বিষয়বস্তুতে চলুন

যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
আদালতে ব্যবহৃত সভাপতির হাতুড়ি

 

যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া বলতে রাষ্ট্রক্ষমতা ও আইনি নিয়ম-নীতির এমন বিধিসম্মত ও ন্যায়সঙ্গত প্রয়োগকে বোঝায়, যাতে কোনও আইনি মামলায় কিংবা রাষ্ট্রের কোনও সিদ্ধান্ত বা কার্যক্রমে একজন ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা ও সম্পত্তির আইনসম্মত অধিকারসমূহ সুরক্ষিত হয়। বিশেষত যখন রাষ্ট্র কোনো ব্যক্তিকে তার জীবন, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বা সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে উদ্যত হয়, তখন এই নীতির প্রয়োগ অপরিহার্য হয়ে ওঠে। তাই এটি রাষ্ট্রক্ষমতা ও ব্যক্তিস্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে। যখন কোনও সরকার আইনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কোনও ব্যক্তির ক্ষতিসাধন করে, তখন এটিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার লঙ্ঘন হিসাবে গণ্য করা হয়, যা আইনের শাসনের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। পূর্ববিজ্ঞপ্তি, আত্মপক্ষ সমর্থনের ন্যায্য সুযোগ এবং নিরপেক্ষ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সিদ্ধান্তগ্রহণ যথাযথ প্রক্রিয়ার কিছু মৌলিক উপাদান।

আইনের যথাযথ প্রক্রিয়ার একটি ব্যাখ্যায় প্রায়শই বলা হয় যে এটি কেবল আইনি কার্যধারাই নয়, বরং আইনের সারবস্তুকেও সীমায়িত করতে পারে (সারবস্তুগত যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া দেখুন), ফলত আদালতের পর্যালোচনায় আইনসভা কর্তৃক বিধিসম্মতভাবে প্রণীত কোনও আইনও যদি মৌলিক ন্যায্যতা, ন্যায়বিচার ও স্বাধীনতা লঙ্ঘন করে বলে প্রতিভাত হয়, তাহলে আদালত সেটিকে অসিদ্ধ (অসাংবিধানিক বা অকার্যকর) ঘোষণা করতে পারে। তবে এই ব্যাখ্যাটি বিতর্কিত। অন্যান্য বিভিন্ন এখতিয়ারে ব্যবহৃত প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারপদ্ধতিগত ন্যায়বিচারের ধারণার অনুরূপে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়াকেও প্রায়শই এমন একটি সাংবিধানিক নীতি হিসেবে অনুধাবন করা হয়, যা সরকারকে আইনসম্মত ও ন্যায়সঙ্গতভাবে আচরণ করতে এবং ব্যক্তির অধিকারসমূহকে স্বেচ্ছাচারী বা অপব্যবহারমূলকভাবে হরণ করা থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করে। সমসাময়িক ইংরেজ আইনে এই পরিভাষাটি ব্যবহার করা না হলেও সেখানে এর সাথে সদৃশ দুইটি ধারণা আছে। একটি হল প্রাকৃতিক ন্যায়বিচার, যা মূলত প্রশাসনিক সংস্থা, শ্রমিকসংঘের মতো বেসরকারি সংস্থা ও অন্যান্য আধা-বিচারিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অপরটি হল ব্রিটিশ সাংবিধানিক তত্ত্বে এ. ভি. ডাইসি ও অন্যান্যদের দ্বারা বর্ণিত আইনের শাসন নামক ধারণা।[]:৬৯ তবে ধারণা দুইটির কোনোটিই যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া বিষয়ক মার্কিন তত্ত্বের সাথে পুরোপুরি সঙ্গতিপূর্ণ নয়। মার্কিন তত্ত্বটিতে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধীনে এমন অনেক অলিখিত সাংবিধানিক অধিকার বিদ্যমান, বর্তমানে ইংল্যান্ডের আইনে যেগুলির সমতুল্য অধিকারগুলি একইভাবে স্বীকৃত নয়।

ইংল্যান্ডে ম্যাগনা কার্টা-র ("মহাসনদ") ৩৯নং দফায় যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার ধারণাটির ঐতিহাসিক সূত্রপাত ঘটে। তবে সর্বপ্রথম ১৩৫৪ খ্রিস্টাব্দে এসে উক্ত ৩৯নং দফাটিকে সংবিধিবদ্ধ আইনে "যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া" শব্দবন্ধটি ব্যবহার করে পুনরুল্লেখ করে নিম্নোক্তভাবে ব্যাখ্যা করা হয়: "কোনও ব্যক্তিকে—তা সে যে (আইনি) মর্যাদা বা (আর্থ-সামাজিক) অবস্থারই হোক না কেন—জমি বা বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা যাবে না, গ্রেপ্তার করা যাবে না, তার উত্তরাধিকার হরণ করা যাবে না, কিংবা তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যাবে না—যতক্ষণ না তাকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় জবাবদিহির জন্য উপস্থিত করা হয়।"[] সময়ের সাথে ইংরেজ ও মার্কিন আইন ভিন্ন সাংবিধানিক গতিপথে বিকাশ লাভ করে। ইংল্যান্ডে "যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া" শব্দবন্ধটি প্রচলন হারালেও তার নীতিগত উপাদানগুলি প্রাকৃতিক ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের ধারণার মাধ্যমে বিকাশ লাভ করে; অপরদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এটি সংবিধানে অঙ্গীভূত হয়ে একটি স্বতন্ত্র সাংবিধানিক তত্ত্বে পরিণত হয়।

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Geoffrey Marshall (১৯৭৭)। "Due Process in England"Due Process: Nomos XVIII। New York University Press। পৃ. ৬৯–৯২। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮১৪৭-৬৭৯৪-৮
  2. "CRS Annotated Constitution: Due Process, History and Scope"। Cornell University Law School। সংগ্রহের তারিখ ৮ অক্টোবর ২০২০

আরও পড়ুন

[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]