বিষয়বস্তুতে চলুন

মেহেরান করিমী নাসেরি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মেহেরান করিমী নাসেরি
مهران کریمی ناصری
জন্ম১৯৪৫ (1945)[]
মৃত্যু১২ নভেম্বর ২০২২(2022-11-12) (বয়স ৭৭)
অন্যান্য নামস্যার, আলফ্রেড মেহরান
নাগরিকত্ব

মেহেরান করিমী নাসেরি (ফার্সি: مهران کریمی ناصری, উচ্চারণ [mehˈrɒn kæriˈmi nɒseˈri]; ১৯৪৫ – ১২ নভেম্বর ২০২২) স্যার নামেও পরিচিত, আলফ্রেড মেহরান,[] একজন ইরানি শরণার্থী, যিনি ৮ আগস্ট ১৯৮৮ থেকে জুলাই ২০০৬ পর্যন্ত দীর্ঘ ১৮ বছর ফ্রান্সের “চার্লেস ডি গুলি” বিমানবন্দরের ডিপার্টচার লাউঞ্জে কাটিয়েছেন। অসুস্থ হবার পর তাকে বিমানবন্দর থেকে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। তার এই জীবনী নিয়ে একটি বইসহ বেশ কিছু চলচ্চিত্র তৈরি করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের নাম “দি টারমিনাল”।

প্রথম জীবন

[সম্পাদনা]

মেহেরান করিমী নাসেরি ইরানের মসজিদ সোলায়মান নামক স্থানে জন্ম গ্রহণ করেন। তার বাবা পেশায় একজন ডাক্তার ও মা একজন সেবিকা ছিলেন। তিনি সেপ্টেম্বর ১৯৭৩ সালে ইংল্যান্ডের বেডফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে যান তিন বৎসরের উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের উদ্দেশ্যে।

১৯৭৭ সালে ইরানে শিয়াদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তাকে স্বদেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর তিনি বিভিন্ন দেশে বসবাসের জন্য আবেদন করতে থাকেন। অতঃপর ইউনাটেড ন্যাশন হাই কমিশন ফর রিফিউজিস বেলজিয়ামের মাধ্যমে ইউরোপের যে কোন দেশে বসবাদের জন্য অনুমতি পান।

তার মা ইংল্যান্ডের নাগরিক থাকায় তিনি ইংল্যান্ডে নতুন আবাস গড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে মধ্যে ফ্রান্সের বিমানবন্দরে বিমান পরিবর্তনের সময় তার পাসপোর্ট সহ অন্যান্য কাগজপত্র ভর্তি ব্রিফকেস চুরি হয়ে যায়। ফ্রান্স থেকে বিমানে তাকে ইংল্যান্ড নিয়ে গেলেও সেখানে ইমিগ্রেশনে পাসপোর্ট জমা দিতে না পারায় তাকে আবার ফ্রান্সে পাঠিয়ে দেয়া হয়। ফ্রান্সে পৌছানোর সাথে সাথে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং পরে যেহেতু আইন সিদ্ধ ভাবে তিনি ফ্রান্স বিমান বন্দরে পৌছেন সেহেতু ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু পাসপোর্ট না থাকায় তাকে কোন দেশের নাগরিকের মর্যাদা দিয়ে সেখানে পাঠাতেও পারছিল না ফ্রান্সের কর্তৃপক্ষ। অবশেষে বিমান বন্দরের এক নম্বর টারমিনালের বাসিন্দা হিসাবে বসবাস আরম্ভ করেন।

১৯৯২ সালে ফ্রান্সের হিউম্যান রাইটসের পক্ষ থেকে তার পক্ষে আইনি লড়াই লড়লেও ফ্রান্স ঢোকার অনুমতি পাননি।

১৯৯৫ সালে অনেক প্রচেষ্টার পর বেলজিয়ামে শর্ত সাপেক্ষে যাবার অনুমতি পেলেও নাসেরী তা গ্রহণ করেননি শুধু মাত্র তার ইংল্যান্ডে যাবার মূল উদ্দেশ্য থাকায় ।

নাসেরির দীর্ঘ ১৮ বছরের বিমানবন্দরের জীবনে ১নং টারমিনালে দেখা যেত, পাশে তার ব্যাগ রেখে পড়তে, লিখতে। উক্ত সময়ে বিমানবন্দরের কর্মকর্তা বা কর্মচারীরা তার খাবার ও পত্রিকার ব্যবস্থা করতো।

মৃত্যু

[সম্পাদনা]

নাসেরী মৃত্যু বরন করেন ১১ নভেম্বর ২০২২ ইং।[][][]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "Mehran Karimi Nasseri, le SDF de Roissy qui a inspiré Spielberg est mort à l'aéroport"BFM TV (ফরাসি ভাষায়)। ১২ নভেম্বর ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ১২ নভেম্বর ২০২২
  2. "Stranded at the Airport"Snopes। ২ জুলাই ২০০৮। ২১ মার্চ ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ সেপ্টেম্বর ২০০৯
  3. "Mehran Karimi Nasseri, le réfugié de Roissy qui a inspiré " le Terminal " de Steven Spielberg, est mort dans l'aéroport"Le Monde.fr। ১২ নভেম্বর ২০২২।
  4. È morto Mehran Karimi Nasseri, l'uomo che ispirò il film The Terminal di Spielberg (ইতালীয় ভাষায়)
  5. "Iranian who made Paris airport home for 18 years dies"BBC News (ব্রিটিশ ইংরেজি ভাষায়)। ১২ নভেম্বর ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ১২ নভেম্বর ২০২২

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]