বিষয়বস্তুতে চলুন

মেরাজ মুহাম্মদ খান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মেরাজ মুহাম্মদ খান
معراج محمد خان
শ্রম ও জনশক্তি মন্ত্রী
কাজের মেয়াদ
২০ ডিসেম্বর ১৯৭১  ১৩ আগস্ট ১৯৭৩
পূর্বসূরীএয়ার মার্শাল নূর খান
উত্তরসূরীআব্দুল কাইয়ুম খান
প্রতিষ্ঠাত ও চেয়ারম্যান, কওমি মাহাজ-ই-আজাদি
দায়িত্বাধীন
অধিকৃত কার্যালয়
১৯৭৭
প্রথম সাধারণ সম্পাদক, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ
কাজের মেয়াদ
১৯৯৮  ২০০৩
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম২০ অক্টোবর ১৯৩৮
ফাররুখাবাদ, উত্তরপ্রদেশ, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু২১ জুলাই ২০১৬(2016-07-21) (বয়স ৭৭)
করাচি, সিন্ধু, পাকিস্তান
রাজনৈতিক দলপাকিস্তান পিপলস পার্টি (১৯৬৭–১৯৭৭)
কওমি মাহাজ-ই-আজাদি (১৯৭৭–১৯৯৮)
পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (১৯৯৮–২০০৩)
মজদুর কিষাণ পার্টি (২০০৩–২০১৬)
প্রাক্তন শিক্ষার্থীকরাচি বিশ্ববিদ্যালয়
পেশারাজনীতিবিদ
পুরস্কারহাবিব জালিব পদক

মেরাজ মুহাম্মদ খান (উর্দু: معراج محمد خان; ২০ অক্টোবর ১৯৩৮ – ২১ জুলাই ২০১৬) ছিলেন একজন প্রখ্যাত পাকিস্তানি সমাজতান্ত্রিক রাজনীতিবিদ। তিনি পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)-র অন্যতম প্রধান বুদ্ধিজীবী এবং প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে পরিচিত। পরবর্তীতে তিনি পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর প্রাথমিক সামাজিক-গণতান্ত্রিক কর্মসূচি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ১৯৭৭ সালে পিপিপি ত্যাগ করার পর তিনি 'কওমি মাহাজ-ই-আজাদি' গঠন করেন।

তিনি দেশে পুঁজিবাদ বিরোধী আন্দোলন এবং সামাজিক গণতন্ত্রের পক্ষে রাজনৈতিক সংগ্রামের জন্য অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে সমাদৃত ছিলেন।

প্রাথমিক জীবন ও শিক্ষা

[সম্পাদনা]

মেরাজ মুহাম্মদ খান ১৯৩৮ সালের ২০ অক্টোবর ব্রিটিশ ভারতের উত্তর প্রদেশের ফাররুখাবাদে একটি শিক্ষিত আফ্রিদি পশতুন পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা হাকিম মৌলভি তাজ মুহাম্মদ খান ছিলেন একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক, যিনি কোয়েটায় চিকিৎসা পেশায় নিযুক্ত ছিলেন। বিখ্যাত সাংবাদিক মিনহাজ বারনা ছিলেন তার বড় ভাই।

১৯৫৬ সালে কোয়েটার একটি স্থানীয় স্কুল থেকে স্নাতক শেষ করার পর তিনি করাচিতে চলে আসেন। সেখানে তিনি ডি. জে. সায়েন্স কলেজে ভর্তি হন এবং পরবর্তীতে করাচি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬০ সালে দর্শনে বিএ এবং ১৯৬২ সালে স্নাতকোত্তর (এমএ) ডিগ্রি লাভ করেন।

রাজনৈতিক জীবন

[সম্পাদনা]

ছাত্র রাজনীতি ও পিপিপি গঠন

[সম্পাদনা]

করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন একজন তুখোড় তার্কিক হিসেবে তিনি জনসমক্ষে পরিচিতি পান। তিনি ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ফেডারেশনের (এনএসএফ) সক্রিয় সদস্য হন এবং ১৯৬৩ সালে এর সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৬৭ সালে তিনি জুলফিকার আলী ভুট্টোর সাথে মিলে পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে করাচির লালুখাইত আসন থেকে তিনি জয়লাভ করেন।

মন্ত্রিত্ব (১৯৭১–১৯৭৩)

[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে জুলফিকার আলী ভুট্টোর সরকারে তিনি শ্রম ও জনশক্তি মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হন। তার আমলে ১৯৭২ সালে করাচিতে বড় ধরনের শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিলে তিনি মধ্যস্থতা করে তা নিরসন করেন। তবে ১৯৭৩ সাল নাগাদ সরকারের নীতি ও দমনমূলক ব্যবস্থার সাথে মতবিরোধ দেখা দিলে তিনি মন্ত্রিসভা ও দল ত্যাগ করেন।

পরবর্তী কর্মকাণ্ড (১৯৮০-এর দশক থেকে)

[সম্পাদনা]

পিপিপি ছাড়ার পর তিনি সামরিক শাসক জেনারেল জিয়া-উল-হকের বিরুদ্ধে 'মুভমেন্ট ফর রিস্টোরেশন অফ ডেমোক্রেসি' (এমআরডি)-র একজন সক্রিয় নেতা হিসেবে ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯৮ সালে তিনি ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এ যোগ দেন এবং দলটির প্রথম সাধারণ সম্পাদক হন। ২০০৩ সালে মতপার্থক্যের কারণে তিনি পিটিআই থেকে পদত্যাগ করেন এবং পরবর্তীতে মজদুর কিষাণ পার্টিতে যোগ দেন।

মৃত্যু

[সম্পাদনা]

২০১৬ সালের ২১ জুলাই করাচির একটি স্থানীয় হাসপাতালে ৭৭ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি দীর্ঘকাল ধরে শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছিলেন।

সাহিত্যকর্ম

[সম্পাদনা]

২০২৪ সালে তার প্রবন্ধ, সাক্ষাৎকার এবং নথিপত্র নিয়ে একটি সংকলন প্রকাশিত হয়। তার আত্মজীবনীর নাম তারিখ বোলতি হ্যায় (ইতিহাস কথা বলে)।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]