বিষয়বস্তুতে চলুন

মুহাজির ইবনে খালিদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মুহাজির ইবনে খালিদ
الْمُهَاجِر بْنِ خَالِد
স্থানীয় নাম
আরবি: الْمُهَاجِر بْنِ خَالِد بْنِ الْوَلِيد
জন্মআনু. ৬২০–৬২৯
মক্কা, হেজাজ
মৃত্যু২৮ জুলাই, ৬৫৭
কুফা, ইরাক
আনুগত্যরাশিদুন খিলাফত
খিলাফতি সেনাবাহিনী
কার্যকাল৬৫০–৬৫৭
পদমর্যাদাসৈনিক
যুদ্ধ/সংগ্রাম
সন্তানখালিদ ইবনে মুহাজির
সম্পর্ক

মুহাজির ইবনে খালিদ বিন ওয়ালিদ ( আরবি: الْمُهَاجِر بْنِ خَالِد بْنِ الْوَلِيد; মৃত্যু: ৬৫৭) ছিলেন ইসলামের চতুর্থ খলিফা আলি ইবন আবি তালিবের ( শা. ৬৫৬–৬৬১) সেনাবাহিনীর একজন আরব সৈনিক। বিশিষ্ট মুসলিম সেনাপতি ও সাহাবি খালিদ বিন ওয়ালিদের পুত্র ছিলেন। তিনি ৬৫৭ সালে সংঘটিত সিফফিনের যুদ্ধে মারা যান।

বংশলতিকা

[সম্পাদনা]

তিনি মক্কার প্রসিদ্ধ কুরাইশ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাঁর বংশসূত্র হলো: মুহাজির ইবনে খালিদ বিন ওয়ালিদ ইবনুল মুগীরা ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবন মাখযূম ইবনে ইয়াকাযা ইবনে মুররা ইবনে কা‘ব ইবনে লুয়াই ইবনে গালিব ইবনে ফিহর ইবনে মালিক ইবনে কুরাইশ ইবনে কিনানা।[]

জীবনী

[সম্পাদনা]

মুহাজির ইসলামের প্রাথমিক যুগের বিখ্যাত সামরিক নেতা ও সাহাবা খালিদ বিন ওয়ালিদের পুত্র ছিলেন। খালিদ বিন ওয়ালিদ মক্কার প্রভাবশালী কুরাইশ গোত্রের শাখা বানু মাখযুমের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। খালিদ প্রথমদিকে কুরাইশদের পক্ষে হয়ে লড়াই করলেও উহুদের যুদ্ধের পর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে প্রাথমিক ইসলামি বিজয়াভিযানে তিনি এক অসাধারণ যোদ্ধা হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর তিন পুত্র ছিলেন এবং মুহাজির তাদের মধ্যে দ্বিতীয় ছিলেন। অপর দুইজন হলেন আবদুর রহমান ইবনে খালিদ ও সুলায়মান।[]

মুহাজির তাঁর সহোদর ভাই আবদুর রহমান ইবনে খালিদের তুলনায় ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেন। ইসলামের ইতিহাসে প্রথম গৃহযুদ্ধ “প্রথম ফিতনার" সময়ে তিনি চতুর্থ খলিফা আলি ইবনে আবি তালিবের (শা. ৬৫৬–৬৬১ খ্রি.) পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেন। বিপরীতে তাঁর ভাই আবদুর রহমান মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানের বাহিনীতে যোগ দেন। প্রথম ফিতনার প্রথম মুয়াবিয়া সিরীয় গভর্নর ছিলেন এবং তৃতীয় খলিফা উসমান ইবনে আফফানের হত্যাকাণ্ডের পর তাঁর হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে আলির আনুগত্য অস্বীকার করেন। এরপর উভয়ের মাঝে সিফফিনের যুদ্ধ সংঘটি হয়। ৬৫৭ সালের গ্রীষ্মে সংঘটিত এই যুদ্ধে মুহাজির খলিফা আলির পক্ষে মুয়াবিয়ার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শহীদ হন।[]

পরবর্তীতে ৬৬৬/৬৬৭ খ্রিষ্টাব্দে যখন আবদুর রহমানকে মুয়াবিয়ার নির্দেশে বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে, তখন মুহাজিরের পুত্র খালিদ প্রতিশোধ নিতে সিরিয়ায় যান। সেখানে গিয়ে তাঁর চাচার কথিত বিষদাতা ইবন উসালকে হত্যা করেন এবং এই অপরাধে তিনি গ্রেফতার হন। তবে পরবর্তীতে দিয়তের (রক্তপণ) প্রদান করার বিনিময়ে তিনি মুক্তি পান।[][]

দ্বিতীয় ফিতনার সময় খালিদ উমাইয়া বিরোধী আবদুল্লাহ ইবনুল জুবায়েরের পক্ষাবলম্বন করেন।[]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. الجمهرة - ابن الكلبي - الصفحة 88. ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০১৯-১২-১৮ তারিখে
  2. Hinds 1991, পৃ. 138–139।
  3. 1 2 Hinds 1991, পৃ. 139।
  4. Kilpatrick 2003, পৃ. 269।
  5. Arafat 1967, পৃ. 684।

গ্রন্থপঞ্জি

[সম্পাদনা]
  • Arafat, W. (১৯৬৭)। "Notes and Communications"। Bulletin of the School of Oriental and African Studies৩০ (3): ৬৮১–৬৮৪। জেস্টোর 612395
  • Hinds, M. (১৯৯১)। "Makhzūm"। Bosworth, C. E.; van Donzel, E.; Pellat, Ch. (সম্পাদকগণ)। The Encyclopaedia of Islam, New Edition, Volume VI: Mahk–Mid। Leiden: E. J. Brill। পৃ. ১৩৭–১৪০। আইএসবিএন ৯০-০৪-০৮১১২-৭ {{বিশ্বকোষ উদ্ধৃতি}}: অজানা প্যারামিটার |lastauthoramp= উপেক্ষা করা হয়েছে (|name-list-style= প্রস্তাবিত) (সাহায্য); অবৈধ |ref=harv (সাহায্য)
  • Kilpatrick, Hilary (২০০৩)। Making the Great Book of Songs: Compilation and the Author's Craft in Abû I-Faraj al-Isbahânî's Kitâb al-aghânî। London: Routledge। আইএসবিএন ০-২০৩-২২০৬১-৭