বিষয়বস্তুতে চলুন

মুহতাসিব

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
"মুহতাসিব রুটি ওজন করছেন", রালাম্ব কস্টিউম বুক থেকে, ১৬৫৭

অক্সফোর্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুসারে, একজন মুহতাসিব (আরবি: محتسب, যা حسبة হিসবাহ বা "জবাবদিহিতা"[] শব্দমূল থেকে উদ্ভূত) ছিলেন "ধ্রুপদী ইসলামি প্রশাসনে আল-হিসবাহ দপ্তরের একজন পদাধিকারী"।[] আমিল আস-সুক বা সাহিব আস-সুক[] নামেও পরিচিত মুহতাসিব ছিলেন বাজারব্যবসা-বাণিজ্যের তত্ত্বাবধায়ক এবং মধ্যযুগীয় ইসলামি দেশসমূহে নগরাঞ্চলের উন্মুক্ত স্থান ও জনসাধারণের আচরণের পরিদর্শক। তিনি সুলতান, ইমাম বা অন্য কোনো রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিযুক্ত হতেন। তার দায়িত্ব ছিল জনসাধারণের কাজকর্ম যেন শরিয়া আইন অনুযায়ী পরিচালিত হয়, তা নিশ্চিত করা।

মুহতাসিব শব্দের মূল ও দাপ্তরিক ধারণা হিসবাহ হলো একটি ইসলামি মতবাদ, যা শরিয়া আইনের আলোকে “সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ” বোঝায়; এবং প্রসারিত অর্থে এটি সরকারি আইন ও শৃঙ্খলা রক্ষা এবং বাজারের লেনদেন তদারকির দায়িত্বকেও নির্দেশ করে।[] তবে মুসলিম বিশ্বের প্রতিটি অঞ্চলে মুহতাসিবরা নিয়মিত বা কঠোরভাবে হিসবাহ পালনে নিজেদের নিয়োজিত করতেন কিনা, নাকি এর পরিবর্তে ওজন, অর্থ ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নগরচত্বরের সুশৃঙ্খল কার্যক্রম বজায় রাখার দিকেই বেশি মনোযোগ দিতেন (যদিও কখনো কখনো ঘুষ গ্রহণের অভিযোগও উঠত), তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে।[]

পরিভাষা

[সম্পাদনা]

সামি হামারনেহের মতে, "ধর্মীয় পরিভাষায়" হিসবাহ বলতে "নিজের জন্য ... ব্যবস্থা করা, অথবা কোনো সৎকর্মের জন্য পরকালে পুরস্কারের প্রত্যাশা করাকে বোঝায়।" ৯ম শতাব্দীর শুরুর দিকের কোনো এক সময়ে এটি ভিন্ন একটি অর্থ লাভ করে। তখন এটিকে "এমন একটি ধর্মীয় পদ বা দপ্তর" হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়, "যার উদ্দেশ্য ছিল" সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজের নিষেধ "বাস্তবায়ন করা"।[]

স্বেচ্ছাসেবক

[সম্পাদনা]

অন্তত একজন পণ্ডিত (উইলেম ফ্লোর) মুহতাসিব এবং মুতাতাওয়ি-এর মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করেন। তার মতে, ইসলামি আইনে মুহতাসিব হলেন সেই কর্মকর্তা যিনি "ফরজে আইন [ব্যক্তিগত দায়িত্ব]"-এর অনুসরণ করেন; অন্যদিকে, মুতাতাওয়ি হলেন "প্রকৃত বিশ্বাসী" বা স্বেচ্ছাসেবক যারা ইসলামি আইনের "ফরজে কেফায়া [সমষ্টিগত দায়িত্ব]" অনুসরণ করে "আইন ও হিসবাহর বিধান সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে উদ্যোগ গ্রহণ করেন।"[]

ব্যক্তিগত দায়িত্ব

[সম্পাদনা]

