যাদগিরি জেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
যাদগিরি জেলা
ಯಾದಗಿರಿ ಜಿಲ್ಲೆ
কর্ণাটকের জেলা
সন্নতির নিকট ভীমা নদীর দৃশ্য৷
সন্নতির নিকট ভীমা নদীর দৃশ্য৷
কর্ণাটকের মানচিত্রে যাদগিরি জেলার অবস্থান
কর্ণাটকের মানচিত্রে যাদগিরি জেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ১৬°৪৫′ উত্তর ৭৭°০৮′ পূর্ব / ১৬.৭৫° উত্তর ৭৭.১৩° পূর্ব / 16.75; 77.13স্থানাঙ্ক: ১৬°৪৫′ উত্তর ৭৭°০৮′ পূর্ব / ১৬.৭৫° উত্তর ৭৭.১৩° পূর্ব / 16.75; 77.13
রাষ্ট্র ভারত
রাজ্যকর্ণাটক
গঠনকাল১০ই এপ্রিল ২০১০
প্রতিষ্ঠা করেনকর্ণাটক সরকার
সদরযাদগিরি
তালুকশাহপুর, শোরাপুর, যাদগিরি, গুরুমঠকল, হুণসগি, বড়গেরা
সরকার
 • ডেপুটি কমিশনার এবং ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেটকূর্ম রাও এম
আয়তন
 • মোট৫,২৩৪ বর্গকিমি (২,০২১ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)
 • মোট১১,৭৪,২৭১
 • জনঘনত্ব২২০/বর্গকিমি (৫৮০/বর্গমাইল)
ভাষা
 • দাপ্তরিককন্নড়, ইংরাজী
সময় অঞ্চলভারতীয় প্রমাণ সময় (ইউটিসি+৫:৩০)
যানবাহন নিবন্ধনKA 33 (কেএ ৩৩)
ওয়েবসাইটyadgir.nic.in

যাদগিরি জেলা হলো দক্ষিণ ভারতে অবস্থিত কর্ণাটক রাজ্যের উত্তর দিকে অবস্থিত একটি জেলা৷ এটি কর্ণাটকের চারটি প্রশাসনিক বিভাগের গুলবার্গা বিভাগের অন্তর্গত৷ ১০ই এপ্রিল ২০১০ খ্রিস্টাব্দে কর্ণাটকের ৩০ তম জেলা রূপে গুলবার্গা জেলা থেকে এই নতুন জেলাটি গঠন করা হয়৷[১] জেলাটির প্রশাসনিক সদর যাদগিরি শহরে অবস্থিত৷ [২] যাদগিরি জেলার সর্বমোট ক্ষেত্রফল ৫১৬১ বর্গ কিলোমিটার৷ জেলাটির উত্তর দিকে রয়েছে গুলবার্গা জেলা, পূর্ব দিকে রয়েছে তেলেঙ্গানা রাজ্যের নারায়ণপেট জেলা, পশ্চিম দিকে রয়েছে বিজয়পুর জেলা এবং দক্ষিণ দিকে রয়েছে রায়চুর জেলা৷

জেলাটিতে ৬টি তালুক (যথা: শাহপুর, বড়গেরা, শোরাপুরা, হুণসগি, যাদগিরি এবং গুরুমঠকল),[২] ১৬ টি হোব্লি, ১১৭ টি গ্রাম পঞ্চায়েত, ৫১৯টি জনাধিষ্ঠিত ও জনশূন্য গ্রাম এবং চারটি নগর নিগম রয়েছে৷

ইতিহাস[সম্পাদনা]

