বিষয়বস্তুতে চলুন

মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ আল-মুহাল্লাবি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ আল-মুহাল্লাবি
محمد بن يزيد المهلبي‎
আহওয়াজে আব্বাসীয় গভর্নর
কাজের মেয়াদ
৮১০ এর দশক  ৮১১/১২
সার্বভৌম শাসকআল-আমিন
ব্যক্তিগত বিবরণ
মৃত্যু৮১১ খ্রিস্টাব্দের শেষে বা ৮১২ সালের শুরুতে
আহওয়াজ, আব্বাসীয় খিলাফত
পিতামাতাইয়াজিদ ইবনে হাতিম আল-মুহাল্লাব
সামরিক পরিষেবা
আনুগত্যআব্বাসীয় খিলাফত
কাজের মেয়াদ৮০৯–৮১১
যুদ্ধচতুর্থ ফিতনা

মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াজিদ ইবনে হাতেম আল-মুহাল্লাবি (আরবি: محمد بن يزيد بن حاتم المهلبي ) ছিলেন আব্বাসীয়।খলিফা আল-আমিনের শাসনামলে আব্বাসীয় খিলাফতের আহওয়াজের (দক্ষিণ-পূর্ব ইরাক) একজন গভর্নর। তাহির ইবনে হুসাইনের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আহওয়াজকে রক্ষা করার যুদ্ধে আল-আমিন ও আবদুল্লাহ আল-মামুনের মধ্যে সংঘর্ষের সময় তিনি নিহত হন। তিনি ৮১১ সালের শেষের দিকে বা ৮১২ সালের প্রথম দিকে নিহত হন।

জীবনী

[সম্পাদনা]

মুহাম্মদ ছিলেন প্রভাবশালী মুহাল্লাবি পরিবারের একজন সদস্য। তিনি ঐ বংশের নামধারী ব্যক্তিত্ব মুহাল্লাব ইবনে আবি সুফরার প্রপৌত্র ছিলেন। [] অজ্ঞাত এক সময়ে আব্বাসীয় খলিফা আল-আমিন তাকে আহওয়াজ শহরের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেন। ৮১১ খ্রিস্টাব্দের শুরুতে যখন আল-আমিন ( যিনি ইরাক-কেন্দ্রিক শাসনকার্য পরিচালনা করছিলেন) এবং তার ভাই মামুনের ( যিনি বৃহত্তর খুরাসানে অবস্থান করছিলেন) মধ্যে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, তখন মুহাম্মদ আল-আমিনের প্রতি অনুগত থাকেন এবং তার পক্ষ থেকে আহওয়াজ রক্ষা করেন।[] যুদ্ধ শুরু হলে প্রথমদিকে লড়াই আহওয়াজের নিকটে হয়নি। কিন্তু ৮১১ সালের শরৎকালে আল-মামুনের সেনাপতি তাহির ইবনে হুসেন খুরাসান থেকে অগ্রসর হয়ে উত্তর ইরাকের সীমানায় অবস্থিত হুলওয়ান জেলায় পৌঁছান। এর অল্প সময় পর মুহাম্মদ খবর পান যে, হুলওয়ান থেকে একটি বাহিনী আহওয়াজ দখল করতে রওনা হয়েছে। এর জবাবে তিনি নিজ বাহিনী সংগ্রহ করে উত্তরের দিকে ‘আসকার মুকরামে’ অগ্রসর হন। কিন্তু শত্রুবাহিনী কাছে চলে এলে তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং আহওয়াজে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ফলে তিনি ঘুরে শহরের দিকে রওনা হন এবং তাহিরের সৈন্যরা তার ঠিক পেছন পেছন অগ্রসর হতে থাকে।[]

মুহাম্মদ যখন আহওয়াজে পৌঁছান, তখন তিনি সঙ্গে সঙ্গেই শহরে প্রবেশ করে নিজের সৈন্যদের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে নির্দেশ দেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের তাহিরের অগ্রবর্তী বাহিনীর মুখোমুখি হতে হয়। তাহিরের সৈন্যরা দূর থেকে পাথর ও তীর নিক্ষেপ করে আক্রমণ শুরু করে। এতে দ্রুতই দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয় এবং যুদ্ধ ক্রমেই ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। তাহির ইবনে হুসাইনের বাহিনী সুসংগঠিতভাবে আক্রমণ চালাতে থাকে; বিপরীতে মুহাম্মদের অনেক সৈন্য সেই প্রচণ্ড আক্রমণের মুখে টিকতে না পেরে পিছু হটতে শুরু করে। একসময় পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, মুহাম্মদের বাহিনীর মধ্যে ভাঙন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সৈন্যদের একাংশ যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে পালিয়ে গেলে মুহাম্মদ বুঝতে পারেন যে, তিনি যুদ্ধে পরাজয়ের মুখে পড়েছেন। এই সংকটময় মুহূর্তেও মুহাম্মদ সাহসী ও মরিয়া সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ও তাঁর কয়েকজন মুক্তদাস (মাওলা) নিজেদের ঘোড়া থেকে নেমে পড়েন। এরপর তারা নিজেদের ঘোড়ার পায়ের রগ কেটে দেয়, যাতে কেউ পিছু হটতে না পারে এবং লড়াই ছাড়া সামনে আর কোনো পথ যেন না থাকে। তারপর তারা সরাসরি তাহিরের সৈন্যদের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাদের এই আকস্মিক ও মরিয়া আক্রমণে শত্রুপক্ষের বহু সৈন্য নিহত হয় এবং কিছুক্ষণের জন্য যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি বদলে যায়। কিন্তু সেই তীব্র আক্রমণের মধ্যেই মুহাম্মদ একটি বর্শাঘাতে আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তিনি পড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শত্রুপক্ষের কয়েকজন সৈন্য তাঁকে ঘিরে ফেলে এবং আক্রমণ চালাতে থাকে। শেষ পর্যন্ত তারা তাঁকে হত্যা করে। মুহাম্মদের মৃত্যুর মাধ্যমে তাঁর বাহিনীর প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে। ফলস্বরূপ, তাহির এই যুদ্ধে বিজয় অর্জন করেন এবং আহওয়াজ শহরের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন।[]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Al-Tabari, p. 114. n. 435
  2. Al-Tabari, p. 114; Crone, p. 135
  3. al-Tabari, pp. 114-6
  4. Crone, p. 135; al-Tabari, pp. 116-8; al-Ya'qubi, p. 534

গ্রন্থপঞ্জি

[সম্পাদনা]
  • Crone, Patricia (১৯৮০)। Slaves on Horses: The Evolution of the Islamic Polity। Cambridge: Cambridge University Press। আইএসবিএন ০-৫২১-৫২৯৪০-৯
  • Fishbein, Michael, সম্পাদক (১৯৯২)। The History of al-Ṭabarī, Volume XXXI: The War Between Brothers: The Caliphate of Muḥammad al-Amīn, A.D. 809–813/A.H. 193–198। SUNY Series in Near Eastern Studies.। Albany, New York: State University of New York Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৭৯১৪-১০৮৫-১
  • Al-Ya'qubi, Ahmad ibn Abu Ya'qub. Historiae, Vol. 2. Ed. M. Th. Houtsma. Leiden: E. J. Brill, 1883.