বিষয়বস্তুতে চলুন

ম্যাক্স পেইন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

ম্যাক্স পেইন (ইংরেজি: Max Payne) হলো ২০০১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি নব্য-নোয়ার (Neo-noir) ঘরানার থার্ড-পারসন শুটার গেম। এটি ফিনল্যান্ডভিত্তিক কোম্পানি রেমেডি এন্টারটেইনমেন্ট দ্বারা তৈরি এবং রকস্টার গেমস ও গেদারিং অফ ডেভেলপারস দ্বারা প্রকাশিত। গেমটি মূলত এর সিনেমাটিক অ্যাকশন এবং 'বুলেট টাইম' মেকানিক্সের জন্য সমাদৃত।

গেমপ্লে

[সম্পাদনা]

ম্যাক্স পেইন গেমটি মূলত একটি হাই-অ্যাকশন শুটার। এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

  • বুলেট টাইম (Bullet Time): এটি এই গেমের সিগনেচার মেকানিক্স। এটি ব্যবহার করলে গেমের সময় ধীর হয়ে যায়, ফলে ম্যাক্স সিনেমার মতো স্টাইলে লাফিয়ে পড়ে বাতাসে ভেসে থেকেই শত্রুদের নিখুঁতভাবে গুলি করতে পারে।
  • শুটিং স্টাইল: গেমটি হংকংয়ের অ্যাকশন সিনেমা (বিশেষ করে জন উ-এর চলচ্চিত্র) দ্বারা অনুপ্রাণিত।
  • গ্রাফিক নভেল কাটসিন: গল্পের অগ্রগতির জন্য প্রথাগত ভিডিওর বদলে ভয়েস-ওভারসহ স্থির কমিক প্যানেল ব্যবহার করা হয়েছে।

কাহিনীসংক্ষেপ

[সম্পাদনা]

১৯৯৮ সালে একদিন নিউজার্সিতে এক পুলিশ কর্মকর্তা ম্যাক্স তার অফিসে কাজ করছিল। একদিন তার এক বন্ধু অ্যালেক্স তার সাথে দেখা করতে আসে এবং ম্যাক্সকে ডিইএ (ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) -তে যোগ দেয়ার প্রস্তাব দেয় কারণ তার মতে ম্যাক্স একজন দক্ষ পুলিশ কর্মকর্তা। কিন্তু ম্যাক্স তার প্রস্তাব নাকচ করে দেয় ও বলে তার স্ত্রী ও তার মেয়ে তার জন্য অপেক্ষা করছে। অ্যালেক্স ম্যাক্সের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায়। কাজ শেষ করে ম্যাক্স তার বাড়িতে যায়। কিন্তু বাড়িতে ফিরে ম্যাক্স জানতে পারে তিনজন অস্ত্রধারী ব্যক্তি যারা উচ্চমাত্রায় মাদক সেবন করেছে তারা তার বাড়িতে অতর্কিত আক্রমণ করে তার পরিবারকে জিন্মি করেছে। ম্যাক্স কোন পুলিশি সহায়তা না পেয়ে ঐ তিন অস্ত্রধারী ব্যক্তিকে গুলি কর‍ে হত্যা করে। কিন্তু ম্যাক্সের এখানে দেরি হয় যায় এবং নিরুপায় ম্যাক্স দেখে যে ঐ তিনজন তার স্ত্রী মিশেল ও তার এক নবজাতক কন্যা রোজকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। এই ঘটনার পর ম্যাক্স ঐ তিনজন আক্রমণকারীর ময়নাতদন্ত থেকে জানতে পারে যে তারা এক উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মাদক সেবন করেছে যার নাম ভ্যালকির। ম্যাক্সের পরিবারের শেষকৃত্য শেষে ম্যাক্স এনওয়াইপিডি থেকে ডিইএ-তে যোগ দিতে বাধ্য হয় ও সিদ্ধান্ত নেয় যারা এই কুখ্যাত ভ্যালকির মাদক সরবরাহ ও ব্যবহারের সাথে যুক্ত সবাইকে নির্মূল করবে।

এই ঘটনার তিন বছর পর ২০০১ সালে ম্যাক্স গোপনে নিউইয়র্কের এক কুখ্যাত গ্যাং পুঞ্চিনেলো ক্রাইম ফ্যামিলিতে এক গুপ্তচর হিসাবে কাজ করতে থাকে, যারা ভ্যালকির পাচার থেকে শুরু করে সমগ্র অপকর্ম পরিচালনা করে। একদিন ডিইএ এর এক এজেন্ট বি.বি ম্যাক্সকে জানায় যে অ্যালেক্স ম্যাক্সের সাথে শহরের একটি সাবওয়ে স্টেশনে দেখা করতে চায়। ম্যাক্স ঐ স্টেশনে পৌছায় কিন্ত এক পর্যায়ে জানতে পারে কিছু দুর্বৃত্ত এখানে আক্রমণ চালায়। তবে ম্যাক্স বুঝতে পারে এরা সবাই পুঞ্চিনেলোর সদস্য। ম্যাক্স এখানে সকল আক্রমণকারীকে নির্মূল করে একটি ব্যাংকে পৌছায় ও লক্ষ্য করে পুঞ্চিনেলোর সদস্যরা একটি ব্যাংকে ডাকাতি করছিল (আসলে পুঞ্চিনেলোর সদস্যরা এখানের একটি ব্যাংকের সন্ধান পেয়ে এই স্টেশনে আক্রমণ চালায় ও ঐ ব্যাংকে ডাকাতি করে)। ম্যাক্স সেখান থেকে একটি বিস্ফোরক সংগ্রহ করে দেয়াল ধ্বংস করে। ঠিক এই সময়ে ম্যাক্সের সাথে অ্যালেক্সের দেখা হয়। অ্যালেক্স ম্যাক্সকের কাছ থেকে জানতে চায় এখানে কি হচ্ছে। ম্যাক্স জানায় এখানে এক পরিত্যক্ত স্থানে একটি ব্যাংকে ডাকাতি হয়েছে। এখানে এক পর্যায়ে ম্যাক্স জানতে পারে এরা সবাই লুপিনোর জন্য কাজ করে। অ্যালেক্স যখন ম্যাক্সকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে যাবে তখন এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি অ্যালেক্সকে গুলি করে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

