যিশু

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(যীশূ থেকে পুনর্নির্দেশিত)
নাজারেথের যিশু
হযরত ঈসা (আঃ)
StJohnsAshfield StainedGlass GoodShepherd Portrait cropped.jpg
রঙিন কাঁচে অঙ্কিত যিশুর ছবি, বিংশ শতাব্দী, সেন্ট জন দ্য ব্যাপটিস্ট'স চার্চ, অ্যাশফিল্ড, অস্ট্রেলিয়া
জন্ম ৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দ[১]
বেথেলহাম, জুডিয়া, রোমান সাম্রাজ্য (প্রচলিত বিশ্বাস); নাজারেথ, গালিল (আধুনিক গবেষকদের মত)[২]
মৃত্যু ৩০ খ্রিস্টাব্দ (বয়স ৩৩-৩৫)[৩][৪]
গলগথা, জুডিয়া, রোমান সাম্রাজ্য (নূতন নিয়ম অনুসারে, মৃত্যুর তিন দিন পরে তিনি পুনরুজ্জীবিত হয়েছিলেন)
মৃত্যুর কারণ ক্রুশবিদ্ধকরণ
সমাধি প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, জেরুজালেমের একটি উদ্যান-সমাধিমন্দিরে সাময়িকভাবে সমাহিত করা হয়েছিল[৫]
বাসস্থান নাজারেথ, রোমান সাম্রাজ্য (অধুনা ইসরায়েল)
বংশোদ্ভূত ইহুদি
পেশা ভ্রমণকারী ধর্মপ্রচারক, আরোগ্যদাতা, ছুতোর
পিতা-মাতা

পিতা: (খ্রিস্টান বিশ্বাস) ঈশ্বর কুমারীগর্ভে;
(ইসলামি বিশ্বাস) কুমারীগর্ভে; মা: মেরি;

পালক পিতা: জোসেফ

নাজারেথের যিশু (৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দ - ৩০ খ্রিস্টাব্দ) বা যিশু খ্রিস্ট (সংক্ষেপে যিশু; ইসলামি মতে ঈসা) (হিব্রু: יֵשׁוּעַ য়েশুয়া) হলেন খ্রিস্টধর্মের মূল ব্যক্তিত্ব। খ্রিস্টানরা বিশ্বাস করেন যে, যিশুই হলেন পুরাতন নিয়মের ভবিষ্যদবাণীতে উল্লিখিত মসিহ এবং ঈশ্বরপুত্র। তাঁর 'নতুন অনুশাসন' ছিল পরস্পরের প্রতি প্রেম। খ্রিস্টান বিশ্বাস অনুসারে, নিজের মৃত্যু ও পুনরুত্থানের মাধ্যমে তিনি জগতের মুক্তি আনয়ন করেছিলেন।[৬][৭][৮][৯]

যিশুর জীবন ও শিক্ষা-সংক্রান্ত তথ্যের প্রধান উপাদান হল চারটি প্রামাণ্য সুসমাচার[১০][১১][১২] কোনো কোনো গবেষক বিশ্বাস করেন যে, টমাস লিখিত সুসমাচারইহুদিদের সুসমাচার নামক অপ্রামাণিক গ্রন্থগুলিও এই বিষয়ে প্রাসঙ্গিক[১৩] অধিকাংশ সমালোচকই মনে করেন যে, নূতন নিয়মের অপরাপর অংশগুলিও যিশুর জীবনের ঘটনাগুলি পুনর্বিন্যাসে বিশেষ সহায়ক।[১৪][১৫][১৬][১৭] কারণ একথা প্রমাণিত্য সত্য যে, যিশু ছিলেন একজন ইহুদি; তিনি ছিলেন শিক্ষক ও চিকিৎসক; দীক্ষাদাতা জন তাঁকে দীক্ষা দিয়েছিলেন; এবং রোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে রাজদ্রোহের অভিযোগে জুডিয়ার রোমান প্রিফেক্ট পন্টিয়াস পিলাতের আদেশক্রমে জেরুজালেমে তাঁকে ক্রুসবিদ্ধ করা হয়েছিল।[১৮][১৯][২০][২১][২২][২৩][২৪][২৫][২৬][২৭][২৮]

