রফিকুল হাসান খান
রফিকুল হাসান খান | |
|---|---|
| জন্ম | ১৯৫৮ মেহেরপুর, অবিভক্ত কুষ্টিয়া জেলা, পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমানে বাংলাদেশ) |
| মৃত্যু | ২৩ সেপ্টেম্বর ১৯৮১ (বয়স ২৩) যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার, যশোর, বাংলাদেশ |
| সমাধি | |
| আনুগত্য | |
| সেবা/ | |
| কার্যকাল | ১৯৭৮–১৯৮১ |
| পদমর্যাদা | |
| ইউনিট | ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট |
| পরিচিতির কারণ | জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড |
| যুদ্ধ/সংগ্রাম | বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ |
| পুরস্কার | |
রফিকুল হাসান খান (১৯৫৮ – ২৩ সেপ্টেম্বর ১৯৮১) ছিলেন একজন বাংলাদেশী সেনা কর্মকর্তা। তাকে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।[১]
কর্মজীবন
[সম্পাদনা]প্রাথমিক জীবন এবং বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ
[সম্পাদনা]রফিকুল হাসান খান ১৯৫৮ সালে অবিভক্ত কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুরে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ শুরুর সময় তিনি ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজের ছাত্র ছিলেন। মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি তার বাবা মোহাম্মদ হাসেম আলী খানের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। রফিকুল এবং তার বাবা পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলার একটি ক্যাম্পে অবস্থান করেছিলেন।[২]
রফিকুল ২৫ জুলাই ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং ১৮ জুলাই ১৯৭৮ সালে কমিশন লাভ করেন। তাকে ৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।[২]
জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড
[সম্পাদনা]২৯ মে ১৯৮১ সালে লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাহ মোহাম্মদ ফজলে হোসেন লেফটেন্যান্ট রফিকুলকে তার অফিসে ডাকেন। তিনি রফিকুলকে জিজ্ঞেস করেন, "তুমি কি যেখানেই আমি যাবো, সেখানেই যাবে?" রফিকুল উত্তর দেন, "আপনি যদি আদেশ দেন, স্যার।"[৩]
৩০ মে ১৯৮১, রাত ২:৩০ মিনিটে ষড়যন্ত্রকারীরা তিনটি দল গঠন করে। প্রথম দুটি দল সার্কিট হাউজে আক্রমণ করার জন্য প্রস্তুত ছিল, যেখানে জিয়া অবস্থান করছিলেন। তৃতীয় দলের দায়িত্ব ছিল কেউ পালানোর চেষ্টা করলে তাকে গুলি করা। রফিকুল প্রথম স্ট্রাইক টিমে ছিলেন; তার সঙ্গে ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফজলে, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুব, মেজর খালেদ, ক্যাপ্টেন জামিল হক এবং ক্যাপ্টেন আবদুস সাত্তার। সার্কিট হাউজে যাওয়ার পথে, লেফটেন্যান্ট রফিকুল ফজলেকে জিজ্ঞেস করেন, "আপনি কি রাষ্ট্রপতিকে হত্যা করতে যাচ্ছেন?" ফজলে উত্তর দেন, "না, আমরা তাকে শুধু ধরতে যাচ্ছি।"[৪]
হত্যাকাণ্ডের পর, তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তার ঘোষণা দেন যে ৩১ মে ১৯৮১ দুপুর ১২টার আগে যারা শুভাপুর ব্রিজ পার করবে, তাদের ক্ষমা করা হবে। পরে সেনাবাহিনীর প্রধান, জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ, ক্ষমার সময়সীমা আরও ১৮ ঘণ্টা বাড়িয়ে দেন। ক্ষমার সময়সীমার মধ্যে রফিক ফেনীর ৪৪ ইনফ্যান্ট্রি ব্রিগেডের অস্থায়ী সদর দপ্তরে আত্মসমর্পণ করেন।[২]
মৃত্যু
[সম্পাদনা]রফিকুলকে ২৩ সেপ্টেম্বর ১৯৮১ সালে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসি দেওয়া হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল মাত্র ২৩ বছর।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]
তার শেষ চিঠিতে, বন্ধুকে (যার নাম জিয়া, তবে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে সম্পর্কিত নন) রফিকুল লেখেন:[২]
১১ই আগস্ট (১৯৮১) যখন আমার "ফাঁসির আদেশ" পেলাম, তখন আমার মনের একমাত্র শব্দ ছিল "আলহামদুলিল্লাহ"। আমি নিজের কাছে নির্দোষ। আমি পরিস্থিতির শিকার হয়ে এটা মেনে নিয়েছি। তোমারও হয়তো জানা আছে, আমি জিয়াকে ভালোবাসতাম। ১১ই আগস্ট থেকে আমি মৃত্যুর অপেক্ষায় আছি, যে কোনো সময়। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে আমি এই মৃত্যুকক্ষে এসে পৌঁছেছি, যা কেউ কখনো কল্পনাতেও ভাবেনি। নিঃসন্দেহে এটি আল্লাহর ইচ্ছা। আমি যেখানে তোমার সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা করেছিলাম, আজ আমি এখানে। সব আকাঙ্ক্ষা যেন মুছে যায়।
৩৮২৭৪৪ নাম্বারে আন্টিকে ফোন করে আমার সালাম জানিও। আপাতত কোনো পুনর্মিলন সম্ভব নয়। কেবল আল্লাহ জানেন, কবে আমাদের আবার দেখা হবে। বিয়ে করো এবং একটি পবিত্র জীবন যাপন করো। তোমার সর্বপ্রকার সুখ কামনা করি, ভালোবাসা ও সালাম রইল।
আমি, লেফটেন্যান্ট রফিকুল হাসান খান
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ লুয়া ত্রুটি মডিউল:উদ্ধৃতি/রূপরেখা এর 2128 নং লাইনে: attempt to index a boolean value।
- 1 2 3 4 লুয়া ত্রুটি মডিউল:উদ্ধৃতি/রূপরেখা এর 2128 নং লাইনে: attempt to index a boolean value।
- ↑ লুয়া ত্রুটি মডিউল:উদ্ধৃতি/রূপরেখা এর 2128 নং লাইনে: attempt to index a boolean value।
- ↑ লুয়া ত্রুটি মডিউল:উদ্ধৃতি/রূপরেখা এর 2128 নং লাইনে: attempt to index a boolean value।