যৌতুক
| এই নিবন্ধটি অসম্পূর্ণ। আপনি চাইলে এটিকে সম্প্রসারিত করে উইকিপিডিয়াকে সাহায্য করতে পারেন। |
| আন্তঃব্যক্তিক সম্পর্ক |
|---|

যৌতুক হলো কন্যার বিবাহে পিতামাতার সম্পত্তির হস্তান্তর প্রক্রিয়া। ‘যু’ ধাতু থেকে নিষ্পন্ন ‘যুত’ শব্দের অর্থ যুক্ত; বুৎপত্তিগত অর্থ হলো, পাত্র-পাত্রীর যুক্ত হওয়ার সময়ে অর্থাৎ বিয়ের সময় পাত্রীর জন্য যা কিছু মূল্যবান সামগ্রী দেয়া হয়, তা যৌতুক।[১]
যৌতুক সাধারণত পণ ও স্ত্রীধন সংশ্লিষ্ট ধারণার সঙ্গে সম্পূর্ণ বিপরীত। যদিও পণ বা কনে কৃত্যক বর বা তার পরিবার কর্তৃক কনের পিতামাতার নিকট পরিশোধিত হয়, কিন্তু কনের পরিবার কর্তৃক বর বা তার পরিবারকে প্রদত্ত হস্তান্তরিত সম্পদ হল যৌতুক। অন্যভাবে, যৌতুক হল নববধূর নির্দিষ্ট সম্পত্তি যা বিয়ের সময় বরের মালিকানা এবং নিয়ন্ত্রণে থাকে।[২]
সাধারণ অর্থে যৌতুক বলতে বিয়ের সময় বরকে কনের অভিভাবক কর্তৃক প্রদেয় অর্থ বা মূল্যবান সামগ্রীকে বুঝায়। এছাড়া বর কনের আত্মীয়, অভ্যাগত অতিথিরা সাধারনত স্বেচ্ছায় নবদম্পতিকে দিয়ে থাকেন যা তারা তাদের নতুন সংসারে সুবিধামত ব্যবহার করতে পারে। হিন্দু আইনে যৌতুককে নারীর সম্পত্তির উৎস বলা হয়। এতে তার নিরঙ্কুশ অধিকার স্বীকৃত। হিন্দু সমাজে নারীরা পুরুষদের মতো একই ভাবে সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হতো না। তাই অনেক আগে থেকেই হিন্দু সমাজে নারীদেরকে বিয়ের সময়ে যৌতুক দেবার প্রচলন ছিল। কালক্রমে তা বিয়ের পণ হিসাবে আবির্ভূত হয় যা একসময় কনে পক্ষের জন্য এক কষ্টকর রীতি হয়ে দাঁড়ায়।[৩] ১৯৮০ সালের যৌতুক নিরোধক আইন অনুসারে ”প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যদি কোন পক্ষ অপর পক্ষকে বিয়ের আগে-পরে-চলাকালীন যে কোন সময় যে কোন সম্পদ বা মূল্যবান জামানত হস্তান্তর করে বা করতে সম্মত হয় সেটাই যৌতুক বলে বিবেচ্য হবে।” [৪] তবে বিয়ের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নন এমন কেউ ৫০০ টাকা বা তার চেয়ে কম মূল্যমানের কোন বস্তু উপহার হিসাবে কোন পক্ষকে দিলে তা যৌতুক হিসাবে বিবেচিত হবে না। তবে বিয়ের শর্ত হিসাবে এই সমপরিমান কোন কিছু আদান প্রদান করলে তা যৌতুক হিসাবে বিবেচিত হবে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ অনুসারে বিয়ে স্থির থাকার শর্ত হিসাবে বা বিয়ের পণ হিসাবে প্রদত্ত অর্থ বা প্রদান করা হবে এই মর্মে কোন শর্ত যে কোন সম্পদকে যৌতুক হিসাবে বিবেচিত হবে। তবে মুসলিম সম্প্রদায়ের বিয়ের ক্ষেত্রে বিয়ের মোহরানা যৌতুক হিসাবে বিবেচিত হবে না। প্রচলিত আইনে যৌতুক দেয়া বা নেয়া উভয়ই শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছে। অপরাধ প্রমাণিত হলে এক থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত জেল বা জরিমানা অথবা উভয় দন্ড হতে পারে। যৌতুক দাবী করার জন্যও একই সাজা হতে পারে। [৫] বাংলাদেশের সমাজে যৌতুকের জন্য নারীর প্রতি অসম্মান ও অত্যাচারের অনেক ঘটনা ঘটে। এমনকি যৌতুকের দাবীতে স্বামী বা তার আত্মীয় স্বজনদের দ্বারা অত্যাচারের পর হত্যাকান্ডের ঘটনাও বিরল নয়।
