মুঘলদের চট্টগ্রাম বিজয়
| চট্টগ্রাম বিজয় | |||||||||||
|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
| মুঘলদের বাংলা বিজয়ের অংশ | |||||||||||
১৬৬৬ সালে কর্ণফুলি নদীতে মুঘল-আরাকান যুদ্ধের দৃশ্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। | |||||||||||
| |||||||||||
| বিবাদমান পক্ষ | |||||||||||
| আরাকান রাজ্য | |||||||||||
| সেনাধিপতি ও নেতৃত্ব প্রদানকারী | |||||||||||
|
শায়েস্তা খাঁ ফরহাদ খান নবাব ওয়ালী বেগ খাঁ মজলিস খাঁ বুজুর্গ উমেদ খাঁন ইবনে হোসেন আবুল হাসান |
সান্দা থুধাম্মা দেলোয়ার খাঁ | ||||||||||
| শক্তি | |||||||||||
|
৯,৬০০ সৈন্য[২] ৩০০ যুদ্ধজাহাজ[২] পর্তুগিজ: ৪০ যুদ্ধজাহাজ[১] |
আনুমানিক: ১,১০০+ সৈন্য ২১৭ যুদ্ধজাহাজ ৩৭৮+ ছোট নৌকা | ||||||||||
| হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতি | |||||||||||
| সামান্য[১] | ১৩৫টি জাহাজ দখল করা হয়[১] | ||||||||||
মুঘলদের চট্টগ্রাম বিজয় বলতে ১৬৬৬ সালের চট্টগ্রাম বিজয়কে বোঝায়। ২৭ জানুয়ারি ১৬৬৬ সালে মুঘল সুবেদার শায়েস্তা খাঁর পুত্র বুজুর্গ উমেদ খাঁনের নেতৃত্বাধীন মুঘল বাহিনীর হাতে আরাকান রাজ্যের বাহিনী পরাজিত হয়।[৩]
এই বিজয়ের ফলে আরাকান রাজ্য এবং বিভিন্ন স্থানীয় শক্তির অধীনে থাকা শতবর্ষের খণ্ডিত শাসনের অবসান ঘটে। চট্টগ্রামকে মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে, মুঘলরা এই অঞ্চলজুড়ে একটি কেন্দ্রীভূত শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে। এই প্রশাসনিক পুনর্গঠন রাজস্ব আদায় ব্যবস্থাকে প্রমিত করে, স্থানীয় প্রতিরক্ষাকে সুদৃঢ় করে এবং দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তোলা ঘন ঘন সংঘাত ও জলদস্যুতা হ্রাস করে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি স্থায়ীভাবে দাস ব্যবসার অবসান ঘটায়। নতুন এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা কেবল মুঘল শক্তিকেই সুসংহত করেনি বরং আঞ্চলিক একীকরণের ভিত্তিও স্থাপন করেছিল, যা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমল থেকে আধুনিক বাংলাদেশ পর্যন্ত শাসন ব্যবস্থাকে রূপ দিয়েছে।[৪]
পটভূমি
[সম্পাদনা]
মধ্যযুগে বাংলার সুলতানদের উৎখাত করে বাংলার চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রায় একশ বছর ধরে আরাকান রাজ্য প্রতিষ্ঠিত ছিল। এই বিজয়ের পর থেকে চট্টগ্রাম আর কখনোই বাংলার প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের বাইরে থাকেনি। এই ভূখণ্ড যারাই শাসন করুক না কেন; মুঘল, ব্রিটিশ, পাকিস্তান বা স্বাধীন বাংলাদেশ; বাংলার প্রবেশদ্বার হিসেবে চট্টগ্রাম সবসময়ই বাংলার সাথে যুক্ত থেকেছে।
পর্তুগিজদের ভূমিকা