এই ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ম্যাক্সকে অ্যালেক্স বাল্ডার হত্যাকাণ্ডের প্রধান সন্দেহভাজন হিসাবে চিহ্নিত করে ও এনওয়াইপিডির (নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট) সোয়াট টিম ম্যাক্সকে গ্রেফতার করার উদ্দেশ্যে অভিযানে নেমে পরে। ম্যাক্স নিরুপায় হয়ে উক্ত স্থান থেকে পালিয়ে একটি হোটেলে চলে যায় পরে ম্যাক্স বুঝে যায় এই হোটেলের মালিক জ্যাক লুপিনো নিজেই।এখানে ম্যাক্স জানতে পারে ভিনি গগনিটি নামে এক গ্যাং সদস্য লুপিনোর হয়ে কাজ করে ও ম্যাক্স মনে করে তাকে ধরতে পারলে লুপিনোর খোঁজ পাওয়া যাবে। এই পথে সে একটি ভ্যালকির মাদকের একটি চুক্তি নষ্ট করে দেয়। কিন্ত এর এক পর্যায়ে ম্যাক্স টিভির খবরে জানতে পারে এক প্রেস ব্রিফিং এ নিউইয়র্কের মেয়র জানায় যে এই ভয়ংকর ভ্যালকির মাদক সমগ্র শহরে ছড়িয়ে পড়েছে এবং এই সমস্যা নিরসনের চেষ্টা করার আহ্বান করে। ওপরদিকে পুলিশ নিউইয়র্ক শহরের সাবওয়ে স্টেশন থেকে অ্যালেক্সের মরদেহ উদ্ধার করে উক্ত ঘটনার জন্য ম্যাক্সকে দায়ী করে কারণ সিসিটিভি ফুটেজে ম্যাক্সকে দেখা গেছে এবং শহরের সমস্ত গ্যাং সদস্যরা ইতোমধ্যে বুঝে গেছে যে ম্যাক্স একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা। তাই পুঞ্চিনেলোর লোকেরা ম্যাক্সকে হত্যা করতে চেষ্টা করবে। তাই ম্যাক্স লুপিনোর হোটেল থেকে পালিয়ে যায়।

ম্যাক্স পরে লুপিনোর অফিসে উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। যেখানে সে লক্ষ্য করে এক স্থানীয় রাশিয়ান মাফিয়া জ্যাক লুপিনোর সমগ্র ভবনে বিস্ফোরণ ঘটায়। ম্যাক্স এখানে বুঝতে পারে ঐ রাশিয়ান মাফিয়া আসলে ভ্লাদিমির লেম যে ভ্যালকির চুক্তি ব্যর্থ হবার পর তার নির্দেশে রাশিয়ান মাফিয়া সমগ্র পুঞ্চিনেলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। ম্যাক্স ঐখানে পৌঁছালে সকল পুঞ্চিনেলোর সদস্যদের হত্যা করে। কিন্তু এর মাঝখানে এক অপরিচিত ব্যক্তি ম্যাক্সকে ফোন করে জানায় যে পুলিশ ম্যাক্সের অবস্থান খুঁজে পেয়েছে ও ঐ লোক ম্যাক্সকে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বলে ও সে পরে ম্যাক্সের সাথে যোগাযোগ করবে। এদিকে সমগ্র এনওয়াইপিডি ম্যাক্সের অবস্থান খুঁজে পায় ও এনওয়াইপিডির এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জিম ব্রাভুরা তার মাইকে বলে-

"ম্যাক্স পেইন! এনওয়াইপিডির পক্ষ থেকে আমি জিম ব্রাভুরা বলছি। পুলিশ এই এলাকা চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেছে তাই লুকিয়ে থেকে কোন লাভ হবে না। অনতিবিলম্বে আত্মসমর্পণ কর অন্যথায় আমরা গুলি চালাব।"

ম্যাক্স তাদেরকে তোয়াক্কা না করে সে লুপিনোর অফিসে চলে আসে ও এক পর্যায়ে সে ভিনি গগনিটির মুখোমুখি হয়। ভিনি তার উপস্থিতি টের পেরে এই স্থান থেকে পালিয়ে যায় ও তার লোকদের ম্যাক্সকে হত্যার নির্দেশ দেয়। ম্যাক্স তার সকল লোকদের নির্মূল করে তার পিছু নেয় এবং এক পর্যায়ে সে ভিনিকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। ভিনি তাকে বলে-

"তুমি তো আমার সব লোকদের হত্যা করেছ। এখন তুমি আমার কাছে কি চাও?"

ম্যাক্স বলে-

"দেখ ভিনি, আমি তোমাকে হত্যা করতে আসিনি। আমি আসলে জানতে চাই তোমার বস লুপিনো কোথায়? যদি বলতে পার তাহলে তুমি ছাড়া পাবা।"

ভিনি এক পর্যায় বলে-

"ঠিক আছে, ঠিক আছে। আমি সব বলছি। লুপিনো বর্তমানে র‍্যাগনা রক নাইটক্লাবে অবস্থান করছে।"

ম্যাক্স লুপিনোকে হত্যার উদ্দেশ্যে র‍্যাগনা রক নাইটক্লাবে যায় যেখানে লুপিনো অবস্থান করছে। ম্যাক্স লুপিনোকে হত্যা করতে সক্ষম হয়, কিন্তু সেখানেই ম্যাক্সের সাথে এক অপরিচিত নারীর সাথে দেখা হয় ও ঐ নারী বলে ম্যাক্স এক ভুল ব্যক্তিকে হত্যা করেছে। ম্যাক্স তাকে বলে আসলে সে কে। ঐ নারী জানায় সে একজন কন্ট্রাক্ট খুনি ও তার নাম মোনা স্যাক্স ও জানায় সে লিসা পুঞ্চিনেলোর যমজ বোন। মোনা তাকে জানায় তার দুলাভাই ও পুঞ্চিনেলো ক্রাইম ফ্যামিলির প্রধান অ্যাঞ্জেলো পুঞ্চিনেলো প্রায়ই তার স্ত্রী লিসাকে মারধর করত। মোনা ম্যাক্সকে আরও জানায় যে ১৯৯৮ সালে ম্যাক্সের স্ত্রী সন্তানের মৃত্যুর জন্য লুপিনো নয় বরং অ্যাঞ্জেলো পুঞ্চিনেলো নিজেই দায়ী ও পুঞ্চিনেলোর নির্দেশে তার লোকেরাই অ্যালেক্সকে হত্যা করে অ্যাঞ্জেলো পুঞ্চিনেলো ম্যাক্সের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করে। ম্যাক্স তাকে বিশ্বাস করে ও বারে তারা দুইজন পানীয় পান করে কিন্তু মোনা তার পানীয়তে ভ্যালকির মিশিয়ে দেয় যার ফলে ম্যাক্স অজ্ঞান হয়ে পরে (আসলে নিজের বোনের ওপর অত্যাচারের প্রতিশোধ নিতে মোনা ম্যাক্সকে ভ্যালকির মেশানো পানীয় খাইয়ে দেয় কারণ সে চায় না কেউ তার কাজে আসুক)।