বাইবেল সমালোচক ও ঐতিহাসিকেরা নানাভাবে যিশুকে বর্ণনা করেছেন। তাঁদের দৃষ্টিতে যিশু কখনও একজন স্ব-বর্ণিত মসিহ, কখনও একজন রহস্যোদ্ঘাটক (অ্যাপোক্যালিপটিক) আন্দোলনের নেতা, কখনও পরিব্রাজক সাধু, কখনও আশ্চর্য ক্ষমতাসম্পন্ন চিকিৎসক, কখনও বা এক স্বাধীন ধর্মীয় আন্দোলনের প্রবক্তা। অধিকাংশ সমসাময়িক ঐতিহাসিক যিশু বিশেষজ্ঞই তাঁকে একটি ইহুদি পুনর্জাগরণ আন্দোলনের এক স্বাধীন ও আশ্চর্য ক্ষমতাবান প্রতিষ্ঠাতা এবং আসন্ন রহস্যোদ্ঘাটনের প্রবক্তা মনে করেন।[২৯] যদিও অন্যান্য বিশিষ্ট গবেষকেরা মনে করেন যিশুর 'স্বর্গরাজ্য' ধারণাটি ছিল ভবিষ্যৎ রহস্যোদ্ঘাটনের পরিবর্তে এক আমূল ব্যক্তিগত ও সামাজিক পরিবর্তনের বার্তা।[২৯]

খ্রিস্টানদের প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে, যিশুর জন্ম হয়েছিল কুমারীগর্ভে;[৮]:529-532 তিনি নানা অলৌকিক কীর্তি স্থাপন করেছিলেন;[৮]:358-359 তিনিই খ্রিস্টমণ্ডলী বা খ্রিস্টান চার্চ প্রতিষ্ঠা করেন এবং মৃত্যুর পর পুনরুত্থিত হয়ে স্বর্গারোহণ করেন।[৮]:616-620 খ্রিস্টানরা এও মনে করেন যে, স্বর্গ থেকে একদিন যিশু ফিরেও আসবেন[৮]:1091-1109 অধিকাংশ খ্রিস্টান পণ্ডিত আজকাল যিশুকে এক প্রতিক্ষিত মসিহ ও ঈশ্বর রূপে বর্ণনা করে থাকেন।[৩০] তাঁদের মতে, যিশু পুরাতন নিয়মের অনেক ভবিষ্যদবাণীকে পূর্ণ করেছেন।[৩১] অধিকাংশ খ্রিস্টানই যিশুকে দিব্য ত্রিমূর্তির পুত্ররূপী ঈশ্বরাবতার মনে করে পূজা করেন। অল্প কয়েকটি খ্রিস্টান সম্প্রদায় অবশ্য ত্রিমূর্তিবাদকে অশাস্ত্রীয় আখ্যা দিয়ে তাকে আংশিক বা সম্পূর্ণত প্রত্যাখ্যান করে থাকে।[৩২][৩৩][৩৪]

ইহুদি ধর্ম যিশুর প্রতীক্ষিত মসিহ হওয়ার তত্ত্বটিকে প্রত্যাখ্যান করে থাকে। উক্ত ধর্মের মতে, যিশু তানাখে উল্লিখিত নবিদের ভবিষ্যৎবাণীগুলিকে পূর্ণ করেন না।[৩৫] ইসলাম ধর্ম যিশুকে (আরবি: عيسى‎, ঈশা) আল্লাহ্‌-প্রেরিত এক গুরুত্বপূর্ণ রাসুল,[৩৬][৩৭] ইঞ্জিল-আনয়নকারী (শাস্ত্র-আনয়নকারী) এবং কুমারীগর্ভজাত মনে করে। কিন্তু তাঁর ক্রুসবিদ্ধকরণের ঘটনা ইসলামে স্বীকৃত নয়।[৩৮] ইসলাম ও বাহাই ধর্মে যিশুকে মসিহ মনে করা হয় বটে,[৩৯][৪০] কিন্তু তাঁকে ঈশ্বরাবতার মনে করা হয় না।