[সম্পাদনা]ষোড়শ শতাব্দীর শেষভাগ এবং সপ্তদশ শতাব্দীর শুরুর দিকে পর্তুগিজদের সাথে এই রাজ্যের এক পরিবর্তনশীল সম্পর্ক ছিল। আরাকান নৌবাহিনী, যারা মূলত পর্তুগিজ ভাড়াটে সৈন্যদের ওপর নির্ভরশীল ছিল, তারা বঙ্গোপসাগরের উপকূলরেখার এক বিস্তীর্ণ অংশ নিয়ন্ত্রণ করত। ১৬০৩ সালে পর্তুগিজ ভাড়াটে সেনাপতি ডি ব্রিটো বিদ্রোহ করলে এই উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়,[৫]
চট্টগ্রামের শাসনকর্তা তার ভাই, আরাকানের রাজার সাথে বিরোধের জেরে সন্দ্বীপে পালিয়ে যান। সেখানে তাকে স্বাগত জানান সেবাস্তিয়াও গঞ্জালেস তিব্বাউ নামে একজন পর্তুগিজ অভিযাত্রী, যিনি দিয়াঙ্গায় আরাকানদের আক্রমণ থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন এবং বাকলার রাজার[৬] চাকরিতে যোগ দেন ও রাজার বোনকে বিয়ে করেন। তবে শাসনকর্তা খুব শীঘ্রই মারা যান (কথিত আছে তাকে বিষপ্রয়োগ করা হয়েছিল) এবং গঞ্জালেস তার সমস্ত সম্পদ দখল করে নেন। তা সত্ত্বেও, গঞ্জালেস আরাকানের রাজার সাথে জোট গঠন করেন, যিনি মুঘল বাহিনীর বিরুদ্ধে তার সহায়তা চেয়েছিলেন। রাজার সেনাবাহিনী প্রাথমিক সাফল্য অর্জন করলেও সমুদ্রে গঞ্জালেস কেবল নিজের স্বার্থের কথাই ভেবেছিলেন। তিনি আরাকান অধিনায়কদের একটি সভায় ডেকে তাদের হত্যা করেন এবং তাদের জাহাজগুলো দখল করে নিজের নৌবহরে যুক্ত করেন।[৭][৮] এর প্রতিশোধ হিসেবে আরাকানের রাজা গঞ্জালেসের ভাতিজাকে মৃত্যুদণ্ড দেন, যাকে তার কাছে জামিনদার হিসেবে রাখা হয়েছিল। এর জবাবে গঞ্জালেস একটি নৌবহর নিয়ে আরাকান নদীতে প্রবেশ করেন, নদীর তীরের গ্রামগুলোতে ধ্বংসযজ্ঞ চালান এবং ঐ এলাকায় বাণিজ্য করতে আসা বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় (সম্ভবত ওলন্দাজ) বণিক জাহাজ দখল করেন।[৯] ১৬১০ সালের মধ্যে তিব্বাউ রাজাগিকে আরও একবার চরম বিশ্বাসঘাতকতা করে আরাকান নৌবহর দখল করেন এবং তার আক্রমণ অব্যাহত রাখেন, ফলে সংঘাত আরও তীব্রতর হয়।[১০][১১]
পর্তুগিজরা বিভিন্ন অরাজক পরিস্থিতিতে আরাকান বা মগদের সাহায্য করত। মগদের ওলন্দাজদের সাথেও ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল, যা ওলন্দাজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি (ভিওসি) নামে পরিচিত ছিল। ঐতিহাসিকগণ পর্তুগিজ ও মগদের নৃশংসতার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন:[১২]
আরাকানের মগ এবং পর্তুগিজ জলদস্যুরা উভয়েই প্রতিনিয়ত বাংলা (ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অঞ্চল) লুণ্ঠন করত। তারা যেসব হিন্দু ও মুসলমানকে বন্দী করতে পারত, তাদের হাতের তালু ছিদ্র করে সেই ছিদ্র দিয়ে সরু বেতের ফালি ঢুকিয়ে বেঁধে রাখত। এরপর তাদের একসাথে জাহাজের ডেকের নিচে ঝুলিয়ে রাখা হতো। প্রতিদিন সকালে তারা বন্দীদের ওপর থেকে কিছু কাঁচা চাল ছুঁড়ে দিত, ঠিক যেমন পাখিদের খাবার দেওয়া হয়। তাদের দাক্ষিণাত্যের বন্দরগুলোতে ওলন্দাজ, ইংরেজ এবং ফরাসি বণিকদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হতো। অনেক সময় তারা তাদের বন্দীদের চড়া দামে বিক্রির জন্য তমলুক ও বালেশ্বরে নিয়ে আসত। কেবল পর্তুগিজরাই তাদের বন্দীদের বিক্রি করত, তবে মগরা তাদের বন্দীদের আরাকানে কৃষি ও অন্যান্য পেশায় অথবা গৃহভৃত্য এবং উপপত্নী হিসেবে নিযুক্ত করত।
