যমুনাবাই বাইকর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
যমুনাবাই ওয়াইকর
পেশালোক শিল্পী
পুরস্কারপদ্মশ্রী
সংগীত নাটক অকাদেমি পুরস্কার
মহারাষ্ট্র রাজ্য পুরস্কার
অহিল্যাবাই হলকার পুরস্কার
নীলু ফুলে সম্মান
এসএনএ ঠাকুর রত্ন সম্মান
আদিত্য বিক্রম বিড়লা কালশিখর পুরস্কার
রসিকমণি শ্রীকৃষ্ণ পণ্ডিত উত্তুঙ গুণগৌরব পুরস্কার
ওয়েবসাইটOfficial web site

যমুনাবাই ওয়াইকর (বিবাহ পূর্ব যমুনাবাই বিক্রম জলি),[১] একজন ভারতীয় লোক শিল্পী ছিলেন।[২] মারাঠি লোক ঐতিহ্যের লাবণী এবং তামাশায় তাঁর দক্ষতার জন্য তিনি পরিচিত। এগুলি হলো লোকশিল্পের ধরন, যেগুলি নাচে ও গানে এই ঘরানার শিল্পকে প্রকাশ করে। [৩][৪] তিনি সংগীত নাটক আকাদেমি পুরস্কার প্রাপক,[৫] তাঁকে ২০১২ সালে ভারত সরকার কর্তৃক চতুর্থ সর্বোচ্চ ভারতীয় নাগরিক পুরস্কার পদ্মশ্রী প্রদান করা হয়েছিল। [৬]

জীবনী[সম্পাদনা]

শুরুতে, আমরা ঐতিহ্যবাহী লাবণীগুলি গেয়েছি, কিন্তু যখন আমরা বুঝতে পারলাম যে, লোকেরা চলচ্চিত্রের গান শুনতে পছন্দ করে, তখন আমরা সেগুলি আমাদের নাট্যসম্ভারেও যোগ করেছিলাম - যমুনাবাই, তাঁর মুম্বাই রাস্তার দিনগুলির স্মৃতিচারণে। [৭]

যমুনাবাই কোলহাটি সম্প্রদায়ের পরিবারে মহারাষ্ট্রের সাতারা জেলার মহাবালেশ্বরের নিকটবর্তী নুনেকালমে গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। [৮][৯] তাঁর বাবা অত্যধিক মদ্যপান করতেন বলে জানা যায়। সেজন্য তাঁর মা রাস্তায় গান গেয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। যমুনাবাই, পাঁচ সন্তানের মধ্যে বড় ছিলেন, তিনি তাঁর মায়ের সাথে নাচতেন। [৭] ১০ বছর বয়সে, তিনি একটি লোকশিল্প দলে যোগ দেন, যেখানে তিনি লাবণীর প্রথম পাঠ পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে, যখন তাঁর বাবা তাঁদের সাথে যোগ দেন, তখন পরিবারটি একটি 'তামাশা' নৃত্যের দল গঠন করে, যেখানে তাঁর বাবা ঢোলক বাজাতেন এবং যমুনাবাই ও তাঁর সম্পর্কিত ভাই সেখানে নাচতেন।

আরও ভাল উপার্জন আর উন্নত জীবনের সন্ধানে, পরিবারটি মুম্বাইতে চলে এসেছিল এবং যমুনাবাই মুম্বইয়ের রাস্তায় রাস্তায় লাবণী এবং চলচ্চিত্রের গানগুলি উপস্থাপন শুরু করেন। তাঁদের রাস্তার প্রদর্শনী ভালোই চলছিল। আর এতে উৎসাহিত হয়ে তিনি একটি মঞ্চ প্রদর্শনী শুরু করেছিলেন। আর এভাবেই তাঁর মঞ্চজীবনের অভিষেক হয়েছিল। কিন্তু এই কাজ ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত করা গিয়েছিল, এরপর চলচ্চিত্র আরও সহজলভ্য হয়ে গিয়েছিল এবং ফলস্বরূপ তাঁদের আয়ও কমে গিয়েছিল। [৭] যদিও যমুনাবাই তাঁর ভাগিনেয়ীদের একত্রিত করে আবারও একটি নতুন দল গঠন করেছিলেন যাতে তাঁরা আবারো ঘুরে দাঁড়াতে পারেন কিন্তু সেটাও সফলতার মুখ দেখেনি। এই সময়কালে, তিনি কোলহাটি উপজাতির, যে উপজাতি থেকে উঠে এসেছিলেন, তাদের সদস্যদের জন্য একটি স্বল্প মূল্যের আবাসন প্রকল্প সম্পন্ন করেছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্র মারফত জানা যায়। [৭]