এর পর ম্যাক্স পরিবারের হত্যার রাতের দুঃস্বপ্নে ভুগতে থাকে। কিন্ত এই অবস্থায় ম্যাক্সকে একদল গ্যাং ধরে নিয়ে যায়। জ্ঞান ফিরে এলে ম্যাক্স এক গ্যাং সদস্য ফ্রাঙ্কি নায়গ্রার সাথে পরিচয় হয়। ফ্রাঙ্কি ম্যাক্সকে একটি চেয়ারে বসিয়ে তার হাত পা বেঁধে অকথ্যভাবে মারধর করে। তবে ম্যাক্স সেই ঐ হোটেল থেকে পালিয়ে যায় ও রেডিওর খবরে জানতে পারে ঐ নাইটক্লাবে যারা নিহত হয়েছিল তারা সবাই অপরাধী ও তাদের শরীরে উচ্চমাত্রায় ভ্যালকির পাওয়া গেছে ও কেউ একজন এক অপরাধীকে ম্যাক্স মনে করে হত্যা করেছে। সর্বশেষে ম্যাক্স ফ্রাঙ্কি নায়াগ্রাকে হত্যা করতে সক্ষম হয়। এরপর ম্যাক্স এই স্থান ত্যাগ করে। কিন্তু পথিমধ্যে ম্যাক্সের সাথে ভ্লাদিমির লেমের পরিচয় হয়। ভ্লাদ তাকে জানায় শহরের এক সমুদ্র বন্দরে তার একটি জাহাজ আছে যেখানে প্রচুর অস্ত্র গোলাবারুদ রয়েছে এবং সে ম্যাক্সকে তার একসময়ের সহকর্মী বরিস ডাইমকে হত্যা করতে বলে (মুলত বরিস ডাইম একসময়ে নিউইয়র্কের স্থানীয় রাশিয়ান মাফিয়া প্রধান ভ্লাদের সাথে কাজ করত। কিন্তু ডাইম ক্ষমতার লোভে ভ্লাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে ভ্লাদের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ পুঞ্চিনেলো ক্রাইম ফ্যামিলি এর প্রধান অ্যাঞ্জেলো পুঞ্চিনেলোর সাথে কাজ করা শুরু করে। যার ফলে ভ্লাদিমির লেমের শত্রুর তালিকায় তার নাম চলে আসে ও এক পর্যায়ে ডাইম তার জাহাজ দখল করে) ও বলে যদি সে ডাইমকে হত্যা করে তাহলে ভ্লাদ ঐ জাহাজ থেকে সকল অস্ত্র সে পাবে এবং ম্যাক্স উপহার হিসাবে কিছু অস্ত্র নিয়ে পুঞ্চিনেলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারবে।

ম্যাক্স ঐ স্থানে পৌঁছে ডাইমের লোকদের হত্যা করে ও সেখানে একটি দামি কাগজে লেখা চিঠি ও একটি স্নাইপার রাইফেল দেখে বুঝতে পারে কেউ একজন পুঞ্চিনেলো গ্যাং এর এক সদস্য রিকোর কাছে একটি বক্স ভর্তি টাকা পাঠায় ও চিঠিতে তাকে শহরের মেয়রকে (যে তার শহরবাসীকে কুখ্যাত ভ্যালকির এর ব্যাপারে সতর্ক করেছিল) হত্যা করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। সর্বশেষ ম্যাক্স ডাইমকে হত্যা করে ও ঐ জাহাজ ভ্লাদের হাতে তুলে দেয় এবং এর বিনিময়ে ভ্লাদ ম্যাক্সকে কিছু অস্ত্র উপহার করে। কিন্তু এর মাঝখানে অ্যাঞ্জেলো পুঞ্চিনেলো ম্যাক্সকে তার সাথে তার রেস্তোরাঁয় দেখা করতে বলে (কারণ বরিস ডাইমের মৃত্যুর পর পুঞ্চিনেলোর সমস্ত পরিকল্পনা ম্যাক্সের কাছে ফাঁস হয়ে গেলে পুঞ্চিনেলো ম্যাক্সকে ফাঁদে ফেলার উদ্দেশ্যে ম্যাক্সকে তার রেস্তোরাঁয় আসতে বলে)।

ম্যাক্স যখন তার রেস্তোরাঁয় প্রবেশ করে তখন পুঞ্চিনেলোর লোকেরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ঐ রেস্তোরাঁয় আগুন ধরিয়ে দেয় যাতে ম্যাক্স ডনকে ধরতে না পরে। কিন্তু ম্যাক্স সেখান থেকে বেঁচে গিয়ে ভ্লাদের সাথে যোগাযোগ করে ও ভ্লাদ তাকে পুঞ্চিনেলোর বাংলোতে পৌঁছে দেয়। ম্যাক্স ডন পুঞ্চিনেলোর বাংলোতে আক্রমণ চালায় ও তার প্রধান কিছু গ্যাং সদস্যকে হত্যা করে এবং সর্বশেষ ম্যাক্স লিসার মরদেহ দেখে বুঝে যায় ডন পুঞ্চিনেলো তার স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। ঠিক এই সময়ে এক অপরিচিত ব্যক্তি (যে শুরুতে ম্যাক্সকে ফোন করে ম্যাক্সকে লুপিনোর অফিস থেকে পালানোর আহ্বান করেছিল) যে নিজেকে অ্যালফ্রেড ওডেন বলে দাবি করে সে ম্যাক্সকে ফোন করে জানায় একটি অস্ত্রসজ্জিত হেলিকপ্টার ঐ বাংলোতে পৌঁছায় ও কিছু লোক ঐ বাংলোতে পৌছে গেছে ও তাকে সেই স্থান ত্যাগ করতে বলে। কিন্তু ম্যাক্স ঐ কথা পাত্তা না দিয়ে অ্যাঞ্জেলো পুঞ্চিনেলোকে খুঁজতে যায় এবং এক পর্যায়ে অ্যাঞ্জেলো পুঞ্চিনেলোকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। অ্যাঞ্জেলো তাকে দেখে ভয় পেয়ে যায়। ম্যাক্স তাকে বলে-