কবি আলাওল তার সিকান্দরনামা মহাকাব্যে (১৬৭৩ সালে সম্পূর্ণ প্রকাশিত) আরাকানের (আরাকান রাজ্যের) রাজার ক্ষমতার প্রতীক নৌবহরের বর্ণনা দেন:[১৩][১৪]
অসংখ্যাত নৌকাপাঁতি নানা জাতি নানা ভাতি
সুচিত্র বিচিত্র বাহএ।
জরশি-পাট-নেত লাঠিত চামর যূত
সমুদ্র পূর্ণিত নৌকামএ।
মুঘলদের সম্পৃক্ততা
[সম্পাদনা]১৬০৪ সালে, বাংলার সুবেদার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী রাজা মানসিংহ পর্তুগিজ জলদস্যুদের সহায়তায় একটি মুঘল উপকূলীয় নৌবাহিনী প্রতিষ্ঠা করেন এবং সফলভাবে আরাকানদের উভচর আক্রমণ প্রতিহত করেন।[১৫]
১৬১৪-১৬১৬ সালের মধ্যে, বাংলার মুঘল সুবেদার কাসিম খান চিশতি আরাকান ও পর্তুগিজ বাহিনীর এক সম্মিলিত আক্রমণের সম্মুখীন হন। এই বাহিনীগুলোর মধ্যে ফাটল থাকার কারণে কাসিম খান তাদের অভিযান ব্যর্থ করতে সক্ষম হন।[১৬] ফেব্রুয়ারি ১৬১৬ সালে, কাসিম খান একটি সৈন্যবাহিনী গঠন করেন এবং আরাকানের কাছ থেকে চট্টগ্রাম পুনরুদ্ধারের জন্য একটি অভিযান প্রেরণ করেন। তবে, সুবেদারের একজন ব্যক্তিগত কর্মকর্তা বেশিরভাগ রাজকীয় বাহিনীর সেনাপতি হওয়ায় সৈন্যদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। আরাকানরা বাড়তি সৈন্যের সহায়তায় শক্তি সঞ্চয় করে শহরটি রক্ষা করে এবং খাদ্যের সরবরাহ লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেয়, যার ফলে কাসিম খানের চট্টগ্রামকে বশীভূত করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।[১৭]
১৬২০ সালে, আরাকানের মগরা বাংলার রাজধানী জাহাঙ্গীরনগর (ঢাকা) আক্রমণ করে। এর জবাবে, ইবরাহিম খান ফতেহ জঙ্গ তাদের পরাজিত করেন এবং মগদের ৪০০টি যুদ্ধনৌকা দখল করেন। ঢাকার এই অংশটি আজও মগবাজার নামে পরিচিত।[১৮] তার শাসনামলে, তিনি বারো ভূঁইয়াদের প্রধান মুসা খান ও তার মিত্রদেরও মুক্ত করেন। কথিত আছে যে, ইব্রাহিম খান দেলোয়ার খাঁনকে ঢাকার নৌ-সেনাপতি হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন।[১৯]
১৬৫৭ সালে, মুঘল সিংহাসনের জন্য শাহ জাহানের চার পুত্রের মধ্যে সংঘটিত এক ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধে আওরঙ্গজেব তার অন্যান্য ভাইদের পরাজিত করেন। আওরঙ্গজেবের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী ভাই ছিলেন শাহ সুজা, যিনি ১৬৪০ থেকে ১৬৬০ সাল পর্যন্ত প্রায় ২০ বছর বাংলার সুবেদার ছিলেন। ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর, শাহ সুজা সমুদ্রপথে নোয়াখালী থেকে মক্কা বা ইস্তাম্বুল যাওয়ার আশা করেছিলেন। তবে বর্ষাকাল চলে আসায় তা আর সম্ভব হয়নি। এদিকে, সম্রাট আওরঙ্গজেবের বাহিনী প্রতিনিয়ত শাহ সুজাকে খুঁজছিল। আওরঙ্গজেবের হাত থেকে বাঁচতে শাহ সুজা বিপুল পরিমাণ ধনসম্পদ (প্রায় ২৩ টন) নিয়ে প্রতিবেশী আরাকান রাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় চান।