মুখতার আল-কুন্তি
Sidi al-Mukhtar ibn Ahmad al-Kunti | |
|---|---|
| জন্ম | 1729 |
| মৃত্যু | 1811 |
| জাতীয়তা | Timbuktu |
| পেশা | Imam |
| পরিচিতির কারণ | Qadiriyya leader |
ইসলামি ব্যক্তিত্ব, সিদি আল-মুখতার ইবনে আহমদ আল-কুন্তি [ক] (১৭২৯-১৮১১সন) ছিলেন পশ্চিম সুদানের কাদিরিয়া আন্দোলনের একজন নেতৃস্থানীয় পুরোধা আলিম যিনি উনিশ শতকে পশ্চিম আফ্রিকায় ইসলামের প্রচার ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
উৎপত্তি
[সম্পাদনা]ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ি, সিদি আল-মুখতার ইবনে আহমদ আল-কুন্তি ১৭২৯ সালে আফ্রিকার মালির মাবরুকের উত্তরে এরগ ওরাল্লা নামক অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন। [২]
সিদি আল-মুখতারের পরিবার ছিল জাওয়ায়া গোত্রের অন্তর্ভুক্ত, যারা ধর্মীয় নিষ্ঠা এবং পশুপালনের মত শান্তিপূর্ণ জীবনে চলতে অভ্যস্থ ছিল , সহিংসতা ত্যাগ করে আত্মরক্ষামূলক পন্থা অবলম্বন করে চলতো। যৌন হয়রানি এড়াতে যোদ্ধাদের শ্রদ্ধা জানাত এবং সহযোগিতা চাইত। [৩] তিনি প্রভাবশালী কুন্তা ধর্মযাজক উপজাতির সদস্য ছিলেন, যারা মূলত উকবা ইবনে নাভি আল ফিহরির আরব বংশধর ছিলেন। কুন্তার অনেকেই পূর্ব দিকে টিম্বুকতুর উত্তর অঞ্চলে চলে এসে লবণ ব্যবসায়ী হয়ে ওঠেন। কুন্তা ১৫০০ সালের দিকে একজন বিখ্যাত ধর্মযাজক মুহাম্মদ আল-মাঘিলির শিক্ষা গ্রহণ করেন। যিনি এই অঞ্চলে সুফিদের কাদিরীয় রীতি চালু করেছিলেন বলে কথিত আছে। [১]
আল-মুখতারের বাবা যখন দশ বছর বয়সে মারা যান।
আল-মুখতারের বাবা মারা যাবার পর, তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা তাকে শিক্ষাদানে সহায়তা করেন। যেমন কেল আল-সুক এবং কেল হুরমা পরিবারের সদস্যরা এই সহায়তা করেন। তার প্রধান শিক্ষক ছিলেন আরাউয়ানের শায়খ সিদি আলী বিন আল-নাজিব, যিনি একজন শীর্ষস্থানীয় কাদিরিয়া তরিকার ধর্মগুরু ছিলেন। [২]
সিদি আল-মুখতার কিছু দিনের জন্য- সিদি আহমেদ আল-কুন্তির (ওরফে আল-বাক্কাই বু দামা, আরবি: سيدي أحمد الكنتي البكاي بودمعة এর ওওলাতার সমাধির তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন। ) যিনি একজন কুন্তা দরবেশ ছিলেন এবং ১৫১৫ সালে মারা যান। [৪]
জন হুনউইক এর দেওয়া তথ্য মতে, ১৭৫৪ থেকে ১৭৫৭ সাল পর্যন্ত আল-মুখতার মরক্কোতে পড়াশোনা করেন। পড়াশোনা শেষে ফিরে আসার পর, তিনি দূর সম্পর্কের এক চাচাতো বোনকে বিয়ে করেন। [২] তবে, এটি তার পাণ্ডিত্যের জীবনের প্রাথমিক উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ, যার মধ্যে তার ছেলের হস্তলিপিও রয়েছে। [৫] আল-মুখতার তার শিক্ষাজীবনে বা তার বাকি জীবনের সময় পশ্চিম আফ্রিকা ত্যাগ করেননি।
ক্যারিয়ার
[সম্পাদনা]সিদি আলীর মৃত্যুর পর আল-মুখতার শেখ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি আজওয়াদে তার ঘাঁটি বা খানকাহ স্থাপন করেন, যার অবস্থান প্রায় ২৫০ মাইল (৪০০ কিলোমিটার) টিম্বাকটুর উত্তর-পূর্বে। আজাওয়াদে থেকেই তিনি উপজাতীয় বিরোধের মধ্যস্থতা ও মীমাংসা করেন, বিশেষ করে কুন্তা এবং বারাবিশদের মধ্যে মীমাংসা ছিল অন্যতম। [২] আল-মুখতার আল-কুন্তির পাণ্ডিত্য এবং আধ্যাত্মিক গুণাবলীর পাশাপাশি অসাধারণ নেতৃত্বের ক্ষমতাও ছিল। ১৭৫৭ সাল থেকে, ইতিমধ্যেই কুন্তার নেতা হিসেবে স্বীকৃত এবং শীঘ্রই অন্যান্য সমস্ত কাদিরি শেখদের দ্বারা, তিনি এই অঞ্চলের তুয়ারেগ জনগণের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তিতে ক্রমশ জোড়ালো ভূমিকা রাখেন । [১]
