মোহাম্মদ আলী রাজাই
মোহাম্মদ-আলি রাজাই | |
|---|---|
محمدعلی رجایی | |
রাজাই, আনুমানিক ১৯৮০–১৯৮১ | |
| ২য় ইরানের প্রেসিডেন্ট | |
| কাজের মেয়াদ ২ আগস্ট ১৯৮১ – ৩০ আগস্ট ১৯৮১ | |
| সর্বোচ্চ নেতা | রুহুল্লাহ খোমেনি |
| প্রধানমন্ত্রী | নিজে মোহাম্মদ-জাওয়াদ বাহোনার |
| পূর্বসূরী | আবোলহাসান বানিসাদর (জুন ১৯৮১) |
| উত্তরসূরী | আলি খামেনি (অক্টোবর ১৯৮১) |
| ৪২তম ইরানের প্রধানমন্ত্রী | |
| কাজের মেয়াদ ১২ আগস্ট ১৯৮০ – ৪ আগস্ট ১৯৮১ | |
| রাষ্ট্রপতি | আবোলহাসান বানিসাদর নিজে |
| পূর্বসূরী | মেহদি বাজারগান (১৯৭৯) |
| উত্তরসূরী | মোহাম্মদ জাওয়াদ বাহোনার |
| ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারপ্রাপ্ত | |
| কাজের মেয়াদ ১১ মার্চ ১৯৮১ – ১৫ আগস্ট ১৯৮১ | |
| রাষ্ট্রপতি | আবোলহাসান বানিসাদর |
| প্রধানমন্ত্রী | নিজে |
| পূর্বসূরী | কারিম খোদাপনাহী (ভারপ্রাপ্ত) |
| উত্তরসূরী | মির-হোসেইন মুসাভি |
| ইরানের শিক্ষামন্ত্রী | |
| কাজের মেয়াদ নভেম্বর ১৯৭৯ – ২৮ মে ১৯৮০ | |
| প্রধানমন্ত্রী | মেহদি বাজারগান |
| পূর্বসূরী | ঘোলাম-হোসেইন শোকুহি |
| উত্তরসূরী | মোহাম্মদ জাওয়াদ বাহোনার |
| ইরানের সংসদ সদস্য | |
| কাজের মেয়াদ ২৮ মে ১৯৮০ – ১ আগস্ট ১৯৮১ | |
| নির্বাচনী এলাকা | তেহরান, রেই, শেমিরানাত এবং ইসলামশাহর |
| সংখ্যাগরিষ্ঠ | ১,২০৯,০১২ (৫৬.৬%) |
| মোস্তাজাফান ফাউন্ডেশনের প্রধান | |
| কাজের মেয়াদ ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৮০ – ৩০ আগস্ট ১৯৮১ | |
| নিয়োগদাতা | রুহুল্লাহ খোমেনি |
| পূর্বসূরী | আলিনাঘি খামুশি |
| উত্তরসূরী | মির-হোসেইন মুসাভি |
| ব্যক্তিগত বিবরণ | |
| জন্ম | ১৫ জুন ১৯৩৩ কাজভিন, পারস্য সাম্রাজ্য |
| মৃত্যু | ৩০ আগস্ট ১৯৮১ (বয়স ৪৮) তেহরান, ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র |
| সমাধিস্থল | বেহেশ্তে জাহরা |
| রাজনৈতিক দল | ইসলামি রিপাবলিকান পার্টি ইরানের শিক্ষক সমিতির ইসলামি সংঘ |
| অন্যান্য রাজনৈতিক দল | স্বাধীনতা আন্দোলন (১৯৭৯ পর্যন্ত) মুজাহিদিনে খালক (১৯৭৫ পর্যন্ত) |
| দাম্পত্য সঙ্গী | আতেঘে সেদিকি (বি. ১৯৫৮) |
| সন্তান | ৩ |
| প্রাক্তন শিক্ষার্থী | তারবিয়াত মোআলেম বিশ্ববিদ্যালয় |
| স্বাক্ষর | |
মোহাম্মদ-আলী রাজাই (ফার্সি: محمدعلی رجایی; ১৫ জুন ১৯৩৩ – ৩০ আগস্ট ১৯৮১) ছিলেন একজন ইরানি রাজনীতিবিদ যিনি ২ আগস্ট ১৯৮১ থেকে চার সপ্তাহ পরে তার হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত ইরানের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে, রাজাই আবোলহাসান বনিসদরের অধীনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, একই সাথে ১১ মার্চ ১৯৮১ থেকে ১৫ আগস্ট ১৯৮১ পর্যন্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। ১৯৮১ সালের ৩০ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ-জাওয়াদ বাহোনারের সাথে এক বোমা হামলায় তিনি নিহত হন।[১]।
প্রাথমিক জীবন এবং শিক্ষা
[সম্পাদনা]
মোহাম্মদ-আলী রাজাই ১৯৩৩ সালের ১৫ জুন ইরানের কাজভিনে জন্মগ্রহণ করেন।[২] তার বাবার নাম ছিল আবদুলসামাদ। তিনি একজন দোকানদার ছিলেন। মাত্র চার বছর বয়সে আলী রাজাই তার পিতাকে হারান।[৩][৪] রাজাই কাজভিনে বেড়ে ওঠেন এবং ১৯৪০-এর দশকের শেষের দিকে তেহরানে চলে আসেন। প্রথমে তিনি একটি কামারের দোকানে কাজ নেন। তিনি ষোল বা সতেরো বছর বয়সে বিমান বাহিনীতে যোগ দেন।[৫][৬] তিনি পাঁচ বছর পর বিমান বাহিনী থেকে পদত্যাগ করেন। ১৯৫৯ সালে তিনি তারবিয়াত মোয়াল্লেম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষায় ডিগ্রি অর্জন করেন, পরে গণিতের শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন।[৪][৬] স্নাতক ডিগ্রি লাভ করার পর শিক্ষকতা শুরু করেন। এরপর তিনি পরিসংখ্যানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
