মুহাম্মদ শফি উকাড়বী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

মুহাম্মদ শফি উকাড়বী (উর্দুاردو نام: محمد شفیع اوکاڑوی‎; ২রা ফেব্রুয়ারি ১৯৩০- ৪ই এপ্রিল ১৯৮৪), তিনি মাওলানা মুহাম্মদ শফি উকাড়বী হিসেবেও আরো পরিচিত, তিনি একজন পাকিস্তানি ইসলামী পণ্ডিত এবং বাগ্মী। তিনি জামাতে আহলে সুন্নাত পাকিস্তান এবং গুলজারে হাবিব ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাদের অন্যতম।[১][২] তিনি পাকিস্তানী সরকার এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে "সিতারা-এ-ইমতিয়াজ" সহ বিভিন্ন সম্মাননা পান। বিগত ৩৮ বছরে, উকাড়বী ১৮০০০ উপর বিভিন্ন ধর্মীয় বিষয়ে বক্তব্য রাখেন।

মুহাম্মদ শফি উকাড়বী
Portrait of Muhammad Shafee Okarvi
জন্ম২ ফেব্রয়ারি ১৯৩০
মৃত্যু২৪ এপ্রিল ১৯৮৪
জাতীয়তাপাকিস্তানী
পেশাধর্মীয় পণ্ডিত
পরিচিতির কারণধর্মতত্ত্ব

প্রাথমিক জীবন এবং শিক্ষা[সম্পাদনা]

উকাড়বী ভারতের পূর্ব পাঞ্জাবের কেম কারানে জন্মগ্রহণ করেন, তার পিতা হাজী শেখ কারাম ইলাহি একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী। তিনি সাত ভাইবোনদের মধ্যে বড় ছেলে ছিলেন। তিনি কুরআন পড়া ও মুখস্থ করার মাধ্যমে তার পড়াশোনা শুরু করেছিলেন এবং মধ্যবর্তী বিদ্যালয় শেষ করেন।[৩]

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

উকাড়বী খুব অল্প বয়সে বিয়ে করেছিলেন এবং তিনি এগারোজন সন্তানের পিতা ছিলেন। তবে ১৯৫২ সালে তার দুই বড় পুত্র ৩ বছর বয়সী মুনির আহমদ ও ১৪ মাস বয়সী তানভীর আহমদ একে অপরের এক সপ্তাহের মধ্যে ইন্তেকাল করেন। তার বড় পুত্র কাওকাব নুরানি উকাড়বী তার পিতার ধর্মীয় কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।[৪][৫]

ধর্মীয় এবং একাডেমিক কার্যাদি[সম্পাদনা]

১৯৪৭ সালে, ভারত থেকে দেশান্তরী হওয়ার পর, তিনি ও তাঁর পিতা উকারায় মসজিদ গাউসিয়া নির্মাণ করেন। ১৯৫০ সালে সাহিওয়ালে জামে মসজিদ মুহাজিরিনে তিনি জুমার নামাজে ইমামতি ও ধর্মসভায় তিনি শিক্ষাদান শুরু করেছিলেন এবং উকারার বিরলা উচ্চ বিদ্যালয়ের (সাটলেজ কটন মিলস উচ্চ বিদ্যালয় পালটে নতুন নামকরণ করা হয়) ধর্ম বিভাগের প্রধান হন।[৬]

১৯৫২ থেকে ১৯৫৩ পর্যন্ত তিনি তেহরিক-এ-তাহাফফুজ-এ-খতমে নবুওয়াত এ অবদান রেখেছেন, কাদিয়ানিদের নিগৃহীত করতে তৈরি করা একটি সংস্থা। ১৯৫৪ সালে তিনি উকারার গ্র্যান্ড ট্রাংক রোডে জামিয়া হানাফিয়্যাহ আশরাফ-উল-মাদারিসও প্রতিষ্ঠা করেন এবং এর অন্যতম উপদেষ্টা ও স্পন্সর ছিলেন। [৬]