[২০] আগস্ট ১৬৬০ সালে, বাংলার একসময়ের সুবেদার শাহ সুজা আরাকান রাজ্যে বসতি স্থাপন করেন। কিন্তু ছয় মাস পর, আরাকানের রাজার হাতে শাহ সুজা নিহত হন। শাহ সুজার পরিবারের কন্যাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয় এবং পুত্রদের বন্দী করা হয়। মুঘল রাজপুত্রের এই মর্মান্তিক খবরটি শীঘ্রই দিল্লির সম্রাট অর্থাৎ রাজপুত্রের ভাই মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের কাছে পৌঁছায়। সম্রাট তার ভাই শাহ সুজার সন্তান ও ধনসম্পদ ফেরত চেয়ে আরাকান রাজদরবারে পরপর দুজন দূত পাঠান। আরাকানরা প্রথম দূতকে বন্দী করে দাসে পরিণত করে। দ্বিতীয় দূতকে আরাকান রাজদরবারে গ্রহণ করা হলেও, ততদিনে সব সন্তানকে হত্যা করা হয়েছিল এবং তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল, তাই কোনো উত্তর দেওয়া হয়নি। আরাকান রাজার হাতে নিজের ভাই শাহ সুজাকে হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার অজুহাতে, তৎকালীন মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব চট্টগ্রাম আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেন।[২১]
অভিযান
[সম্পাদনা]১৬৬৪ সালে, আরাকান জাহাজগুলো জাহাঙ্গীরনগরে অভিযান চালায়। তারা পর্তুগিজ জলদস্যুদের সহায়তায় বাংলার রাজধানী ঢাকা আক্রমণ করে এবং মুঘলদের প্রায় ১৬০টি রাজকীয় জাহাজ ধ্বংস করে দেয়। এর ফলে আরাকান জলদস্যুতার অবসান ঘটাতে মুঘলদের সংকল্প আরও দৃঢ় হয়।[২২][২৩] আওরঙ্গজেব শায়েস্তা খাঁকে বাংলার সুবেদার (গভর্নর) হিসেবে নিযুক্ত করেন। মুঘলদের সাথে অনিবার্য সংঘাতের আশঙ্কায় আরাকানরা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। মুঘল সম্রাটের নির্দেশে শায়েস্তা খাঁ ধ্বংসপ্রাপ্ত জাহাজগুলো পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করেন।[২৪]

১৬৬৫ সালের শীতকালে, শায়েস্তা খাঁ আরাকানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য একটি সুসজ্জিত সেনাবাহিনী গঠন করেন। তার পুত্র, বুজুর্গ উমেদ খাঁন প্রধান সেনাপতি হিসেবে চট্টগ্রাম পুনরুদ্ধারের এই অভিযানে যোগ দেন।[২৫] মুঘলদের দরবারি ইতিহাস অনুযায়ী, ধারণা করা হয় যে আরাকানের প্রাক্তন রাজা থিরি থুধাম্মার এক পুত্র মুঘল বাহিনীর সাথে এই অভিযানে যোগ দিয়েছিলেন, উদ্দেশ্য ছিল আরাকান জয়ের পর তাকে রাজা হিসেবে অধিষ্ঠিত করা।[২১]
সন্দ্বীপ দমন
