বিষয়বস্তুতে চলুন

মো: কেরামত আলী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ড. কেরামত আলী
এম. পি
কেরামত আলী, নভেম্বর ২০২৫
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের
সংসদ সদস্য
দায়িত্বাধীন
অধিকৃত কার্যালয়
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পূর্বসূরীসামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল
নির্বাচনী এলাকাচাঁপাইনবাবগঞ্জ-১
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম (1958-02-01) ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৮ (বয়স ৬৮)
শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বাংলাদেশ
জাতীয়তাবাংলাদেশী
রাজনৈতিক দলবাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
দাম্পত্য সঙ্গীমোসা. মোসলেমা খাতুন
সন্তানতিন ছেলে, এক মেয়ে
পিতামাতাপিতাঃ মো. দাউদ আলী মাতাঃ মোসা. আনোয়ারা বেগম। ( ১৯৭৬ সালে মারা গেছেন)
শিক্ষামাস্টার্স ও পিএইচডি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
পেশারাজনীতিবিদ

কেরামত আলী (জন্ম: ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৮) একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্য[]

ব্যক্তিজীবন

[সম্পাদনা]

মাওলানা কেরামত আলী ১৯৫৮ সালের ১ ফেব্রুয়ারি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার জালমাছমারী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মো. দাউদ আলী ছিলেন এলাকার স্বনামধন্য চিকিৎসক ও আলেম। ১২ ভাইবোনের মধ্যে কেরামত আলী বাবা-মায়ের চতুর্থ সন্তান।

শিক্ষাজীবন

[সম্পাদনা]

পড়াশোনার হাতেখড়ি পিতার কাছে। প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিলো শিবগঞ্জ মডেল প্রাইমারি স্কুল। তিনি ভবানীপুর দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৯৭৪ সালে দাখিল পাস করেন। আলিম করেন ছত্রাজিতপুর ফাযিল মাদ্রাসা থেকে। এরপর ফাযিল (স্নাতক) পাস করেন টুমচর ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে এবং মাদ্রাসা-ই-আলিয়া ঢাকা ডাবল কামিল (হাদীস ও তাফসীর) পাস করেন। এছাড়াও রাজশাহী নিউ গভ. ডিগ্রী কলেজে ১৯৭৯ সালে ইন্টারমেডিয়েট পাশ করেন। এরপর ১৯৭৯-৮০ সেশনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে অনার্সে ভর্তি হন। ১৯৮৩ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞান থেকে এবং ১৯৮৭ সালে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ থেকে মাস্টার্স শেষ করেন। এছাড়াও ২০১৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে "চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলে ইসলাম প্রচার ও সমাজ সংস্কারে আলিমদের ভূমিকা (১৯০০-২০০৬ খ্রিস্টাব্দ)" শীর্ষক অভিসন্দর্ভের জন্য পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

কর্মজীবন

[সম্পাদনা]

১৯৯১ শিবগঞ্জ ইসলামী একাডেমীতে প্রিন্সিপাল হিসেবে যোগদান করেন। এরপর ১৯৯৯ সালে ছত্রাজিতপুর ফাযিল মাদ্রাসায় প্রভাষক পদে যোগ দেন। ২০১৮ সালে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।

রাজনৈতিক জীবন

[সম্পাদনা]

কেরামত আলী ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী ও সাথী হন। এরপর সদস্য শপথ গ্রহণ করেন ১৯৮১ সালে। সেসময় নিউ গভ. ডিগ্রী কলেজে মহানগর বায়তুলমাল সহকারী, ১৯৮২ সালে মহানগর সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৮ সেশনের মে পর্যন্ত বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির রাজশাহী মহানগর শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এরপর কেন্দ্রে ছাত্রশিবিরের বিদেশ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব শেষ করেন। পরবর্তীকালে ১৯৯০-২০০০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শিবগঞ্জ উপজেলা আমীর, ২০০০-২০০৬ সাল পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সেক্রেটারি, ২০০৬-২০১৮ সাল পর্যন্ত জেলা নায়েবে আমীর ও কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্যর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ থেকে বর্তমানে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রাজশাহী মহানগরী আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।[]

কারানির্যাতন

[সম্পাদনা]

কেরামত আলী তার রাজনৈতিক জীবনে ৯ বার কারাবরণ করেন। মিথ্যা মামলায় ১ম গ্রেফতার হন ১৯৯১ সালে এবং ২য় গ্রেফতার হন ১৯৯২ সালে। এরপর আওয়ামী ফ্যাসিবাদী আমলে ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে, ২০১৩ সালে, ২০১৪ সালে, ২০১৬ সালে, ২০১৭ সালে ও সর্বশেষ ২০২৩ সালে গ্রেফতার হন। সর্বমোট মামলা সংখ্যা ৫৪, সর্বমোট জেলজীবন ৩ বছর।

জনপ্রতিনিধি

[সম্পাদনা]

কেরামত আলী ২০০৯ সালে প্রথমবার শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে বিপুলভোটে নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে কারান্তরীণ অবস্থায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ২য় বারে অংশগ্রহণ করে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। ২০২৬ সালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

রচনা ও উল্লেখযোগ্য অবদান

[সম্পাদনা]

অদ্যাবধি তার একটি বই প্রকাশিত হয়েছে। গ্রন্থের নাম চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলে ইসলাম প্রচারের এক শতাব্দী। এছাড়াও আরও কিছুসংখ্যক গ্রন্থ লেখার কাজ চলছে। এছাড়াও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবকাঠামো ও রাস্তাঘাট নির্মাণে তার অবদান আছে।

সমাজসেবায় অবদান

[সম্পাদনা]

কেরামত আলী দাওয়াতুল ইসলাম ট্রাস্ট-এর প্রধান উপদেষ্টা, রাজশাহীস্থ চাঁপাইনবাবগঞ্জ ফোরামের উপদেষ্টা এবং রুয়ার নির্বাচিত সহ-সভাপতি। পাশাপাশি বিভিন্ন স্কুল, কলেজ প্রতিষ্ঠা এবং পরিচালনায় তার অবদান রয়েছে। কেরামত আলী শিবগঞ্জ ইসলামী একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের মধ্যে অন্যতম। তার সহকর্মীদের নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন শিবগঞ্জ ইয়াতিমখানা। বর্তমানে তিনি শিবগঞ্জ ইয়াতিম খানার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি শিবগঞ্জ ইসলামী একাডেমীর ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে কেরামত আলী শাহ নেয়ামতউল্লাহ ট্রাস্ট-এর চেয়ারম্যান। এছাড়াও শাহবাজপুর সোনামসজিদ ডিগ্রী কলেজ, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর ডিগ্রী কলেজ, মনাকষা হাজী এশান কারিগরি কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে গুরূত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

আরো দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. প্রতিনিধি, জেলা (১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)। "চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিন আসনেই জামায়াতের জয়"dhakapost.com। সংগ্রহের তারিখ ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  2. "রাজশাহী মহানগর জামায়াতের আমীর ড. কেরামত, সেক্রেটারি ইমাজ - Archive"Manab Zamin (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৪ নভেম্বর ২০২৪

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]