বিষয়বস্তুতে চলুন

মুহাম্মদ আল-আওসাত ইবনে আলি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মুহাম্মদ আল-আওসাত ইবনে আলি
محمد الأوسط بن علي
মুহাম্মাদ আল-আওসাতের মাজার
জন্ম
মুহাম্মদ আল-আওসাত ইবনে আলি

১২ হিজরি
৬৩২ খ্রি.
মৃত্যুরমজান, ৬৪ হিজরি
১৯ মে, ৬৮৪
আরান, ইস্পাহান, ইরান
অন্যান্য নামহেলাল
পরিচিতির কারণনবি মুহাম্মাদখাদিজার নাতি
পিতা-মাতা
আত্মীয়[]
পরিবারনবি পরিবার

মুহাম্মাদ আল-আওসাত ইবনে আলি ( আরবি: محمد الأوسط بن علي ) ছিলেন খলিফা আলির একজন পুত্র। তার মা উমামা বিনতে আবিল আস ছিলেন জয়নবের কন্যা ও ইসলামের নবি মুহাম্মদখাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদের নাতনী। তাঁর সমাধিস্থল বর্তমান ইরানের ইস্পাহান প্রদেশের আরানে অবস্থিত। []

ঐতিহাসিকতা

[সম্পাদনা]

তাঁর নাম শিয়া আলেমদের রচনায় অনেক জায়গায় উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু তাঁর অস্তিত্ব সম্পর্কিত তথ্য শেষ পর্যন্ত গিয়ে নির্ভর করে আল-তাবারির বর্ণনার উপর। তিনি আল-ওয়াকিদি থেকে বর্ণনা করেন, যে আলি ইবনে আবি তালিব নবি মুহাম্মাদের নাতনি উমামাকে বিবাহ করেন এবং তিনি আলীর এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন, যার নাম ছিল মুহাম্মদ আল-আওসাত।[][]

ওয়াকিদি সুন্নি হাদিস বিশারদদের নিকট অবিশ্বস্ত হাদিস বর্ণনাকারী হিসেবে পরিচিত ছিল। মুহাম্মদ আল-আওসাত সম্পর্কে যে একমাত্র সনদ (সূত্র) পাওয়া যায়, সেই সনদের মধ্যেই একজন মিথ্যাবাদী বর্ণনাকারী রয়েছে। ফলে তাঁর অস্তিত্বের ঐতিহাসিকতা সন্দেহজনক বলে বিবেচিত হয়।আলি ইবনে আবি তালিবের সন্তানদের তালিকা প্রদানকালে প্রখ্যাত শিয়া আলেম শেখ আল-মুফিদ তাঁর নাম উল্লেখ করেননি।[]

তবে বলা হয় যে “অধিকাংশ বংশতালিকা বিশারদ তাঁর নাম উল্লেখ করেছেন এবং তাঁরা সবাই একমত যে, আলির তিন জন পুত্রের নাম ছিল মুহাম্মদ।”[]

তাঁর নাম পরবর্তী যুগের ইতিহাসবিদরাও উল্লেখ করেছেন; যেমন: ইবনে শাহরাশুব, আল-মাজলিসি, নূরউদ্দিন ইবনুস সাব্বাগ আল-মালিকি, আবুল-ফারাজ ইবনুল জাওজি, সিবত ইবনুল জাওজি, আল-হাফিজ আল-কানজি আল-শাফেয়ি, আল-শাবলাঞ্জি আল-শাফেয়ি, কামাল উদ্দিন ইবন তালহা, মুহিব আল-তাবারি ও ইবনে হাজার আসক্বালানী[]

জীবনী

[সম্পাদনা]

ইতিহাসবিদরা তাঁর অস্তিত্ব স্বীকার করা ছাড়া তাঁর জীবনী বা পরিণতি সম্পর্কে আর কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য উল্লেখ করেননি।[] তবে মুহাম্মদ রিদা আল-শিরাজির পুত্র আবদুল মজিদ তাঁর গ্রন্থ "জাকিরাতুল জারয়ুনে" উল্লেখ করেন যে, মুহাম্মদ আল-আওসাত কারবালার যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি ইমাম হুসাইনের সামনে যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হন।[] কিন্তু প্রাচীন ও আধুনিক অধিকাংশ সূত্রেই মুহাম্মদ আল-আওসাতের শাহাদাতের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি; যদিও এতে তাঁর শাহাদাত সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত প্রবল বলে ধারণা করা হয়।[][১০]