ইসলাম ধর্ম
[সম্পাদনা]ইসলাম ধর্মের দৃষ্টিতে মেয়ের পরিবার থেকে ছেলে পক্ষকে যৌতুক বা দাম্পত্যের পণ হিসেবে কিছু দিতে চাপ দেওয়া শরিয়াহ-সম্মত নয়। বিয়ের সময় বর পক্ষ থেকে কনের জন্য মহর প্রদান করা হয়, যা কনের আর্থিক অধিকার হিসেবে গণ্য হয় এবং কনে তার পূর্ণ মালিকানা ভোগ করে। ইসলামী বিধানে যৌতুককে বাধ্যতামূলক প্রথা হিসেবে সমর্থন করা হয়নি।[৬]
তবে মেয়ে পক্ষ যদি স্বেচ্ছায়, কোনো সামাজিক চাপ ছাড়া উপহার হিসেবে কিছু প্রদান করে, তাহলে তা হাদিয়া হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং ধর্মীয়ভাবে তা নিষিদ্ধ নয়। সাধারণভাবে যৌতুক প্রথা সামাজিক রীতির অংশ হিসেবে গড়ে উঠেছে, ধর্মীয় নির্দেশনা নয়।[৭]
সার্বিকভাবে, যৌতুককে চাপিয়ে দেওয়া ইসলামে সমর্থিত নয়, কিন্তু স্বেচ্ছা উপহার প্রদান বৈধ বলে বিবেচিত হয়।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ হাবিবুর রহমান প্রণীত ‘যার যা ধর্ম’ পৃষ্ঠা ২৯৫
- ↑ গুডি, জ্যাক (১৯৭৬)। Production and Reproduction: A Comparative Study of the Domestic Domain (ইংরেজি ভাষায়)। কেমব্রিজ: কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস। পৃ. ৮।
{{বই উদ্ধৃতি}}:|সংগ্রহের-তারিখ=এর জন্য|ইউআরএল=প্রয়োজন (সাহায্য); উদ্ধৃতিতে খালি অজানা প্যারামিটার রয়েছে:|trans_title=(সাহায্য) - ↑ কাজী এবাদুল হক (জানুয়ারি ২০০৩)। "যৌতুক"। সিরাজুল ইসলাম (সম্পাদক)। [[বাংলাপিডিয়া]] (বাংলা ভাষায়)। ঢাকা: এশিয়াটিক সোসাইটি বাংলাদেশ। আইএসবিএন ৯৮৪-৩২-০৫৭৬-৬। সংগ্রহের তারিখ ৪ জুন ২০১৫।
{{বই উদ্ধৃতি}}: ইউআরএল–উইকিসংযোগ দ্বন্দ্ব (সাহায্য)উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক) - ↑ "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ২ নভেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৪ জুন ২০১৫।
- ↑ http://www.jjdin.com/?view=details&archiev=yes&arch_date=23-09-2012&feature=yes&type=single&pub_no=244&cat_id=3&menu_id=76&news_type_id=1&news_id=33125
- ↑ "Islam on Dowry"। www.islamawareness.net। সংগ্রহের তারিখ ৮ মার্চ ২০২৬।
- ↑ "The Bride Price: Dowry Abuse"। IslamOnline (ইংরেজি ভাষায়)। ২০ অক্টোবর ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ৮ মার্চ ২০২৬।
- https://www.islamawareness.net/Marriage/Dowry/dowry_article002.html
- https://islamonline.net/en/the-bride-price-dowry-abuse/
- https://www.masjidtucson.org/submission/perspectives/more/family/marriage/dowry.html
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]আরও পড়ুন
[সম্পাদনা]- Hirsch, Jennifer S., Wardlow, Holly, Modern loves: the Anthropology of Romantic Courtship & Companionate Marriage, Macmillan, 2006. আইএসবিএন ০-৪৭২-০৯৯৫৯-০. Cf. Chapter 1 "Love and Jewelry", on contrasting a dowry and a bride price.