[সম্পাদনা]নভেম্বর ১৬৬৫ সালে বাংলার মুঘল সুবেদার শায়েস্তা খাঁ ওলন্দাজ সামরিক বাহিনীর সহায়তায় সন্দ্বীপ জয়ের নেতৃত্ব প্রদানের জন্য সেনাপতি আবুল হাসানকে নিযুক্ত করেন। সেখানে তারা সন্দ্বীপের ৮০ বছর বয়সী জলদস্যু শাসক দেলোয়ারের বাহিনীর মুখোমুখি হন।[২৬][২৭] আবুল হাসান সন্দ্বীপ আক্রমণ করে দেলোয়ারের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হন; যুদ্ধে তীরবিদ্ধ হয়ে দেলোয়ার জঙ্গলে পলায়ন করেন। এদিকে দেলোয়ারকে সহায়তা করার জন্য আরাকানি নৌবহর সন্দ্বীপে এসে পৌঁছায়। আবুল হাসান আরাকানি নৌবহর আক্রমণ করার প্রস্তুতি নিলে তারা পিছু হটে যায়; তখন আবুল হাসান তাদের ধাওয়া না করে নোয়াখালীতে ফিরে যান। এই সংবাদ শুনে নবাব শায়েস্তা খাঁ আবুল হাসানকে শক্তি জোগাতে, তার সাথে মিলে সন্দ্বীপ অধিকার করতে এবং দেলোয়ারকে সমূলে উৎপাটিত করতে আরেকটি বাহিনী প্রেরণ করেন। নৌবহরের তত্ত্বাবধায়ক ইবনে-ই-হুসাইন, জামাল খান, সেরান্দাজ খান, কারামাল খান এবং মুহাম্মদ বেগের সেনাপতিত্বে পাঠানো এই বাহিনীতে ১,৫০০ গোলন্দাজ ও ৪০০ অশ্বারোহী সৈন্য ছিল। অতিরিক্ত এই বাহিনী নিয়ে ইবনে-ই-হুসাইন সন্দ্বীপের বিপরীতে নোয়াখালী পর্যন্ত অগ্রসর হন এবং আরাকানি নৌবহরের পথ অবরুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে মুহাম্মদ বেগের সাথে সেখানেই অবস্থান গ্রহণ করেন। এরপর আবুল হাসান অন্যদের সাথে নিয়ে সন্দ্বীপ আক্রমণ করেন। তারা দেলোয়ারের পুত্র শরীফকে আহত অবস্থায় আটক করেন এবং এক তীব্র লড়াইয়ের পর দেলোয়ার ও তার অনুসারীদেরও বন্দী করে জাহাঙ্গীরনগরে পাঠিয়ে দেন।[২৮] দেলোয়ারের বহু পুত্র ও দুই কন্যা ছিল; মুসাবিবি এবং মরিয়ম বিবি। পুত্রদের মধ্যে শুধু শরীফ খানের নামই জানা যায়। ক্ষতিপূরণ হিসেবে শায়েস্তা খাঁ দেলোয়ারের কনিষ্ঠ পুত্রদের ঢাকার কাছে ধলেশ্বরী নদীর তীরে পাথরঘাটা-মিঠাপুকুরে ১০-১২টি গ্রামের একটি জায়গীর প্রদান করেন। দুই শতাব্দী পর নদীভাঙনের ফলে এই গ্রামগুলো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এরপর পরিবারটি সাভারের গণ্ডা গ্রামে স্থানান্তরিত হয়।[২৯][৩০]
চট্টগ্রাম উপকূল শান্তকরণ
[সম্পাদনা]পরবর্তীতে, ওলন্দাজদের কূটনৈতিক সমর্থন এবং সামরিক সহায়তার আশ্বাসে মুঘলরা সন্দ্বীপ দখল করার পর, নৌযুদ্ধটি এক ভিন্ন মাত্রা পায়; কারণ বাংলার জলপথে অভিজ্ঞ পর্তুগিজ ক্যাপ্টেন মুরের নেতৃত্বে ৪০টি জাহাজ মুঘল নৌবহরে যোগ দেয়।[১২] ইতোমধ্যে, বুজুর্গ উমেদ খাঁনের নেতৃত্বে ৬৫০০ সৈন্যের মুঘল বাহিনী ফেনী নদী অতিক্রম করে চট্টগ্রামের অভিমুখে অগ্রসর হতে শুরু করে।[৩১] মুঘল বিজয়ের আগে, চট্টগ্রামকে পাহাড় এবং বৃক্ষের অরণ্য বলা হতো। ইতিহাসবিদরা উপমা লেখেন যে অরণ্যটি এত ঘন ছিল যে পিঁপড়াদের নড়াচড়া করার কোনো উপায় ছিল না।[৩১] মুঘল বাহিনীর জন্য ঢাকা থেকে প্রচুর সংখ্যক কুঠার সরবরাহ করা হয়, যা দিয়ে তারা অরণ্য পরিষ্কার করে এবং চট্টগ্রামের উপকণ্ঠে পৌঁছায়। ইতিহাসবিদরা মুঘলদের নির্মিত এই রাস্তাকে বর্তমান ঢাকা-চট্টগ্রাম গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোডের আদি উৎস হিসেবে আখ্যায়িত করেন।[৩২] ২৭ জানুয়ারি ১৬৬৬ সালে, দ্বিমুখী আক্রমণ ও তিন দিনের অবরোধের পর এই অঞ্চলে আরাকানদের প্রধান কেন্দ্র চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা দুর্গের পতন ঘটে।[৩৩] কিন্তু অপর্যাপ্ত রসদ ও মৌসুমি বায়ুর কারণে, তারা নাফ নদীর তীর পর্যন্তই তাদের অগ্রগতি সীমাবদ্ধ রাখে।[৩৪]