রাজনৈতিক জীবন
[সম্পাদনা]মোহাম্মদ আলী রাজায়ি মেহেদি বজারগান,এযযাতুল্লাহ সাহাবি এবং সাইয়্যেদ মাহমুদ তালেকানির পাশে জেবহে মিল্লি দলে (জাতীয় ফ্রন্টে) তাঁর রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু করেন এবং তারপরে ইরানের নাহযাতে আযাদি (স্বাধীনতা আন্দোলন) দলের সদস্য হন এবং আন্দোলনের প্রকাশনার বিষয়টি কাজভিনে স্থানান্তরিত করেন। তিনি ১৩৪২ (১৯৬৩ খ্রি.) সালের উর্দিবেহেশত মাসে (মে) কাজভিনে আটক হন এবং তাঁকে কারাবন্দি করা হয়,কিন্তু দেড় মাস পরে মুক্তি পান এবং তেহরানের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন। তিনি ১৩৫৩ সালে (১৯৭৪) আবার সাভাক কর্তৃক গ্রেফতার হন ১৩৫৭ সালের আবান মাসে (নভেম্বর, ১৯৭৮ খ্রি.)-ইরানের ইসলামি বিপ্লব বিজয়ের-তিন মাস আগে মুক্তি পান। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী ড. গোলাম হোসেইন শুকুহির পদত্যাগের পর,রাজায়ি কিছু সময়ের জন্য এই মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বশীল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ইঞ্জিনিয়ার বজারগানের পদত্যাগের পর ১৩৫৮ সালের ২৫ আবান (১৯৭৯ সালের ১৬ নভেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ পান এবং তিনি শিক্ষাব্যবস্থাকে ইসলামিকরণের কাজ শুরু করেন। ১৩৫৯ সালের মোরদাদ (আগস্ট, ১৯৮০ খ্রি.)তিনি তেহরানের জনগণ কর্তৃক মজলিশে শুরায়ে ইসলামি (ইরানি পার্লামেন্ট) )-র প্রথম মেয়াদে সদস্য নির্বাচিত হন এবং তারপর প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন। আবোলহাসান বনি সদরকে অপসারণের পর,রাজায়ি দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ৮৮% ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন,তবে এই সময়কাল ২৮ দিনের বেশি স্থায়ী হয়নি এবং তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বোমা হামলায় প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ বাহোনারের সাথে নিহত হন।[৭]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "Mohammad Ali Rajaʾi prime minister of Iran"। www.britannica.com। Britannica। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুলাই ২০২৫।
- ↑ Houchang E. Chehabi (১৯৯০)। Iranian Politics and Religious Modernism: The Liberation Movement of Iran Under the Shah and Khomeini। I.B.Tauris। পৃ. ৮৭। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৮৫০৪৩-১৯৮-৫। সংগ্রহের তারিখ ২৭ আগস্ট ২০১৩।
- ↑ Brown, Roland Elliott (২০ এপ্রিল ২০১৭)। "Rajai: The Clerics' Loyalist (1981)"। IranWire।
- 1 2 "Documentary Biography of President Mohammad Ali Rajai"। Islamic Revolution International Center। ৬ নভেম্বর ২০১৬। ২ নভেম্বর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
- ↑ "Mohammad Ali Raja'i"। Encyclopædia Britannica। সংগ্রহের তারিখ ২৭ আগস্ট ২০১৩।
- 1 2 Kihss, Peter (১ সেপ্টেম্বর ১৯৮১)। "Obituaries | Mohammad Ali Rajai, Iran's President"। New York Times। ২৪ মে ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
- ↑ "Islamology and islamic revolution"। bn.icro। ২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুলাই ২০২৫।