মুনির হুসাইন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মুনির হুসাইন
Munir Hussain
মুনির হুসাইন.jpg
ব্যক্তিগত তথ্য
জন্ম(১৯২৯-১১-২৯)২৯ নভেম্বর ১৯২৯
অমৃতসর, ব্রিটিশ রাজ (বর্তমান ভারত)
মৃত্যু২৯ জুলাই ২০১৩(2013-07-29) (বয়স ৮৩)
করাচি, পাকিস্তান
ব্যাটিংয়ের ধরনডান-হাতি ব্যাটসম্যান
বোলিংয়ের ধরনডান-হাতি মিডিয়াম-ফাস্ট
ভূমিকাবোলার
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা প্রথম শ্রেণী
ম্যাচ সংখ্যা
রানের সংখ্যা ১২
ব্যাটিং গড় ৬.০০
১০০/৫০ ০/০
সর্বোচ্চ রান ১০
বল করেছে ১৭৪
উইকেট
বোলিং গড় ৩২.০০
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ২/৬৪
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ০/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো, ২৬ আগস্ট ২০১৩

মুনির হুসাইন (২৯ নভেম্বর ১৯২৯ – ২৯ জুলাই ২০১৩) ছিলেন একজন পাকিস্তানী ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার, প্রশাসক এবং সাংবাদিক; যিনি প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে কালাত ক্রিকেট দলের হয়ে ১৯৬৯-৭০ মৌসুমে প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি উর্দু ভাষায় ধারাভাষ্য দেওয়ার মাধ্যমে প্রথম উর্দুভাষী ধারাভাষ্যকার হিসেবে মর্যাদা লাভ করেন এবং প্রথম উর্দু ক্রিকেট পত্রিকা আঁকবার-ই-ওয়াতান এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ছিলেন।[১][২] ১৯৭০-এর দশকে তিনি পাকিস্তান টেলিভিশন (পিটিভি), রেডিও পাকিস্তান এর খেলায় ধারাবর্ণনা দেন এবং বহু বছর যাবত দৈনিক জাঙ্গ এর ক্রিকেট বিষয়ক সাপ্তাহিক কলাম লিখেছিলেন। ক্রিকেটে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি বিভিন্ন সম্মাননা লাভ করেছেন। ইএসপিএনক্রিকইনফো লেখক সাদ সাফকাত এক বর্ণনায় তাকে বলেন "অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী ধারাভাষ্যকার, যুগান্তকারী প্রকাশক, করাচি সিটি ক্রিকেট এসোসিয়েশন (কেসিসিএ) পরিচালক এবং জাতীয় পর্যায়ের ক্রিকেটের অধীনে তার অভিজ্ঞতাময় উপস্থিতি ছিল অসাধারণ"।[১] এছাড়াও তিনি কেসিসিএর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

ক্রিকেট[সম্পাদনা]

মুনির একজন ডানহাতি মিডিয়াম ফাস্ট বোলার হিসেবে বহু ক্লাবে ক্রিকেট খেলেছেন।[১] তিনি ১৯৬৯-৭০ মৌসুমে কায়েদ-ই-আজম ট্রফিতে কালাত ক্রিকেট দলের হয়ে কোয়েটা ক্রিকেট দলের বিরুদ্ধে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে আত্মপ্রকাশ করেন।[৩] উক্ত ম্যাচটিতে অধিনায়ক হিসেবে খেলতে নেমে তিনি ১২ রান করতে সক্ষম হন। একজন ডান-হাতি মিডিয়াম ফাস্ট বোলার হিসেবে বল করতে নেমে তিনি ২ উইকেট লাভ করার পাশাপাশি ব্যাটিংয়ে ৬৪ রান করেন। ১৯৮০ দশকের দিকে একটি অনুশীলন খেলার সময়কার একটি ম্যাচে সাবেক পাকিস্তানী অধিনায়ক ইমরান খান তার স্বতন্ত্রসূচক ব্যাটিংশৈলী এবং নির্দেশনার জন্য প্রশংসা করেন।[১]

ধারাভাষ্যকার[সম্পাদনা]