হিসবাহর আরেকটি প্রাসঙ্গিক সংজ্ঞা হলো: এটি বাজার, ওজন ও পরিমাপ ইত্যাদির সঙ্গে বিশেষভাবে সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারি দায়িত্ব নয়; বরং কুরআনের ৩:১১০[]৯:৭১[] নং আয়াতে নির্দেশিত মুসলিমদের একটি “ব্যক্তিগত” কর্তব্য।[১০] এই কর্তব্য অনুযায়ী, কোনো মুসলিম যখনই তার সহবিশ্বাসীদের দ্বারা সংঘটিত অন্যায় দেখতে পাবে, তখনই তা সংশোধনের চেষ্টা করবে।[১১] এটি মূলত আল-গাজ্জালির (মৃত্যু ১১১১) একটি "উদ্ভাবন" ছিল।[১০] আল-গাজ্জালি মুহতাসিব শব্দটিও ব্যবহার করেন, তবে তা "যিনি হিসবাহ পরিচালনা করেন" তাকে বোঝাতে অর্থাৎ সাধারণভাবে অন্যায় কাজের একজন নিষেধকারী, সুনির্দিষ্টভাবে বাজার তদারকিকারী কোনো কর্মকর্তা নন।[১২] ইতিহাসবিদ মাইকেল কুকের মতে, এর ফলে কিছুটা বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।[১৩]

কোন ব্যক্তি অন্যায় প্রতিরোধ করবে, কোন কাজ নিষিদ্ধ বলে গণ্য হবে এবং কাদেরকে তাদের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ বলে জানানো হবে; এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে আল-গাজ্জালি ও অন্যান্য মধ্যযুগীয় পণ্ডিতগণ একটি বিস্তৃত “পাণ্ডিত্যপূর্ণ ঐতিহ্য” গড়ে তুলেছিলেন।[১৪]

সাহিত্য

[সম্পাদনা]

পণ্ডিতগণ মুহতাসিবের[] কার্যাবলি বর্ণনায় যে সাহিত্য ব্যবহার করেন, তার অধিকাংশেরই উৎস মূলত দু'টি: "মুহতাসিবের ভূমিকা, কার্যাবলি ও দায়িত্ব সংক্রান্ত তাত্ত্বিক রচনা" এবং "কোনো নির্দিষ্ট স্থান ও সময়ে মুহতাসিবকে তার কাজে দিকনির্দেশনা দেওয়ার ব্যবহারিক নির্দেশিকা"।[১৫]

একজন মুহতাসিবের জন্য অন্যতম প্রাচীন এবং সবচেয়ে প্রভাবশালী নির্দেশিকাগ্রন্থ হলো আবদুর রহমান ইবনে নাসর ইবনে আব্দুল্লাহ আল-শায়জারির (মৃত্যু ১১৯৩) নিহায়াত আল-রুতবা ফি তলাব আল-হিসবাহ[১৬] হিসবাহ বিষয়ক গ্রন্থের আরেকটি উদাহরণ হলো বিখ্যাত ইসলামি পণ্ডিত ইবনে তাইমিয়ার লেখা একটি গ্রন্থ পাবলিক ডিউটিজ ইন ইসলাম: দ্য ইনস্টিটিউশন অব দ্য হিসবা। একটি পর্যালোচনায় বলা হয় যে, এই গ্রন্থটি শুধু "মুহতাসিবের দায়িত্বসমূহের রূপরেখাই তুলে ধরে না", বরং এটি এই শিক্ষাও দেয় যে, "কেবল মুসলিমদের ব্যবসায়িক আচরণই নয়, আল্লাহর প্রতি তাদের আচরণও নিয়ন্ত্রিত হওয়া প্রয়োজন।" ঐ পর্যালোচনায় আরও বলা হয় যে, ব্যবসায়িক লেনদেনে প্রতারণা করাকে কেবল 'অনৈতিক' বলে বিবেচনা করা হয় বলেই তা অপরাধ নয়; বরং এ ধরনের আচরণ আল্লাহ সম্পর্কে মানুষের বিকৃত ধারণা থেকে জন্ম নেয় এবং ফলস্বরূপ তা ইসলামের মৌলিক নীতিগুলোকে সরাসরি লঙ্ঘন করে।[১৭]

মুহতাসিবের দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও দিকনির্দেশনা প্রদানের জন্য বিশেষভাবে রচিত যেসব নির্দেশিকার ওপর মুহতাসিবরা প্রায়শই নির্ভর করতেন, সেগুলোকে হিসবাহ বলা হতো। এসব গ্রন্থে বাজার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত ব্যবহারিক পরামর্শের পাশাপাশি, একজন মুহতাসিবের জানা প্রয়োজন এমন অন্যান্য বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকত, যেমন: উৎপাদননির্মাণসংক্রান্ত মানদণ্ড।[১৮]

