বিষয়বস্তুতে চলুন

মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ আল-কিন্দি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-কিন্দি
ব্যক্তিগত তথ্য
জন্ম১৮ জানুয়ারি, ৮৯৭
মৃত্যু১৬ অক্টোরব, ৯৬১
সমাধিস্থলমিশর
ধর্মইসলাম
সন্তানউমর
পিতামাতা
  • ইউসুফ আল-কিন্দি (পিতা)
যুগআব্বাসীয় মধ্যযুগ
ধর্মীয় মতবিশ্বাসমাতুরিদি-হানাফি
উল্লেখযোগ্য কাজ
  • তাসমিয়া উলুদ মিসর
  • আল-কুদাত
যে জন্য পরিচিতআরব ইতিাহাসবিদ ও ইসলামি পণ্ডিত

আবু উমর মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-কিন্দি ( আরবি: أبو عمر محمد بن يوسف الكندي; ১৮ জানুয়ারি, ৮৯৭ – ১৬ অক্টোবর, ৯৬১) ছিলেন একজন বিশিষ্ট আরব ঐতিহাসিক, বংশবৃত্তান্তবিদ ও হাদিস বিশারদ। তিনি তৎকালীন সময়ের সবচেয়ে বিখ্যাত হাদিস।বিশারদ ইমাম নাসা'ঈর অধীনে হাদিস অধ্যয়ন করেন। []

জীবনী

[সম্পাদনা]

বনু কিন্দা গোত্রের বংশধর আল-কিন্দি মিশরে তুজীব বংশে জন্মগ্রহণ করেন। যদিও তার জীবনী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য খুব কমই জানা যায়, তবে জানা যায় যে, তিনি আলি ইবনুল হাসান ইবনে কুদায়দ ও ইমাম আবু আব্দুর রহমান নাসাঈর নিকট কুরআন ও হাদিসের শিক্ষা লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি নিজেও একজন হাদিস বর্ণনাকারী (মুহাদ্দিস) হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ফিকহে তিনি হানাফি মাজহাবের অনুসারী ছিলেন। তিনি ৯৬১ খ্রিস্টাব্দে ফুস্তাতে মৃত্যুবরণ করেন এবং তার সাহিত্যকর্মে তার পুত্র উমর তার উত্তরসূরি হন।[][][]

আল-কিন্দি মূলত তার দুটি গুরুত্বপূর্ণ রচনার জন্য বিখ্যাত, যা এখনো সংরক্ষিত রয়েছে। সেসব হলো তাসমিয়া ওলাত মিসর (মিশরের শাসকদের তালিকা) ও আল-কুদাত (কাযি বা বিচারকগণ)। এই দুটি গ্রন্থ প্রাথমিক ইসলামি মিশরের প্রাদেশিক ইতিহাস, রাজনৈতিক কাঠামো ও বিচারব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়। তাঁর তাসমিয়া ওলাত মিসর গ্রন্থে সেই সময়ে খলিফাদের দ্বারা নিযুক্ত মিশরের গভর্নরদের বিবরণ ও তাদের শাসনামলে সংঘটিত ঘটনাবলির ধারাবাহিক বিবরণ প্রদান করা হয়েছে। এটি ৬৪১ খ্রিস্টাব্দে মিশর বিজয়ের সময় থেকে শুরু করে ৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে মুহাম্মদ ইবন তুগজ আল-ইখশিদের মৃত্যুর সময় পর্যন্ত ঘটনাবলি তুলে ধরে। এছাড়া এক অজ্ঞাত লেখকের দ্বারা সংযোজিত একটি পরিশিষ্টে ৯৬৯ সালে ফাতিমীয়দের আগমন পর্যন্ত ঘটনাবলি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।।অন্যদিকে আল-কুদাত গ্রন্থটি মিশরের কাজিদের (বিচারকদের) ধারাবাহিকতার উপর আলোকপাত করে, যা ৬৬১ থেকে ৮৬১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত নিযুক্ত কাজিদের জীবনের নানা ঘটনা আলোচনা করে। পরবর্তীতে এরও দুটি সংযোজন যোগ করা হয়, যা একাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত তথ্য প্রদান করে। এই দুটি গ্রন্থই মিশরের ইতিহাসের প্রাথমিক উদাহরণ হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে এবং পরবর্তী অনেক ঐতিহাসিক তাদের রচনায় এসবের উপর নির্ভর করেছেন। [][][]

উল্লেখ্য, এই দুটি গ্রন্থই বর্তমানে ব্রিটিশ জাদুঘরে সংরক্ষিত একটি পাণ্ডুলিপিতে রক্ষিত আছে। ১৯১২ সালে রুভন গেস্ট সম্পাদিত একটি সংস্করণ দ্য গভর্নরস অ্যান্ড জার্জেস অফ ইজিপ্ট শিরোনামে প্রকাশিত হয়।[][]

রচনাবলি

[সম্পাদনা]
  • "আল-জুন্দ আল-গারবি বা আল-আজনাদ আল-গুরাবা"
  • "কিতাব আল-খন্দক ওয়াল-তারাবিহ"
  • আল-খিতাত"— এটি সম্ভবত ফুস্তাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও স্থাপনার বিবরণ নিয়ে রচিত।
  • "আখবার মাসজিদ আহলুর রায়াহ আল-আযম — এটি আমর ইবনুল আস মসজিদের ইতিহাস সম্পর্কিত একটি গ্রন্থ।
  • সিরাত আল-সারি ইবন আল-হাকাম / মারওয়ান ইবন আল-জাদ— এটি সম্ভবত নবম শতকের মিশরের গভর্নর সারি ইবনে হাকাম বা শেষ উমাইয়া খলিফা মারওয়ান ইবন মুহাম্মদের জীবনী।
  • কিতাব আল-মাওয়ালি— সম্ভবত মিশরের প্রভাবশালী মাওয়ালিদের (অনারব মুসলিম) সম্পর্কে বিবরণ প্রদান করে।
  • তাসমিয়া উলাত মিসর বা উমারাʾ মিসর"
  • "আল-কুদাত"[][]

"ফাদাইল মিসর" (মিশরের মর্যাদা) নামে সংরক্ষিত অপর একটি গ্রন্থকে "কখনও কখনও আল-কিন্দির রচনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে অধিকাংশ গবেষকের মতে, এটি তাঁর পুত্র উমর ইবনে কিন্দির রচনা।[]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. تاريخ المقريزي الكبير المسمى (المقفى الكبير)। دار الكتب العلمية। ২০০৯। পৃ. ৪৯৭।
  2. 1 2 3 Gordon 2006, পৃ. 440।
  3. 1 2 3 4 Rosenthal 1986, পৃ. 121।
  4. Guest 1912, পৃ. 5-7।
  5. Guest 1912, পৃ. 10-13।
  6. Guest 1912, পৃ. 8-13।
  7. Guest 1912, পৃ. 14।

আরো দেখুন

[সম্পাদনা]