক্সাসের বিভিন্ন শহরে বসবাস করেছে।[] ১৯২৭ থেকে ১৯২৮ সালের দিকে ম্যাককিমসন এবং তাঁর ভাই টম তাঁদের মায়ের লেখা 'মাউস টেলস' নামে একটি শিশুদের বইয়ের জন্য ছবি এঁকেছিলেন। এই বইয়ের চরিত্রগুলোর সাথে ওয়াল্ট ডিজনি কার্টুনের মিকি মাউস-এর বেশ মিল ছিল। ছবিগুলো ১৯৩০-এর দশকে আর্কাইভে বা সংগ্রহশালায় জমা রাখা হয় এবং এর প্রায় ৬০ বছর পর সেগুলো আবার জনসমক্ষে আসে। []

কর্মজীবন

[সম্পাদনা]

১৯২৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে, রবার্টকে ওয়াল্ট ডিজনি স্টুডিওতে ডিক লুন্ডির সহকারী অ্যানিমেটর হিসেবে কাজ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। একই সময়ে তাঁর ভাই টম, নর্ম ফার্গুসনের অধীনে শিক্ষানবিশ হিসেবে যোগ দেন। [] টমের মতে, ওটিস আর্ট ইনস্টিটিউটে তাঁর সাথে পড়া কয়েকজন ডিজনি অ্যানিমেটর তাঁর নাম সুপারিশ করেছিলেন। অন্যদিকে রবার্টের ভাষ্য অনুযায়ী, ডেনভারে বসবাসরত তাঁদের এক খালা একটি অনুষ্ঠানে ওয়াল্ট ডিজনির সাথে দেখা হওয়ার পর তাঁদের দুজনকে চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। [] রবার্ট জানান যে, সে সময় পুরো স্টুডিওতে ৩০ জনেরও কম লোক কাজ করতেন। এর মধ্যে ৯ জন ছিলেন মূল অ্যানিমেটর এবং তাঁদের প্রত্যেকের একজন করে সহকারী ছিল। তিন মাস পর, এই দুই ভাইয়ের সাপ্তাহিক বেতন ১৮ ডলার থেকে বেড়ে ২৫ ডলার হয়েছিল। [] যদিও এ বিষয়ে নথিপত্র বা প্রমাণ খুব কম, তবে ডিক লুন্ডি নিশ্চিত করেছিলেন যে ম্যাককিমসন ডিজনির হয়ে কাজ করেছিলেন। []

১৯৩০ সালে, দুই ভাইকে আলতাডেনার একটি স্টুডিওতে বেশি বেতনের চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয়। স্টুডিওটি চালু করার পরিকল্পনা করেছিলেন বিখ্যাত ‘ওয়েস্টার্ন’ লেখক জেন গ্রের বড় ছেলে রোমার গ্রে[] রোমার গ্রে স্টুডিও বেশ কয়েকটি কার্টুন তৈরি করেছিল, যার মধ্যে চারটিতে ‘বিঙ্কো দ্য বিয়ার কাব’ চরিত্রটি ছিল। ম্যাককিমসন ভাইয়েরাই এই চরিত্রটি তৈরি করেছিলেন, যা দেখতে অনেকটাই মিকি মাউসের মতো ছিল। [] কিন্তু সে সময় বিশ্বজুড়ে দেখা দেওয়া ‘মহামন্দা’-এর কারণে গ্রে’র স্টুডিও কার্টুনগুলো বাজারজাত করার জন্য কোনো পরিবেশকের সাথে চুক্তি করতে পারেনি। ফলে কোনো কার্টুনই আর মুক্তি পায়নি। মাত্র হাতেগোনা কয়েকটি কার্টুন তৈরির কাজ শেষ হয়েছিল, যার মধ্যে বর্তমানে মাত্র একটি টিকে আছে বলে জানা যায়। [][]

