ইসলামী সন্ত্রাসবাদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(মুসলিম সন্ত্রাসবাদ থেকে পুনর্নির্দেশিত)
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ইসলামী সন্ত্রাসবাদে আক্রান্ত দেশ সমূহ

ইসলামী সন্ত্রাসবাদ' হল এক ধরনের ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদ যা ধর্মের নামে বিভিন্ন উদ্দেশ্য অর্জন করতে কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী দ্বারা চর্চা করা হয়। [১], এরা গণহত্যা , আত্মঘাতি বোমা বিস্ফোরণ , সাধারণ মানুষকে হত্যা[১] প্রভৃতি হিংস্র কাজকর্মের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড করে থাকে।

ইসলামী সন্ত্রাসবাদীরা সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড যা ন্যায়সঙ্গত করার উদ্দেশ্যে ইসলাম ধর্মের নাম ব্যবহার করে থাকে। বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠী তাদের রাজনৈতিক স্বার্থ উদ্ধারের জন্য ইসলাম রক্ষা কিংবা ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠার নাম করে নিরীহ মানুষ হত্যা, আত্মঘাতি বোমা বিস্ফোরণ কিংবা ধ্বংসাত্মক যে সকল কর্মকাণ্ড করে থাকে তাকে সার্বিক ভাবে ইসলামী সন্ত্রাসবাদ বলা হয়। সাম্প্রতিক কালে ইরাকি আধিপত্যবাদি ইসলামী ষ্টেট তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে খিলাফত প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয় এবং ইসলামে নিষিদ্ধ হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড যেমন বিনাবিচারে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ হত্যা, শিরশ্ছেদ ও আগুনে পুড়িয়ে প্রতিপক্ষ ও বেসামরিক ব্যক্তিদের হত্যা ,প্রাচীন পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শন ধ্বংস করার মাধ্যমে ইসলামী স্টেট ইসলাম বিরোধী বা ইসলামের শত্রু সংগঠন হিসাবে মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে বিবেচিত হয়েছে[২]

প্রেক্ষাপট[সম্পাদনা]

সাম্প্রতিক কালে ইসলামী সন্ত্রাসের প্রভাব সারা বিশ্বে প্রসারিত হয়েছে। আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ছাড়াও ইউরোপ, রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এর প্রভাব দেখা গেছে, এবং এই সমস্ত আক্রমণের শিকার হয়েছে মুসলিম ও অ-মুসলিম উভয়েই।[৩] সর্বাধিক আক্রান্ত মুসলিম-অধ্যুষিত অঞ্চলসমূহে এই সন্ত্রাসবাদীরা সশস্ত্র স্বাধীন প্রতিবাদী সংগঠন,[৩] রাষ্ট্রীয় প্রতিরোধ ও রাজনৈতিকভাবে উদারপন্থী মুসলিম প্রতিবাদের মুখোমুখি হয়েছে।[৪]

সমালোচনা[সম্পাদনা]

আক্ষরিকভাবে ইসলামী সন্ত্রাসবাদের অস্তিত্ব সম্পর্কে সংশয়ের অবকাশ না থাকলেও কেউ কেউ এই শব্দবন্ধের যথেচ্ছ প্রয়োগের সমালোচনা করেছেন। বিভিন্ন পাশ্চাত্য রাজনৈতিক বক্তৃতায় এর যথোচিত বিবেচনারহিত ব্যবহারকে "অ-সৃষ্টিশীল", "অসুবিধাজনক", "তীব্র রাজনৈতিকীকরণ সঞ্জাত ও যুক্তিগতভাবে তর্কযোগ্য" এবং "সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিপন্থী" হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।[৪] আবার, এই শেষোক্ত মতবাদটিকেও অনেকে পলায়নপর মানসিকতার চিহ্ন হিসেবে সমালোচনা করেছেন।[৫]

পরিসংখ্যান[সম্পাদনা]

ইউরোপোলের রিপোর্ট অনুযায়ী বিশ্বে সন্ত্রাসীদের ০.৪ শতাংশ মুসলিম।[৬][যাচাই প্রয়োজন] ইউরোপ ও আমেরিকার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিশ্বের মোট সন্ত্রাসী ঘটনার ৫ শতাংশের কমের জন্য মুসলমানরা দায়ী। এফবিআই’র সরকারী নথিপত্রের আলোকে এক গবেষণায় দেখা যায়, ১৯৮০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে সংঘটিত সব সন্ত্রাসী আক্রমণের ৬ শতাংশের জন্য দায়ী মুসলমানরা। বাকী ৯৪ শতাংশের জন্য দায়ী ছিল অন্যরা (ল্যাতিনরা ৪২ শতাংশ, চরম বামপন্থীরা ২৪ শতাংশ, চরমপন্থী ইহুদীরা ৭ শতাংশ, কমিউনিষ্টরা ৫ শতাংশ, অন্য গ্রুপগুলো ১৬ শতাংশ)। আর ইউরোপে মুসলিম সন্ত্রাসী এক শতাংশেরও কম। হেগভিত্তিক ইউরোপিয়ান পুলিশ অফিস তথা ইউরোপোলের ইইউ টেরোরিজম সিচুয়েশন অ্যান্ড ট্রেন্ড রিপোর্টে এমনটা পাওয়া গেছে।[৭][যাচাই প্রয়োজন]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Center for Muslim-Jewish Engagement"www.usc.edu (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৫-১২-৩০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০১-০২ 
  2. "ISIS is enemy No. 1 of Islam,' says Saudi grand mufti"Alarabiya.net। সংগ্রহের তারিখ ৩০ এপ্রিল ২০১৭ 
  3. Mona Siddiqui। "Isis: a contrived ideology justifying barbarism and sexual control"the Guardian (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০১৫ 
  4. Christine Sisto। "Moderate Muslims Stand against ISIS - National Review Online"National Review Online (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০১৫ 
  5. "Howard Dean: Paris attackers not 'Muslim terrorists'" (ইংরেজি ভাষায়)। Fox News। জানুয়ারি ৮, ২০১৫। ৮ জানুয়ারি ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৮ জানুয়ারি ২০১৪ 
  6. ইউরোপোল ইইউ টেরোরিজম সিচুয়েশন অ্যান্ড ট্রেন্ড রিপোর্ট
  7. Are All Terrorists Muslims? It’s Not Even Close