মুরাদ বখশ
| মুরাদ বখশ مراد بخش | |||||
|---|---|---|---|---|---|
| মুঘল সাম্রাজ্যের শাহজাদা; মির্জা | |||||
প্রায় ১৬৫৫ সালে ত্রিশের কোঠায় যুবরাজ মুরাদ বখশ | |||||
| মুলতান সুবাহ-এর সুবাহদার | |||||
| রাজত্ব | ১৬৪৩ – ১৪ ডিসেম্বর ১৬৪৬ | ||||
| সম্রাট | শাহজাহান | ||||
| পূর্বসূরি | সাঈদ খান | ||||
| উত্তরসূরি | সাঈদ খান | ||||
| বাল্খ সুবাহ-এর সুবাহদার | |||||
| রাজত্ব | ১৬ ফেব্রুয়ারি ১৬৪৬ – ৯ আগস্ট ১৬৪৬ | ||||
| সম্রাট | শাহজাহান | ||||
| উত্তরসূরি | আওরঙ্গজেব | ||||
| কাশ্মীর সুবাহ-এর সুবাহদার | |||||
| রাজত্ব | ২০ আগস্ট ১৬৪৭ – জুলাই ১৬৪৮ | ||||
| সম্রাট | শাহজাহান | ||||
| দাক্ষিণাত্য সুবাহ-এর সুবাহদার | |||||
| রাজত্ব | ২৫ জুলাই ১৬৪৮ – ১৪ সেপ্টেম্বর ১৬৪৯ | ||||
| সম্রাট | শাহজাহান | ||||
| কাবুল সুবাহ-এর সুবাহদার | |||||
| রাজত্ব | ২৩ জানুয়ারি ১৬৫০ – ১৬৫৪ | ||||
| সম্রাট | শাহজাহান | ||||
| পূর্বসূরি | কুলি খান তুরানি | ||||
| উত্তরসূরি | সাঈদ খান | ||||
| গুজরাট সুবাহ-এর সুবাহদার | |||||
| Reign | মার্চ ১৬৫৪ – ১৪ ডিসেম্বর ১৬৬১ | ||||
| সম্রাট | শাহজাহান, আওরঙ্গজেব | ||||
| পূর্বসূরি | শায়েস্তা খান | ||||
| উত্তরসূরি | শাহনওয়াজ খান সাফাভি | ||||
| জন্ম | মির্জা মুহাম্মদ মুরাদ বখশ ৯ অক্টোবর ১৬২৪ রোহতাসগড় দুর্গ, মুঘল সাম্রাজ্য | ||||
| মৃত্যু | ১৪ ডিসেম্বর ১৬৬১ (বয়স ৩৭) গোয়ালিয়র দুর্গ, মুঘল সাম্রাজ্য | ||||
| সমাধি | বিশ্বাসঘাতকদের সমাধিক্ষেত্র, গোয়ালিয়র | ||||
| সাকিনা বানু বেগম | |||||
| বংশধর |
| ||||
| |||||
| রাজবংশ | মুঘল রাজবংশ | ||||
| পিতা | শাহজাহান | ||||
| মাতা | মুমতাজ মহল | ||||
| ধর্ম | সুন্নি ইসলাম | ||||
| সিলমোহর | |||||
মির্জা মুহাম্মদ মুরাদ বখশ (৯ অক্টোবর ১৬২৪ – ১৪ ডিসেম্বর ১৬৬১), সাধারণত মুরাদ বখশ নামে পরিচিত, ছিলেন মুঘল সম্রাট শাহজাহানের তৃতীয় পুত্র এবং আওরঙ্গজেবের কনিষ্ঠ ভ্রাতা। তিনি ১৬৫৮ সালের মুঘল উত্তরাধিকার-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি গুজরাট-এর সুবাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং একজন সামরিক সেনাপতি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। উত্তরাধিকার-সংগ্রামের সময় তিনি আওরঙ্গজেবের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে তাঁর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা দারা শিকোহের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেন। সামুগড়ের যুদ্ধে বিজয়ের পর তিনি আওরঙ্গজেবের সঙ্গে মুঘল সাম্রাজ্যের ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রত্যাশা করেছিলেন। তবে পরবর্তীতে আওরঙ্গজেব তাঁকে বন্দি করেন এবং দীর্ঘ কারাবাসের পর ১৬৬১ সালে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
পরিবার
[সম্পাদনা]মুহাম্মদ মুরাদ বখশ ১৬২৪ সালের ৯ অক্টোবর বিহারের রোহতাসগড় দুর্গে সম্রাট শাহজাহান ও তাঁর স্ত্রী মুমতাজ মহলের ষষ্ঠ এবং সর্বকনিষ্ঠ জীবিত পুত্র হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] মুরাদের ভাইবোনদের মধ্যে ছিলেন রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী তাঁর দুই বোন, রাজকুমারী জাহানারা বেগম ও রোশনারা বেগম; তাঁর পিতার উত্তরাধিকারী এবং জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা যুবরাজ দারা শিকোহ; এবং পরবর্তীকালের মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]