"অ্যাঞ্জেলো, তুমি ধরা পরে গেছ। তুমি আমার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করেছ এমনকি তুমি তোমার স্ত্রীকে ছাড়লে না। তোমার এই কর্মকাণ্ডের জন্য তোমাকে শাস্তি পেতে হবে। এখন আমি জানতে চাই তুমি এই ভ্যালকির কোথা থেকে পেয়েছ ও কে তোমাকে এই মাদক সরবরাহ করার নির্দেশ দেয়? "

অ্যাঞ্জেলো বলে-

"দেখো, আমি এ ব্যাপারে কিছু জানি না যে এই মাদক কোথা থেকে এসেছে। মনে পড়েছে এক মহিলা আমার কাছে এই মাদক দিয়ে বলত এই মাদক সমগ্র নিউইয়র্ক শহরে ছড়িয়ে দাও। ঐ মহিলার নাম-"

অ্যাঞ্জেলো যখন ম্যাক্সকে ভ্যালকির সরবরাহকারীর নাম বলতে যাবে তখনই একদল অস্ত্রধারী ভাড়াতে লোকেরা প্রাসাদে ঢুকে ডন পাঞ্চিনেলোকে গুলি করে হত্যা করে। ম্যাক্স ঐ ভাড়াটে লোকদের হত্যা করে এবং ম্যাক্স এক পর্যায়ে বুঝতে পারে এই ব্যক্তি আসলে একটা পুতুল। ম্যাক্স যখন ঐ বাংলো থেকে বের হবে তখনই এক মহিলা ও তার লোকেরা তাকে আটক করে ফেলে। ম্যাক্স বুঝতে পারে অ্যাঞ্জেলো তাকে ঐ মহিলার কথা বলতে যাচ্ছিল। ঐ মহিলা ম্যাক্সের সম্পর্কে আগে থেকে জানত ও সে ম্যাক্সকে অতিরিক্ত ভ্যালকির ইনজেকশন দিয়ে মৃত ভেবে ফেলে রেখে যায়।

আরেক দফা মাদকঘটিত দুঃস্বপ্নের পর ম্যাক্স একটি পরিত্যক্ত লোহার কারখানায় পৌঁছায়, যেখানে ঐ মহিলার ভাড়াটে সৈন্যরা জড়ো হয়। ম্যাক্স বুঝতে পারে এখানে সকল অবৈধ কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়। ঐ কারখানায় সকল ভাড়াটে লোকদের নির্মূল করার পর ম্যাক্স বুঝতে পারে এখানে একটি গোপন ভূগর্ভস্থ সামরিক গবেষণাগার রয়েছে। এখানে ঢুকে ম্যাক্স লক্ষ্য করে এখানে ঐ কুখ্যাত ভ্যালকির মাদক উৎপাদন করা হয় ও পরীক্ষা করার জন্য কিছু লোককে বন্দি করে রাখা হয় এবং ম্যাক্স এক পর্যায়ে জানতে পারে এই ভ্যালকির আসলে ভালহালা প্রকল্প যেটি তৎকালীন উপসাগরীয় যুদ্ধের সময়ে সৈনিকদের মনোবল বৃদ্ধি করতে শুরু হয়েছিল। ১৯৯১ সালে এই প্রকল্প চালু করা হয়েছিল যাতে এই রাসায়নিক পদার্থ সৈনিকদের সহনশক্তি বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। কিন্তু কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে চার বছর পর ১৯৯৫ সালে এই প্রকল্প বন্ধ করা হয়।কিন্তু ম্যাক্স এসব দেখে বুঝতে পারে যে এই প্রকল্প এখনও চালু অর্থাৎ কেউ একজন এই বিতর্কিত প্রকল্প বেআইনিভাবে ব্যবহার করছে ও ভ্যালকির উৎপাদন করছে। ম্যাক্স তথ্য ঘাটাঘাটি করে জানতে পারে এই প্রকল্পের অনেক তথ্য নেই। ম্যাক্স এক পর্যায়ে জানতে পারে এই ভ্যালকিরে আসক্ত ব্যক্তিদের সর্বশেষ গন্তব্য তিন বছর আগে ১৯৯৮ সালে ম্যাক্সের বাড়িতে যেখানে ঐ তিন মাদকাসক্ত লোকেরা তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করেছিল। কিন্তু এর মাঝখানে ঐ ভাড়াটে লোকেরা সেখানে এর প্রমাণ ও সাক্ষী মুছে ফেলতে সেলফ ডেস্ট্রাক্ট প্রক্রিয়া চালু করলে ঐ স্থান ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়। কিন্তু ম্যাক্স সেখান থেকে অল্পের জন্য পালিয়ে যায় ও ম্যাক্স সব কিছু বুঝতে পারে যে এই প্রকল্পের সাথে জড়িতরাই ম্যাক্সের পরিবারকে হত্যা করেছিল।

