বিষয়বস্তুতে চলুন

মুহাম্মদ ইবনে সুলায়মান আল কাতিব

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মুহাম্মদ ইবনে সুলায়মান
محمد بن سليمان

আল-কাতিব
মৃত্যু৯০৫ এর পর
আব্বাসীয় খিলাফত
আনুগত্যআব্বাসীয় খিলাফত
সেবা/শাখাআব্বাসীয় সেনাবাহিনী
কার্যকাল৮৯৬ – ৯০৫
পদমর্যাদাকমান্ডার
যুদ্ধ/সংগ্রাম
পুরস্কারখলিফা আল-মুকতাফির নিকট থেকে সম্মানসূচক পোশাক (খিলআত) লাভ (১৯ মে, ৯০৪ সাল)
সন্তানঅজানা

মুহাম্মাদ ইবনে সুলায়মান ( আরবি: محمد بن سليمان ) ছিলেন আব্বাসীয় খিলাফতের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সেনাপতি, যিনি কারামাতিদের বিরুদ্ধে তাঁর বিজয় এবং স্বায়ত্তশাসিত তুলুনী রাজবংশ থেকে সিরিয়া ও মিশর পুনরুদ্ধারের জন্য সর্বাধিক প্রসিদ্ধি লাভ করেন।

জীবন ও কর্মজীবন

[সম্পাদনা]

তিনি একজন মিশরীয় বংশোদ্ভূত আরব ছিলেন। মিশরেই তিনি জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে উঠেন। তার উপাধি আল-কাতিব ("সচিব") থেকে বোঝা যায় যে, তিনি মূলত মিশরীয় তুলুনীয় জেনারেল লু'লু'র একজন সচিব ছিলেন, যিনি রাক্কা থেকে মিশরের স্বায়ত্তশাসিত আমির আহমদ ইবনে তুলুনের পক্ষে উত্তর সিরিয়া শাসন করতেন। ৮৮২ সালে লুলু যখন আব্বাসীয় শাসক আল-মুওয়াফাকের কাছে চলে যান, তখন মুহাম্মদ তাঁর সাথে যান এবং কেন্দ্রীয় খলিফা প্রশাসনের সচিব হন।[] [] ৮৯১ সালে আল-তাবারি তাকে উজির আবুল-সাকর ইসমাইল ইবনে বুলবুলের সচিব হিসেবে উল্লেখ করেন। আল-মুওয়াফাককে ক্ষমতাচ্যুত করে খলিফা আল-মু'তামিদের ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের একটি ব্যর্থ প্রচেষ্টাকে তিনি সমর্থন করেন, কিন্তু বাগদাদের জনগণ ও সেনাবাহিনীর তীব্র প্রতিক্রিয়া তা ব্যর্থ করে দেয়। ফলস্বরূপ দাঙ্গায় জনতা মুহাম্মদের বাড়ি পুড়িয়ে দেয়। []

তা সত্ত্বেও ৮৯৬ সালে তিনি একজন সেনা কমান্ডার ছিলেন এবং নতুন তুলুনীয় আমির জাইশ ইবনে খুমারাওয়াহকে হত্যার ষড়যন্ত্রের জন্য তুলুনীয়দের পক্ষত্যাগকারী অনেক অফিসারকে তালিকাভুক্ত করার দায়িত্ব তাঁর উপর ন্যস্ত করা হয়। []৯০৩ সালে তিনি সেনাবাহিনীর প্রধান (দিওয়ান আল-জায়শ ) ছিলেন এবং কারামাতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়। [] এটি একটি উগ্র ইসমাঈলী সম্প্রদায় শিয়া, যা ৮৭৪ সালের দিকে কুফায় প্রতিষ্ঠিা লাভ করে। শুরুতে তাদের কার্যক্রম সাওয়াদ অঞ্চলে বিক্ষিপ্ত ও ছোটখাটো উপদ্রবের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল; কিন্তু ৮৯৭ সালের পর তাদের শক্তি দ্রুত ও উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পায়। তারা আব্বাসীয়দের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক বিদ্রোহ শুরু করে। আবু সাঈদ আল-জান্নাবির নেতৃত্বে তারা ৮৯৯ সালে বাহরাইন দখল করে এবং পরের বছর আব্বাস বিন আমর গানাভির নেতৃত্বে তারা খিলাফতের একটি বাহিনীকে পরাজিত করে। এদিকে ইয়াহিয়া ইবনে জিকরাওয়াহ পালমিরার পার্শ্ববর্তী একটি এলাকায় আরেকটি ঘাঁটি স্থাপন করেন, যিনি সাহেব আল-নাকা ("উটের মালিক") নামেও পরিচিত ছিলেন। তাঁর সাথে সম্ভবত তাঁর ভাই আল-হুসাইনও ছিলেন, যিনি সাহেব আল-শামা ("তিলযুক্ত মানুষ") নাম ধারণ করেন। বাহরাইনে ও সিরিয়ার মরুভূমির ঘাঁটি থেকে তারা আব্বাসীয় ও তুলুনী প্রদেশের নগর কেন্দ্রগুলিতে হামলা চালায়। এদিকে তুলুনি সেনাবাহিনী তাদের থামাতে অক্ষম হয়ে গেলে আব্বাসীয় সরাসরি হস্তক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নেয়।[] [] এই অভিযানটি নামমাত্র আল-মুকতাফির নেতৃত্বে ছিল; কারণ আব্বাসীয় সেনাবাহিনী তখন মুহাম্মাদের নেতৃত্ব ছিল। ৯০৩ সালের ২৯ নভেম্বর মুহাম্মদের নেতৃত্বে আব্বাসীয় সেনাবাহিনী রাক্কার পূর্বে হামা থেকে প্রায় ২৪ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত এক স্থানে বিদ্রোহী কারামাতি বাহিনীর মুখোমুখি হয়। আব্বাসীয় সেনাবাহিনীর আক্রমণে কারামাতিরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় এবং শোচনীয় পরাজয় বরণ করে। আব্বাসীয় সৈন্যরা তাদের ধাওয়া করে এবং সাহেব আল-শামা ও অন্যান্য কারামাতি নেতাদের বন্দী করা হয়। [] এরপর আল-মুক্তাফি বাগদাদে ফিরে আসেন এবং মুহাম্মাদ অবশিষ্ট বিদ্রোহীদের ধরতে রাক্কায় থেকে যান গ্রামাঞ্চলে যান। এরপর তিনি বাগদাদের দিকে অগ্রসর হন, যেখানে তিনি ২রা ফেব্রুয়ারি ৯০৪ সালে বিজয়ীর বেশে প্রবেশ করেন। এর এগারো দিন পর তিনি রাজধানীর সাহবুল-শুরতা (পুলিশ প্রধান) আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-ওয়াসিকির সাথে কারামাতি নেতাদের প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকর তত্ত্বাবধান করেন।[] ১৯ মে এক অনুষ্ঠানে খলিফা তাকে আবারো সম্মানসূচক পোশাক পরিয়ে দেন। এই অনুষ্ঠানের পাঁচ দিন পর মুহাম্মদ তুলুনীদের কাছ থেকে দক্ষিণ সিরিয়া ও মিশর পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে রাজধানী ত্যাগ করেন। আল-তাবারির মতে, তিনি ১০,০০০ সৈন্যের একটি বাহিনী নিয়ে রাজধানী ত্যাগ করেন। [১০]

