মৌলের পর্যায়বৃত্ত ধর্ম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মৌলের পর্যায়বৃত্ত ধর্ম। Ionization energy= আয়নিকরণ শক্তি, Electron affinity= ইলেকট্রন আসক্তি, Atomic radius= পারমাণবিক ব্যাসার্ধ/আকার, Metallic character= ধাতব ধর্ম, Nonmetallic character= অধাতব ধর্ম

কোন মৌলের গ্রুপ এবং পর্যায় পরিবর্তনের ফলে যেসব ধর্মাবলী পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হয় সেগুলোকে মৌলের পর্যায়বৃত্ত ধর্ম বা Peroidic Trends বলে। এসব ধর্ম পর্যায় সারণিতে মৌলের অবস্থান পরিবর্তনের উপর ভিত্তি করে পরিবর্তিত হয়।[১] মৌলের পর্যায়বৃত্ত ধর্মগুলো হলঃ-

ধাতব ধর্ম[সম্পাদনা]

যেসব মৌল এক বা একাধিক ইলেকট্রন ত্যাগ করে ধণাত্মক আয়নে পরিণত হয় তাদের ধাতু বলে।

ধাতুর ইলেকট্রন ত্যাগের ধর্মকে ধাতব ধর্ম বলে যেসব পরমাণু যত সহজে তার বহিস্থ শক্তিস্তরের এক বা একাধিক ইলেকট্রন ত্যাগ করতে পারে সেসব মৌলের ধাতব ধর্ম বেশি।

পর্যায় সারণিতে একই পর্যারের বাম থেকে ডানে গেলে ধাতব ধর্ম হ্রাস পায়।

অধাতব ধর্ম[সম্পাদনা]

যেসব মৌল এক বা একাধিক ইলেকট্রন গ্রহণ করে ঋণাত্মক আয়নে পরিণত হয় তাদের অধাতু বলে।

অধাতুর ইলেকট্রন গ্রহণের ধর্মকে ধাতব ধর্ম বলে যেসব পরমাণু যত সহজে তার বহিস্থ শক্তিস্তরের এক বা একাধিক ইলেকট্রন গ্রহণ করতে পারে সেসব মৌলের অধাতব ধর্ম বেশি।

পর্যায় সারণিতে একই পর্যারের বাম থেকে ডানে গেলে অধাতব ধর্ম বৃদ্ধি পায়।

পারমাণবিক ব্যাসার্ধ[সম্পাদনা]

কোন পরমাণুর নিউক্লিয়াসের কেন্দ্র থেকে তার সর্ববহিস্থ শক্তিস্তরের মধ্যকার দূরত্বকে পারমাণবিক ব্যাসার্ধ বলে।

একই পর্যায়ের বাম দিক থেকে যত ডানে যাওয়া যায়, মৌলের প্রোটন সংখ্যা তত বাড়তে থাকে। ফলে সমহারে ইলেকট্রন সংখ্যাও বাড়তে থাকে। ফলে পরমাণুর নিউক্লিয়াসের অধিক প্রোটন এবং বাহিরের ঘূর্ণয়মান ইলেকট্রনের মধ্যে আকর্ষণ বেশি হয়। ফলে শক্তিস্তর গুলো নিউক্লিয়াসের কাছে এসে যায়।ফলে পরমাণুর ব্যাসার্ধ কমে আকার ছোট হয়ে যায়। কিন্তু একই গ্রুপের ওপর থেকে নিচের দিকে গেলে ইলেকট্রন এবং প্রোটন বাড়ার ফলে ব্যাসার্ধ কিছুটা ছোট হলেও নতুন শক্তিস্তর যোগ হওয়ার মাধ্যমে ব্যাসার্ধ তার চেয়ে বেশি বৃদ্ধি পায়।

অর্থাৎ, ডান থেকে বামে গ্রুপের পরিবর্তন হওয়ার ফলে পারমানবিক ব্যাসার্ধ হ্রাস পায়। অন্যদিকে ওপর থেকে নিচে পর্যায়ের পরিবর্তনের ফলে পারমানবিক ব্যাসার্ধ বৃদ্ধি পায়।

আয়নিকরণ শক্তি[সম্পাদনা]

গ্যাসীয় অবস্থায় এক মোল গ্যাসীয় পরমাণু থেকে এক মোল ইলেকট্রন অপসারণ করে এক মোল ধনাত্মক আয়নে পরিণত করতে যে পরিমাণ শক্তির প্রয়োজন হয়, তাকে ঐ মৌলের আয়নিকরণ শক্তি বলে।

পর্যায় সারণির একই পর্যায়ের বামের মৌলের আকার বড় অর্থাৎ পারমাণবিক ব্যাসার্ধ বেশি। আবার, একই গ্রুপের ওপরের মৌলের চেয়ে নিচের মৌলের আকার বড়। অর্থাৎ,পারমাণবিক ব্যাসার্ধ বেশি।

পারমাণবিক ব্যাসার্ধ কমলে আয়নিকরণ শক্তির মান বাড়ে, আর পারমাণবিক ব্যাসার্ধ বাড়লে আয়নিকরণ শক্তির মান কমে।

অর্থাৎ, একই পর্যায়ের বাম থেকে ডানে গেলে আয়নিকরণ শক্তির মান বৃদ্ধি পায়। একই গ্রুপের ওপর থেকে নিচে গেলে আয়নিকরণ শক্তি হ্রাস পায়।

ইলেকট্রন আসক্তি[সম্পাদনা]

গ্যাসীয় অবস্থায় এক মোল গ্যাসীয় পরমাণু থেকে এক মোল ইলেকট্রন অপসারণ করে এক মোল ধনাত্মক আয়নে পরিণত করতে যে পরিমাণ শক্তির প্রয়োজন হয়, তাকে ঐ মৌলের ইলেকট্রন আসক্তি বলে।

পর্যায় সারণির একই পর্যায়ের বামের মৌলের আকার বড় অর্থাৎ পারমাণবিক ব্যাসার্ধ বেশি।

পারমাণবিক ব্যাসার্ধ কমলে ইলেকট্রন আসক্তির মান বাড়ে, আর পারমাণবিক ব্যাসার্ধ বাড়লে ইলেকট্রন আসক্তির মান কমে।

অর্থাৎ, একই পর্যায়ের বাম থেকে ডানে গেলে ইলেকট্রন আসক্তির মান বৃদ্ধি পায়।একই গ্রুপের ওপর থেকে নিচে গেলে ইলেকট্রন আসক্তি হ্রাস পায়।

তড়িৎ ঋণাত্মকতা[সম্পাদনা]

সমযোজী বন্ধনের পরমাণু গুলো বন্ধনের শেয়ারকৃত ইলেকট্রন গুলোকে নিজের দিকে টেনে নেয়ার প্রবণতাকে তড়িৎ ঋণাত্মকতা'" বলে।

পারমাণবিক ব্যাসার্ধ কমলে তড়িৎ ঋণাত্মকতার মান বাড়ে, আর পারমাণবিক ব্যাসার্ধ বাড়লে তড়িৎ ঋণাত্মকতার মান কমে।

অর্থাৎ, একই পর্যায়ের বাম থেকে ডানে গেলে তড়িৎ ঋণাত্মকতার মান বৃদ্ধি পায়।একই গ্রুপের ওপর থেকে নিচে গেলে তড়িৎ ঋণাত্মকতা হ্রাস পায়।

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Harry H. Sister (১৯৬৩)। Electronic structure, properties, and the periodic law.। New York: Reinhold publishing corporation। The physical and chemical properties of elements are periodic functions of the charges on their atomic nuclei i.e. their atomic numbers.