ম্যাথু সিনক্লেয়ার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ম্যাথু সিনক্লেয়ার
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামম্যাথু স্টুয়ার্ট সিনক্লেয়ার
জন্ম (1975-11-09) ৯ নভেম্বর ১৯৭৫ (বয়স ৪৪)
ক্যাথরিন, নর্দার্ন টেরিটরি, অস্ট্রেলিয়া
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি মিডিয়াম
ভূমিকামাঝে-মধ্যে উইকেট-রক্ষক
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ২০৮)
২৬ ডিসেম্বর ১৯৯৯ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
শেষ টেস্ট২৭ মার্চ ২০১০ বনাম অস্ট্রেলিয়া
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ১১৩)
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০০০ বনাম অস্ট্রেলিয়া
শেষ ওডিআই১০ জানুয়ারি ২০০৯ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
টি২০আই অভিষেক
(ক্যাপ )
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৫ বনাম অস্ট্রেলিয়া
শেষ টি২০আই১১ ডিসেম্বর ২০০৭ বনাম অস্ট্রেলিয়া
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৯৫/৯৬ - ২০১২/১৩সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টস
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ৩৩ ৫৪ ১৩৮ ২২৯
রানের সংখ্যা ১,৬৩৫ ১,৩০৪ ১৩,৭১৭ ৬,৫১৫
ব্যাটিং গড় ৩২.০৫ ২৮.৩৪ ৪৮.৬৪ ৩৪.৮৩
১০০/৫০ ৩/৪ ২/৮ ৩৬/৬৮ ৭/৪৮
সর্বোচ্চ রান ২১৪ ১১৮* ২৬৮ ১২৩
বল করেছে ২৪ ২,৬৫৯ ১৭২
উইকেট ২৪
বোলিং গড় ৪৭.৩৭ ৬১.০০
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ০/১৩ ৩/২৯ ১/১৫
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৩১/০ ১৭/০ ২০৩/১ ১১৪/২
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২৮ জুন ২০১৯

ম্যাথু স্টুয়ার্ট সিনক্লেয়ার (ইংরেজি: Mathew Sinclair; জন্ম: ৯ নভেম্বর, ১৯৭৫) নর্দার্ন টেরিটরির ক্যাথরিন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত নিউজিল্যান্ডীয় প্রথিতযশা ও সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার।[১][২][৩] নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৯৯ থেকে ২০১০ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।[৪][৫]

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টস ও দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ইস্টার্ন প্রভিন্স দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন ম্যাথু সিনক্লেয়ার

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

নর্দার্ন টেরিটরি’র ক্যাথরিনে ম্যাথু সিনক্লেয়ারের জন্ম। পাঁচ বছর বয়সে গাড়ী দূর্ঘটনায় পিতার মৃত্যুর পর মায়ের সাথে নিউজিল্যান্ডে চলে যান।

১৯৯৫-৯৬ মৌসুম থেকে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের পক্ষে খেলতে শুরু করেন। টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেকের পূর্বে একাডেমি ও এ-দলের পক্ষে খেলেন।[৬]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ৩৩টি টেস্ট ও ৫৪টি একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশগ্রহণ করেছিলেন ম্যাথু সিনক্লেয়ার। ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৯ তারিখে ওয়েলিংটনে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে ম্যাথু সিনক্লেয়ারের।[৭] ২৭ মার্চ, ২০১০ তারিখে হ্যামিল্টনে সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন।[৮]

মাঝারিসারিতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ইনিংস উদ্বোধনেও নামতেন তিনি। টেস্ট ক্রিকেট অভিষেকে তিন নম্বরে ব্যাটিং করে ২১৪ রান তুলে সর্বোচ্চ রানের বিশ্বরেকর্ডের সমকক্ষ হন। ১৯৯৯ সালে বক্সিং ডে টেস্টে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জীবন শুরু করা নিউজিল্যান্ড দলের প্রতিপক্ষ ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম বারো টেস্টের মধ্যে দুইটি দ্বি-শতরানের ইনিংস খেলেছেন ম্যাথু সিনক্লেয়ার। ১৯৯৯ সালে ওয়েলিংটনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২১৪ রানের ইনিংস খেলার পর পরবর্তী গ্রীষ্মে পাকিস্তানের বিপক্ষে অপরাজিত ২০৪ রান তুলেন। দূর্দান্ত প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রাখা সত্ত্বেও নিউজিল্যান্ডের টেস্ট কিংবা একদিনের আন্তর্জাতিক দলে নিয়মিতভাবে খেলতে ব্যর্থ হন। ফলশ্রুতিতে, আন্তর্জাতিকে অঙ্গনে তাকে খুব কমই অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়।

