মুক্তি (স্বামী বিবেকানন্দের কবিতা)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মুক্তি
To the Fourth of July
 
স্বামী বিবেকানন্দ
Swami Vivekananda-1893-09-signed.jpg
প্রথম প্রকাশিত ১৮৯৮
দেশ ভারত
ভাষা ইংরেজি (পরে বাংলায় অনূদিত)


মুক্তি (মূল ইংরেজিতে: টু দ্য ফোর্থ অফ জুলাই) হল স্বামী বিবেকানন্দের লেখা একটি ইংরেজি কবিতা। ১৮৯৮ সালের ৪ জুলাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের স্মরণে তিনি এই কবিতাটি রচনা করেন।[১][২] ব্রহ্মচারী পূর্ণচৈতন্য মুক্তি শিরোনামে এটি বাংলায় অনুবাদ করেন।

এই কবিতায় বিবেকানন্দ স্বাধীনতার প্রশংসা করেছেন। কবিতার মধ্যে স্বাধীনতার প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা লক্ষিত হয়। ঘটনাচক্রে বিবেকানন্দও ১৯০২ সালের ৪ জুলাই মারা যান।[৩][৪]

প্রেক্ষাপট[সম্পাদনা]

১৮৯৩ সালে বিবেকানন্দ বিশ্বধর্ম মহাসভায় ভারত ও হিন্দুধর্মের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যান। মহাসভায় সাফল্য অর্জনের পর ১৮৯৩ থেকে ১৮৯৭ সাল পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইংল্যান্ডের নানা স্থান ভ্রমণ করে ধর্ম ও বেদান্ত বিষয়ে অনেকগুলি বক্তৃতা দেন। ১৮৯৭ সালে তিনি ভারতে ফিরে আসেন। এরপর ১৮৯৭ থেকে ১৮৯৯ সাল পর্যন্ত ভারতের নানা স্থান ভ্রমণ করেন।

১৮৯৮ সালে তিনি কাশ্মীরে যান। সেখানে তিনি ডাল লেকের একটি হাউসবোটে ছিলেন। কাশ্মীরে কয়েকজন আমেরিকান ও ইংরেজ শিষ্যের সঙ্গে বাস করার সময় বিবেকানন্দ ৪ জুলাই এই কবিতাটি রচনা করেন। এই কবিতা রচনা ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের একটি অঙ্গ। সেই দিন প্রাতঃরাশের সময় তাঁকে এই কবিতাটি পড়ে শোনাতে অনুরোধ করা হয়েছিল।[৫][৬][৭]

বিষয়বস্তু[সম্পাদনা]

১৮৯৮ সালে কাশ্মীরে বিবেকানন্দ

এই কবিতায় আমেরিকার স্বাধীনতার প্রশংসা করা হয়েছে।[৩] এই কবিতায় বিবেকানন্দ "ফ্রিডম" ও "লিবার্টি" শব্দদুটি ব্যবহার করেছেন ভিন্নভাবে। এই কবিতাটি বিবেকানন্দের স্বাধীনতা-আকাঙ্ক্ষার পরিচায়ক।[২][৮] লেখক কেয়ারব্যানু কুপারের মতে, যদিও বিবেকানন্দ ৪ জুলাইকে উদ্দেশ্য করে কবিতাটি লিখেছেন, তবুও এই কবিতায় তাঁর মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল একটি জাতীয় উৎসব ও তার চিরায়ত ধারণার বিমূর্ত ও মূর্ত ধারণাগুলির মিশ্র প্রকাশ।[৬]

কবিতায় বিবেকানন্দ বলেছেন, স্বাধীনতা অর্জনের দিকে কালো মেঘ সরে যায় ও নতুন দিন আসে। সেই আলোকোজ্জ্বল নতুন দিনের বিস্তারিত বর্ণনাও তিনি দিয়েছেন।[৭] শেষ পংক্তিতে তিনি পৃথিবীর প্রতিটি দেশ, নর ও নারীর স্বাধীনতা প্রার্থনা করেছেন।[১]

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ Studies in Indian Poetry in English। Sarup & Sons। ১ জানুয়ারি ২০০২। পৃ: 25–। আইএসবিএন 978-81-7625-265-2। সংগৃহীত ৩১ মে ২০১৩ 
  2. ২.০ ২.১ Gopal Shrinivas Banhatti (১ জানুয়ারি ১৯৯৫)। Life And Philosophy of Swami Vivekananda। Atlantic Publishers & Dist। পৃ: 239–। আইএসবিএন 978-81-7156-291-6। সংগৃহীত ৩১ মে ২০১৩ 
  3. ৩.০ ৩.১ Haresh Patel (১ মার্চ ২০০৯)। Thoughts From The Cosmic Field in the Life of a Thinking Insect [A Latter-Day Saint]। Strategic Book Publishing। পৃ: 357–। আইএসবিএন 978-1-60693-846-1। সংগৃহীত ৩১ মে ২০১৩ 
  4. Chaturvedi Badrinath (২০০৬)। Swami Vivekananda: The Living Vedanta। Penguin Books India। পৃ: 409–। আইএসবিএন 978-0-14-306209-7। সংগৃহীত ৩১ মে ২০১৩ 
  5. "Regarding Swami's death"। Vivekananda,net। সংগৃহীত ৩১ মে ২০১৩ 
  6. ৬.০ ৬.১ "Poems written by Vivekananda"। ikashmir। সংগৃহীত ৩১ মে ২০১৩ 
  7. ৭.০ ৭.১ "To the Fourth of July poem"। Vedantadc। সংগৃহীত ৩১ মে ২০১৩ 
  8. "Swami Vivekananda in Kashmir"। Viasta, Kashmir Sabha। সংগৃহীত ৩১ মে ২০১৩