এরপর ম্যাক্স একটি কফি শপে সময় কাটায়। রাত ২টা ৩০ মিনিটে বি.বি ম্যাক্সকে ফোন করে তার সাথে দেখা করতে বলে। ম্যাক্স তার সাথে দেখা করতে শহরের একটি পার্কিং লটে যায়। শুরুতে বি.বি. ম্যাক্সকে স্বাগত জানালে পরে তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ করতে থাকে। এখানে ম্যাক্স জানতে পারে যে ব্যক্তি সাবওয়ে স্টেশনে অ্যালেক্সকে গুলি করে হত্যা করেছিল সে আর কেউ না বরং বি.বি নিজেই এবং এখানে এক পর্যায়ে ম্যাক্স জানতে পারে বি.বি ঐ মহিলা যে ঐ কুখ্যাত ভ্যালকির মাদক উৎপাদনের সাথে জড়িত তার হয়ে কাজ করে। (আসলে বি বি ডিইএ এর পাশাপাশি ঐ মহিলার হয়ে কাজ করত। একদিন সে ম্যাক্সকে ফোন করে অ্যালেক্সের সাথে দেখা করতে সাবওয়ে স্টেশনে যেতে বলে এবং সে ম্যাক্সের চোখের সামনে অ্যালেক্সকে গুলি করে হত্যা করে সেখান থেকে পালিয়ে যায় এবং এই ঘটনায় ম্যাক্সকে ফাঁসায় যাতে ম্যাক্স ঐ মহিলার পিছু নিতে না পারে)। ম্যাক্স সেখানে তাকে ও তার লোকদের হত্যা করে। কিন্তু এরপর ম্যাক্সকে অ্যালফ্রেড ওডেন (যে ব্যক্তি শুরুর দিকে ম্যাক্সকে ফোন করে সহায়তা করেছিল) ম্যাক্সকে ফোন করে তার সাথে দেখা করতে অ্যাসগার্ড ভবনে আসতে বলে।

এরপর ম্যাক্স অ্যালফ্রেড ওডেনের সাথে দেখা করতে সেই স্থানে যায়। ওডেন শুরুতে ম্যাক্সকে স্বাগত জানায় ও তাকে এই ভবন ঘুরিয়ে দেখায়। এক পর্যায়ে ওডেন ম্যাক্সকে তার সহকর্মীদের সাথে পরিচয় করায় ও জানায় তারা ইনার সার্কেল নামে একটি গোপন সংগঠনের সাথে যুক্ত যারা নিউইয়র্কের অপরাধ দমনে প্রশাসনকে সহায়তা করে। ওডেন ম্যাক্সকে জানায় যে ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের শুরুতে তারা প্রাথমিকভাবে এই প্রকল্পের সাথে ঘনিষ্ঠ ছিল কিন্তু কোন এক অজানা কারণে তারা এই ফাইল খুলতে পারেনি। সে ম্যাক্সকে আরও জানায় যে ব্যক্তি এতদিন ধরে এই কুখ্যাত ভ্যালকির উৎপাদন পরিচালনার সাথে জড়িত তার নাম নিকোল হর্ন। ওডেন আরও জানায় সে একসময়ে ইনার সার্কেলের সদস্য ছিল। যখন ভালহালা প্রকল্পের তহবিল বন্ধ হয়ে যায় তখন সে পদত্যাগ করতে রাজি হয়নি কিন্তু ১৯৯৫ সালে প্রকল্প বন্ধ হবার পর সে ইনার সার্কেল থেকে বেরিয়ে আসে। ওডেন আরও জানায় নিকোল হর্ন শহরের এক বড় ঔষধ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এইসার কর্পোরেশনের সভাপতি ও সমগ্র শহরের ভ্যালকির পাচার নিয়ন্ত্রণ করে, ফলে এর প্রভাব ইনার সার্কেলের ওপর পড়ে। যেহেতু হর্ন এই ব্যবসা করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করে শহরে প্রভাবশালী হয়ে উঠে তাই ওডেন সহজে তাকে নির্মূল করতে পারবে না। তাই ওডেন জানায় যদি ম্যাক্স হর্নকে নির্মূল করতে পারে তাহলে ইনার সার্কেল শহরে হর্নের প্রভাব কমাতে পারবে ও সেই সাথে ম্যাক্সের সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে সাহায্য করবে।

কিন্তু এখানে হর্নের লোকেরা ইনার সার্কেলের সদস্যদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালালে ইনার সার্কেল এর অনেক সদস্য নিহত হয় (মূলত নিকোল হর্ন যখন জানতে পারে ম্যাক্স ওডেনের ঐ প্রস্তাব গ্রহণ করে তখন সে তার লোকদের ওডেন ও বাকি ইনার সার্কেল সদস্যদের হত্যার উদ্দেশ্যে তার লোকদের অ্যাসগার্ড ভবনে পাঠায় যাতে ম্যাক্স কোন আইনি সহায়তা না পায়)। ম্যাক্স সেই স্থান থেকে কোনমতে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় এবং সিসিটিভি ফুটেজে লক্ষ্য করে ওডেন এখনও জীবিত (মূলত গোলাগুলির সময় ওডেন মাটিতে শুয়ে মৃত্যুর ভান করেছিল তাই সে বেঁচে যায়)।

অবশেষে ম্যাক্স সকল আক্রমণকারীকে নির্মূল করতে সক্ষম হয় ও সর্বশেষ এইসার কর্পোরেশন এর সদরদপ্তরে পৌঁছে যায় কিন্তু ম্যাক্সের উপস্থিতি টের পেয়ে হর্নের লোকেরা তাকে হত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। ম্যাক্স লড়াই করতে উপরে উঠে এবং পথে তার সাথে মোনার দেখা হয় হর্ন তাকে ম্যাক্সকে হত্যার জন্য ভাড়া করেছিল, কিন্তু সে তা অস্বীকার করায় তাকে গুলি করা হয় বলে ম্যাক্স মনে করে, যদিও পরে তার দেহ উধাও হয়ে যায়। পরে ম্যাক্স হর্নের কম্পিউটারের সাথে প্রিন্টার এর সাথে দামি কাগজ দেখে বুঝে যায় নিউইয়র্ক শহরের মেয়রকে হত্যার উদ্দেশ্যে হর্ন নিজেই পুঞ্চিনেলোর এক সদস্য রিকোকে চিঠি প্রেরণ করেছিল।

