মেসসিনা
| মেসসিনা Missina (সিসিলীয়) Μεσσήνη (Greek)[১] | |
|---|---|
| কোমুনে | |
| কোমুনে দি মেসসিনা | |
মহানগরীতে শহরের অবস্থান | |
| দেশ | |
| অঞ্চল | সিসিলি |
| সরকার | |
| • নগরপ্রধান | ফেদেরিকো বাজিলে |
| আয়তন | |
| • মোট | ২১৩.৭৫ বর্গকিমি (৮২.৫৩ বর্গমাইল) |
| উচ্চতা | ৩ মিটার (১০ ফুট) |
| জনসংখ্যা (২০২৫)[২] | |
| • মোট | ২,১৬,৯১৮ |
| • জনঘনত্ব | ১,০০০/বর্গকিমি (২,৬০০/বর্গমাইল) |
| বিশেষণ | মেসসিনেজে |
| সময় অঞ্চল | কেইস (ইউটিসি+১) |
| • গ্রীষ্মকালীন (দিসস) | কেইগ্রীস (ইউটিসি+২) |
| ডাক সংকেত | 98100 |
| আঞ্চলিক সংকেত | 090 |
| পৃষ্ঠপোষক সাধু | Madonna of the Letter |
| সাধু দিবস | ৩রা জুন |
| ওয়েবসাইট | দাপ্তরিক ওয়েবসাইট |
মেসসিনা দক্ষিণ ইতালির সিসিলি (সিচিলিয়া) দ্বীপের একটি বন্দর শহর। এটি দ্বীপটির তৃতীয় বৃহত্তম (পালের্মো ও কাতানিয়া শহরের পরে) এবং সমগ্র ইতালির ১৩তম বৃহত্তম নগরী। মূল মেসসিনা শহরের জনসংখ্যা ২ লক্ষ ১৬ হাজারের কিছু বেশি এবং মেসসিনা মহানগরীতে প্রায় ৬ লক্ষ অধিবাসীর বাস। শহরটি সিসিলি দ্বীপের উত্তর-পূর্ব কোণে মেসসিনা প্রণালীর তীরে অবস্থিত। এটি ইতালির মূল ভূখণ্ডের কালাব্রিয়া অঞ্চল, ভিল্লা সান জোভান্নি, রেজ্জো কালাব্রিয়াতে প্রবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রান্তিক শহর।
খ্রিস্টপূর্ব ৭৫৭ সালে সিচেল নৃগোষ্ঠীর লোকেরা জানক্লে নামে শহরটি প্রতিষ্ঠিত করে, যার অর্থ তাদের ভাষায় কাস্তে, মাগনা গ্রেসিয়ার গ্রিক উপনিবেশ স্থাপকেরা এটিকে পুনরায় জনবহুল করে এবং মেসসানা নামকরণ করে। বাইজেন্টীয় যুগে শহরটির নামকরণ করা হয় মেসসিনা । এটি প্রথমে একটি গুরুত্বপূর্ণ রোমান শহর ও তারপরে গ্রিক-বাইজেন্টীয় শহর ছিল, কিন্তু ৮৪৩ সালে আরবরা এটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেয়। ইসলামী যুগে প্রায় পরিত্যক্ত হবার পর নর্মান যুগে আবার শহরটির উত্থান ঘটে। মধ্যযুগের শেষভাগ ও ১৭শ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে শহরটি সমৃদ্ধির শিখরে পৌঁছে, এ সময় সেটি সিসিলি রাজ্যের রাজধানীর ভূমিকার জন্য পালের্মোর সাথে প্রতিযোগিতা করছিল।
১৬৭৮ সালে স্পেনের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক বিদ্রোহের পর শহরটি যুদ্ধে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে শাসক শ্রেণীর পতন ঘটে। ১৭৮৩ সালে এক ভূমিকম্পে শহরটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৯০৮ সালে আরেকটি ভূমিকম্পে শহরটি প্রায় সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যায়, এবং এর পরিণামে শহরের প্রায় অর্ধেক অধিবাসীর মৃত্যু ঘটে। ১৯১২ সালে শহরটির পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এ নির্মাণকাজে মূলত আর নুভো শৈলী প্রয়োগ করা হয় এবং উত্তর-দক্ষিণ দিকে প্রশস্ত ও সরলরৈখিক সড়কের একটি সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত জালকব্যবস্থা নির্মাণ করা হয়। একটি সামরিক কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু হওয়ার কারণে ১৯৪৩ সালে সিসিলিতে অবতরণের সময় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মিত্রবাহিনী প্রচণ্ড বোমাবর্ষণ করে। এ সময় শহরটি প্রায় ২,৮০০টি বিমান হামলা এবং চারটি নৌ-বোমাবর্ষণে প্রায় ৬,৫০০ টন বিস্ফোরক দ্বারা আক্রান্ত হয়। এই ঘটনার স্বীকৃতিস্বরূপ শহরটিকে সামরিক বীরত্বের স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়।
মেসসিনা শহরের বন্দরটি হাজার হাজার বছর ধরে ভূমধ্যসাগরের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক সংযোগস্থল। সম্প্রতি ইউরোপ মহাদেশগামী ফেরিগুলির জন্য এটি একটি বিরতি-বন্দর হয়ে উঠেছে। অতিক্রমকারী যাত্রীর সংখ্যা অনুযায়ী এটি ইতালির বৃহত্তম বন্দর।[৩][৪] ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী[৫] মেসসিনা মহানগর এলাকার কার্যকরী পৌর এলাকাটিতে ২০১৪ সালে ২ লক্ষ ৭৭ হাজারের মত বাসিন্দা ছিল। শহরের প্রধান সম্পদ হল এর সমুদ্রবন্দর (বাণিজ্যিক এবং সামরিক জাহাজঘাটা), বৃহদাকার প্রমোদতরী পর্যটন, বাণিজ্য এবং কৃষি (দ্রাক্ষাসুরা উৎপাদন এবং লেবু, কমলা, কমলালেবু ও জলপাইয়ের চাষ)। শহরটি ১৫৪৮ সাল থেকে একটি রোমান ক্যাথলিক মণ্ডলীর মহাধর্মাধ্যক্ষ এবং মহামঠাধ্যক্ষের আসন এবং স্থানীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি আন্তর্জাতিক মেলার আবাসস্থল। শহরে আরও আছে মেসসিনা বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, যেটি ১৫৪৮ সালে পুণ্যপিতা ৩য় পল প্রতিষ্ঠা করেন।
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]টীকা
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "Delimiting the territory of the Greek linguistic minority of Messina" (পিডিএফ)। ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ মে ২০১৬।
- ↑ "Resident population"। ISTAT।
- ↑ "Movimenti portuali italiani" (পিডিএফ)। সংগ্রহের তারিখ ২১ আগস্ট ২০১৭।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
- ↑ "Traffico crocieristico al 2016" (পিডিএফ)। ২২ আগস্ট ২০১৭ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ আগস্ট ২০১৭।
- ↑ "Population on 1 January by age groups and sex - functional urban areas [urb_lpop1]"। Eurostat। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুলাই ২০১৯।