অন্য আরেকটি উৎস, যদিও তা পরিমাণে বেশ সীমিত, মুহতাসিবের কার্যাবলি বোঝার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই উৎসগুলো সাধারণত ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক হয়ে থাকে, 'যা মাঝে মাঝে একজন মুহতাসিবের অস্তিত্ব ও তার কাজকর্মের কথা উল্লেখ করে'। এগুলো অত্যন্ত মূল্যবান, কারণ এগুলো 'আমাদের জানায় মুহতাসিব বাস্তবে কেমন ছিলেন, তার কেমন হওয়া উচিত ছিল তা নয়'।[১৯]

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

ইসলামি ইতিহাসে মুহতাসিব পদটি কতটা বিস্তৃত ছিল তার কিছু উদাহরণ হলো: “পারস্যে মুহতাসিবের কার্যাবলি ১৬শ শতাব্দী পর্যন্ত কার্যত অপরিবর্তিতভাবে পরিচালিত হতে থাকে এবং মিশরে খেদিভ রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলি পাশার শাসনকাল পর্যন্ত এটি বিদ্যমান ছিল। তদুপরি, ১৮৫৫ সালে উসমানীয় সাম্রাজ্যে এবং ১৯২৫ সালে সিরিয়া প্রজাতন্ত্রে এ ব্যবস্থার পুনঃপ্রবর্তন করা হয়।”[]

ইসলাম-পূর্ব আরব বিশ্বের সাথে সংযোগ

[সম্পাদনা]

এনসাইক্লোপিডিয়া অফ ইসলাম অনুসারে কাহেন ও তালবি লেখেন:[২০] “বর্তমানে সাধারণভাবে স্বীকৃত যে, ইসলামি দেশসমূহে মুহতাসিবের দায়িত্ব ছিল বাইজেন্টাইন আগোরাণোমো-এর প্রত্যক্ষ উত্তরসূরি”; অর্থাৎ বাজার তদারককারী বা বাজার পরিদর্শকের পদ।[Note ১][] উইলেম ফ্লোর লেখেন যে, “আমরা ... জানি যে [ইসলাম-পূর্ব] পার্থিয় (খ্রিস্টপূর্ব ২৪৭–খ্রিস্টাব্দ ২২৪) এবং সাসানীয় ইরানে (খ্রিস্টাব্দ ২২৪–৬৫১) বাজার তদারককারী কর্মকর্তার অস্তিত্ব ছিল। আমরা আরও জানি যে, এই কর্মকর্তাকে আগোরাণোমোস নামে অভিহিত করা হতো এবং ব্যাবিলনিয়া, সেলিউসিয়া ও দুরা শহরে এধরনের কর্মকর্তার উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়"।[২২]

আরো দেখুন

[সম্পাদনা]

আরও পড়ুন

[সম্পাদনা]
  • বাকলি, আর. পি. "দ্য মুহতাসিব।" অ্যারাবিকা ৩৪ (১৯৯২): ৫৯–১১৭।

পাদটীকা

[সম্পাদনা]
  1. অন্য একজন লেখক, বেঞ্জামিন ফস্টার, আগোরাণোমো সরাসরি পূর্বসূরি ছিল এমন ধারণার বিরোধিতা করেন এবং তিনি মনে করেন যে আরব বিজয়ের পূর্ব পর্যন্ত বাইজেন্টাইন শহরগুলোর বাজার পরিদর্শকদের দাপ্তরিক পদবি নিশ্চিতভাবে কী ছিল তা আমরা জানি না। যদিও তিনি উল্লেখ করেন যে "আগোরাণোমিয়া এবং হিসবাহর বিকাশের মধ্যে অনেক উল্লেখযোগ্য সাদৃশ্য" ছিল এবং আরব বিজয়ের পূর্ব পর্যন্ত বাইজেন্টাইন শহরগুলোতে বাজার পরিদর্শকদের অস্তিত্বের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেননি।[২১]

পারিবারিক নাম

[সম্পাদনা]