ফলাফল
[সম্পাদনা]
পার্বত্য চট্টগ্রাম সীমান্ত অঞ্চলকে মুঘল বাংলার একটি করদ রাজ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল এবং ১৭১৩ সালে চাকমা জাতির সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।[৩৫] এই বিজয়ের মাধ্যমে আরাকান রাজ্য এবং বিভিন্ন স্থানীয় শক্তির অধীনে থাকা কয়েক শতাব্দীর খণ্ডিত শাসনের অবসান ঘটে। চট্টগ্রামকে মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে মুঘলরা এই অঞ্চলজুড়ে একটি কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে। এই প্রশাসনিক পুনর্গঠন রাজস্ব আদায়কে সুশৃঙ্খল করে, স্থানীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করে এবং দীর্ঘকাল ধরে এলাকাটিকে অস্থিতিশীল করে রাখা ঘন ঘন সংঘর্ষ ও জলদস্যুতা হ্রাস করে।[৩৬]
পরবর্তী নৌযুদ্ধে মুঘল ও পর্তুগিজরা তাদের আধিপত্য বজায় রেখেছিল। কশ্যপনদীর (কালদান নদী) পশ্চিম তীরের বিজিত অঞ্চল সরাসরি রাজকীয় প্রশাসনের অধীনে আনা হয়। চট্টগ্রামের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় "ইসলামাবাদ" এবং এটি একজন মুঘল ফৌজদারের সদর দপ্তরে পরিণত হয়। বুজুর্গ উমেদ খাঁন আন্দরকিল্লা দখলের পর চট্টগ্রামের নাম "ইসলামাবাদ" রাখেন এবং পরবর্তী বছর দুর্গের ওপর একটি মসজিদ নির্মাণ করেন, যা বর্তমানে আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ নামে পরিচিত। মসজিদের প্রবেশদ্বারের ওপরে ফার্সি ভাষায় খোদাই করা দুটি পাথরের ফলক রয়েছে। দ্বিতীয়টির বঙ্গানুবাদ হলো:[৩৭]
হে জ্ঞানী, তুমি জগতবাসীকে বলে দাও, আজ এ দুনিয়ায় ২য় কাবা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যার প্রতিষ্ঠাকাল ১০৭৮ হিজরি (১৭৬৬ সাল)।
এছাড়া খাঁন কোচবিহার এবং কামরূপের ওপর মুঘলদের নিয়ন্ত্রণ পুনরায় সুসংহত করেন।
আরাকানরা বাংলার এই অঞ্চলটি পুনরুদ্ধারের আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তারা সফল হতে পারেনি। পরবর্তীকালে মুঘলরা চট্টগ্রামে বিভিন্ন অট্টালিকা, মসজিদ এবং মন্দির নির্মাণ করে।[৩৮] মুঘলরা চট্টগ্রাম দখল করার পর পর্তুগিজরা ঢাকার ফিরিঙ্গি বাজারে স্থানান্তরিত হয়। সেই পর্তুগিজদের বংশধররা আজও এসব স্থানে বসবাস করেন।
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 3 4 5 ড. মুহম্মদ আব্দুল করিম. বাংলাদেশের ইতিহাস. মগ বিতাড়ন ও চট্টগ্রাম জয়. ২৬৯–২৭০.
- 1 2 Trudy, Ring; M. Salkin, Robert; La Boda, Sharon; Edited by Trudy Ring (1996). International dictionary of historic places. Chicago: Fitzroy Dearborn Publishers. আইএসবিএন ১-৮৮৪৯৬৪-০৪-৪. সংগ্রহের তারিখ ২১ জুন ২০১৫.