অবশেষে আল-মুখতার নাইজার নদীর বাঁকের আশেপাশের বৃহৎ অঞ্চলে সর্বসাধারণের স্বীকৃত আধ্যাত্মিক নেতা হয়ে ওঠেন। এই অঞ্চলে আইওয়েলেম্মেডান জনগণ ছিল প্রভাবশালী যোদ্ধা এবং কুন্তারা বাণিজ্যে যেমন উন্নতি করে, তেমনি পাশাপাশি ধর্মীয় বিষয়ে নেতৃত্ব প্রদানেও আধিপত্য বিস্তার করে। [৬]
তিনি উল্লিমিডেন উপজাতি প্রধান কাওয়া আগ আম্মাকে আধ্যাত্মিক উপদেশ দিয়েছিলেন।
সিদি আল-মুখতার, হিজরি ১২২৬ সালে ৮২ বছর বয়সে মারা যান। (১৮১১খ্রিস্টীয় সন) এবং তার পুত্র মুহাম্মদ এবং তারপর তার নাতি আহমেদ আল-বাক্কাই তার স্থলাভিষিক্ত হন। [২]
প্রভাব
[সম্পাদনা]আল-মুখতার আল-কুন্তি যেমন একজন প্রখ্যাত আধ্যাত্মিক নেতা ছিলেন, তেমনি একজন লেখক ছিলেন। ইসলামের বিভিন্ন দিক এবং এর অনুশীলনের উপর তিনি তিনশত গ্রন্থ লিখেছেন বলে জানা যায়। [৬]
তিনি নিজেকে একজন মুজাদ্দিদ হিসেবে দেখতেন এবং ভাবতেন যে তিনি নবীর দ্বারা অনুপ্রাণিত, যিনি তাঁর কাছে আবির্ভূত হয়ে বলেছিলেন, "তুমিই আমার পথ সংস্কারের জন্য প্রকৃত বার্তাবাহক।" তাঁর লেখায় তিনি তাবিজ ও তাবিজের মতো জিনিসগুলির এবং মূলত অর্থের প্রতি আগ্রহী ক্রমবর্ধমান সংখ্যক মাল্লামের তীব্র বিরোধিতা করেন। [৭]
নোট এবং রেফারেন্স
[সম্পাদনা]মন্তব্য
.mw-parser-output .reflist-columns-2{column-width:30em}.mw-parser-output .reflist-columns-3{column-width:25em}body.skin-vector-2022 .mw-parser-output .reflist-columns-2{column-width:27em}body.skin-vector-2022 .mw-parser-output .reflist-columns-3{column-width:22.5em}.mw-parser-output .references[data-mw-group=upper-alpha]{list-style-type:upper-alpha}.mw-parser-output .references[data-mw-group=upper-roman]{list-style-type:upper-roman}.mw-parser-output .references[data-mw-group=lower-alpha]{list-style-type:lower-alpha}.mw-parser-output .references[data-mw-group=lower-greek]{list-style-type:lower-greek}.mw-parser-output .references[data-mw-group=lower-roman]{list-style-type:lower-roman}.mw-parser-output div.reflist-liststyle-upper-alpha .references{list-style-type:upper-alpha}.mw-parser-output div.reflist-liststyle-upper-roman .references{list-style-type:upper-roman}.mw-parser-output div.reflist-liststyle-lower-alpha .references{list-style-type:lower-alpha}.mw-parser-output div.reflist-liststyle-lower-greek .references{list-style-type:lower-greek}.mw-parser-output div.reflist-liststyle-lower-roman .references{list-style-type:lower-roman}
- 1 2 3 Fage ও Tordoff 2002, পৃ. 193।
- 1 2 3 4 5 Hunwick 2004, পৃ. 613।
- ↑ Willis 1979, পৃ. 6।
- ↑ Hall 2011, পৃ. 63।
- ↑ al-Kuntī, Muḥammad ibn al-Mukhtār (১৯৯৪)। al-Ṭarāʾif wa-l-talāʾid (Arabic ভাষায়)। al-Maʿhad al-Mūrītānī li-l-baḥth al-ʿilmī।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক) - 1 2 Fage ও Tordoff 2002, পৃ. 194।
- ↑ Willis 1989, পৃ. 44।