১৯৫৫ সালে তিনি প্রথমবারের মতো করাচি সফর করেন, তখন তিনি জামে মসজিদ আরাম বাগে প্রথম লাইলাতুল কদরের উপর বক্তৃতা রাখেন। পরবর্তী বছর তিনি মেমন মসজিদে বক্তৃতা করেন ও উক্ত মসজিদের ইমাম হন ও জামাত আহলে সুন্নাত প্রতিষ্ঠা করেন এবং এটির প্রথম চেয়ারম্যান হন।[৭]

আন্তর্জাতিক উদ্যম[সম্পাদনা]

উকাড়বী দূর প্রাচ্য, মধ্য প্রাচ্য, ভারত, প্যালেস্টাইন, দক্ষিণ আফ্রিকা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মরিশাস এবং অন্যান্য অনেক দেশে ধর্মপ্রচার করেছিলেন। [৮] ১৯৮০ সালের পূর্বে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকাতে তাঁর বক্তৃতার ১০,০০০ ক্যাসেট বিক্রি করেছিলেন। [৯] তাঁর বক্তৃতার ভিডিও ক্যাসেটগুলিও আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপকভাবে বিতরণ করা হয়।

১৯৬২ সালে, উকাড়বী বাগদাদ, সিরিয়া, কারবালা, বৈরুত, জেদ্দা, মক্কা এবং মদীনায় ভ্রমণ করেছিলেন। তিনি অনেক আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় আলেমদের মাজার এবং পাশাপাশি অনেক উল্লেখযোগ্য মসজিদ এবং ঐতিহাসিক পবিত্র স্থান পরিদর্শন করেছিলেন।[১০]

১৯৭৬ সালে উকাড়বী দক্ষিণ আফ্রিকাতে প্রতিষ্ঠিত করেন, আনজুমান আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত[১][২]

১৯৭৪ সালে, উকাড়বী দক্ষিণ আফ্রিকার ডার্বনে জামাআত-এ আহলে সুন্নাত গঠন করেছিলেন, যা ১০,০০০ জন সদস্যকে আকর্ষণ করেছিল। [১১]

উকাড়বী হজ, জিয়ারত ও ওমরাহর জন্য মক্কায় ষোলবার যাত্রা করেছিলেন। [১০]

রাজনৈতিক ও সামাজিক অবদান[সম্পাদনা]

১৯৫২-১৯৩৩ সালে তাকে সহিওয়াল জেলার তেহরিক-এ-খতম-এ নবুওয়াতের প্রধান করা হয়।.[১২]

জেল[সম্পাদনা]

কাদিয়ানিদের নিগৃহীতের জন্য উকাড়বীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তিনি ১০ মাস মন্টগোমেরি কারাগারে রয়েছিলেন। এই কারাবাসের সময় তার প্রথম দুই পুত্র মুনির আহমদ (৩ বছর বয়স) এবং তানভীর আহমদ (১১ বছর ৪ মাস বয়স) এক সপ্তাহের মধ্যে মারা যান।[১৩]

হত্যার চেষ্টা[সম্পাদনা]

১৯৬২ সালের ১লা অক্টোবর করাচির খড্ডা মার্কেটে উকাড়বীর একটি বক্তৃতার সময় তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল।[১৪] তিনি তার ঘাড়ে, কাঁধে, মাথা এবং উপরের পিঠে আঘাত পেয়েছিলেন। উকাড়বী আড়াই মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পুলিশ অফিসারকে তাঁর বক্তব্য দেওয়ার সময় উকাড়বী বলেছেন:

কারও সাথে আমার কোন ব্যক্তিগত বিদ্বেষ নেই। আমি অপরাধীও না। যদি আমি কোন অপরাধ করি তবে কেবল এটাই যে আমি ইসলাম ধর্ম প্রচার করি এবং সাইয়্যেদ-উল-আলামীন (সমগ্র বিশ্বজগতের কর্তা), মুহসিন-ই-ইনসানিয়াত (মানবতার উপকারী), হুজুর রহমত-উল-লিল আলামীন (মহাবিশ্বের রহমত) (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর প্রশংসা ও মহিমা করি, আমি কারও কাছ থেকে কোনও প্রতিশোধ নিতে চাই না এবং আমিও করি না হামলাকারীদের বিরুদ্ধে যে কোন কিছু করা হোক- আমার রক্ত ​​অযথা রক্তপাত হয়েছে। আল্লাহ, রব-এ-কেরেম এটি গ্রহণ করেন এবং আমার মুক্তির জন্য এই মধ্যস্থতা করেন।আমি আক্রমণকারীদের ক্ষমা করে দিয়েছি। তবে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তোমরা লোকেরা উপযুক্ত যা কর যাতে এই ধরণের ঘটনা আবার না ঘটে।

