যুব অধিকার
| অধিকার |
|---|
| তাত্ত্বিক প্রভেদ |
|
|
| মানবাধিকার |
|
|
| লাভবান অনুযায়ী অধিকার |
|
|
| অন্যান্য অধিকার |
|
|
যুব অধিকার বা তরুণ অধিকার বলতে তরুণ সম্প্রদায়ের সেইসব অধিকারকে বোঝায় যা সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সংরক্ষিত থাকে। শিশু অধিকারের বিকশিত সামর্থ্যের ধারণার সাথে তরুণ অধিকারের মিল থাকলেও উভয়ের মতাদর্শে পার্থক্য রয়েছে। শিশু অধিকার আন্দোলন প্রাপ্তবয়স্কদের কার্যকলাপ ও সিদ্ধান্তের মাধ্যমে শিশুদের যত্ন ও সুরক্ষিত করার উপর জোর দেয়। অন্যদিকে, যুব অধিকার আন্দোলনের উদ্দেশ্য তরুণ সম্প্রদায়কে প্রাপ্তবয়স্কদের নিজ সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার অর্জন করা কিংবা সেই অধিকার লাভের সর্বনিম্ন বয়সের অবসান ঘটানো, যেমন সাবালকত্বের বয়স বা ভোটদানের বয়স।[১]
বিধিবদ্ধ যুব অধিকার হচ্ছে সমাজে তরুণ সম্প্রদায়কে কীভাবে ব্যবহার করা হয় তার একটা দিক। এছাড়া কিছু সামাজিক প্রশ্নও এর অপর দিক, যেমন প্রাপ্তবয়স্করা তরুণ সম্প্রদায়কে কীভাবে দেখবে বা ব্যবহার করবে, কিংবার সমাজ তরুণ অংশগ্রহণে কতখানি উদার।[১]
সমস্যা
[সম্পাদনা]তরুণ অধিকার সমর্থকদের মুখ্য বিষয় হচ্ছে তারুণ্য বিষয়ে কিছু ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি, যাকে শিশু ও তরুণভীতির দরুন তরুণ-তরুণীর উপর নিপীড়নের মূল বলে ধরা হয়। সেই ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে রয়েছে তরুণ-তরুণী গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে না পারার অনুমান এবং তাদের যুক্তিহীন বা আবেগতাড়িত কার্যকলাপের হাত থেকে রক্ষা করা প্রয়োজনীয়তা।[২] সেই দৃষ্টিভঙ্গির ফলে সমাজে বিভিন্ন আইন চালু হয়েছে, যেমন ভোটদানের বয়স, শিশু শ্রম আইন, কর্মাধিকার, কার্ফু, মদ্যপানের বয়স, ধূমপানের বয়স, জুয়ার বয়স, সম্মতির বয়স, যানবাহন চালনার বয়স, সাবালকত্বের বয়স ইত্যাদি। যা বিধিনিষেধ সাবালকদের উপর আরোপ করা হয় না কিন্তু তরুণ-তরুণীর উপর করা হলে তাকে মর্যদা অপরাধ বলা যায়, আর তাকে একপ্রকার অন্যায্য বৈষম্য হিসাবে দেখা যায়।[৩]
আন্দোলন
[সম্পাদনা]যুব অধিকার আন্দোলন একপ্রকার জায়মান তৃণমূল-স্তরীয় আন্দোলন, যার উদ্দেশ্য এইজিজমের (বয়োবিদ্বেষ) বিরুদ্ধে লড়াই আর সাবালকত্বের বয়সের নিচে তরুণ-তরুণীকে নাগরিক অধিকার প্রদান। কিছু আন্দোলন-গোষ্ঠী যুব কণ্ঠস্বর, যুব ক্ষমতায়ন এবং সর্বশেষে যুব-সাবালক অংশীদারির মাধ্যমে আন্তঃপ্রজন্ম ন্যায়পরায়ণতা প্রচারের মাধ্যমে সমাজজুড়ে শিশু ও তরুণভীতির বিরুদ্ধে লড়াই করে।[৪] যুব অধিকার সমর্থকরা তাদের আন্দোলনকে শিশু অধিকার আন্দোলন থেকে পৃথক রাখে, কারণ তারা মনে করে যে শিশু অধিকার আন্দোলনে সমর্থিত পরিবর্তন প্রায়ই শিশু ও তরুণ-তরুণীর প্রতি নিয়ন্ত্রণপ্রবণ।[৫]
ভারত
[সম্পাদনা]গুরুগ্রাম-ভিত্তিক যুব সংগঠন ইয়ং ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন (ওয়াইআইএফ) ভারতে যুব অধিকার আন্দোলন পরিচালনা করে, আর এর একাধিক আঞ্চলিক শাখা রয়েছে। এর উদ্দেশ্য অনূর্ধ্ব-২৫ তরুণ-তরুণীকে প্রতিনিধিত্ব করা, যা দেশের জনসংখ্যার ৬০%।[৬] এছাড়া ওয়াইআইএফ প্রার্থিত্বের বয়স কমানোর পক্ষে প্রচার করে, যার উদ্দেশ্য সংসদ বা বিধানসভার সদস্যের প্রার্থী হওয়ার ন্যূনতম বয়স কমানো।[৭]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 Mandal, Saunak (মে ২০১৮)। "WHAT ARE YOUTH RIGHTS?"। NYRA (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২।
- ↑ Furlong, Andy (২০১৩)। Youth Studies। US: Routledge। পৃ. ২৫।
- ↑ "Status Offenders" (পিডিএফ)। ojjdp.ojp.gov। সেপ্টেম্বর ২০১৫।
- ↑ Fletcher, A. (2006) Washington Youth Voice Handbook ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০০৮-১০-০১ তারিখে Olympia, WA: CommonAction.
- ↑ Axon, K. (n.d.) The Anti-Child Bias of Children's Advocacy Groups Chicago, IL: Americans for a Society Free of Age Restrictions.
- ↑ "Home"। Young India Foundation (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুলাই ২০১৮।
- ↑ "Age of Candidacy"। ageofcandidacy.in (ইংরেজি ভাষায়)। ১৮ জুলাই ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুলাই ২০১৮।