কম্পিউটার ঘাটাঘাটি করে লক্ষ্য করে হর্ন বিভিন্ন অপকর্মের সাথে যুক্ত এবং এক পর্যায়ে জানতে পারে তিন বছর আগে ১৯৯৮ সালে যে মহিলা ম্যাক্সের বাড়িতে তিনজন মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে তার পরিবারকে হত্যা করতে পাঠিয়েছিল সে আসলে নিকোল হর্ন নিজেই কারণ তার স্ত্রী মিশেল তার কুকীর্তি জেনে গিয়েছিল এবং সে নিজেই এই ঘটনার সময়ে ম্যাক্সকে হুমকি প্রদান করার উদ্দেশ্যে ম্যাক্সের বাড়িতে ফোন করে কিন্তু ম্যাক্স না বুঝে তার ফোন ধরে তার কাছে সাহায্য চেয়েছিল কিন্তু সে না করে দেয় (আসলে ইনার সার্কেলের কেউ একজন নিকোল হর্নকে ফাঁসানোর জন্য ভালহালার প্রকল্পের বেআইনি ব্যবহার সম্বলিত ফাইল শহরের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিসে পাঠিয়ে দিয়েছিল যাতে নিকোল হর্ন ধরা পড়ে। আর সেই সময় মিশেল সেখানে কাজ করত। একদিন কাজ করার সময়ে মিশেল দুর্ঘটনাবশত ঐ ফাইল দেখে ফেলে এবং ম্যাক্সকে দেখানোর জন্য চেষ্টা করে কিন্তু ম্যাক্সের ব্যস্ততার জন্য সে এটি দেখাতে পারেনি আর যখন নিকোল হর্ন যখন এ ব্যাপারে জানতে পারে তখন সে ঐ তিনজনকে ম্যাক্সের বাড়িতে পাঠায় আর ঐ তিনজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি ম্যাক্সের স্ত্রী ও মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যা করে)।

অতঃপর ম্যাক্স তাকে আটকাতে ভবনের সর্বোচ্চ তলায় যায়। কিন্তু হর্ন ম্যাক্সের উপস্থিতি টের পেয়ে তার লোকদের নির্দেশ দেয় তাকে হত্যা করতে ও সেখানে থেকে পালিয়ে যায়। ম্যাক্স হর্নের সকল লোকদের হত্যা করে তার পিছু নেয়। হর্ন যখন হেলিকপ্টারে পালানোর চেষ্টা করে, ম্যাক্স ভবনের অ্যান্টেনার তার কেটে দেয় ও এম৭৯ গ্রেনেড লঞ্চার দিয়ে অ্যান্টেনায় আঘাত করে, ফলে অ্যান্টেনা ভেঙে পড়ে হেলিকপ্টারে আঘাত করে এবং হর্ন নিহত যায় ও ঐ হেলিকপ্টারে আগুন ধরে যায়। এরপর ম্যাক্স ভবনের সর্বোচ্চ তলায় হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষ দেখে উপলব্ধি করে যে এই শহরের হর্নের আধিপত্য শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু পুলিশ পুরো ভবন ঘিরে ফেললে ম্যাক্স এক পর্যায়ে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয় এবং পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে ভবন থেকে বাইরে নিয়ে আনে। বাইরে ভিড়ের মধ্যে উডেনকে দেখে ম্যাক্স হাসে কারণ সে ভালভাবে জানে যে উডেন তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

চরিত্র

[সম্পাদনা]