এই অভিযানে তাকে সমুদ্র থেকে সিলিসিয়ার সীমান্তবর্তী জেলা থেকে তারসাসের দামিয়ানের নেতৃত্বে একটি নৌবহর সহায়তা করার কথা ছিল। সে হিসেবে দামিয়ান নীল নদে একটি নৌবহর নিয়ে উপকূলীয় অঞ্চলে অভিযান চালান। এর ফলে তুলুনী বাহিনীর সরবরাহের রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। [১১] তুলুনী শাসনব্যবস্থা ইতিমধ্যেই অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং সেনাবাহিনীর বিভিন্ন জাতিগত গোষ্ঠীর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দুর্বল হয়ে পড়েছিল, যার ফলে বদর হাম্মামি ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আব্বাসীয় দরবারে চলে যান। এছাড়া বিদ্রোহী কারামাতিদের ধ্বংসাত্মক অভিযান ও তাদের প্রতিরোধে অক্ষমতার কারণে শাসনব্যবস্থা আরো দুর্বল হয়ে পড়ে। [১১] [১২] আব্বাসীয়দের অগ্রযাত্রা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সম্পন্ন হয় এবং ডিসেম্বরে আমির হারুন ইবনে খুমারাওয়াই তার চাচা আলি ও শায়বান কর্তৃক নিহত হন। শায়বান তখন রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন; কিন্তু এই হত্যাকাণ্ডের ফলে দামেস্কের গভর্নর তুগজ ইবনে জুফসহ আব্বাসীয়রা তাঁর বিদ্রোহ করে। জানুয়ারিতে, আব্বাসীয় সেনাবাহিনী ফুসতাতের সামনে পৌঁছায়। রাতে শায়বান তার সৈন্যদের ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। ফলে তুলুনীয় রাজধানী আত্মসমর্পণ করে। বিজয়ী আব্বাসীয় সৈন্যরা ইবনে তুলুন মসজিদ ছাড়া তুলুনীদের প্রতিষ্ঠিত রাজধানী কাতা'ইকে ধ্বংস করে দেয়।[১৩] [১৪] তুলুনী পরিবারের সদস্য ও তাদের নেতৃস্থানীয় অনুসারীদের গ্রেপ্তার করে বাগদাদে নির্বাসিত করা হয় এবং তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়। [১৫]

পরে মুহাম্মদ মিশর ছেড়ে নতুন গভর্নর ঈসা আল-নুশারির কাছে চলে যান [১৬] এবং সিরিয়ায় ফিরে আসেন। সেখানে বিজয়ের বেশিরভাগ লুণ্ঠন আত্মসাতের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Rosenthal 1985, পৃ. 30 (note 159)।
  2. Fields 1987, পৃ. 82, 123–125।
  3. Fields 1987, পৃ. 167।
  4. Rosenthal 1985, পৃ. 30।
  5. Rosenthal 1985, পৃ. 133।
  6. Kennedy 2004, পৃ. 286–287।
  7. Bianquis 1998, পৃ. 106–107।
  8. Rosenthal 1985, পৃ. 134–141।
  9. Rosenthal 1985, পৃ. 141–144।
  10. Rosenthal 1985, পৃ. 146।
  11. 1 2 Rosenthal 1985, পৃ. 151।
  12. Kennedy 2004, পৃ. 184–185।
  13. Kennedy 2004, পৃ. 185।
  14. Bianquis 1998, পৃ. 108।
  15. Rosenthal 1985, পৃ. 151–152।
  16. Bianquis 1998, পৃ. 108, 110।

গ্রন্থপঞ্জি

[সম্পাদনা]