১২৪২ হিজরি/১৮২৬ খ্রিস্টাব্দে আরানি মোল্লা গুলামরেজা আরানি রচিত একটি পাণ্ডুলিপি পাওয়া যায়, যার শিরোনাম ছিল "রিসালায়ে হেলালিয়া"। এই গ্রন্থে তিনি মুহাম্মদ আল-আওসাতের জীবনী উপস্থাপন করেছেন, যা ইরানের আরান ও বিগদোল শহরের লোককথার ওপর ভিত্তি করে রচিত। ঐ শহরেই মুহাম্মদ আল-আওসাতের নামে একটি মাজার ও কথিত কবর অবস্থিত রয়েছে। ঐ পাণ্ডুলিপিতে কারবালার ঘটনার পর তাঁর জীবনের বর্ণনা এবং কীভাবে তিনি ইরানে পৌঁছালেন, সে সম্পর্কিত কিংবদন্তি আলোচনা করা হয়েছে, যা আরানের বাসিন্দাদের মধ্যে প্রচলিত ছিল। তবে কীভাবে মুহাম্মদ আল-আওসাতের প্রভাব আরান ও বিগদোল শহরে পৌঁছায়, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না। মুল্লা গুলামরেজার পাণ্ডুলিপির সারসংক্ষেপ হলো: হিলাল ১৪ হিজরি সালের ১ রমজান (১৮ অক্টোবর, ৬৩৬ খ্রিস্টাব্দ) জন্মগ্রহণ করেন। কারবালার যুদ্ধে তাঁর ভূমিকা ছাড়া তাঁর জীবনের অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য বিবরণ জানা যায় না। তাঁর ‘আওন’ নামে এক ভাই ছিলেন, যিনি শাম বা তায়েফে (বর্তমানে সৌদি আরব) বসবাস করতেন। বৃহত্তর খোরাসানের গভর্নর কায়েস ইবনে মুররাহ তাঁর শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের আশঙ্কা করে হিলালের অনুসারীদের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বাহিনী প্রেরণ করেন। পরবর্তী সংঘর্ষে হিলাল আহত হন এবং এতে তাঁর ভাইসহ অনেক অনুসারী নিহত হন। বর্ণিত আছে যে, মৃত্যুর অল্প কিছুদিন আগে তিনি একটি স্বপ্ন দেখেন, যেখানে তাঁর দাদা মুহাম্মদ, পিতা আলি ও সৎভাই হুসাইন তাঁকে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন বলে জানান। এই স্বপ্নের পরের দিন তিনি রোজা রাখেন এবং একটি আপেল দিয়ে ইফতার করেন। পরদিন তিনি সঙ্গী ইয়াকুব ও ইয়াকুবের পুত্রের কাছে স্বপ্নের কথা বর্ণনা করেন এবং ঘোষণা দেন যে, সেদিনই সন্ধ্যায় তিনি তাঁদের ‘অতিথি’ হবেন। এরপর সেই রাতেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পর ইয়াকুব ও তাঁর পুত্রগণ তাঁকে গোসল করান এবং দাফন সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ঐ স্থানেই একটি মাজার প্রতিষ্ঠিত হয়।[১১]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 "Mohammad Hilal Ibn Ali"www.helal.ir। ২০ জুলাই ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  2. "Family Features"[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  3. "Tarikh Al-Tabari"। ৫ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ মার্চ ২০২৬
  4. "Family Features"[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  5. "Encyclopedia of Husayn's Supporters (The Hashemites) (Volume Three)"। ২ জুলাই ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ মার্চ ২০২৬
  6. "Family Features"[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  7. "Encyclopedia of Husayn's Supporters (The Hashemites) (Volume Three)"। ২ জুলাই ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ মার্চ ২০২৬
  8. "Encyclopedia of Husayn's Supporters (The Hashemites) (Volume Three)"। ২ জুলাই ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ মার্চ ২০২৬
  9. "Family Features"। ৯ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ মার্চ ২০২৬
  10. "Encyclopedia of Husayn's Supporters (The Hashemites) (Volume Three)"। ২ জুলাই ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ মার্চ ২০২৬
  11. "Mohammad Hilal Ibn Ali"www.helal.ir। ২০ জুলাই ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।