- ↑ আব্দুল করিম (আগস্ট ১৯৯৯)। বাংলার ইতিহাস: মুসলিম বিজয় থেকে সিপাহী বিপ্লব পর্যন্ত [১২০০-১৮৫৭ খ্রিঃ]। ঢাকা: বড়াল প্রকাশনী। পৃ. ১৮২–১৮৩।
- ↑ যদুনাথ সরকার (১৯৪৮)। The History of Bengal. Vol. II (ইংরেজি ভাষায়)। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। পৃ. ৩৮১।
- ↑ থান তুন (২০১১)। "23. Nga Zinga and Thida"। Myanmar History Briefs (Burmese ভাষায়)। Yangon: Gangaw Myaing। পৃ. ১৩৫।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক) - ↑ Kerr 1812, পৃ. 492।
- ↑ Stuart 1909, পৃ. 68–69।
- ↑ Kerr 1812, পৃ. 494–495।
- ↑ Stuart 1909, পৃ. 69।
- ↑ Phayre 1967: 174–177
- ↑ Harvey 1925: 142–143
- 1 2 যদুনাথ সরকার (১৯৪৮)। The History of Bengal. Vol. II (ইংরেজি ভাষায়)। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। পৃ. ৩৭৮–৩৭৯।
- ↑ আহমদ শরীফ (১৯৬৭)। সিকান্দরনামা আলাওল বিরচিত (পিডিএফ)। পৃ. ৩২–৩৩।
- ↑ আহমদ, শরীফ (১৯৬৭)। SIKANDARNAMA ED.1ST সিকান্দরনামা প্রথমসংস্করণ।
- ↑ Bhattacharya 2020, পৃ. 43
- ↑ Karim, KM (২০১২)। "Qasim Khan Chisti"। Islam, Sirajul; Jamal, Ahmed A. (সম্পাদকগণ)। Banglapedia: National Encyclopedia of Bangladesh (Second সংস্করণ)। Asiatic Society of Bangladesh।
- ↑ Chowdhury, Mohammaed Ali (২০০৪)। Bengal-Arakan Relations। Kolkata: Firma KLM Private Limited। পৃ. ১০৬–১০৭। আইএসবিএন ৮১-৭১০২-১১৮-২।
- ↑ ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর, সম্পাদকগণ (২০১২)। "বাংলাদেশ"। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। আইএসবিএন ৯৮৪৩২০৫৯০১। ওসিএলসি 883871743। ওএল 30677644M।
- ↑ Ali, Syed Murtaza (১৯৬৪)। History of Chittagong। Standard Publications, Incorporated। পৃ. ৪৯–৫০। সংগ্রহের তারিখ ২১ নভেম্বর ২০২৫।
- ↑ Galen, S.E.A. van (১৩ মার্চ ২০০৮)। "Arakan and Bengal : the rise and decline of the Mrauk U kingdom (Burma) from the fifteenth to the seventeeth century AD"। Scholarly Publications, Leiden University। ৭: ১৮৬ – NA VOC 1236, fol. 127-134 Letter from Gerrit van Voorburg to Batavia, dated Arakan 21 January 1661. এর মাধ্যমে।
- 1 2 Galen, S.E.A. van (১৩ মার্চ ২০০৮)। "Arakan and Bengal : the rise and decline of the Mrauk U kingdom (Burma) from the fifteenth to the seventeeth century AD."। Scholarly Publications, Leiden University। ৭: ১৯২–১৯৩।
- ↑ d'Hubert, Thibaut (মার্চ ২০১৮)। In the Shade of the Golden Palace: Alaol and Middle Bengali Poetics in Arakan। Oxford University Press। পৃ. ১৪১। আইএসবিএন ৯৭৮০১৯০৮৬০৩৪৯। সংগ্রহের তারিখ ১ নভেম্বর ২০২৫।
- ↑ E.B. Locher-Scholten (২০২১)। Hof en Handel: Aziatische Vorsten en de VOC, 1620-1720। Brill। পৃ. ১৯৫। আইএসবিএন ৯৭৮৯০০৪৪৫৪৪৬০। সংগ্রহের তারিখ ১ নভেম্বর ২০২৫।
- ↑ Galen, S.E.A. van (১৩ মার্চ ২০০৮)। "Arakan and Bengal : the rise and decline of the Mrauk U kingdom (Burma) from the fifteenth to the seventeeth century AD."। Scholarly Publications, Leiden University.। ৭: ১৯৪।