তাঁর জীবন ও শিক্ষাকে (নতুন বাইবেলে উল্লেখিত) ভিত্তি করে এই ধর্ম গড়ে তোলা হয়েছে। তাঁকে যিশু খ্রিস্ট বলে উল্লেখ করা হয়। খ্রিস্ট অর্থাৎ "অভিষিক্তজন" একটি গ্রিক-আগত উপাধি (Χριστός খ্রিস্তোস্‌), অনেকটা হিব্রু-আগত মসিহের অনুরূপ।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. Sanders supports c. 4 BC/BCE. Vermes supports c. 6/5 BC/BCE. Finegan supports c. 3/2 BC/BCE. Sanders refers to the general consensus, Vermes a common 'early' date, Finegan defends comprehensively the date according to early Christian traditions.
  2. "Our conclusion must be that Jesus came from Nazareth." Theissen, Gerd; and Merz, Annette. The historical Jesus: A comprehensive guide. Minneapolis: Fortress Press. 1998. Tr from German (1996 edition). p. 165. ISBN 978-0-8006-3123-9
  3. Sanders (1993).p.11, p 249.
  4. Vermes, Geza. The authentic gospel of Jesus. London, Penguin Books. 2004.
  5. Eusebius, (trans. Cameron, Averil; Hall, Stuart G.). Life of Constantine. Oxford: Clarendon Press; New York : Oxford University Press, 1999. ISBN 978-0-19-814917-0
  6. According to the concept of the Trinity, Jesus is God [as] the Son.
  7. by the reconciliation with God to humanity.
  8. ৮.০ ৮.১ ৮.২ ৮.৩ ৮.৪ Grudem, Wayne (১৯৯৪)। Systematic Theology: An Introduction to Biblical Doctrine। Grand Rapids: Zondervanআইএসবিএন 0-310-28670-0  :568-603
  9. Theologian and bishop Lesslie Newbigin says "the whole of Christian teaching would fall to the ground if it were the case that the life, death, and resurrection of Jesus were not events in real history but stories told to illustrate truths which are valid apart from these happenings." Newbigin, J. E. L. (1989). "The Gospel In a Pluralist Society". London: SPCK. p. 66.
  10. particularly the Synoptic Gospels
  11. "The Gospel of John is quite different from the other three gospels, and it is primarily in the latter that we must seek information about Jesus." Sanders (1993), p. 57.
  12. Funk, Robert W.; Seminar, Jesus (১৯৯৮)। "Introduction"। The acts of Jesus: the search for the authentic deeds of Jesus (San Francisco: HarperSanFrancisco)। পৃ: 1–40। আইএসবিএন 978-0-06-062978-6 
  13. Levine, Amy-Jill (১৯৯৮)। "Visions of Kingdoms: From Pompey to the First Jewish Revolt (63 BCE—70 CE)"। in Coogan। The Oxford History of the Biblical World (New York and Oxford: Oxford University Press)। পৃ: 370–371। আইএসবিএন 978-0-19-508707-9  |editorfirst= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য); |editoryear= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  14. Funk, Robert W.; Hoover, Roy W.; Jesus Seminar (১৯৯৩)। "Introduction"। The Five Gospels (New York: Maxwell Macmillan)। পৃ: 1–30। আইএসবিএন 978-0-02-541949-0 
  15. Harris, Stephen L. (১৯৮৫)। "Understanding the Bible : a reader's introduction"। Understanding the Bible (Palo Alto: Mayfield)। পৃ: 255–260। আইএসবিএন 978-0-87484-696-6 
  16. Crossan, John Dominic (১৯৯৮)। "The essential Jesus : original sayings and earliest images"। The essential Jesus (Edison, NJ: Castle Books)। আইএসবিএন 978-0-7858-0901-2 