প্রধান চরিত্র

[সম্পাদনা]
  • ম্যাক্সওয়েল পেইন: এই গেমে সে ম্যাক্স পেইন নামে সর্বাধিক পরিচিত। এনওয়াইপিডির এক সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা যে একদিন সে তার এক বন্ধুর কাছ থেকে ডিইএ এর যোগদান করার জন্য প্রস্তাব পেয়েছিল কিন্তু শুরুতে সে রাজি হয় না। ১৯৯৮ সালে একদিন তিনজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি তার বাড়িতে অতর্কিত আক্রমণ চালালে তার স্ত্রী এবং তার এক কন্যা সন্তান নৃশংসভাবে নিহত হয়। এরপর সে যখন জানতে পারে ঐ তিনজন আক্রমণকারী কুখ্যাত ভ্যালকির সেবন করেছিল তখন সে তার বন্ধু অ্যালেক্সের মাধ্যমে ডিইএ তে যোগ দেয় এবং ভ্যালকিরের সাথে যুক্ত সকলকে নির্মূল করতে সক্ষম হয়।
  • অ্যালেক্স বাল্ডার: ডিইএ এর এক এজেন্ট ও ম্যাক্সের বন্ধু যে একদিন ম্যাক্সকে তার সাথে কাজ করার জন্য ডিইএ-তে আসার জন্য আহ্বান করে। ম্যাক্স শুরুতে রাজি না হলে ১৯৯৮ সালে তার স্ত্রী-সন্তান নৃশংসভাবে নিহত হলে ম্যাক্স এক পর্যায়ে বাধ্য হয় তার মাধ্যমে ম্যাক্স ডিইএ-তে যোগ দেয়। একদিন ম্যাক্স বি.বি এর কাছ থেকে জানতে পারে সে ম্যাক্সের সাথে শহরের একটি সাবওয়ে স্টেশনে দেখা করতে চায়। ম্যাক্স এই স্থানে পৌছালে তার সাথে ম্যাক্সের সাথে দেখা হয় ও সে ম্যাক্সকে জানায় এখানে যে ব্যাংকে ডাকাতি হয়েছে সেটার জন্য লুপিনো লোকেরা দায়ী। কিন্তু এক পর্যায়ে বি.বি তাকে গুলি করে হত্যা করে।
  • ভিনি গগনিটি: নিউইয়র্কের কুখ্যাত পুঞ্চিনেলো ক্রাইম ফ্যামিলির এক সদস্য ও জ্যাক লুপিনোর প্রধান সহকারী যে জ্যাক লুপিনোর সমস্ত কর্মকাণ্ড ও ব্যবসা দেখাশোনা করে। একদিন যখন তাদের ভ্যালকির মাদকের চুক্তি ব্যাহত হয়, তখন সে তার লোকদের ম্যাক্সকে হত্যা করার নির্দেশ দেয় কিন্তু ম্যাক্সের হাতে তার অনেক লোক নিহত হয়। একদিন যখন ম্যাক্স লুপিনোর অফিসে ঢুকে পড়ে তখন সে ম্যাক্সের উপস্থিতি টের পেয়ে তার দেহরক্ষীদের ম্যাক্সকে হত্যা করতে নির্দেশ দেয় ও সে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। কিন্তু এক পর্যায়ে সে ম্যাক্সের কাছে হাতেনাতে ধরা পড়ে তখন সে ম্যাক্সকে লুপিনোর ঠিকানা দিয়ে দেয়।
  • জ্যাক লুপিনো: নিউইয়র্কের কুখ্যাত পুঞ্চিনেলো ক্রাইম ফ্যামিলির উপপ্রধান যে শহরের সব স্থানে ভ্যালকির মাদক সরবরাহ ও শহরে র‍্যাগনা রক নাইটক্লাব পরিচালনা করে। এই গেমে তাকে বদমেজাজি চরিত্র হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়। একদিন ম্যাক্স যখন জানতে পারে সে এই ভ্যালকির মাদক সরবরাহের সাথে যুক্ত। একদিন ম্যাক্স যখন তার প্রধান সহকারী ভিনি গগনিটিকে হাতেনাতে ধরে ফেলে তখন ভিনি ম্যাক্সকে জানায় সে তার নাইটক্লাবে অবস্থান করে। ম্যাক্স ঐ ঠিকানা পেয়ে তাকে ও তার লোকদের হত্যা করে। আর যখন মোনা সেখানে চলে আসে তখন মোনা জানায় সে নয় বরং ডন পুঞ্চিনেলো এই ঘটনার জন্য দায়ী।
  • মোনা স্যাক্স: একজন পেশাদার খুনি যে গল্পের রহস্যময় এবং গুরুত্বপূর্ণ নারী চরিত্র। জ্যাক লুপিনোর মৃত্যুর পর যখন সে ম্যাক্সের সাথে পরিচিত হয় তখন সে ম্যাক্সকে জানায় যে ম্যাক্সের পরিবার ও তার বন্ধু অ্যালেক্সকে হত্যা করেছিল সে জ্যাক লুপিনো নয় বরং শহরের পুঞ্চিনেলো ক্রাইম ফ্যামিলির প্রধান ডন পুঞ্চিনেলো নিজেই। একদিন ম্যাক্স যখন এইসার কর্পোরেশনের অফিসে আক্রমণ চালায় তখন তার সাথে ম্যাক্সের দেখা হলে হর্ন তাকে ম্যাক্সকে হত্যা করতে বলে কিন্তু সে এই কাজ করে না ও সে ম্যাক্সকে জানায় সে শুধুমাত্র বাজে লোকদের হত্যা করতে পারে।
  • ভ্লাদিমির লেম: নিউইয়র্কের এক স্থানীয় রাশিয়ান মাফিয়া প্রধান যে ভ্যালকির মাদক চুক্তি ব্যর্থ হবার পর তার অন্যতম প্রতিপক্ষ গ্যাং পুঞ্চিনেলো ক্রাইম ফ্যামিলির সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পরে। একদিন রাস্তায় তার সাথে ম্যাক্সের দেখা হলে সে ম্যাক্সের মাধ্যমে তার একসময়ের মিত্র ও বর্তমান বিশ্বাসঘাতক বরিসকে হত্যা করতে সক্ষম হয় ও তার একটি জাহাজ যেখানে সকল অস্ত্র ও গোলাবারুদ রয়েছে সেগুলো উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। যার ফলে সে তার জাহাজ থেকে সকল অস্ত্র পায় ও ম্যাক্সকে কিছু অস্ত্র দেয় যাতে ম্যাক্স পুঞ্চিনেলোর বাংলোতে আক্রমণ চালাতে পারে।
  • বরিস ডাইম: একজন রাশিয়ান মাফিয়া যে একসময়ে ভ্লাদের হয়ে কাজ করত। কিন্তু একদিন সে ভ্লাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে ভ্লাদের প্রতিপক্ষ পুঞ্চিনেলো ক্রাইম ফ্যামিলিতে যোগ দেয় ও ভ্লাদের অস্ত্রসজ্জিত জাহাজ নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় যাতে সেই সকল অস্ত্রসস্ত্র পুঞ্চিনেলোর লোকেরা ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু ম্যাক্স যখন ঐ জাহাজের সন্ধান পায় তখন সে তার অনুগত রাশিয়ান মাফিয়াকে ম্যাক্সকে হত্যা করতে নির্দেশ দেয়। কিন্ত এক তীব্র গোলাগুলিতে সে ম্যাক্সের হাতে নিহত হয়। তার মৃত্যুর পর অ্যাঞ্জেলো পুঞ্চিনেলোর কুকীর্তি যখন ফাঁস হয়ে যায় তখন অ্যাঞ্জেলো ম্যাক্সকে তার সাথে দেখা করতে বলে।
  • অ্যাঞ্জেলো পুঞ্চিনেলো: নিউইয়র্কের কুখ্যাত পুঞ্চিনেলো ক্রাইম ফ্যামিলির প্রধান যে সমগ্র নিউইয়র্ক শহরে কুখ্যাত ভ্যালকির মাদক সরবরাহ ও ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু বরিস ডাইমের মৃত্যুর পর যখন সে জানতে পারে ম্যাক্স তাকে আটক করতে আসবে তখন সে ম্যাক্সকে আমন্ত্রণ জানিয়ে তার রেস্তোরাঁয় আগুন ধরিয়ে দেয়। কিন্তু ম্যাক্স শত বাধা পেরিয়ে তার বাংলোতে চলে আসে। সে তার লোকদের ম্যাক্সকে নির্মূল করতে বলে। ম্যাক্সের হাতে তার সব লোক নিহত হয় এবং এক পর্যায়ে সে ম্যাক্সকের কাছে হাতেনাতে ধরা পরে ও সে যখন হর্নের ব্যাপারে কিছু বলতে যাবে তখন হর্নের লোকেরা তাকে হত্যা করে।
  • বি.বি: ডিইএ এর এজেন্ট যে ডিইএ এর পাশাপাশি কুখ্যাত এইসার কর্পোরেশনের প্রধান নিকোল হর্নের জন্য কাজ করে। ২০০১ সালের একদিন সে ম্যাক্সকে শহরের একটি সাবওয়ে স্টেশনে অ্যালেক্সের সাথে দেখা করতে বলে তখন ম্যাক্স আলেক্সের সাথে দেখা করতে ঐ স্থানে চলে যায়। কিন্তু এক পর্যায়ে সে অ্যালেক্সকে গুলি করে হত্যা করে সেখানে থেকে পালিয়ে যায়। যখন ম্যাক্স তার সাথে একটি পার্কিং লটে দেখা করতে যায় তখন ম্যাক্স সব সত্যতা বুঝতে পারে যে ঐ মিটিং ঠিক করেছিল শুধুমাত্র ম্যাক্সকে অ্যালেক্স হত্যাকাণ্ডে ফাঁসানোর জন্য যাতে পুলিশ ম্যাক্সের পিছু নিতে পারে ও ম্যাক্স হর্নের পথ থেকে সরে যায়। কিন্তু এক পর্যায়ে ম্যাক্সের হাতে নিহত হয়।
  • অ্যালফ্রেড ওডেন: নিউইয়র্কের এক গোপন সংগঠন ইনার সার্কেলের প্রধান সদস্য যে শুরুতে ম্যাক্সকে বিভিন্ন স্থানে ফোন কলের মাধ্যমে ম্যাক্সকে আসন্ন বিপদ সম্পর্কে অবহিত করে। একদিন সে যখন জানতে পারে তাদের এক সময়ের সহকর্মী নিকোল হর্ন ইনার সার্কেল থেকে বের হয়ে এই কুখ্যাত ভ্যালকির মাদক ছড়িয়ে দিয়েছিল তখন সে মনে করে তার এই অপকর্মের জন্য সমগ্র ইনার সার্কেলের বদনাম হবে। তাই সে একদিন ম্যাক্সকে হর্নের ব্যাপারে অবহিত করে ও জানায় যদি ম্যাক্স হর্নকে নির্মূল করতে সক্ষম হয়, তাহলে সে ম্যাক্সকে তার সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে সাহায্য করবে।
  • নিকোল হর্ন: নিউইয়র্কের কুখ্যাত এইসার কর্পোরেশনের সভাপতি যে সমগ্র নিউইয়র্ক শহরে ভ্যালকির মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে। একসময়ে সে ইনার সার্কেলের সদস্য ছিল কিন্তু এক পর্যায়ে সে ইনার সার্কেল থেকে বের হয়ে ভ্যালকির ব্যবসার মত বেআইনি কাজে লিপ্ত হয়। একদিন যে যখন জানতে পারে যে ম্যাক্সের স্ত্রী মিশেল তার অপকর্মের সব তথ্য জেনে যায় তখন সে তিনজনের শরীরে উচ্চমাত্রায় ভ্যালকির মাদক ঢুকিয়ে দিয়ে ম্যাক্সের পরিবারকে হত্যা করতে ম্যাক্সের বাড়িতে পাঠায়। একদিন যখন ম্যাক্স ওডেনের কাছ থেকে তার সম্পর্কে সব জানতে পারে তখন ম্যাক্স তার অফিসে প্রবেশ করে তার সব লোকদের হত্যা করে ও সর্বশেষ সে ম্যাক্সের হাতে নিহত হয়।