গ্রের স্টুডিওতে কাজ করার সময় থেকেই ম্যাককিমসনকে হিউ হারম্যান এবং রুডলফ আইসিং নিয়োগ দেন। ১৯৩১ সালে রোমার গ্রে স্টুডিও বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি ধাপে ধাপে কাজ শেখেন—প্রথমে ছবি রঙ করার কাজ (Ink-and-Paint), এরপর ‘ইন-বিটুইনার’ (দুটি মূল ছবির মাঝের অংশগুলো আঁকা) এবং সবশেষে একজন পূর্ণাঙ্গ অ্যানিমেটর হিসেবে নিজের জায়গা করে নেন। সেই সময়ে এক দুর্ঘটনায় তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পান। এই আঘাতের পর তাঁর কল্পনাশক্তি আরও উন্নত হয়, যা তাঁর কাজের গতি ও মান অনেক বাড়িয়ে দেয়। ১৯৩০-এর দশকের শেষের দিকে তিনি স্টুডিওর প্রধান অ্যানিমেটর এবং সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিতে পরিণত হন। তবে অতিরিক্ত কাজের চাপে তিনি কিছুটা হিমশিম খাচ্ছিলেন, যার ফলে এক পর্যায়ে তিনি শুধুমাত্র বব ক্ল্যাম্পেটের সাথে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন। [][] ১৯৩৮ সালে লিওন শ্লেসিঞ্জার তাঁকে পরিচালকের পদের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তখন তা ফিরিয়ে দেন। ফলে সেই সুযোগটি পান অ্যানিমেটর চাক জোন্স[] অবশেষে ১৯৪৪ সালের শেষের দিকে ফ্রাঙ্ক ট্যাশলিন যখন বাস্তবধর্মী সিনেমা (Live-action) তৈরির জন্য ওয়ার্নার ব্রাদার্স ছেড়ে চলে যান, তখন ম্যাককিমসন পরিচালকের দায়িত্বটি গ্রহণ করেন। []

চিত্র:Pop im Pop.png
১৯৫০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত পপ ইম পপ!’ নামক স্বল্পদৈর্ঘ্য কার্টুনের একটি দৃশ্য। কার্টুনটিতে ‘হিপ্পেটি হপার’ এবং ‘সিলভেস্টার’ চরিত্র দুটি রয়েছে। এটি অ্যানিমেট করেছেন অ্যানিমেটর বিল মেলান্দেজ। এই কার্টুনটির মাধ্যমেই সিলভেস্টারের ছেলে সিলভেস্টার জুনিয়র-কে প্রথমবারের মতো দর্শকদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।

ওয়ার্নার ব্রাদার্সে ম্যাককিমসনের সম্পন্ন করা প্রথম কার্টুন ছিল ‘দ্য রিটার্ন অফ মিস্টার হুক’, যা ১৯৪৫ সালে শুধুমাত্র মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া তাঁর প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য কার্টুন ছিল ‘ড্যাফি ডুডলস’, যা ১৯৪৬ সালের এপ্রিলের শুরুতে মুক্তি পায়। ১৯৪৬ সালের জুন মাসে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘অ্যাক্রোব্যাটি বানি’ ছিল তাঁর পরিচালিত ‘বাগস বানি’ সিরিজের প্রথম কার্টুন। তাঁর জনপ্রিয় কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো— হিলবিলি হেয়ার, এ-ল্যাড-ইন হিজ ল্যাম্প, স্টুপর ডাক, দ্য উইন্ডব্লোন হেয়ার, ওয়াকি টকি হকি এবং বিগ টপ বানি

ম্যাককিমসন ‘ফগহর্ন লেগহর্ন’ এবং ‘তাসমানিয়ান ডেভিল’-এর মতো জনপ্রিয় চরিত্রগুলো তৈরি করেছেন। এছাড়া ‘হিপ্পেটি হপার’ এবং ‘সিলভেস্টার’ জুটিকে নিয়ে তৈরি হওয়া প্রতিটি কার্টুন তিনিই পরিচালনা করেছেন। তিনি ১৯৫৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ক্যাট-টেইলস ফর টু’ নামক স্বল্পদৈর্ঘ্য কার্টুনটির মাধ্যমে ‘স্পিডি গঞ্জালেস’ চরিত্রটি তৈরি করেন। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি ফ্রিজ ফ্রেলেং এবং অন্যান্য পরিচালকদের পাশাপাশি নিয়মিতভাবে আরও অনেক কার্টুন পরিচালনা করেছেন।

