ম্যানচেস্টার, নিউ হ্যাম্পশায়ার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

ম্যানচেস্টার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলের একটি শহর। এটি উত্তর নিউ ইংল্যান্ডের (ভার্মন্ট, মেইন, ও নিউ হ্যাম্পশায়ার) সবচেয়ে জনবহুল শহর। ২০১০ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী এর জনসংখ্যা ছিল ১,০৯,৫৬৫। [১] ২০১৯ এর হিসাব অনুযায়ী ম্যানচেস্টারের জনসংখ্যা ১,১২,৬৭৩। [২]

ম্যানচেস্টার ও নসুয়া নিউ হ্যাম্পশায়ারের হিলসবোরো কাউন্টির সদর দপ্তর। ম্যানচেস্টার যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্ব মহাপৌরপুঞ্জের উত্তর প্রান্তে ও মেরিম্যাক নদীর তীরে অবস্থিত। শিল্পপতি স্যামুয়েল ব্লোজেট যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার শহরের মত একটি শিল্পোন্নত এলাকা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। এ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি শহরটির নাম দেন ম্যানচেস্টার।[৩]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

বর্তমান ম্যানচেস্টার শহরটি যে জায়গায় গড়ে ওঠেছে,তাকে আদিবাসী আমেরিকানরা "নামাওসকিয়াগ" অভিহিত করত। নামাওসকিয়াগ কথাটির অর্থ মাছ ধরার উৎকৃষ্ট স্থান। [৪] ১৭২২ সালে জন গোফে কোহাস ব্রুক নদীর তীরে বসতি স্থাপন করেন ও একটি বাঁধ এবং করাতকল নির্মাণ করেন। একে তখন ওল্ড হ্যারিস টাউন বলা হতো। ১৭০৩ সালে রানি অ্যানের যুদ্ধে যারা ক্যাপ্টেন উইলিয়াম টিংয়ের অধীনে সৈনিক হিসেবে কাজ করেছিলেন, ওল্ড হ্যারিস টাউনের ভূমি তাদের দান করা হয়। তখন এর নাম হয় "টিংসটাউন"।[৫] কিন্তু ১৭৪১ সালে নিউ হ্যাম্পশায়ার ম্যাসাচুসেটস থেকে আলাদা হয়ে গেলে উক্ত ভূমিদানপত্র খারিজ করা হয় এবং পরিবর্তে সৈন্যদের মেইন অঙ্গরাজ্যের উইলটন শহরে ভূমি নতুন করে দান করা হয়। ১৭৫১ সালে গভর্নর বেনিং ওয়েন্টওয়ার্থ এর নামকরণ করেন "ডেরিফিল্ড।" ডেরিফিল্ড নামটি আজও শহরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামের মধ্যে বেঁচে আছে। [৫]

১৮০৭ সালে স্যামুয়েল ব্লোজেট একটি "খাল ও বাঁধ (Canal and lock)" পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন, যার ফলে নিকটস্থ অ্যামোসকিয়াগ জলপ্রপাতের নিচ দিয়ে জাহাজ চলাচল করতে পারে। তিনি শহরটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানচেস্টারের মতই উন্নত ও সমৃদ্ধ করতে চেয়েছিলেন। ১৮০৯ সালে বেঞ্জামিন প্রিচার্ড ও তাঁর সহযোগীরা মেরিম্যাক নদীর পশ্চিম তীরে একটি জলচালিত বস্ত্র-বুনন কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮১০ সালে ডেরিফিল্ডের নাম পাল্টে ম্যানচেস্টার করা হয়। ঐ বছর বুনন কারখানাটি আমোসকিয়াগ তুলা ও পশম উৎপাদন সংস্থার সাথে একীভূত করা হয়। ১৮২৫ সালে ম্যাসাচুসেটসের কয়েকজন উদ্যোক্তা কারখানাটি কিনে নেন; ১৮২৬ সালে একটির জায়গায় তিনটি কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৮৩১ সালে এটি আমোসকিয়াগ উৎপাদন সংস্থার সাথে একীভূত করা হয়।

আমোসকিয়াগ সংস্থার প্রকৌশলী ও স্থপতিরা মেরিম্যাক নদীর পূর্ব পাড়ে একটি "কোম্পানি শহর (যে শহরে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবীদের আবাসন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা থাকে) প্রতিষ্ঠার কথা চিন্তা করেছিলেন। ১৮৪৬ সালে ম্যানচেস্টারে বিশ্বের সর্ববৃহৎ তুলা কারখানা প্রতিষ্ঠা করা হয়। এটি ৯০০ ফুট দীর্ঘ ও ১০৩ ফুট চওড়া ছিল। এতে ৪,০০০ লুম তুলা সংরক্ষণ করা যেত। এছাড়াও এখানে জুতা, চুরুট, কাগজ, রাইফেল, সেলাই কল, রেলের বগি প্রভৃতি উৎপাদিত হত। কর্মীর চাহিদা বেশি থাকায় অনেক ফ্রেঞ্চ কানাডীয় কাজের সন্ধানে ম্যানচেস্টারে অভিবাসী হয়। ১৯৩৫ সালে আমোসকিয়াগ উৎপাদন সংস্থার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ভিক্টোরীয় যুগের স্থাপত্যে সে আমলের সমৃদ্ধির পরিচয় এখনো ফুটে ওঠে।