অপ্রধান চরিত্র

[সম্পাদনা]
  • মিশেল পেইন: ম্যাক্সের স্ত্রী যে ১৯৯৮ সালে একদল মাদকাসক্ত লোকদের হাতে নিহত হয়।
  • রোজ পেইন: ম্যাক্স ও মিশেল দম্পতির একমাত্র মেয়ে যে ১৯৯৮ সালে তার মায়ের সাথে একদল মাদকাসক্ত লোকদের হাতে নিহত হয়।
  • জিম ব্রাভুরা: এনওয়াইপিডির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যার নির্দেশে পুলিশ ম্যাক্সকে গ্রেফতার করে।
  • ফ্রাঙ্কি নায়াগ্রা: এই গেমে সে দ্যা ব্যাট নামে সর্বাধিক পরিচিত। এক গ্যাং সদস্য যে পুঞ্চিনেলোর জন্য কাজ করে।
  • জোয়ি ফিনিটো: পুঞ্চিনেলোর উচ্চপদস্থ সদস্য।
  • ভার্জিলো ফিনিটো: জোয়ি ফিনিটোর ছোট ভাই ও পুঞ্চিনেলোর উচ্চপদস্থ সদস্য।
  • রিকো মুয়ের্তে: পুঞ্চিনেলোর সদস্য।
  • ক্যান্ডি ডন: রিকোর প্রেমিকা ও পুঞ্চিনেলোর সদস্য।
  • লিসা পুঞ্চিনেলো: আঞ্জেলো পুঞ্চিনেলোর স্ত্রী ও মোনার জমজ বোন।
  • কিরা সিলভার: একজন সাংবাদিক।
  • ভিন্স মুগিয়ানো: অ্যাঞ্জেলো পুঞ্চিনেলোর প্রধান সহকারী।
  • পাইলেট প্রভিডেন্স: এই গেমে বিগ ব্রাদার নামে সর্বাধিক পরিচিত। অ্যাঞ্জেলো পুঞ্চিনেলোর প্রধান সহকারী।
  • জো সালেম: এই গেমে ডেডপ্যান নামে সর্বাধিক পরিচিত। অ্যাঞ্জেলো পুঞ্চিনেলোর প্রধান সহকারী।

উত্তরাধিকার ও প্রভাব

[সম্পাদনা]

মুক্তির পর ম্যাক্স পেইন গেমটি সমালোচক এবং খেলোয়াড় উভয়ের কাছেই বিপুল জনপ্রিয়তা পায়। এর গুমোট পরিবেশ এবং দুর্দান্ত কাহিনীর জন্য এটি ২০০১ সালের সেরা গেমগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ২০০৩ সালে ম্যাক্স পেইন ২: দ্য ফল অফ ম্যাক্স পেইন এবং ২০১২ সালে ম্যাক্স পেইন ৩ মুক্তি পায়। ২০০৮ সালে এই গেমের কাহিনী অবলম্বনে একটি চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়েছে।

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]