প্রথম যশোবর্মণ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(যশোবর্মণ ১ (প্রথম যশোবর্মণ) থেকে পুনর্নির্দেশিত)
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
প্রথম যশোবর্মণ
দাম্পত্যসঙ্গীচতুর্থ জয়বর্মণ-এর ভগিনী
সন্তানাদিদ্বিতীয় ঈশানবর্মণ
প্রথম হর্ষবর্মণ
পিতাপ্রথম ইন্দ্রবর্মণ
মাতামহারাণী ইন্দ্রাদেবী

প্রথম যশোবর্মণ ছিলেন (খ্‌মের: ព្រះបាទយសោវរ្ម័នទី១) একজন আঙ্কোর রাজা, যিনি ৮৮৯-৯১০ খ্রীষ্টাব্দে রাজত্ব করেছেন। তাঁকে বলা হত "লেপার রাজা" (কুষ্ঠরোগী রাজা)[১]

প্রথম জীবন[সম্পাদনা]

যশোবর্মণ রাজা ইন্দ্রবর্মণ ১ এবং তাঁর স্ত্রী ইন্দ্রাদেবীর পুত্র ছিলেন।[২][৩]

তাঁর শিক্ষক ছিলেন দেবরাজ ধর্মাচরণের পুরোহিত বংশের ব্রাহ্মণ বামশিব। বামশিবের গুরু, শিবসোম, হিন্দু দার্শনিক আদি শঙ্করের সাথে যুক্ত ছিলেন।[৪]


ইন্দ্রবর্মণের মৃত্যুর পর, তাঁর উত্তরাধিকারী দুই পুত্র যশোবর্মণ ও তার ভাইয়ের দ্বারা উত্তরাধিকার যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এটা বিশ্বাস করা হয় যে যুদ্ধটি টোনলে সাপের ভূমি ও সমুদ্রের উপর সংঘটিত হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত যশোবর্মণ জয়লাভ করেন।

এল পি ব্রিগস কর্তৃক উদ্ধৃত শিলালিপি অনুসারে তাঁর পিতা ইন্দ্রবর্মণ সিংহাসনের উপরে তাঁর দাবি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এবং এই কারণে, তিনি ইন্দ্রবর্মণ বা দ্বিতীয় জয়বর্মণের সাথে নিজেকে যুক্ত না করে, একটি প্রশস্ত পারিবারিক বৃক্ষ গড়ে তোলেন ফুনান ও চেনলার প্রাচীন রাজাদের সাথে নিজের মায়ের মাধ্যমে নিজেকে যুক্ত করার মাধ্যমে।"[৫]

একটি প্রাচীন ত্রাণ মন্দির থেকে যশোবর্মণের রাজত্বকালীন একটি চিত্র।

প্রথম যশোবর্মণ এর সাফল্য[সম্পাদনা]

তাঁর রাজত্বের প্রথম বছরে, তিনি তাঁর সমগ্র রাজ্যে প্রায় ১০০টি মঠ (আশ্রম) নির্মাণ করেছিলেন।[৪]:111–112 প্রত্যেক আশ্রম তার ভ্রমণের সময় বিশ্রামস্থান হিসেবে ব্যবহার করা হত। ৮৯৩ সালে তিনি তাঁর পিতার দ্বারা শুরু হওয়া ইন্দ্রতাটক বারায় (জলাধার) নির্মাণ শুরু করেন। এই লেকের (এখন শুকনো) মাঝখানে, তিনি লোলেই মন্দির নির্মাণ করেন।[৬]

যশোবর্মণ ছিলেন মহান আঙ্কোর রাজাদের একজন। তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব হরিহরালয় থেকে যশোধরপুর পর্যন্ত রাজধানী সরানো, যেখানে পরবর্তী ৬০০ বছর ধরে রাজধানী ছিল।[৪]:103 এই নতুন রাজধানীতেই সকল মহান এবং বিখ্যাত ধর্মীয় স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয়েছিল, উদাহরণস্বরূপ: আংকর ওয়ত। এই স্থান পরিবর্তনের জন্য অনেক কারণ ছিল। পুরাতন রাজধানী পূর্বের রাজাদের নির্মিত মন্দিরে ভর্তি ছিল। সুতরাং, সিদ্ধান্তটি অনেকাংশেই ধর্মীয় ছিল: একজন নতুন রাজা উন্নতির জন্য, তাঁকে তাঁর নিজের মন্দির নির্মাণ করতে হবে এবং যখন তিনি মারা যান এখানে তার সমাধি হবে। দ্বিতীয়ত, নতুন রাজধানী সিএম রিপ নদীর কাছে ছিল এবং কুলেন পাহাড় এবং টোনলে সাপের ঠিক মাঝামাঝি ছিল। নদীর কাছাকাছি রাজধানী সরানোর মাধ্যমে রাজা উভয় নদী দ্বারা সরবরাহিত অনেক সুবিধা পেতে পারতো।