  17. Examples of authors who argue the Jesus myth theory:
  18. Brown, Raymond E. (১৯৯৪)। The Death of the Messiah: from Gethsemane to the Grave: A Commentary on the Passion Narratives in the Four Gospels। New York: Doubleday, Anchor Bible Reference Library। পৃ: ৯৬৪। আইএসবিএন 978-0-385-19397-9 
  19. Carson, D. A.; et al.। । পৃ: 50–56।  |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  20. Cohen (১৯৮৭)। । পৃ: 78, 93, 105, 108।  |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  21. Crossan। The Historical Jesus। পৃ: xi—xiii। 
  22. Grant, Michael। । পৃ: 34–35, 78, 166, 200।  |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  23. Paula Fredriksen (১৯৯৯)। Jesus of Nazareth, King of the Jews (Alfred A. Knopf)। পৃ: 6–7, 105–110, 232–234, 266। 
  24. Meier, John P. (১৯৯৩)। । 1:68, 146, 199, 278, 386, 2:726। Sanders। পৃ: 12–13।  |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  25. Vermes, Géza (১৯৭৩)। "Jesus the Jew"। Philadelphia: Fortress Press। পৃ: ৩৭। 
  26. Maier, Paul L. (১৯৯১)। In the Fullness of Time (Kregel)। পৃ: 1, 99, 121, 171। 
  27. Wright, N. T. (১৯৯৮)। The Meaning of Jesus: Two Visions (HarperCollins)। পৃ: 32, 83, 100–102, 222। 
  28. Witherington, Ben III। । পৃ: 12–20।  |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  29. ২৯.০ ২৯.১ Theissen, Gerd and Annette Merz. The historical Jesus: a comprehensive guide. Fortress Press. 1998. translated from German (1996 edition). Chapter 1. Quest of the historical Jesus. p. 1-16
  30. For instance Brown, Raymond E. (১৯৭৯)। The Birth of the Messiah। Garden City, NY: Image Books। পৃ: ৯। আইএসবিএন 978-0-385-05405-8 
  31. Strobel, Lee (২০০৭)। The Case for the Real Jesus। পৃ: ২০০। আইএসবিএন 031024210X 
  32. Do You Believe in a Devil?। Birmingham, UK: CMPA। 
  33. The dogma of the Trinity at 'Catholic Encyclopedia', ed. Kevin Knight at New Advent website
  34. Friedmann, Robert (১৯৫৩)। "Antitrinitarianism"Global Anabaptist Mennonite Encyclopedia Online। সংগৃহীত জুন ৮, ২০০৮ 
  35. Norman, Asher (২০০৭)। Twenty-six reasons why Jews don't believe in Jesus। Feldheim Publishers। পৃ: 16–18, 89–96। আইএসবিএন 0977193705। সংগৃহীত ৫ জুলাই ২০১০ 
  36. Houlden, James L. (২০০৫)। Jesus: The Complete Guide। London: Continuum। আইএসবিএন 978-0-8264-8011-8 
  37. Prof. Dr. Şaban Ali Düzgün (২০০৪)। "Uncovering Islam: Questions and Answers about Islamic Beliefs and Teachings"। Ankara: The Presidency of Religious Affairs Publishing। 
  38. "Compendium of Muslim Texts" 
  39. "Comparison Chart: Baha'i, Islam, Christianity, Judaism"। ReligionFacts। সংগৃহীত ২০১০-১১-১৯ 
  40. "Baha'i Beliefs"। Contenderministries.org। সংগৃহীত ২০১০-১১-১৯ 

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

V. 1, The Roots of the Problem and the Person, 1991. ISBN 0-385-26425-9
V. 2, Mentor, Message, and Miracles, 1994. ISBN 0-385-46992-6
V. 3, Companions and Competitors, 2001. ISBN 0-385-46993-4

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]