রজার ব্লান্ট

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
রজার ব্লান্ট
Roger Blunt 1931.jpg
১৯৩১ সালে রজার ব্লান্ট
ব্যক্তিগত তথ্য
জন্ম(১৯০০-১১-০৩)৩ নভেম্বর ১৯০০
ডারহাম, ইংল্যান্ড
মৃত্যু২২ জুন ১৯৬৬(1966-06-22) (বয়স ৬৫)
ওয়েস্টমিনস্টার, ইংল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনলেগ ব্রেক
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ )
১০ জানুয়ারি ১৯৩০ বনাম ইংল্যান্ড
শেষ টেস্ট৪ মার্চ ১৯৩২ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ১২৩
রানের সংখ্যা ৩৩০ ৭৯৫৩
ব্যাটিং গড় ২৭.৫০ ৪০.৯৯
১০০/৫০ ০/১ ১৫/৪০
সর্বোচ্চ রান ৯৬ ৩৩৮*
বল করেছে ৯৩৬ ১৩২৫২
উইকেট ১২ ২১৩
বোলিং গড় ৩৯.৩৩ ৩১.১৬
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৩/১৭ ৮/৯৯
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৫/- ৮৮/-
উৎস: ক্রিকইনফো.কম, ১৫ জানুয়ারি ২০১৯

রজার চার্লস ব্লান্ট, এমবিই (ইংরেজি: Roger Blunt; জন্ম: ৩ নভেম্বর, ১৯০০ - মৃত্যু: ২২ জুন, ১৯৬৬) ইংল্যান্ডের ডারহামে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত নিউজিল্যান্ডীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা ছিলেন। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৩০ থেকে ১৯৩২ সময়কালে নিউজিল্যান্ড দলের পক্ষে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওতাগো ও ক্যান্টারবারি দলের পক্ষে খেলেছেন। দলে তিনি মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করার পাশাপাশি লেগ ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন রজার ব্লান্ট

শৈশবকাল[সম্পাদনা]

ইংল্যান্ডের ডারহামে রজার ব্লান্টের জন্ম। তবে ছয় মাস বয়সেই স্বীয় পরিবারের সাথে নিউজিল্যান্ডে চলে আসতে হয় তাঁকে।[১] অক্সফোর্ডের ক্রাইস্টচার্চ থেকে স্নাতক ডিগ্রীধারী পিতা ক্রাইস্টচার্চের ক্যান্টারবারি কলেজের অধ্যাপক ছিলেন।[২] ক্রাইস্টচার্চের ক্রাইস্টস কলেজে অধ্যয়ন করেন রজার ব্লান্ট। এখানে পড়াশোনাকালেই প্রথম একাদশ ক্রিকেট দলে অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।[৩]

ঘরোয়া ক্রিকেট[সম্পাদনা]

ব্যাটসম্যান ও লেগ-স্পিন বোলিংয়ে পারদর্শী রজার ব্লান্ট ১৭ বছর বয়সে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথম পদচারণ ঘটান। ১৯১৭ সালের বড়দিনে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত ঐ খেলাটিতে প্রতিপক্ষীয় দল ছিল ওতাগো। খেলায় তিনি ছয় উইকেট পেয়েছিলেন। ১৯২০-এর দশকে ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্যাটসম্যান হিসেবে ব্যাপক সফলতা পান। টেস্ট ক্রিকেটে নিউজিল্যান্ড দলের মর্যাদা লাভের পূর্বে অস্ট্রেলিয়া ও ইংরেজ দলগুলোর বিপক্ষে বেশকিছুসংখ্যক প্রতিনিধিত্বকারী খেলায় অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

১৯৩০-৩১ মৌসুমে ডুনেডিনে অকল্যান্ডের বিপক্ষে নিজস্ব সেরা প্রথম-শ্রেণীর বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করিয়েছিলেন। ওতাগোর সদস্যরূপে ৮/৯৯ বোলিং পরিসংখ্যান করেন তিনি। ১৯৩১-৩২ মৌসুমে ওতাগোর সদস্যরূপে ক্রাইস্টচার্চে ক্যান্টারবারির বিপক্ষে মিনিট প্রতি ৩৩৮ রান তুলে অপরাজিত থাকেন।[৪] ৫৮৯ রানে অল-আউট হয় তাঁর দল। তাসত্ত্বেও, ওতাগো পরাজিত হয়েছিল। এটিই নিউজিল্যান্ডের সর্বোচ্চ প্রথম-শ্রেণীর ব্যক্তিগত সংগ্রহ ছিল। পরবর্তীতে, ১৯৪৯-৫০ মৌসুমে বার্ট সাটক্লিফ রেকর্ডটিকে নিজের করে নিয়েছিলেন।