১৯৫৩ সালের জুন মাসে ওয়ার্নার ব্রাদার্স কার্টুন স্টুডিও ছয় মাসের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর কারণ ছিল সে সময়ের 'থ্রি-ডি ফ্যাড' সিনেমার জোয়ার (১৯৫০-এর দশকে হঠাৎ করে থ্রি-ডি সিনেমার প্রতি মানুষের ঝোঁক বা উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল।)। স্টুডিওর মালিক জ্যাক ওয়ার্নার মনে করেছিলেন, কার্টুন তৈরিতে থ্রি-ডি প্রযুক্তি ব্যবহার করা অনেক বেশি ব্যয়বহুল। তবে স্টুডিওটি পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার দুই মাস আগেই ম্যাককিমসনের কাজের দলটি (ইউনিট) ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। এই অবসরে তিনি ক্যাসকেড স্টুডিওতে 'ওল্ডসমোবাইল' গাড়ির একটি বিজ্ঞাপনে কাজ করেছিলেন।

স্টুডিওটি পুনরায় খোলার পর ফ্রেলেং এবং জোন্স দ্রুত তাঁদের নিজ নিজ কাজের দল গুছিয়ে নিলেও, ম্যাককিমসন ও তাঁর দলকে ফিরিয়ে আনা হবে কী না সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত ইঙ্গিত ছিল না। শেষ পর্যন্ত ম্যাককিমসন ওয়ার্নার ব্রাদার্স কর্তৃপক্ষকে তাঁর ইউনিট বা দলটি পুনরায় চালু করতে রাজি করান, তবে শর্ত ছিল তাঁকে খুব সামান্য সম্পদ ও অল্প বাজেটে কাজ করতে হবে। লেখক টেড পিয়ার্স, পটভূমি শিল্পী (ব্যাকগ্রাউন্ড পেইন্টার) রিচার্ড এইচ. টমাস এবং অ্যানিমেটর কিথ ডার্লিং-কে তিনি পাশে পেলেও, তাঁর দলের পুরনো বেশিরভাগ দক্ষ অ্যানিমেটরদের (যেমন রড স্ক্রিবনার এবং নিজের ভাই চার্লস) তিনি আর কাজে ফেরাতে পারেননি। এই সংকটের শুরুতে ম্যাককিমসন নিজেই তাঁর চারটি ছোট কার্টুনের অ্যানিমেশনের কাজ করেন। ছবিগুলো হলো— দ্য হোল আইডিয়া (এই ছবিতে একমাত্র অ্যানিমেটর হিসেবে তাঁর নাম ছিল), ডাইম টু রিটায়ার, টু হপ টু হ্যান্ডেল এবং উইজেল স্টপ। শীঘ্রই তিনি নতুন একঝাঁক শিল্পী নিয়ে একটি দল গঠন করেন, যার মধ্যে রবার্ট গ্রিবব্রুক, ওয়ারেন ব্যাচেল্ডার, টেড বনিকসেন, জর্জ গ্র্যান্ডপ্রি এবং টম রে ছিলেন। ১৯৫৬ সালে রাস ডাইসনও তাঁর সাথে কাজ শুরু করেন, তবে সে বছরই তিনি মারা যান।

ওয়ার্নার ব্রাদার্সের বিখ্যাত "টারমাইট টেরাস" স্টুডিওর দ্বিতীয় তলায় ছিল ম্যাককিমসনের অফিস। টারমাইট টেরাস (Termite Terrace) ওয়ার্নার ব্রাদার্স স্টুডিওর একটি পুরোনো ভবনের ডাকনাম, যেখানে বিখ্যাত সব কার্টুন চরিত্র তৈরি হয়েছিল। ভবনটির অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না বলে মজা করে একে 'উইপোকার আস্তানা' বা টারমাইট টেরাস বলা হতো।

পরবর্তী কর্মজীবন

[সম্পাদনা]