১৯৭৫ সালে যমুনাবাই প্রখ্যাত কত্থক গুরু, বিরজু মহারাজের সাথে একত্রে দিল্লির একটি মঞ্চে নৃত্য পরিবেশন করেছিলেন, বিরজু মহারাজ যমুনাবাই ওয়াইকরের নৃত্যাভিনয়ের ব্যাপক প্রশংসা করেছিলেন। এই নৃত্য প্রদর্শন তাঁর পেশাকে আবারও পুনরুজ্জীবিত করতে সহায়তা করেছিল এবং এরপর থেকে তাঁর কলকাতা, ভোপাল, রায়পুর এবং দেশের আরো অন্যান্য জায়গায়, নৃত্য প্রদর্শন করার সুযোগ হয়েছিল। [৭]

পুরস্কার এবং স্বীকৃতি[সম্পাদনা]

যমুনাবাই ওয়াইকর একাধিক পুরস্কার এবং সম্মানের প্রাপক

  • ২০১২ সালে ভারত সরকার কর্তৃক ভারতী নাগরিকদের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার পদ্মশ্রী প্রদান [১][৬][৭]
  • ১৯৯০ সালে মহারাষ্ট্র রাজ্য পুরস্কার,
  • ১৯৯৫ সালে সংগীত নাটক আকাদেমি যমুনাবাইকে তাদের বার্ষিক পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করে
  • ১৯৯৭ সালে সহকার মহর্ষি শঙ্কররাও মোহিত-পাতিল লাবণী কলাবন্ত পুরস্কার। [১০]
  • ২০০০ সালে অহিল্যাবাই হলকার পুরস্কার মহারাষ্ট্র সরকার থেকে
  • ২০১০ সালে ফুলের ৭৯-তম জন্মদিনে নীলু ফুলে সম্মান[১১][১২]
  • ২০১২ সালে ঠাকুর রত্ন সম্মানের আজীবন সম্মাননা পুরস্কার। [১৩][১৪]
  • ২০১২ সালে আদিত্য বিক্রম বিড়লা প্রতিষ্ঠিত সঙ্গীত কলা কেন্দ্র থেকে আদিত্য বিক্রম বিড়লা কলাশিখর পুরস্কার [১৫]
  • ২০১৪ সালে উত্তুঙ বর্ষপূর্তি উৎসবে রসিকমণি শ্রীকৃষ্ণ পণ্ডিত উত্তুঙ গুণগৌরব পুরস্কার[১৬]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Sangit Kala Kendra"। Sangit Kala Kendra। ২০১৪। ৫ এপ্রিল ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০১৪ 
  2. "IBN Live"। IBN Live। ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০১৪ 
  3. "Planet Radio City"। Planet Radio City। ২০১৪। ১৭ মার্চ ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০১৪ 
  4. "Flickr"। Flickr। ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০১৪ 
  5. "SNA"। Sangeet Natak Akademi। ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ৩০ নভেম্বর ২০১৪ 
  6. "Padma Shri" (PDF)। Padma Shri। ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ১১ নভেম্বর ২০১৪ 
  7. "TOI"Times of India। ১১ ফেব্রুয়ারি ২০০২। সংগ্রহের তারিখ ২ ডিসেম্বর ২০১৪ 
  8. "बैठकीच्या लावणीतील घरंदाज भावकामाचा गौरव"marathibhaskar। ২০১২-০৩-০৩। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-১৯ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  9. "बैठकीची लावणी शिकवायचं राहून गेलं! -Maharashtra Times"Maharashtra Times। ২০১১-০৯-১৮। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-১৯ 
  10. "वैशाली जाधव-परभणीकर यांचा लावणी कलावंत पुरस्काराने सन्मान"Eenadu English Portal। ২০১৬-১২-২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-১৯ 
  11. "Web India"। Web India। ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০১৪ 
  12. "DNA"। DNA। ২০১০। ৩ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০১৪ 
  13. "SNA Tagore Samman" (PDF)। Sangeet Natak Akademi। ২৫ এপ্রিল ২০১২। ৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০১৪ 
  14. "Manipur News"। Manipur News। ১৭ ডিসেম্বর ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০১৪ 
  15. "Loksatta"। Loksatta। ১৭ নভেম্বর ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০১৪ 
  16. "Uttung Award"। Uttung Sanskrutik Pariwar। ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০১৪ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]