মোস্তফা ওয়ালিউল্লাহ
শেখ মোস্তফা شيخ مصطفى செய்கு முஸ்தபா | |
|---|---|
| ব্যক্তিগত তথ্য | |
| জন্ম | ১৮৩৬ |
| মৃত্যু | ২৫ জুলাই ১৮৮৮ |
| সমাধিস্থল | জান্নাতুল মুয়াল্লা, মক্কা |
| জাতীয়তা | শ্রীলঙ্কা |
| আখ্যা | সুন্নি (সুফিজম) |
| ব্যবহারশাস্ত্র | শাফি |
| ধর্মীয় মতবিশ্বাস | আশআরি |
| তরিকা | কাদেরিয়া |
| ঊর্ধ্বতন পদ | |
| উত্তরসূরী | শেখ মোহাম্মদ বিন মোস্তফা |
যার দ্বারা প্রভাবিত
| |
যাদের প্রভাবিত করেন
| |
শেখ মোস্তফা (১৮৩৬ – ২৫ জুলাই ১৮৮৮), শেখ মোস্তফা ওয়ালিউল্লাহ নামে পরিচিত ( তামিল : அஷ் செய்கு முஸ்தபா(வலியுல்லாஹ்ப்) பாவா ஆதம்) শ্রীলঙ্কার একজন ইসলামিক পণ্ডিত ছিলেন । তিনি একজন কবি এবং সুফি ছিলেন। শেখ মুস্তফা কাদিরিয়্যাতুন নববিয়্যাহ সুফি সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। [১]
জীবনের প্রথমার্ধ
[সম্পাদনা]শেখ মুস্তাফার জন্ম শ্রীলঙ্কার বেরুওয়ালায়। তার পিতা বাওয়া আদম ছিলেন সুলতান জামালুদ্দিন বিন আলাউদ্দীন দুনুরাইনুল উসমানির বংশধর। তিনি ইসলামের তৃতীয় খলিফা উসমান ইবনে আফফানের বংশধর ছিলেন। সুলতান জামালুদ্দিন বিন আলাউদ্দীন তুরস্কের কোনিয়া শাসন করতেন। সুলতান জামালউদ্দিন এবং তার এগারো সঙ্গী শ্রীলঙ্কায় চলে আসেন। সেই সময় বেরুওয়ালায় রাজা ওয়াসান্থাহিমিয়ায়া শাসন করতেন। রাজা সুলতান জামালউদ্দিনকে সম্মান জানান এবং তাকে ও তার সঙ্গীদের তাদের মর্যাদা অনুযায়ী পদ প্রদান করেন। [২] সুলতান জামালউদ্দিন রাজার বোনকে বিয়ে করেন। পরে সুলতান জামালউদ্দিনের সঙ্গীরা শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন স্থানে যেমন কলম্বো, গলে, হাম্বানটোটা এবং বাট্টিকালোয়া-তে বসতি স্থাপন করে। তারা গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং বিজ্ঞানে বিষয়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন।
শেখ মুস্তফার পিতা তার চার বছর বয়সে মারা যান এবং তার মা কয়েক বছর পরে মারা যান। মায়ের মৃত্যুর পর তিনি তার বোনের তত্ত্বাবধানে চলে যান।
শিক্ষা
[সম্পাদনা]শেখ মুস্তফা বারো বছর বয়সে ইসলামী শিক্ষার জন্য ভারতের কায়ালপট্টিনামে যান। তিনি কায়ালপট্টিনামে বিভিন্ন পণ্ডিতের অধীনে অধ্যয়ন করেন। বিশেষ করে তিনি পালায়েম হাবিব মুহাম্মদ আলীম এবং তাইকা সাহেব ওয়ালীর[৩] অধীনে পড়াশোনা করেছেন। পরে তিনি মক্কায় যান এবং শায়খুল ইসলাম আহমদ জায়নি দাহলান, আস-শেখ হিসবুল্লাহ মক্কি, আস-শেখ আব্দুল হামিদ সারওয়ানির মতো পণ্ডিতদের অধীনে অধ্যয়ন করেন।
পরবর্তী জীবন
[সম্পাদনা]ইসলামী শিক্ষা সম্পন্ন করার পর তিনি শ্রীলঙ্কায় ফিরে আসেন এবং শিক্ষাদান শুরু করেন। তিনি ভারতের কায়ালপট্টিনামে অধ্যয়নকালে ইয়েমেনের হাদরামৌত থেকে আসা শেখ আহমেদ ইবনে মুবারক নামে একজন ইসলামী পণ্ডিতের সাথে সাক্ষাৎ করেন।
পরবর্তীতে শেখ মুস্তাফা শ্রীলঙ্কায় আহমদ ইবনে মুবারক মাওলানার সাথে দেখা করেন এবং তার আধ্যাত্মিক অনুসারী হন। শেখ মুবারক মাওলানা কাদিরিয়াথুন নববিয়্যাহ তরিকার সুফি আদেশ প্রতিষ্ঠা করেন যা কাদিরিয়া তরিকার একটি শাখা। শেখ মুবারক মাওলানা এবং শেখ মুস্তফা শ্রীলঙ্কার গল, বেরুওয়ালা, বালাপিতিয়া, থুন্ডুওয়া, কাহাতোয়িতা, মালওয়ানা, ভিয়াঙ্গাল্লা এবং অন্যান্য স্থানে ভ্রমণ করেন এবং সেসব গ্রামে তাক্কিয়া (সুফি ধ্যান কেন্দ্র) প্রতিষ্ঠা করেন।
