বিষয়বস্তুতে চলুন

মুসা ইবনে কা'ব আল-তামিমি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মুসা ইবনে কা'ব আল-তামিমি
موسى بن كعب التميمي
সিন্ধুর আব্বাসীয় গভর্নর
কাজের মেয়াদ
৭৫১  ৭৫৪
সার্বভৌম শাসকআবুল আব্বাস আল-সাফফাহ
পূর্বসূরীমনসুর ইবনে জামহুর
উত্তরসূরীউয়াইনা ইবনে মুসা
মিশরের আব্বাসীয় গভর্নর
কাজের মেয়াদ
৭৫৮  ৭৫৯
সার্বভৌম শাসকআল-মনসুর
পূর্বসূরীআবু আওন আবদুল মালিক ইবনে ইয়াজদি
উত্তরসূরীমুহাম্মাদ ইবনুল আশআস
ব্যক্তিগত বিবরণ
সন্তানউয়াইনা
পিতামাতাকা'ব আল-তামিমি

মুসা ইবনে কাব আল-তামিমি ( আরবি: موسى بن كعب التميمي ) ছিলেন একজন আরব মুসলিম সেনাপতি, যিনি অষ্টম শতকে সংঘটিত আব্বাসীয় বিপ্লবের সময় একজন সেনাপতি হিসেবে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি ৭৫১ থেকে ৭৫৪ সাল পর্যন্ত সিন্ধু এবং ৭৫৮ থেকে ৭৬৯ সাল মিশরে খিলাফতের প্রাদেশিক গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তাঁর বংশলতিকা হলো, মুসা ইবন কা'ব ইবন উয়াইনা ইবন আয়িশা ইবন আমর ইবন সারি ইবন আদিয়া ইবন হারিস ইবন ইমরুল কায়েস ইবন যায়দ মানাত ইবন তামিম ইবন মুরর ইবন আদ ইবন ইলিয়াস ইবন মুদার ইবন নিজার।[]

তার দাদা উয়াইনা ইবনে আয়িশা একজন সাহাবী ছিলেন এবং তিনি মু'তার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।[]

জীবনী

[সম্পাদনা]

মুসা ইবনে কাব খুরাসানে আব্বাসীয় বিপ্লবের প্রস্তুতিকালে বিপ্লবের “বারোজন নকিবের” একজন ছিলেন, যাদেরকে আবদুল্লাহ ইবনে আলি নির্বাচিত করেছিলেন। এই নকিবরা গোপনে বিপ্লবের সংগঠন ও পরিকল্পনা করত। পরবর্তীতে যখন বিদ্রোহ শুরু হয়, তখন ইবনে কাব একজন সেনাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জাবের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। এই যুদ্ধেই উমাইয়া খিলাফতের পতন ঘটে এবং আব্বাসীয়দের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হয়।[]

এরপর আব্দুল্লাহ ইবনে আলির অনুসারী হিসেবে মুসা ইবনে কাব সিরিয়ায় পৌঁছান। সেখানে আব্দুল্লাহ তাকে জাজিরা অঞ্চলের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেন। এই দায়িত্বে থাকাকালীন তিনি আবুল ওয়ার্দ নেতৃত্বাধীন উমাইয়া-পন্থী বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে অঞ্চলটিকে স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করেন।[]

এরপর খলিফা আবুল আব্বাস আল-সাফফাহ মুসাকে তার “সাহিব আল-শুরতা” (পুলিশ প্রধান) হিসেবে নিয়োগ দেন। এদিকে এ অস্থির পরিস্থিতির সুযোগে সিন্ধুর স্থানীয় গভর্নর মনসুর ইবনে জমহুর ক্ষমতা দখল করে বসলে তাকে সিন্ধু অঞ্চলে পাঠানো। সেখানে মুসা যুদ্ধে মনসুরকে পরাজিত করেন। পরাজয়ের পর মনসুর মরুভূমিতে পালিয়ে যান এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়। এর ফলে মুসা সিন্ধুর গভর্নর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।[]

মুসা খলিফা আস-সাফ্ফাহর মৃত্যু (৭৫৪ খ্রিস্টাব্দ) পর্যন্ত সিন্ধুতে অবস্থান করেন। এরপর তিনি তার পুত্র উয়াইনাকে সেখানে প্রতিনিধি হিসেবে রেখে ইরাকে ফিরে আসেন এবং পুনরায় সাহিবুল শুরতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ৭৫৮ সালে নতুন খলিফা আল-মনসুর তাকে মিশরের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেন। তবে তার এই দায়িত্বকাল খুবই সংক্ষিপ্ত ছিল; কারণ সে বছরই (৭৫৮/৭৫৯ খ্রিস্টাব্দে) তিনি মৃত্যুবরণ করেন।[][]

অন্যদিকে, তার পুত্র উয়াইনা সিন্ধুতে বিদ্রোহ করেন; কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি স্থানীয় ইয়েমেনি গোষ্ঠীর হাতে নিহত হন।[]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "تاريخ مدينة دمشق - ابن عساكر - ج ٦١ - الصفحة ١٩٦"shiaonlinelibrary.com। ২১ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মার্চ ২০২৬
  2. مختصر تاريخ دمشق، ابن منظور الإفريقي، دار الفكر - دمشق 1402 هـ ، ج 20 ص 167
  3. 1 2 3 4 Crone 1980, পৃ. 186।
  4. Crone 1980, পৃ. 158, 186।
  5. Kennedy 1998, পৃ. 77।

সূত্র

[সম্পাদনা]