ভূগোল[সম্পাদনা]

ম্যানচেস্টার মধ্য-দক্ষিণ নিউ হ্যাম্পশায়ারের একটি শহর এটি কংকর্ডের ১৮ মাইল দক্ষিণে ও নসুয়ার ১৮ মাইল উত্তরে ও বস্টনের ৫১ মাইল উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত।

শহরটির আয়তন ৩৫ বর্গমাইল; এর ৩৩.১ বর্গমাইল স্থল ও ১.৯ বর্গমাইল জল। [১] মেরিম্যাক ও এর উপনদী পিস্তাকোয়াগ ও কোহাস ব্রুক ম্যানচেস্টার শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। এর পূর্ব সীমান্তে রয়েছে ম্যাসাবেসিক হ্রদ । এর সর্বোচ্চ বিন্দু হলো ওয়েলিংটন পাহাড়, যা সমুদ্রপৃষ্ঠের ৫৭০ ফুট উপরে অবস্থিত।

শহরের উল্লেখযোগ্য এলাকাগুলো হলো- আমোসকিয়াগ, রিমন হেইটস, নটরডেম ও গ্রানাইট স্কয়ার।

জলবায়ু[সম্পাদনা]

ম্যানচেস্টার শহরের জলবায়ু আর্দ্র মহাদেশীয় ধরনের। এর শীতকাল হয় দীর্ঘ ও তুষারাচ্ছন্ন; অপরদিকে গ্রীষ্মকাল হয় অত্যন্ত উষ্ণ ও আর্দ্র ধরনের। জানুয়ারি মাসে তাপমাত্রা হয় ২৪.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট, এবং জুলাই মাসে তাপমাত্রা বেড়ে দাঁড়ায় ৭২.৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট। শীতকাল সবচেয়ে শুষ্ক ও বসন্তকাল সবচেয়ে আর্দ্র মৌসুম।

জনমিতি[সম্পাদনা]

২০১০ এর আদমশুমারি অনুযায়ী ম্যানচেস্টারের জনসংখ্যা ১,০৯,৫৬৫। শহরে ২৬,০৬৬টি পরিবার বসবাস করছিল। জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১,২৮১.৫ জন। শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে ৮৬.১% শ্বেতাঙ্গ, ৪.১% কৃষ্ণাঙ্গ অথবা আফ্রো-আমেরিকান, ০.৩% আদিবাসী আমেরিকান ও ৩.৭% এশীয়। হিস্পানিক ও লাতিনোরা জনসংখ্যার ৮.১%।

শহরের পরিবারগুলোর গড় আয় ৬৩,০৪৫ মার্কিন ডলার। পূর্ণবয়স্ক পুরুষদের গড় আয় ৪৩,৫৮৩ ডলার ও নারীদের গড় আয় ৩৭,১৫৫ ডলার। শহরের মাথাপিছু আয় ২৬,১৩১ ডলার। ১৪.১% বাসিন্দা ও ৯.৬% পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছিল। এদের মধ্যে ২১.৮% এর বয়স ১৮ বছরের নিচে ও ৯.৯% এর বয়স ৬৫ বছরের উপরে। [৬]

অন্যান্য শহরের সাথে তুলনা[সম্পাদনা]

২০১৫ সালে সিএনএন মানি ডটকম ম্যানচেস্টারকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য আমেরিকার ১ নম্বর শহর অভিহিত করে। বসবাস ও ব্যবসা করার উপযুক্ত পরিবেশের নিরিখে মিউচুয়াল ফান্ডস ইনফো যুক্তরাষ্ট্রেরর ১৩তম শ্রেষ্ঠ শহর হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।[৭][৮] কিপলিঙ্গার ম্যানচেস্টারকে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ করবান্ধব শহর আখ্যায়িত করে। [৯] ফোর্বস ২০১৪ সালে একে আমেরিকার সেরা পাঁচটি শিক্ষিত শহরের একটি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। [১০]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. http://factfinder.census.gov/bkmk/table/1.0/en/DEC/10_DP/G001/0600000US3301145140
  2. https://www.census.gov/programs-surveys/popest/data/tables.2019.html
  3. http://www.citytowninfo.com/places/new-hampshire/manchester
  4. https://archive.org/details/manchesterbriefr00clar_0
  5. http://www.britannica.com/place/Manchester-New-Hampshire
  6. http://factfinder.census.gov/bkmk/table/1.0/en/ACS/11_1YR/DP03/1600000US3345140
  7. https://money.cnn.com/gallery/smallbusiness/2015/08/19/best-cities-thumbtack/index.html
  8. http://mutualfunds.info/2008/03/18/smbusiness/manchester_new_hampshire.fsb/index.htm
  9. https://finance.yahoo.com/news/pf_article_106691.html
  10. https://www.forbes.com/sites/kathryndill/2014/09/16/the-most-and-least-educated-cities-in-america/2/#4a496c70155a