১৯৬০-এর দশকের শুরুর দিকে চাক জোন্সের মতো অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ওয়ার্নার ব্রাদার্স স্টুডিও ছেড়ে চলে গেলেও ম্যাককিমসন সেখানে তাঁর কাজ চালিয়ে যান। তাঁর ছেলের দেওয়া একটি সাক্ষাৎকার থেকে জানা যায় যে, স্টুডিওর তৎকালীন কর্মপদ্ধতি তাঁর ভালো লাগত না। তিনি পুরোনো আমলের বিস্তারিত ও উচ্চমানের অ্যানিমেশন (Full Animation) খুব মিস করতেন এবং সে সময়ের নতুন কার্টুন চরিত্রগুলোও তাঁর বিশেষ পছন্দ ছিল না। []

এই সময়ে তিনি নিজের স্বল্পদৈর্ঘ্য কার্টুনগুলো পরিচালনা করার পাশাপাশি ‘দ্য ইনক্রেডিবল মিস্টার লিম্পেট’ নামক একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবিতে হাওলি প্র্যাটের সাথে কাজ করেন। মূলত বিল টাইটলা অসুস্থ হয়ে পড়লে ম্যাককিমসন তাঁর পরিবর্তে ছবিটির পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। [১০]

ওয়ার্নার ব্রাদার্স স্টুডিও বন্ধ হওয়ার পর ম্যাককিমসন ডিপ্যাটি-ফ্রেলেং এন্টারপ্রাইজ-এ যোগ দেন। এই প্রতিষ্ঠানটির মালিক ছিলেন তাঁর পুরনো সহকর্মী ফ্রিজ ফ্রেলেং এবং ওয়ার্নার ব্রাদার্সের প্রাক্তন প্রযোজক ডেভিড এইচ. ডিপ্যাটি। সেখানে তিনি ফ্রেলেং-এর দলের সাথে যুক্ত হয়ে দ্য ইন্সপেক্টর সিরিজের কয়েকটি ছোট কার্টুন পরিচালনা করেন। এছাড়া ওয়ার্নার ব্রাদার্সের চুক্তিতে পাওয়া কিছু লুনি টিউনসমেরি মেলোডিস কার্টুনেও তিনি কাজ করেন।

১৯৬৭ সালে ওয়ার্নার ব্রাদার্স আবারও তাদের অ্যানিমেশন স্টুডিও চালু করে, যেখানে সব কার্টুন পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন অ্যালেক্স লোভি। লোভি চলে যাওয়ার পর ১৯৬৮ সালে ম্যাককিমসন আবারও সেখানে যোগ দেন। তাঁর ছেলে রবার্ট ম্যাককিমসন জুনিয়রের মতে, সেই সময়কার 'ওয়ার্নার ব্রাদার্স-সেভেন আর্টস'-এর অধীনে তৈরি করা কার্টুনগুলো ম্যাককিমসন মোটেও পছন্দ করতেন না। কারণ সেগুলোর বাজেট ছিল খুব কম এবং তাঁকে কার্টুনে বাগস বানি চরিত্রটি ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছিল। ১৯৬৯ সালে স্টুডিওটি আবারও বন্ধ হয়ে যায়।

ওয়ার্নার ব্রাদার্সে ম্যাককিমসনের শেষ কার্টুন ছিল কুল ক্যাট-কে নিয়ে তৈরি ইঞ্জুন ট্রাবল। এটি একাডেমি অ্যাওয়ার্ডের (অস্কার) জন্য সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পেলেও শেষ পর্যন্ত মনোনীত হয়নি। ১৯৬৯ সালে স্টুডিও বন্ধ হওয়ার আগে এটিই ছিল মূল লুনি টিউনস বা মেরি মেলোডিস সিরিজের শেষ কার্টুন। ১৯৩০ সালে লুনি টিউনস সিরিজের শুরু থেকে ১৯৬৯ সালে শেষ হওয়া পর্যন্ত ম্যাককিমসনই একমাত্র ব্যক্তি ছিলেন, যিনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত (প্রথমে অ্যানিমেটর এবং পরে পরিচালক হিসেবে) স্টুডিওর সাথে যুক্ত ছিলেন।

কিছুদিন বিরতি নেওয়ার পর ১৯৭২ সালে তিনি আবারও ডিপ্যাটি-ফ্রেলেং-এ ফিরে যান এবং সেখানে দ্য পিঙ্ক প্যান্থার শো-সহ অন্যান্য সিরিজের কার্টুন পরিচালনা শুরু করেন।