তিনি এই মামলার জন্য কোনও আইনজীবী নিয়োগ করেননি বা কোনও শুনানিও অনুসরণ করেননি। সুস্থতার পর তিনি নিজেকে ইসলাম প্রচারে আবারো অধিষ্ঠিত করেছিলেন এবং হত্যার প্রয়াস যেখানে ঘটেছিল সেখানেই তাঁর প্রথম বক্তৃতাটি দিয়েছিলেন।

মৃত্যু ও উত্তরাধিকার[সম্পাদনা]

১৯৭৪ সালে উকাড়বী হার্ট অ্যাটাক করেছিলেন। ১৯৭৫ সালে তাঁর আরো একটি হার্ট অ্যাটাক হয় এবং তিনি করাচি চলে আসেন, যেখানে তিনি ছয় সপ্তাহের জন্য কার্ডিয়াক চিকিৎসা করেছিলেন। ১৯৮৮ সালের ২০ এপ্রিল তিনি জামে মসজিদ গুলজার-ই-হাবিবে জুমার সালাত আদায় করার সময় শেষ বক্তব্য রাখেন। সেদিন সন্ধ্যায় উকাড়বীর তৃতীয় হার্ট অ্যাটাক হয় এবং তিনি জাতীয় কার্ডিওভাসকুলার ডিজিস ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন। তিন দিন পর, ১৯৮৪ সালের ২৪ এপ্রিল তিনি ৫৫ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।[১৫] ১৯৮৫ সালের ২৩ শে মার্চ রাষ্ট্রপতি জিয়া-উল-হক ধর্মীয় সেবার ক্ষেত্রে অবদানের কারণে উকাড়বীকে সিতারা-ই-ইমতিয়াজ এ ভূষিত করেছিলেন।[১৬]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Zuleikha Ismail (১৪ আগস্ট ১৯৭৬)। "10 000 members for new body"। The Natal Mercury 
  2. id=lxbYAAAAMAAJ&q=%22Hazrat+Maulana+Muhammad+Shafee+Okarvi%22&dq=%22Hazrat+Maulana+Muhammad+Shafee+Okarvi%22&hl=en&sa=X&ei=-4zXT6_aJoLHsgan36msDw&ved=0CEEQ6AEwAA Deoband to Bareilly: The Truth |ইউআরএল= এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য)Zia-ul-Qur'aan Publications (original from the University of Michigan)। ১৯৯৬। পৃষ্ঠা 5 & 6। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুন ২০১২ 
  3. [rana Muhammad alam article]
  4. Maatak Moti laal (Sindhi Book)
  5. Majaalis e Ulamaa
  6. [Aqeel Ahmad (2013), "Maulana Muhammad Shafee Okarvi ki Ilmi Deeni Khidmaat Tahqiqi Jaa'iza thesis". Karachi University Press. p188].
  7. [Aqeel, Ahmad (2013); Thesis. "Maulana Muhammad Shafee Okarvi ki Ilmi Deeni Khidmaat Tahqiqi Jaa'iza thesis" Karachi University Press. p197].
  8. [ Article by Mufti Ghulaam Sarwar]
  9. [ Article by Muhammad Hasan Qaadiri, 3] Video cassettes of his speeches are also widely distributed internationally.
  10. [ Article by Rana Muhammad Alam]
  11. [Newspaper Ref : The Natal Mercury-Dated 14 August 1976]
  12. [2,6, Article by Shaiekh Muhammad Lateef] 6-
  13. [6, Articles by Shaiekh Muhammad Lateef and Rana Muahmmad Alam] 6-
  14. "Okarvi Stabbed"। Daily News। ১৭ অক্টোবর ১৯৬২। 
  15. [Newspaper Ref: Daily Jang Urdu, 25 April 1984]
  16. [On 14 August 1984 in all newspapers of Pakistan