যশোধরপুরটি বেকহেং নামক একটি নিচু পাহাড়ে নির্মিত হয়েছিল এবং একটি রাস্তা দ্বারা হরিহরালয়ের সাথে সংযুক্ত হয়েছিল। তিনি তার নতুন রাজধানীতে একটি বিশাল জলাধার খনন শুরু করেছিলেন। এই নতুন কৃত্রিম হ্রদ, যশোধরটাতক বা পূর্ব বারে ছিল দৈর্ঘ্যে সাড়ে সাত কিলোমিটার এবং প্রস্থে ১.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ।[৭]:64–65

লোলেই মন্দির, ফঁম বাখেং এবং যশোধরতাটক[৮] ছিল এই শাসকের নির্মিত বিবিধ সৌধাবলী,[৯]:360–362 যেগুলি সব কম্বোডিয়ার ন্যাশনাল ট্রেজার, পরে নির্মিত আংকর ভাট-এর কাছাকাছি ছিল। যশোবর্মণের শাসন আমলে খেমার সাম্রাজ্যের আঙ্গকর রাজধানীতে নির্মিত তিন পাহাড়ের মন্দিরগুলির মধ্যে ফঁম বাখেং, ফঁম ক্রোম এবং ফঁম বোক ছিল।[৪]:113

পূর্বসূরী
প্রথম ইন্দ্রবর্মণ
আংকরের সম্রাট
৮৮৯–৯১০
উত্তরসূরী
প্রথম হর্ষবর্মণ

মরণোত্তর নাম[সম্পাদনা]

৯১০ সালে, যশোবর্মন কুষ্ঠ রোগাক্রান্ত হয়ে মারা যান এবং তার মৃত্যুপরবর্তী নামকরণ হয় পরমশিবলোক।[১০]

পরিবার[সম্পাদনা]

যশোবর্মনের স্ত্রী ছিলেন চতুর্থ জয়বর্মণের ভগিনী। তিনি যশোবর্মনের দুই পুত্র সন্তান যথা দ্বিতীয় ঈশানবর্মণ এবং প্রথম হর্ষবর্মণ-এর মা ছিলেন।[১১]

নোট[সম্পাদনা]

  1. Vietnam, Cambodia, Laos & the Greater Mekong by Nick Ray, Tim Bewer, Andrew Burke, Thomas Huhti, Siradeth Seng. Page 212. Footscray; Oakland; London: Lonely Planet Publications, 2007.
  2. Some Aspects of Asian History and Culture by Upendra Thakur. Page 37.
  3. Saveros, Pou (২০০২)। Nouvelles inscriptions du Cambodge (French ভাষায়)। Tome II et III। Paris: EFEOআইএসবিএন 2-85539-617-4 
  4. Coedès, George (১৯৬৮)। The Indianized States of Southeast Asia। trans.Susan Brown Cowing। University of Hawaii Press। আইএসবিএন 978-0-8248-0368-1 
  5. Briggs, The Ancient Khmer Empire; page 105.
  6. Jessup, p.77; Freeman and Jacques, pp.202 ff.
  7. Higham, C., 2001, The Civilization of Angkor, London: Weidenfeld & Nicolson,
  8. Goloubev, Victor. Nouvelles récherches autour de Phnom Bakhen. Bulletin de l'EFEO (Paris), 34 (1934): 576-600.
  9. Higham, C., 2014, Early Mainland Southeast Asia, Bangkok: River Books Co., Ltd.,
  10. The Rough Guide to Cambodia by Beverley Palmer and Rough Guides.
  11. Briggs, Lawrence Palmer. The Ancient Khmer Empire. Transactions of the American Philosophical Society. 1951.