১৯৬০ দশকের শেষের দিকে রেডিও পাকিস্তান এবং পাকিস্তান টিভি (পিটিভি) ইংরেজি ভাষায় ধারাভাষ্য সম্প্রচারিত করত; যার ফলে উর্দুভাষী পাকিস্তানী ক্রিকেটপ্রেমীরা ধারাবর্ণনা বুঝতে সমস্যা পড়ত। এসকল দিক বিবেচনার করে মুনির হুসাইন সর্বপ্রথম উর্দু ভাষায় ধারাবর্ণনা দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।[১] তিনি ১৯৬৯ সালের নাজিমাবাদের ইয়ং সেন্টারে অনুষ্ঠিতব্য ন্যাশনাল স্পোর্টস এবং ক্লিফটন জিমখানার মধ্যকার জাঙ্গ গোল্ড কাপ ফাইনালের ম্যাচে প্রথম উর্দু ধারাভাষ্য প্রদান করেন। উক্ত খেলায় ১৩ জন পাকিস্তানী টেস্ট ক্রিকেটার অংশগ্রহণ করেছিলেন।[৪] হুসাইন তার সমসাময়িকদের ধারাভাষ্য থেকে ব্যতিক্রমী-ভাবে উর্দু ভাষায় ধারাবর্ণনা শুরু করেছিলেন।[১][৫] তার স্বতন্ত্রসূচক উর্দু ধারাভাষ্য ১৯৭০ খ্রীঃ থেকে ২০০০ খ্রীঃ পর্যন্ত প্রায় ৩ দশকের অধিক সময়কাল পর্যন্ত লক্ষ্য করা গিয়েছিল।[৬] ১৯৭৫ এবং ২০০৩ সালের মধ্যকার ক্রিকেট বিশ্বকাপে টেস্ট ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত প্রায় প্রতিটা দেশে তিনি ভ্রমণ করেছিলেন।[২][৭]

মুনির হুসাইন (মাঝে) ধারাভাষ্য দেওয়ার সময়কার একটি দৃশ্যে

প্রশাসক ও সাংবাদিকতা[সম্পাদনা]

হুসাইন পরপর দুই মেয়াদের জন্য কেসিসিএর সভাপতি নির্বাচিত হন এবং বহু বছর যাবত সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন।[১][৫] এছাড়াও তিনি ২০১৩ সালে পাকিস্তান ক্রিকেট কমেন্টেটরস ক্লাব (পিসিসিসি) এর প্রধান দায়িত্বে কাজ করেন।[৮] তিনি জং ক্রিকেট ক্লাবের অন্যতম একজন প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন। ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার চিশতী মুজাহিদ, তার শ্রদ্ধাঞ্জলিতে বলেন যে, তিনি ক্রিকেট প্রশাসক হিসেবে ভিন্নধারার একজন ব্যক্তিত্ব, ধারাভাষ্যকার, সাংবাদিক, সমালোচক, বিশ্লেষক, সংগঠক এবং বহুতর প্রতিভার অধিকারী ছিলেন।[২]

ক্রিকেটের প্রতি প্রবল টান থাকলেও হুসাইনের প্রধান আগ্রহের বিষয় ছিল সাংবাদিকতা। তার প্রাথমিক সফল পত্রিকা ফিল্মএশিয়া মূলত ভারত এবং পাকিস্তানের চলচ্চিত্রের শিল্পের জন্য নিবেদিত ছিল।[১] ১৯৭৭ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ব্যাপী মাসিক উর্দু ক্রিকেট পত্রিকা আকবর-ই-ওয়াতেন এর সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন।[৯][১০][১১] হুসাইন প্রায় টানা চার দশক ধরে পাকিস্তানের বৃহত্তম এবং প্রাচীনতম সংবাদপত্র দৈনিক জং এর ক্রিকেট বিষয়ক সাপ্তাহিক কলাম লিখেছেন।[১][১০]

পুরস্কার[সম্পাদনা]

হুসাইন ১৯৮৫-৯৫-এ, দশকের শ্রেষ্ঠ উর্দু ধারাভাষ্যকার হিসেবে পুরষ্কারে ভূষিত হন।[৩] পাকিস্তান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন (পিবিসি) তাকে আজীবন সম্মাননা পুরস্কারে ভূষিত করে।[২][৫] ১৯৯২ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপের ১০ম বার্ষিকীতে পাকিস্তান বিজয়ী হয়; যাতে তিনি ছিলেন পিসিবির বিশ্বকাপ কিংবদন্তি পুরস্কার প্রাপকদের মধ্যে অন্যতম একজন।[৩][১২]

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

হুসাইন ১৯২৯ সালের নভেম্বরে ভারতের পাঞ্জাবে অমৃতসরে জন্মগ্রহণ করেন।[৯] শৈশবকালে তিনি কারোল বাগে (দিল্লীর প্রতিবেশী এলাকা) প্রাথমিক জীবন অতিবাহিত করেন। তিনি ১৯৪৭ সালে ভারতের অমৃতসর থেকে পাকিস্তানে স্থানান্তরিত হন।[১] বিবাহিত জীবনে হুসাইনের ৪জন সন্তান রয়েছে; এর মধ্যে থেকে ২টি কন্যা এবং ২টি পুত্রসন্তান রয়েছে।[২] ক্রিকেট বিষয়ক ফটোসাংবাদিক ইকবাল মুনির তার সন্তান।[১]

মুনির হাসান (নিচের সারির বামে)

মৃত্যু[সম্পাদনা]