ব্যক্তিগত জীবন
[সম্পাদনা]১৬৩৮ সালে চৌদ্দ বছর বয়সে মুরাদ বখশ সাফাভি রাজকুমারী সাকিনা বানু বেগমকে বিবাহ করেন। তিনি শাহনওয়াজ খান সাফাভির কন্যা ছিলেন। সাকিনা বানু বেগম ছিলেন মুরাদের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতৃবধূ দিলরাস বানু বেগমের ছোট বোন; দিলরাস ছিলেন আওরঙ্গজেবের স্ত্রী।[১]
শাসনকাল
[সম্পাদনা]
মুরাদ বখশ মুলতান-এর সুবাহদার (১৬৪২), বাল্খ-এর (১৬ ফেব্রুয়ারি ১৬৪৬ থেকে ৯ আগস্ট ১৬৪৬), কাশ্মীর-এর (২০ আগস্ট ১৬৪৭ থেকে জুলাই ১৬৪৮), দাক্ষিণাত্যের (২৫ জুলাই ১৬৪৮ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর ১৬৪৯), কাবুল-এর (২৩ জানুয়ারি ১৬৫০ থেকে ১৬৫৪), গুজরাট-এর (মার্চ ১৬৫৪) এবং মালওয়া-র সুবাহদার হিসেবে নিযুক্ত হন।[২]
উত্তরাধিকার যুদ্ধ
[সম্পাদনা]১৬৫৭ সালের ৩০ নভেম্বর, তাঁর পিতা অসুস্থ, এমন সংবাদ পাওয়ার পর তিনি আহমেদাবাদে নিজেকে সম্রাট ঘোষণা করেন। একই বছরে তিনি উসমানীয় রাষ্ট্রদূত মানজাদা হুসাইন আগা-র সাক্ষাৎ পান। তিনি সুরাটের বন্দরে এসে শাহজাহানের সঙ্গে আগ্রায় সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছিলেন। মানজার হুসাইন আগা শাহজাহানের পুত্রদের মধ্যে চলা যুদ্ধ নিয়ে তাঁর হতাশার কথা উল্লেখ করেন।[৩]
মুরাদ বখশ আওরঙ্গজেবের সঙ্গে হাত মিলিয়ে শাহজাহানের জ্যেষ্ঠ পুত্র দারা শিকোহকে পরাজিত করার জন্য যুদ্ধে অংশ নেন। প্রকৃতপক্ষে, মুরাদ বখশ ও তাঁর সোয়ারদের নেতৃত্বে পরিচালিত প্রচণ্ড আক্রমণই সামুগড়ের যুদ্ধের ফলাফল শেষ পর্যন্ত আওরঙ্গজেবের পক্ষে নিয়ে যায়।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]
১৬৫৮ সালের ৭ জুলাই, তাঁর ভাই আওরঙ্গজেবের সঙ্গে একটি তাঁবুতে অবস্থানকালে তাঁকে মাদকাসক্ত অবস্থায় গোপনে কারাগারে পাঠানো হয় এবং ১৬৫৯ সালের জানুয়ারি থেকে তাঁকে গোয়ালিয়র দুর্গে স্থানান্তর করা হয়।[৪]
তিনি ১৬৬১ সালে আলি নাকি নামে প্রাক্তন দেওয়ান-এর এক কেরানিকে হত্যা করার অভিযোগে বিচারের সম্মুখীন হন এবং তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর আওরঙ্গজেব মুরাদ বখশের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে গুজরাট-এর সুবাহদার নিযুক্ত করেন এবং ইনায়াত খানকে সুরাটে নতুন মুঘল সেনাপতি হিসেবে নিয়োগ দেন।[৫]
মৃত্যু
[সম্পাদনা]১৬৬১ সালের ১৪ ডিসেম্বর, তিন বছর কারাগারে কাটানোর পর, গোয়ালিয়র দুর্গে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। .[৬][৭] তাঁর ভাইদের মধ্যে সর্বশেষজনও মৃত্যুবরণ করায়, আওরঙ্গজেব মুঘল সাম্রাজ্যের একচ্ছত্র সম্রাটে পরিণত হন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]
বংশপরিচয়
[সম্পাদনা]| জালালউদ্দীন মুহাম্মদ আকবর, মুঘল সম্রাট[৮] | |||||||||||||||
| নূরউদ্দীন মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর, মুঘল সম্রাট[৯] | |||||||||||||||
| মরিয়ম-উজ-জামানি[১০] | |||||||||||||||
| শাহাবউদ্দীন মুহাম্মদ শাহজাহান প্রথম, মুঘল সম্রাট[১১] | |||||||||||||||
| উদয় সিংহ, মারওয়ার-এর রাজা*[১২] | |||||||||||||||
| জগৎ গোঁসাই[১৩] | |||||||||||||||
