যুমলেম্বম গম্ভিনী দেবী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
যুমলেম্বম গম্ভিনী দেবী
জন্ম (1945-01-01) ১ জানুয়ারি ১৯৪৫ (বয়স ৭৭)
ইয়াশকুল হিরুহানবা লেইকাই, মণিপুর, ভারত
পেশাগায়ক, নর্তকী
পরিচিতির কারণ নট সংকীর্তন , মণিপুরি নৃত্য
দাম্পত্য সঙ্গীকনসাম থোপি সিং
পিতা-মাতাওয়াই. গোলাপ সিং
পুরস্কারপদ্মশ্রী
সংগীত নাটক অকাদেমি পুরস্কার
নৃত্য রত্ন পুরস্কার
নট সংগীত পুরস্কার

যুমলেম্বম গম্ভিনী দেবী, হলেন নট সংকীর্তনের একজন ভারতীয় গায়ক এবং মণিপুরি রাসের নর্তকী।[১] তিনি জওহরলাল নেহরু মণিপুর নৃত্য একাডেমি (জেএনএমডিএ) অনুষদের একজন সদস্য [২] এবং ১৯৮৮ সালের সংগীত নাটক অকাদেমি পুরস্কার প্রাপক।[৩] মণিপুরি নৃত্য ও সংগীতে তাঁর অবদানের জন্য ২০০৫ সালে ভারত সরকার তাঁকে চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান পদ্মশ্রী প্রদান করেছিল।[৪]

জীবনী[সম্পাদনা]

গম্ভিনী দেবী ১৯৪৫ সালের নববর্ষের দিনে উত্তর-পূর্ব ভারতের মণিপুর রাজ্যের ইয়াশকুল হিরুহানবা লেইকাইয়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর পিতার নাম ছিল ওয়াই. গোলাপ সিং এবং তিনি ছিলেন একজন সংকীর্তন গায়ক। গম্ভিনী দেবী ছিলেন তাঁর পিতামাতার আট সন্তানের মধ্যে চতুর্থ।[৫] তিনি মাত্র ৫ বছর বয়সে সংগীত এবং নৃত্য শিখতে শুরু করেছিলেন এবং পরে তিনি, জওহরলাল নেহরু মণিপুর নৃত্য একাডেমিতে (জেএনএমডিএ) ভর্তি হন। সেখান থেকে তিনি রাস নিয়ে স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা অর্জন করেছিলেন। এই শিক্ষাঙ্গনে, তিনি মণিপুর নৃত্যের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিলেন আমুদন শর্মা, মৈসনাম আমুবি সিং, খাইদেম লোকেশর সিং, ক্ষেত্রতম্বী দেবী, নাঙ্গানগম যোগেন্দ্র সিং এবং ইবোপিশাক শর্মার মতো উল্লেখযোগ্য গুরুদের কাছ থেকে। এখানেই তিনি সংগীতের (মনোহরশাই কীর্তন) প্রশিক্ষণ নেন নঙ্গমাইথেম তোম্বা সিং, খন্দা মইনা ডান, নাঙ্গাঙ্গম জোগেন্দ্র সিং এবং থোকচম গোপাল সিংয়ের মত গুরুর কাছে।[১] মাত্র ৭ বছর বয়সে, মঞ্চে তাঁর অভিষেক হয়। এর পর থেকে তিনি ভারতে এবং বিদেশে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশন করেছেন।[৫] তাঁর শিক্ষক জীবন শুরু হয়েছিল তাঁর প্রাক্তন শিক্ষাঙ্গন থেকে। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে চাকরি থেকে অবসর নেওয়া পর্যন্ত অনুষদের সদস্য হিসাবে কাজ করে গেছেন। শিক্ষাঙ্গনে বয়োজৈষ্ঠ পরিদর্শক গুরু (গুরুহান) হিসাবে কাজ করার সময়, তিনি অল ইন্ডিয়া রেডিওর ইম্ফল স্টেশনে শীর্ষস্থানীয় শিল্পী হিসাবে কাজ করেছিলেন। নথি অনুযায়ী, তিনি ছিলেন রাজ্য থেকে প্রথম শীর্ষস্থানীয় গ্রেড পাওয়া মহিলা শিল্পী।[১] তিনি একটি সঙ্গীত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, ওয়াইজিআর, নট সংকীর্তন শেইদম সাং প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।[৫] তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভারতীয় জাতীয় টেলিভিশন নেটওয়ার্ক দূরদর্শনের কেন্দ্রীয় নৃত্য অডিশন বোর্ডের বাছাই সমিতির (সিলেকশন কমিটি) প্রাক্তন সদস্য। তাঁর গান দুটি অ্যালবামে সংকলিত হয়েছে। তিনি মণিপুরি বাসক গান নিয়ে লেখা বাসক নামে একটি বই প্রকাশ করেছেন।[৬]

মণিপুরি সাহিত্য পরিষদ ১৯৭৯ সালে দেবীকে নৃত্য রত্ন পুরস্কার দিয়েছিল। তিনি ১৯৮০ সালে মণিপুর রাজ্য কলা অকাদেমির নট সংগীত পুরস্কার পেয়েছিলেন।[৫] ১৯৮৮ সালে নট সংকীর্তনের জন্য তিনি সংগীত নাটক অকাদেমি পুরস্কার পেয়েছিলেন।[৩] সেই বছরেই মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের অধীনে সংস্কৃতি বিভাগ কর্তৃক সিনিয়র ফেলোশিপের জন্য তাঁকে নির্বাচিত করা হয়েছিল।[১] ২০০৫ সালে ভারত সরকার তাঁকে চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কারে পদ্মশ্রীতে ভূষিত করে।[৪]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Donny Luwang Meisnam (২০১৫)। "Yumlembam Gambhini Devi - Padmashree Awardee - 2005"। E Pao। সংগ্রহের তারিখ ৪ ডিসেম্বর ২০১৫ 
  2. "JNMDA - Present Teaching Staff"। Sangeet Natak Akademi। ২০১৫। ৮ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৪ ডিসেম্বর ২০১৫ 
  3. "Sangeet Natak Akademi Award winners"। Sangeet Natak Akademi। ২০১৫। ৩০ মে ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৪ ডিসেম্বর ২০১৫ 
  4. "Padma Awards" (PDF)। Ministry of Home Affairs, Government of India। ২০১৫। ১৫ নভেম্বর ২০১৪ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০১৫ 
  5. "Yumlembam Gambhini Devi - India Online"। India Online। ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ৫ ডিসেম্বর ২০১৫ 
  6. Ẏuṃlembama Gambhinī Debī (২০১২)। Bāsaka। পৃষ্ঠা 135। ওসিএলসি 813301482 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

আরো পড়ুন[সম্পাদনা]

  • যুমলেম্বম গম্ভিনী দেবী (২০১২)। বাসক। পৃষ্ঠা ১৩৫। ওসিএলসি 813301482