মৃত্যু

[সম্পাদনা]

১৯৭৭ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে, ৬৬ বছর বয়সী ম্যাককিমসনকে তাঁর ডাক্তার সুস্থ বলে ঘোষণা করেন। যদিও দীর্ঘ বছর ধূমপানের কারণে তিনি এমফিসেমা (ফুসফুসের এক ধরনের রোগ) রোগে ভুগছিলেন। সহকর্মী ফ্রেলেং-এর দেওয়া তথ্যমতে, ম্যাককিমসন তাঁর পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘায়ু হওয়ার (৯০ বছরের বেশি বাঁচার) ইতিহাসের কথা উল্লেখ করে গর্বের সঙ্গে বলেছিলেন, "তোমরা সবাই চলে যাওয়ার পরও আমি বেঁচে থাকব!" কিন্তু এর মাত্র দুদিন পর, ২৯ সেপ্টেম্বর হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৬৬ বছর বয়সে তিনি মারা যান। মৃত্যুর ঠিক আগে তিনি মিস্টারজ নামক কার্টুন পরিচালনার কাজ শেষ করেছিলেন এবং ব্যাগি প্যান্টস অ্যান্ড দ্য নিটউইটস-এর কাজ শুরু করেছিলেন। [][১০][১১]

ম্যাককিমসনকে ক্যালিফোর্নিয়ার গ্লেনডেলের ফরেস্ট লন কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছিল।

ব্যক্তিগত জীবন

[সম্পাদনা]

ম্যাককিমসনের স্ত্রী ভায়োলা ১৯৬৩ সালে মারা যান। [] অ্যানিমেশন তৈরির পাশাপাশি ম্যাককিমসন ঘোড়ায় চড়া এবং পোলো খেলায় বেশ দক্ষ ছিলেন। তিনি নিয়মিত বোলিং করতেন এবং একজন মাস্টার ম্যাসন ছিলেন। ১৯৩২ সাল থেকে ১৯৪২ সালে (দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ) শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি পোলো খেলেছেন। [] তাঁর দুই ভাই টম ও চার্লস ছাড়াও দুই বোন—অ্যানাবেল এবং অ্যালিস ম্যাককিমসনও অ্যানিমেটর হিসেবে কাজ করতেন। [][][১২] চার্লস প্রায়ই ওয়ার্নার ব্রাদার্স স্টুডিওতে রবার্ট ম্যাককিমসনের দলের (ইউনিট) সাথে কাজ করতেন।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 3 4 Baxter, Devon (১৩ এপ্রিল ২০১৬)। "Robert McKimson's 'Daffy Doodles' (1946)"Cartoon Research। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জুলাই ২০২৩
  2. McKimson Jr. 2012, পৃ. 18, 20-21।
  3. 1 2 McKimson Jr. 2012, পৃ. 23-24।
  4. McKimson Jr. 2012, পৃ. 25-27।
  5. 1 2 "Drawn to Life: The Art of Robert McKimson"। ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১২। ২২ জানুয়ারি ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৬ অক্টোবর ২০২০
  6. 1 2 Mallory, Michael (নভেম্বর ১৯৯১)। Comics Scene। পৃ. ১৪–১৯। {{ম্যাগাজিন উদ্ধৃতি}}: |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  7. 1 2 3 4 Barrier, Michael (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১১)। "Interviews: Robert McKimson"Michael Barrier.com। ১৬ জুন ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  8. "MichaelBarrier.com -- Interviews: Frank Tashlin"www.michaelbarrier.com। ১৫ জুলাই ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  9. 1 2 3 Spies, Kamden (২৯ জুন ২০২০)। "Remembering the McKimson's: A Chat with Robert McKimson Jr."Cartoon Research
  10. 1 2 McCorry, Kevin। "Remembering Robert McKimson"Kevin McCorry
  11. Mallory, Michael (১২ এপ্রিল ২০১২)। "The Case for Robert McKimson"Animation Magazine। সংগ্রহের তারিখ ১৬ অক্টোবর ২০২০
  12. "Robert McKimson"cogenweb.com। ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ এপ্রিল ২০২০