মার্চ, ২০০৪ সালে ওয়েলিংটনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্ট খেলার জন্যে মনোনীত হন। প্রথম ইনিংসে ৭৪ রানের আশাপ্রদ ইনিংস খেলা সত্ত্বেও ২০০৪ সালে ইংল্যান্ড গমনের জন্য দলে অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি। তবে, লিচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে প্রস্তুতিমূলক খেলায় ক্রেইগ ম্যাকমিলান আঙ্গুল ভেঙ্গে ফেললে ইস্ট অ্যাংলিয়ায় লীগ ক্রিকেটে অংশগ্রহণকারী সিনক্লেয়ারকে জরুরী তলব করা হয়।

বাংলাদেশ গমন, ২০০৪-০৫[সম্পাদনা]

২০০৪-০৫ মৌসুমে মাইকেল পাপসের আঘাতগ্রস্ততার কারণে পরিবর্তিত উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে বাংলাদেশ গমন করেন। ঐ সময়ে শীর্ষে মাঝারিসারিতে ব্যাটিং করার অবস্থা ছিল না। প্রথম টেস্টে ৭৬ রান তুলেন।

২০০৪-০৫ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ায় ব্যর্থ সফরের পর স্থানচ্যুত হন ও জাতীয় পর্যায়ের চুক্তি থেকে বাদ পড়েন। অস্ট্রেলিয়া সফরের জন্যে মনোনয়ন পেলে সেখানে তিনি মিশ্র ফলাফল করেন। অস্ট্রেলিয়ায় ওডিআইয়ে সুন্দর ফলাফলের স্বীকৃতিস্বরূপ পরবর্তী সিরিজে তাকে রাখা হয়। কিন্তু প্রথমে তিন খেলায় ১৫ গড়ে রান তুলে আবারও স্থানচ্যুত হন।

আবারও ২০০৬ সালে তাকে চুক্তিতে উপনীত করা হয়। ডিসেম্বরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজদেশে খেলেন। ২০০৭ সালে বিস্ময়করভাবে চুক্তি থেকে বাদ দেয়া হয়। এরফলে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে খেলার আশা ক্ষীণ হয়ে পড়লে বিদেশে খেলোয়াড়ী জীবন গড়ে তুলেন। কিন্তু, হামিশ মার্শালকে বাদ দিয়ে তাকে পুণরায় চুক্তিতে নিয়ে আসা হয়।

অবসর[সম্পাদনা]

জুলাই, ২০১৩ সালে ৩৭ বছর বয়সে সকল স্তরের ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন ম্যাথু সিনক্লেয়ার। সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের পক্ষে আঠারো মৌসুম খেলেন। এ পর্যায়ে পনেরো হাজারের অধিক রান তুলে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন তিনি। তন্মধ্যে ২০১২-১৩ মৌসুমে সর্বশেষ অংশ নিয়ে ৪০ ঊর্ধ্ব গড়ে রান তুলেন।[৯]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. List of New Zealand Test Cricketers
  2. "New Zealand Test Batting Averages"। ESPNCricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১২ মার্চ ২০১৯ 
  3. "New Zealand Test Bowling Averages"। ESPNCricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১২ মার্চ ২০১৯ 
  4. "Players / New Zealand / ODI caps"Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-১২-৩১ 
  5. "New Zealand ODI Batting Averages"Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-১২-৩১ 
  6. "Mathew Sinclair"। www.cricketarchive.com। সংগ্রহের তারিখ ২৪ আগস্ট ২০১৫ 
  7. "West Indies in New Zealand (1999 – 2000): Scorecard of second Test"। Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ জুন ২৮, ২০১৯ 
  8. "Australia in New Zealand (2009 – 2010): Scorecard of second Test"। Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ জুন ২৮, ২০১৯ 
  9. "Mathew Sinclair announces his retirement"। ESPNcricinfo। ১৭ জুলাই ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুলাই ২০১৩ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]