যাদগিরি শহরের নিকট বালিচক্র থেকে প্রাপ্ত প্রাগৈতিহাসিক শিলালেখ

স্থানীয়ভাবে "যাদবগিরি" বা সরকারীভাবে পরিচিত যাদগিরি ছিলো প্রাচীন যাদব রাজ্যের রাজধানী৷ জেলাটি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিকভাবে পরিপুষ্ট৷ যাদব রাজারা যাদগিরি শহরের পত্তন করেন এবং ১৩৪৭ থেকে ১৪২৫ খ্রিস্টাব্দ অবধি নিজেদের আধিপত্য কায়েম করেন। যাদগিরির ইতিহাস যথেষ্ট পুরাতন, দক্ষিণ ভারতের প্রাচীন বিখ্যাত রাজবংশ গুলি যথা সাতবাহন, বাদামীর চালুক্য, রাষ্ট্রকূট, শাহী, আদিল শাহী, নিজামশাহী যাদগিরি জেলায় নিজেদের রাজত্বের ইতিহাস রেখেছেন৷

১৫০৪ খ্রিস্টাব্দের আশেপাশে গুলবার্গা সহ যাদগিরি সম্পূর্ণরূপে বিজাপুরের আদিল শাহী সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৬৫৭ খ্রিস্টাব্দে মীরজুমলা যাদগিরি আক্রমণ করলে এই অঞ্চলটি মুঘলদের হস্তগত হয়। পরবর্তীকালে হায়দ্রাবাদ শহর এই অঞ্চলে আসফ জাহি বা নিজাম সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয় যা ১৭২৪ থেকে ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দ অবধি স্থায়ী হয়েছিল। যাদগিরি, বিদার ও গুলবর্গা সহ উত্তর কর্নাটকের একাধিক অঞ্চল এই সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে নিজাম সরকার জেলাবন্দি গঠন করলে শোরাপুরকে জেলাসদর ঘোষণা করা হয়, এই সময়ে যাদগিরি এবং গুলবার্গা জেলা একত্রে মোট নয়টি তালুক ছিল। ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দে সাতটি তালুক নিয়ে গুলবার্গা আলাদা জেলা গঠন করা হয়। ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে রাজ্য পুনর্গঠন আইন অনুসারে গুলবর্গা কর্ণাটক রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং বিভাগীয় সদরে পরিণত হয়।

বহমনী সাম্রাজ্যের শাসকরা দর্শনীয় স্থান, মসজিদ, গম্বুজ, বাজার, অট্টালিকা প্রভৃতি নির্মাণ করে গুলবার্গা শহরটি স্থাপন করেছিলেন। শহরটি গম্বুজের শহর নামে পরিচিত।

যাদগিরি জেলাটি কর্ণাটকের ১৬তম বৃহৎ জেলা৷ বিস্তৃত উর্বর কৃষ্ণমৃত্তিকার উপস্থিতি দানাশস্য এবং মিলেট তথা জোয়ার, বাজরা এবং রাগি চাষের উপযুক্ত। এই কারণে যাদগিরি জেলাটিকে কর্ণাটক রাজ্যের "ডালের পাত্র" বলা হয়। জেলাটি সিমেন্ট শিল্পের জন্য উল্লেখযোগ্য এছাড়াও এখানে মালখেড়া প্রজাতির পাথর পাওয়া যায়।

কৃষ্ণা নদী এবং ভীমা নদীসহ উহাদের একাধিক উপনদী এই অঞ্চলের ওপর দিয়ে প্রবাহিত। কৃষ্ণা নদীর উচ্চ অববাহিকাতে অবস্থিত শাহপুর তালুকের বেণ্ডেবেম্বলিতে "কোর গ্রীন সুগার ফ্যাক্টরি" নামে একটি কারখানা চালু হয়েছে। যাদগিরি সিমেন্ট, টেক্সটাইল, চর্ম শিল্প এবং বিভিন্ন রাসায়নিক শিল্পের জন্য উল্লেখযোগ্য এখানে একাধিক শিল্প সেক্টর গঠিত হয়েছে। জেলাটির ভীমরায়নগুড়িতে একটি কৃষি মহাবিদ্যালয় রয়েছে।