মুহতাসিব, মুহতাসেব এবং মনতাসে-এর মতো ভিন্ন ভিন্ন বানানে পরিচিত 'মুনতাসেব' হলো ফিলিস্তিনের হেবরন শহরের একটি মুসলিম পরিবার।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Sami Zubaida (2005), Law and Power in the Islamic World, আইএসবিএন ৯৭৮-১৮৫০৪৩৯৩৪৯, pages 58-60
  2. "মুহতাসিব"Oxford Islamic Studies Online। ১৫ এপ্রিল ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ সেপ্টেম্বর ২০২১
  3. Mottahedeh, Roy; Stilt, Kristen (শরৎ ২০০৩)। "মুহতাসিবের কার্যাবলির আলোকে জনপরিসর ও ব্যক্তিগত পরিসর"Social Research: An International Quarterly৭০ (৩): ৭৩৫–৭৪৮। ডিওআই:10.1353/sor.2003.0036আইএসএসএন 1944-768Xএস২সিআইডি 55354657। সংগ্রহের তারিখ ২০ আগস্ট ২০২১
  4. "হিসবাহ"Oxford Islamic Studies Online। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জুলাই ২০২১
  5. 1 2 Floor, Willem (শীতকাল ১৯৮৫)। "The Office of Muhtasib in Iran"Iranian Studies১৮ (1): ৫৩–৭৪। ডিওআই:10.1080/00210868508701647জেস্টোর 4310481। সংগ্রহের তারিখ ২০ আগস্ট ২০২১
  6. 1 2 Hamarneh, Sami (জুন ১৯৬৪)। "Origin and Functions of the Ḥisbah System in Islam and its Impact on the Health Professions" [ইসলামে হিসবাহ ব্যবস্থার উৎপত্তি ও কার্যাবলী এবং স্বাস্থ্য পেশার ওপর এর প্রভাব]Sudhoffs Archiv für Geschichte der Medizin und der Naturwissenschaften৪৮ (২): ১৫৭–১৭৩। জেস্টোর 20775086পিএমআইডি 14212666। সংগ্রহের তারিখ ৩ সেপ্টেম্বর ২০২১
  7. 1 2 Floor, Willem (শীত ১৯৮৫)। "The Office of Muhtasib in Iran" [ইরানে মুহতাসিবের দপ্তর]Iranian Studies১৮ (১): ৬০। ডিওআই:10.1080/00210868508701647জেস্টোর 4310481। সংগ্রহের তারিখ ২০ আগস্ট ২০২১
  8. "সূরা আল-ইমরান - ১১০"Quran.com। সংগ্রহের তারিখ ৩ সেপ্টেম্বর ২০২১
  9. "সূরা তাওবাহ্‌ - ৭১"Quran.com। সংগ্রহের তারিখ ৩ সেপ্টেম্বর ২০২১
  10. 1 2 Cook, Forbidding Wrong, 2003, p.4
  11. Cook, Forbidding Wrong, 2003, p.122
  12. Cook, Forbidding Wrong, 2003, p.4-5
  13. Cook, Forbidding Wrong, 2003, p.5
  14. Cook, Forbidding Wrong, 2003, p.11
  15. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; "Mottahedeh-2003" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  16. Buckley, R. P., সম্পাদক (১৯৯৯)। The Book of the Islamic Market Inspector: Nihāyat al-Rutba fī Ṭalab al-Ḥisba (The Utmost Authority in the Pursuit of Ḥisba) by ʿAbd al-Raḥmān b. Naṣr al-Shayzarī (ইংরেজি ভাষায়)। Oxford University Press।
  17. মুহাম্মদ উমর মেমন (ফেব্রুয়ারি ১৯৮৫)। "Review of Public Duties in Islam: The Institution of the Hisba. by Ibn Taymiya; Muhtar Holland (trans.)"International Journal of Middle East Studies (ইংরেজি ভাষায়)। ১৭ (১): ১৪১–১৪২। ডিওআই:10.1017/S0020743800028919জেস্টোর 163324এস২সিআইডি 162051128
  18. Ibn al-Ukhuwwa. Ma'alim al-Qurba fi Akham al-Hisba, Gibb Memorial Series, London, 1938; Arabic text, edited and translated (in abridgement) by Reuben Levy.
  19. ফ্লোর, উইলেম (শীতকাল ১৯৮৫)। "The Office of Muhtasib in Iran"Iranian Studies১৮ (১): ৫৯। ডিওআই:10.1080/00210868508701647জেস্টোর 4310481। সংগ্রহের তারিখ ২০ আগস্ট ২০২১
  20. Encyclopaedia of Islam (2nd ed.), article "Hisbah"
  21. Benjamin R. Foster, "Agoranomos and Muhtasib," Journal of the Economic and Social History of the Orient, Vol. 13 (1970), p. 128.
  22. Floor, Willem (শীতকাল ১৯৮৫)। "The Office of Muhtasib in Iran"Iranian Studies১৮ (1): ৫৭। ডিওআই:10.1080/00210868508701647জেস্টোর 4310481। সংগ্রহের তারিখ ২০ আগস্ট ২০২১