- ↑ Majumdar, Ramesh Chandra; Pusalker, A. D.; Majumdar, A. K., সম্পাদকগণ (২০০৭) [First published 1974]। The History and Culture of the Indian People। খণ্ড VII: The Mughal Empire। Mumbai: Bharatiya Vidya Bhavan।
- ↑ d'Hubert, Thibaut (মার্চ ২০১৮)। In the Shade of the Golden Palace: Alaol and Middle Bengali Poetics in Arakan। Oxford University Press। পৃ. ১৪১। আইএসবিএন ৯৭৮০১৯০৮৬০৩৪৯। সংগ্রহের তারিখ ১ নভেম্বর ২০২৫।
- ↑ E.B. Locher-Scholten (২০২১)। Hof en Handel: Aziatische Vorsten en de VOC, 1620-1720। Brill। পৃ. ১৯৫। আইএসবিএন ৯৭৮৯০০৪৪৫৪৪৬০। সংগ্রহের তারিখ ১ নভেম্বর ২০২৫।
- ↑ Alamgirnama, Mirza Muhammad Kazim (Pers.text P.943)
- ↑ Prof Rajib Humayun, Sandiper Itihas, Somaj O Songskriti(1987)(সন্দ্বীপের ইতিহাস, সমাজ ও সংস্কৃতি) P.80,91
- ↑ Chowdhury, ABM Siddiq (1988). শাশ্বত সন্দ্বীপ [Eternal Sandwip] (in Bengali).
- 1 2 ইটন, রিচার্ড ম্যাক্সওয়েল (১৯৯৩)। "৯"। The Rise of Islam and the Bengal Frontier, 1204-1760। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া প্রেস।
- ↑ চৌধূরী, শ্রীপূর্ণচন্দ্র দেববর্ম্মা তত্ত্বনিধি (২০১৯)। চট্টগ্রামের ইতিহাস (৩য় সংস্করণ)। গতিধারা প্রকাশনী। পৃ. ৫৮। আইএসবিএন ৯৭৮৯৮৪৮৯৪৫৫৩৭।
- ↑ চৌধূরী, শ্রীপূর্ণচন্দ্র দেববর্ম্মা তত্ত্বনিধি (২০১৯)। চট্টগ্রামের ইতিহাস (৩য় সংস্করণ)। গতিধারা প্রকাশনী। পৃ. ৬১। আইএসবিএন ৯৭৮৯৮৪৮৯৪৫৫৩৭।
- ↑ কাজিম, মুহাম্মদ (১৮৬৮)। আলমগীরনামা (ফার্সি ভাষায়)। এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃ. ৯৫৩–৯৫৬।
- ↑ Chakma, Saradindu Shekhar (২০০৬)। Ethnic cleansing in Chittagong Hill Tracts। ঢাকা: Ankur Prakashani। পৃ. ২৩। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৮৪-৪৬৪-১৬৪-৮।
- ↑ যদুনাথ সরকার (১৯৪৮)। The History of Bengal. Vol. II (ইংরেজি ভাষায়)। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। পৃ. ৩৮১।
- ↑ আইয়ুব আলী (১ জানুয়ারি ২০১৮)। "মোঘল ঐতিহ্যের স্মারক চট্টগ্রাম আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ"। দৈনিক ইনকিলাব। সংগ্রহের তারিখ ১৩ এপ্রিল ২০২৬।
- ↑ "Past of Ctg holds hope for economy"। দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ১৮ মার্চ ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ৫ ডিসেম্বর ২০২৩।
গ্রন্থপঞ্জি
[সম্পাদনা]- ভট্টাচার্য, সব্যসাচী (২০২০)। A Comprehensive History of Modern Bengal, 1700-1950 (ইংরেজি ভাষায়)। এশিয়াটিক সোসাইটি। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৩-৮৯৯০১-৯৫-৫।
- কের, রবার্ট (১৮১২)। A General History of Voyages and Travels to the End of the 18th Century। খণ্ড ৬। রবার্ট কের।
- স্টুয়ার্ট, জন (১৯০৯)। Burma through the centuries। লন্ডন : কে. পল, ট্রেঞ্চ, ট্রুবনার অ্যান্ড কোং, লিমিটেড।
- সামিউল হাসান, সম্পাদক (২০১২)। The Muslim world in the 21st century : space, power, and human development। নিউ ইয়র্ক: স্প্রিংগার। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৪০০৭২৬৩২১। সংগ্রহের তারিখ ১৩ জুলাই ২০১৫।