পূর্বতন গুলবর্গা জেলাতে ২০০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৬ শে সেপ্টেম্বর যাদগিরিকে আলাদা জেলা ঘোষণা করার জন্য একটি ক্যাবিনেট আলোচনা সভা গঠন করা হয়। ২০১০ খ্রিস্টাব্দে মাননীয় মন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী যাদগিরিকে একটি নতুন জেলা ঘোষণা করা হয়। চূড়ান্ত ঘোষণার পূর্বে অন্তর্বর্তী সময়ে কর্ণাটক সরকার যাদগিরিতে একজন বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন আই এ এস অফিসার নিয়োগ করেন, যদিও ‌২০০৯ খ্রিস্টাব্দের ৩০ শে ডিসেম্বর কর্ণাটক সরকারের তরফ থেকে গেজেট বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল।[৩]

জনতত্ত্ব[সম্পাদনা]

ঐতিহাসিক জনসংখ্যা
বছরজন.ব.প্র. ±%
১৯০১২,৯৬,৩০২—    
১৯১১৩,২৩,৬১৭+০.৮৯%
১৯২১২,৯৭,৯১৭−০.৮২%
১৯৩১৩,৩২,৩৫৪+১.১%
১৯৪১৩,৫৫,৫৭৭+০.৬৮%
১৯৫১৪,০৭,২১৪+১.৩৭%
১৯৬১৪,৩৫,৮৩৮+০.৬৮%
১৯৭১৫,৩১,২১৩+২%
১৯৮১৬,৩৮,৩৮৫+১.৮৫%
১৯৯১৭,৯৬,০৩১+২.২৩%
২০০১৯,৫৬,১৮০+১.৮৫%
২০১১১১,৭৪,২৭১+২.০৮%
উৎস:[৪]

২০১১ খ্রিস্টাব্দে ২০১১ ভারতের জনগণনা ভারতের জনগণনা অনুসারে যাদগিরি জেলার মোট জনসংখ্যা ছিল ১,১৭৪,২৭১ জন,[৫][৬] যা পূর্ব তিমুর দ্বীপরাষ্ট্রের জনসংখ্যা বা [৭] আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ড-এর জনসংখ্যার সমতুল্য। [৮] ২০১১ খ্রিস্টাব্দে ভারতের মোট ৬৪০ টি জেলার মধ্যে জনসংখ্যার বিচারে এই জেলাটি স্থান ৪০৪ তম। জেলাটির জনঘনত্ব ২২৪ জন প্রতি বর্গকিলোমিটার (৫৮০ জন/বর্গমাইল)। ২০০১ থেকে ২০১১ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে জেলাটির জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ২২.৬৭ শতাংশ। প্রতি হাজার পুরুষে এখানে নারীর সংখ্যা ৯৮৯ জন। জেলাটির মোট সাক্ষরতার হার ৫১.৮৩ শতাংশ যেখানে পুরুষ সাক্ষরতার হার ৬২.২৫ শতাংশ এবং নারী সাক্ষরতার হার ৪১.৩৮ শতাংশ।[৫]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Yadgir becomes State's 30th district"The Hindu। ৩০ ডিসেম্বর ২০০৯। ৭ নভেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  2. Sivanandan, T. V. (৩০ ডিসেম্বর ২০০৯)। "Yadgir district to become reality today"The Hindu। ২৩ আগস্ট ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  3. "Yadgir History"Official Website of Yadgir District। Government of Karnataka। ১৬ জুলাই ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ আগস্ট ২০২০ 
  4. Decadal Variation In Population Since 1901
  5. "Demography | District Yadgiri, Government of Karnataka | India" (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৩-১৬ 
  6. https://www.census2011.co.in/census/state/districtlist/karnataka.html
  7. US Directorate of Intelligence। "Country Comparison:Population"। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-১০-০১Timor-Leste, 1,177,834, July 2011 est. 
  8. "2010 Resident Population Data"। United States Census Bureau। ১ জানুয়ারি ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। Rhode Island: 1,052,567