হুসাইন দীর্ঘদিন যাবত আলসার রোগে ভুগছিলেন এবং প্রায় ৬০ বারের মত রক্ত পরিসঞ্চালন করা হয়েছিল।[১০] হাটুর বাত রোগে ভোগার ফলে তার চলাফেরার সীমাবদ্ধ ছিল। তবে স্বাস্থ্যের দিক বিবেচনা করে দেখা যায় যে, তিনি মোটামুটি সুস্বাস্থ্যের অধিকারী ছিলেন।[১] ২০১৩ সালের ২৯ জুলাই তারিখে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি পাকিস্তান এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ এর মধ্যেকার অনুষ্ঠিতব্য ২য় টুয়েন্টি২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচ দেখেছেন।[১] তিনি করাচীতে ৮৩ বছর বয়সে হৃদপিণ্ডের ক্রীড়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।[৫][৬][১৩] তার শেষকৃত্যে ও মোনাজাত অনুষ্ঠান আবু বকর সিদ্দিক মসজিদে করা হয় এবং পরবর্তীতে ঐদিনই তাকে গিজরী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক জাভেদ মিয়াঁদাদ, ওয়াসিম বারি, রশিদ লতিফ, ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার চিশতী মুজাহিদ, সাবেক কেসিসিএ প্রেসিডেন্ট সিরাজুল ইসলাম বুখারী এবং অন্যান্য অনেক প্রাক্তন টেস্ট ক্রিকেটার তার জানাজায় উপস্থিত ছিলেন।[২] জাভেদ মিয়াঁদাদ তার মৃত্যুতে সমবেদনা জানিয়ে বলেন যে, "হুসাইন তার নিজ স্বতন্ত্রসূচক বৈশিষ্ট্যের জন্য অনেক ভক্ত তৈরি করে গেছেন এবং খেলার মধ্যে থেকে ভিন্নতর বৈচিত্রতা সৃষ্টি করে গেছেন।"[৫]পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের অন্তর্বর্তীকালীন চেয়ারম্যান নাজাম শেঠি বলেন যে, "তিনি ছিলেন একজন ওয়াকিবহাল, চিন্তাভাবনাহীন এবং ভদ্র ব্যক্তিত্বের অধিকারী; তার মৃত্যুতে সাংবাদিক মহল ব্যাপকভাবে শোকাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং সারা দেশে ক্রিকেট সমধর্মিতার প্রকাশ হিসেবে সম্প্রচারকারী সম্প্রদায় বটে।"[৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Shafqat, Saad (৬ আগস্ট ২০১৩)। "A servant of cricket"ESPNcricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২৭ আগস্ট ২০১৩ 
  2. Reporter (৩০ জুলাই ২০১৩)। "Legendary commentator Munir Hussain passes away"Dawn। Agencies। সংগ্রহের তারিখ ২৭ আগস্ট ২০১৩ 
  3. Farooq, Umar (২৯ জুলাই ২০১৩)। "Urdu commentator Munir Hussain dies"। ESPNricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জুলাই ২০১৩ 
  4. "Flashback: 'Over to Munir Hussain …'"Dawn। ১৪ এপ্রিল ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ২৭ আগস্ট ২০১৩ 
  5. Reporter, Staff (৩০ জুলাই ২০১৩)। "Cricket commentator Munir Hussain dies"The Nation। ২৮ আগস্ট ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৭ আগস্ট ২০১৩ 
  6. "Legendary cricket commentator Munir Hussain passes away at 83"Dunya News। ৩০ জুলাই ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ২৭ আগস্ট ২০১৩ 
  7. Report, Staff (৩০ জুলাই ২০১৩)। "Pakistan's famous cricket commentator Hussain dies"Daily Times। সংগ্রহের তারিখ ২৭ আগস্ট ২০১৩ 
  8. "Renowned Urdu commentator 'Munir Hussain' dies at the age 84"Pakistan Times (USA)। ২৯ জুলাই ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ২৭ আগস্ট ২০১৩ 
  9. "Legendary Comentator Munir Hussain passes away"The News International। ৩০ জুলাই ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ১৮ আগস্ট ২০১৩ 
  10. "Munir Hussain: A loss feo Pakistan cricket"The Express Tribune। ২৯ জুলাই ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ২৭ আগস্ট ২০১৩ 
  11. "Pakistan Cricket Board condoles death of Munir Hussain"। PPI News Agency। ২৯ জুলাই ২০১৩। ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৭ আগস্ট ২০১৩ 
  12. Report, Staff (২৯ জুলাই ২০১৩)। "Legendary cricket commentator Munir Hussain dies"SAMAA TV। ৮ জানুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৭ আগস্ট ২০১৩ 
  13. "Urdu commentary legend Munir Hussain dies"The News International। ২৯ জুলাই ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জুলাই ২০১৩ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]