১৯৩১-৩২ মৌসুমের পর নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আর তাঁকে খেলতে দেখা যায়নি। তবে, ১৯৩৪ ও ১৯৩৫ সালে ইংল্যান্ড সফরে তিনি তিনটি গুরুত্বহীন খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ৯টি টেস্ট খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন রজার ব্লান্ট। ১০ জানুয়ারি, ১৯৩০ তারিখে নিজ মাতৃভূমি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তাঁর।

১৯২৭ সালে নিউজিল্যান্ড দল প্রথমবারের মতো বড় ধরনের বিদেশ সফরের অংশ হিসেবে ইংল্যান্ড গমন করে। ৪৪ গড়ে ১৫৪০ রান ও ২৫.২৯ গড় ৭৭ উইকেট পেয়েছিলেন তিনি। ফলশ্রুতিতে, ১৯২৮ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননা লাভ করেন রজার ব্লান্ট।

১৯২৯-৩০ মৌসুমে ইংল্যান্ড দল নিউজিল্যান্ড গমন করতে আসে। জানুয়ারি, ১৯৩০ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে সফরকারী ইংরেজ দলের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো স্বাগতিক দল টেস্ট ক্রিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হয়েছিল। অন্য যে-কোন নিউজিল্যান্ডীয় খেলোয়াড়ের তুলনায় রান কিংবা উইকেট লাভে এগিয়েছিলেন তিনি। অপরাজিত ৪৫ ও ৭ রানের পাশাপাশি ৩/১৭ ও ২/১৭ লাভ করেন। তবে, ঐ টেস্টে তাঁর দল ৮ উইকেটে পরাজয়বরণ করেছিল।

এরপর থেকে নিউজিল্যান্ডের প্রথম নয়টি টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। ১৯২৯-৩০ মৌসুমে ইংল্যান্ডে বিপক্ষে চারটি; ১৯৩১ সালে একই দলের বিপক্ষে তিনটি ও ১৯৩১-৩২ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই টেস্টে খেলেছিলেন রজার ব্লান্ট। তন্মধ্যে, ১৯৩১ সালে ইংল্যান্ড সফরে লর্ডস টেস্টে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ টেস্ট রান ৯৬ তুলেন।

অবসর[সম্পাদনা]

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর রজার ব্লান্ট বেতার ধারাভাষ্যকর্মের সাথে যুক্ত হন। ১৯৪৯ সালে ইংল্যান্ডে নিউজিল্যান্ড দলের সফরে বিবিসি দলের সদস্য ছিলেন তিনি।[৫] ব্যবসায়ী হিসেবেও যথেষ্ট সফলতা পান। ১৯৬৫ সালে এমবিই পদবীতে ভূষিত হন তিনি।[৬]

২২ জুন, ১৯৬৬ তারিখে ৬৬ বছর বয়সে ইংল্যান্ডের ওয়েস্টমিনস্টার এলাকায় রজার ব্লান্টের দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. CRICKETER OF THE YEAR 1928 Roger Blunt. Wisden Cricketer of the Year. ESPN cricinfo
  2. "Christ's College, Canterbury, N.Z."The CricketerIII: 25। ফেব্রুয়ারি ১৯২৩। সংগ্রহের তারিখ ১২ মার্চ ২০১৭ 
  3. Bill Francis (২০১০)। Tom Lowry: Leader in a Thousand। Trio Books। পৃষ্ঠা 34। আইএসবিএন 978-0-9582839-8-4 
  4. Roger Blunt. ESPN cricinfo
  5. Christopher Martin-Jenkins (1990) Ball by Ball, Grafton, London, p. 89. আইএসবিএন ৯৭৮০২৪৬১৩৫৬৮১.
  6. Wisden Cricketers' Almanack 1967, p. 963.

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]