তারা বেরুওয়ালায় একটি তাক্কিয়া (সুফি ধ্যান কেন্দ্র) প্রতিষ্ঠা করেন। এই তাক্কিয়া শ্রীলঙ্কায় কাদিরিয়্যাতুন নববিয়্যাহ তরিকার সদর দফতর। শেখ মুবারক মাওলানা পরে শেখ মুস্তফাকে ইজাজা প্রদান করেন এবং কাদিরিয়্যাতুন নববিয়্যাহ তরিকা সুফি সম্প্রদায়ের খিলাফা মঞ্জুর করেন।
শেখ মুবারক মাওলানা ১৮৬২ সালে মারা যান। তার দেহ গলে সমাহিত করা হয়। শেখ মুস্তফা কাদিরিয়্যাতুন নববিয়্যাহ তরিকার নেতা হন। ইয়েমেনের ইসলামী পণ্ডিত শেখ আহদাল মাওলানা শ্রীলঙ্কায় এসে বেরুওয়েলায় শেখ মুস্তাফার সাথে দেখা করেন। তারা দুজনেই বেরুয়েলা তক্কিয়ায় সহীহুল বুখারী বার্ষিক স্মরণ উৎসব (যা বেরুয়েলা বুখারী উৎসব নামে পরিচিত) শুরু করেছিলেন। তিনি ১৮৮৮ সালে তার ষষ্ঠ এবং শেষ হজ্জ পালন করেন। তিনি ২৫ জুলাই ১৮৮৮ সালে মক্কায় মারা যান। তার দেহ জান্নাতুল মুয়াল্লায় মক্কায় খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদের সমাধির নিকটে সমাহিত হয়। শেখ মুস্তফা প্রথম অনারব ব্যক্তি হিসেবে মক্কার জান্নাতুল মুয়াল্লায় সমাহিত হন।
কাজ
[সম্পাদনা]শেখ মুস্তাফা ছিলেন আরবি (আরবি-তামিল) সাহিত্যে অবদান রাখা একজন মহান পণ্ডিত।

শেখ মুস্তফা ধর্মীয় ও সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি কুরআনকে আরবি-তামিল ভাষায় অনুবাদ করেন। তার অনুবাদগ্রন্থের শিরোনাম ছিল "ফাতহুর রহমা ফি তারজিমাতি তাফসির আল-কুরআন"। এটি পাঁচ খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছিল হিজরি ১২৯১/১৮৭৪ সালে। [৪][৫][৬]
আরো দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Abdul Gafoor, M.S.M. (৫ ডিসেম্বর ১৯৯৯)। souvenir of Qadiriyatun Nabaviyyah Takkiya Malwaththa Malwana। পৃ. ৩১।
- ↑ Hilari, M.S.M. (১৯৪১)। Srilanka Muslim's Origins। Oriental News Agency।
- ↑ Shuʻayb ʻĀlim, Tayka (১৯৯৩)। Arabic, Arwi, and Persian in Sarandib and Tamil Nadu (1st সংস্করণ)। Imamul Aroos Trust। পৃ. ২৭৬। আইএসবিএন ৯৮১১৪২৯৬৯৩। ওএল 1063786M। সংগ্রহের তারিখ ১৮ নভেম্বর ২০২০।
- ↑ Gani, R.P.M. (১৯৬৩)। Islamiya Ilakkiyam। Madras। পৃ. ২১০।
- ↑ Shukri, M.A.N. (১৯৮৬)। Muslims of Srilanka। Jamiah Naleemia Inst.। পৃ. ৩৫২।
- ↑ Torsten Tschacher (2001). Islam in Tamilnadu: Varia. (Südasienwissenschaftliche Arbeitsblätter 2.) Halle: Martin-Luther-Universität Halle-Wittenberg. আইএসবিএন ৩-৮৬০১০-৬২৭-৯. (Online versions available on the websites of the university libraries at Heidelberg and Halle: http://archiv.ub.uni-heidelberg.de/savifadok/volltexte/2009/1087/pdf/Tschacher.pdf and http://www.suedasien.uni-halle.de/SAWA/Tschacher.pdf).
- ↑ Jameel, S.H.M. (১৯৪৭)। Suwadi Aatruppadai। Islamic Book Publish Agency, Kalmunai।