যোজনী বন্ধন তত্ত্ব

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

যোজনী বন্ধন তত্ত্ব রসায়নের দুটি মৌলিক তত্ত্বের একটি। অন্যটি হলো আণবিক অরবিটাল(এমও) তত্ত্ব, যা রাসায়নিক বন্ধন ব্যাখ্যা করার জন্য কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞানের পদ্ধতি ব্যবহারের উদ্দেশ্যে বিকশিত হয়েছিল। এটি মূলত লক্ষ্য করে কিভাবে বিচ্ছিন্ন পরমাণুর পারমাণবিক কক্ষপথ একত্রিত হয়ে যখন একটি অণু গঠিত হয়, তখন কিভাবে নির্দিষ্ট রাসায়নিক বন্ধন গঠিত হয় । বিপরীতভাবে, আণবিক অরবিটাল তত্ত্বে, কক্ষপথ আছে যা সমগ্র অণু আবৃত করে রাখে।[১]

তত্ত্ব[সম্পাদনা]

এই তত্ত্ব অনুসারে, প্রতিটি পরমাণুর অর্ধপূর্ণ ভ্যালেন্স পারমাণবিক কক্ষপথের অধিক্রমণের মাধ্যমে দুটি পরমাণুর মধ্যে একটি সমযোজী বন্ধন গঠিত হয়, যার মধ্যে একটি করে অযুগ্ম ইলেকট্রন থাকে। একটি যোজনী বন্ধন কাঠামো লুইস কাঠামোর অনুরূপ, কিন্তু এক্ষেত্রে একটি একক লুইস কাঠামো লেখা যায় না, বেশ কিছু যোজনী বন্ধন কাঠামো ব্যবহার করা হয়। এই যোজনী বন্ধন কাঠামোর প্রতিটি একটি নির্দিষ্ট লুইস কাঠামোকে প্রতিনিধিত্ব করে। যোজনী বন্ধন কাঠামোর এই সমন্বয় রেজোনেন্স তত্ত্বের প্রধান বিষয় । যোজনী বন্ধন তত্ত্ব বিবেচনা করে যে অংশগ্রহণকারী পরমাণুর অধিক্রমণ পারমাণবিক কক্ষপথ একটি রাসায়নিক বন্ধন গঠন করে।অধিক্রমণের কারণে, এটা সবচেয়ে সম্ভাব্য যে ইলেকট্রন বন্ধন অঞ্চলে থাকে। যোজনী বন্ধন তত্ত্ব বন্ধনকে দুর্বলভাবে জোড়া কক্ষপথ (ছোট অধিক্রমণ) হিসেবে দেখে। যোজনী বন্ধন তত্ত্ব সাধারণত সর্বনিম্ন শক্তির কক্ষপথ বিশিষ্ট পরমাণুতে প্রয়োগ করা সহজ। মূল কক্ষপথ এবং ইলেকট্রন মূলত বন্ধন গঠনের সময় অপরিবর্তিত থাকে।

দুটি পরমাণুর মধ্যবর্তী σ বন্ধন  : ইলেকট্রন ঘনত্ব তের অঞ্চলীকরণ
২টি p- অরবিটাল ১টি π- বন্ধন গঠন করছে

অধিক্রমণ কক্ষপথ দুই ধরনের হয়ে থাকে সিগমা এবং পাই । সিগমা বন্ধন ঘটে যখন দুটি যৌথ ইলেকট্রনের কক্ষপথ মাথা থেকে মাথা পর্যন্ত অধিক্রমণ করে। পাই বন্ধন ঘটে যখন দুটি কক্ষপথ সমান্তরাল হয়। উদাহরণস্বরূপ, দুটি s কক্ষপথের ইলেকট্রনের মধ্যে গঠিত বন্ধন একটি সিগমা বন্ধন, কারণ দুটি গোলক সবসময় একই অক্ষের উপর থাকে । বন্ধন ক্রমের দিক থেকে একক বন্ধন একটি সিগমা বন্ধন,দ্বি-বন্ধন একটি সিগমা বন্ধন এবং একটি পাই বন্ধন নিয়ে গঠিত, এবং ত্রি-বন্ধনে একটি সিগমা বন্ধন এবং দুটি পাই বন্ধন থাকে। যাইহোক, বন্ধনের জন্য পারমাণবিক কক্ষপথের সংকরায়ন হতে পারে। প্রায়ই, পারমাণবিক বন্ধন কক্ষপথের বিভিন্ন সম্ভাব্য ধরনের কক্ষপথের চরিত্র আছে।উপযুক্ত বন্ধন গঠনের জন্য উপযুক্ত একটি পারমাণবিক কক্ষপথ পাওয়ার পদ্ধতিকে বলা হয় সংকরায়ন

প্রয়োগ[সম্পাদনা]

যোজনী বন্ধন তত্ত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল সর্বোচ্চ অধিক্রমণের শর্ত, যা সবচেয়ে শক্তিশালী সম্ভাব্য বন্ধন গঠনের দিকে নিয়ে যায়। এই তত্ত্ব বহু পরমাণু বিশিষ্ট অণুতে সমযোজী বন্ধন গঠন ব্যাখ্যা করতে ব্যবহৃত হয়।

উদাহরণস্বরূপ, F2 অণুর ক্ষেত্রে, F-F বন্ধন দুটি F পরমাণুর pz কক্ষপথের অধিক্রমণ দ্বারা গঠিত হয়, প্রতিটি একটি অযুগ্ম ইলেকট্রন ধারণ করে। যেহেতু অধিক্রমণ কক্ষপথের প্রকৃতি H2 এবং F2 অণুতে ভিন্ন, তাই H2 এবং F2 অণুর মধ্যে বন্ধন শক্তি এবং বন্ধন দৈর্ঘ্যের পার্থক্য রয়েছে ।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Murrell, J. N.; Kettle, S. F. A.; Tedder, J. M. (১৯৮৫)। The Chemical Bondবিনামূল্যে নিবন্ধন প্রয়োজন (2nd সংস্করণ)। John Wiley & Sons। আইএসবিএন 0-471-90759-6