| গোয়ালিয়রের মানরং দেবী[১৪] | |||||||||||||||
| মুরাদ বখশ | |||||||||||||||
| ইতিমাদউদ্দৌলা[১৫] | |||||||||||||||
| আবুল হাসান আসফ খান[১৬] | |||||||||||||||
| আসমত বেগম[১৭] | |||||||||||||||
| মুমতাজ মহল[১৮] | |||||||||||||||
| গিয়াসউদ্দীন আলী আসফ খান[১৯] | |||||||||||||||
| দিওয়ানজি বেগম[২০] | |||||||||||||||
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Waldemar, Hansen (১৯৮৬)। The Peacock Throne: The Drama of Mogul India। Motilal Banarsidass। পৃ. ১২৪।
- ↑ "Peshawar, Pakistan, 1980", Crossing the River Kabul, Potomac Books, পৃ. ১৫৩–১৫৫, ডিওআই:10.2307/j.ctt1p6jhvp.50, সংগ্রহের তারিখ ২৪ ডিসেম্বর ২০২৩
- ↑ Farooqi, Naimur Rahman (১ জানুয়ারি ১৯৮৯)। Mughal-Ottoman relations: a study of political & diplomatic relations between Mughal India and the Ottoman Empire, 1556-1748 (ইংরেজি ভাষায়)। Idarah-i Adabiyat-i Delli।
- ↑ Storia Do Mogor। আইএসবিএন ৯৭৮১১৪১৮৯৪৫৬৭। [পূর্ণ তথ্যসূত্র প্রয়োজন]
- ↑ Flores, Jorge; Subrahmanyam, Sanjay (২০০৪)। "The Shadow Sultan: Succession and Imposture in the Mughal Empire, 1628-1640"। Journal of the Economic and Social History of the Orient। ৪৭ (1): ৮০–১২১। ডিওআই:10.1163/156852004323069402। আইএসএসএন 0022-4995। জেস্টোর 25165022।
- ↑ The Rediscovery of India: A New Subcontinent – Ansar Hussain Khan
- ↑ "Sháh-Jahán-námas – The History of India"। ৩ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০০৬।
- ↑ Mehta (১৯৮৬, p. 374)
- ↑ Mehta, J. L. (১৯৮৬)। Advanced Study in the History of Medieval India। New Delhi: Sterling Publishers। আইএসবিএন ৮১-২০৭-০২৯৮-০। ওসিএলসি 1007201916।
- ↑ Mehta (১৯৮৬, p. 374)
- ↑ Sarker, Kobita (২০০৭)। Shah Jahan and his Paradise on Earth: The Story of Shah Jahan's Creations in Agra and Shahjahanabad in the Golden Days of the Mughals। Kolkata: K.P. Bagchi & Co। পৃ. ১৮৭। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭০৭৪-৩০০-২। ওসিএলসি 176865104।
- ↑ Mukherjee, Soma (২০০১)। Royal Mughal Ladies and Their Contributions। New Delhi: Gyan Pub. House। পৃ. ১২৮। আইএসবিএন ৮১-২১২-০৭৬০-৬। ওসিএলসি 49618757।
- ↑ Mehta (১৯৮৬, p. 418)
- ↑ Mukherjee (২০০১, p. 128)
- ↑ Subhash Parihar, Some Aspects of Indo-Islamic Architecture (1999), p. 149.
- ↑ Thackeray, Frank W.; Findling, John E. (২০১২)। Events that Formed the Modern World: From the European Renaissance Through the War on Terror। Santa Barbara, Calif.: ABC-CLIO। পৃ. ২৫৪। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৫৯৮৮৪-৯০২-৮। ওসিএলসি 828682002।
- ↑ Shujauddin, Mohammad; Shujauddin, Razia (১৯৬৭)। The Life and Times of Noor Jahan (ইংরেজি ভাষায়)। Caravan Book House। পৃ. ১।
- ↑ Sarker (২০০৭, p. 187)
- ↑ Ahmad, Moin-ud-din (১৯২৪)। The Taj and Its Environments: With 8 Illus. from Photos., 1 Map, and 4 Plans (ইংরেজি ভাষায়)। R. G. Bansal। পৃ. ১০১।
- ↑ Thackeray ও Findling (২০১২, p. 254)