মিহির কুমার বসু

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মিহির কুমার বসু
জন্ম(১৯৩৩-০৯-০১)১ সেপ্টেম্বর ১৯৩৩
মৃত্যু১ অক্টোবর ২০০৯(2009-10-01) (বয়স ৭৬)
কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত
জাতীয়তাভারতীয়
মাতৃশিক্ষায়তন
পরিচিতির কারণআগ্নেয় শৈলতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা
পুরস্কার
বৈজ্ঞানিক কর্মজীবন
কর্মক্ষেত্র
প্রতিষ্ঠানসমূহ
ডক্টরেট উপদেষ্টা
  • এস. রায়
  • টম এফ. ডাব্লিউ. বার্থ

মিহির কুমার বসু (১৯৩৩-২০০৯) ছিলেন একজন ভারতীয় বাঙালি ভূতত্ত্ববিদ এবং কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজের অধ্যাপক । [১] তিনি আগ্নেয় শৈলতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করার জন্য অধিক পরিচিত ছিলেন।[২] তিনি ভারতীয় ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর, ভারতীয় জাতীয় বিজ্ঞান একাডেমি,[৩] এবং ভারতীয় বিজ্ঞান একাডেমির ফেলো নির্বাচিত হয়েছিলেন। [৪] ১৯৭৬ সালে বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য ভারত সরকারের শীর্ষস্থানীয় সংস্থা বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ) তাকে পৃথিবী, বায়ুমণ্ডল, মহাসাগর ও গ্রহ এবং এসম্পর্কিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন বিষয়াদিতে অবদানের স্বীকৃতিতে শান্তি স্বরূপ ভটনাগর পুরস্কার প্রদান করে। এটি ভারতীয় সর্বোচ্চ বিজ্ঞান পুরস্কারগুলোর মধ্যে একটি।[৫]

জীবনীক্রম[সম্পাদনা]

মিহির কুমার বসু ১৯৩৩ সালের ১লা সেপ্টেম্বর বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞানে (বিএসসি অনার্স) স্নাতক এবং একই প্রতিষ্ঠান থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করার পরে ১৯৫৬ সালে তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজের ভূতত্ত্ব বিভাগের অনুষদের একজন সদস্য হিসেবে যোগদান করেছিলেন।[৬] একই সাথে, তিনি এস. রায়ের নির্দেশনায় ডক্টরাল অধ্যয়ন করেন এবং ১৯৬৫ সালে পিএইচডি অর্জন নিশ্চিত করেন। তিনি শৈলতাত্ত্বিক-খনিজ সংক্রান্ত গবেষণায় আলোকপাতপূর্বক বিখ্যাত শৈলতত্ত্ববিদ টম এফ. ডাব্লিউ. বার্থের অধীনে অসলো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরাল পরবর্তী কাজগুলো সম্পন্ন করেছিলেন। ভারতে ফিরে আসার পরে তিনি প্রেসিডেন্সি কলেজে পুনরায় দায়িত্ব শুরু করেন এবং ১৯৯৩ সালে চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পূর্ব পর্যন্ত ভূতত্ত্ব পাঠক ও অধ্যাপকের দায়িত্ব পালন করেন। [১] অবসর গ্রহণের পরে তিনি বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের এমেরিটাস বিজ্ঞানী এবং ভারতীয় জাতীয় বিজ্ঞান একাডেমির সম্মানসূচক বিজ্ঞানী হিসাবে যথাক্রমে ১৯৯৩—১৯৯৭ এবং ২০০১—২০০৪ সাল পর্যন্ত গবেষণা চালিয়ে যান। [৩] তিনি ২০০৯ সালের ১লা অক্টোবর ৭৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। [৪]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

মিহির বসু বিভিন্ন রাসায়নিক পরিবেশ এবং বিভিন্ন চাপ-তাপমাত্রার পরিস্থিতি থেকে সংগ্রহ করা শৈলগঠনের খনিজগুলি ব্যবহার করে তাদের রাসায়নিক শৈলতত্ত্বের উপর জোর দিয়ে ভারতের ক্ষারীয় শিলা এবং অ্যানোরথোসাইট নিয়ে গবেষণা করেছিলেন। [৭] তার গবেষণাগুলো ঝাড়খণ্ড রাজ্যের সিংভূম অঞ্চলের বিভিন্ন আলট্রামাফিক পাথরের মধ্যে পার্থক্য চিহ্নিত করার জন্য চৌম্বকীয় পার্থক্য বুঝতে এবং ভূ-রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহারকে আরও প্রশস্ত করতে সহায়তা করেছিল। এর পাশাপাশি শৈলতাত্ত্বিক নামকরণ এবং শ্রেণিবিন্যাসেও তার উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। তার গবেষণাগুলো ইগনিয়াস পেট্রোলজি (আগ্নেয় শৈলতত্ত্ব) নামক একটি বই [৮] এবং বেশ কয়েকটি যূথ-পর্যালোচিত নিবন্ধ হিসাবে নথিভুক্ত হয়েছে;[৯] [১০] ভারতীয় বিজ্ঞান একাডেমির নিবন্ধ ভাণ্ডার এগুলোর বেশ কয়েকটি তালিকাভুক্ত করেছে। [১১] তিনি আন্তর্জাতিক ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান সংঘ এবং ভারত সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পর্কিত জাতীয় কমিটি কর্তৃক গঠিত আগ্নেয় শিলার শ্রেণিবিন্যস্তকরণ এবং নামকরণ বিষয়ক উপকমিশনেও যুক্ত ছিলেন। তিনি ২০০৪—২০০৬ সাল পর্যন্ত ভারতের ভূতাত্ত্বিক খনন ও ধাতুবিৎ সমিতির তত্ত্বাবধান করেছিলেন, পাশাপাশি ভারতীয় ভূরসায়নবিদ অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি এবং ভারতীয় ভূবিজ্ঞান জার্নালের সম্পাদক (১৯৭২-৭৯) হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। [৩]

পুরস্কার ও সম্মাননা[সম্পাদনা]

বসু ১৯৭২ সালে জাতীয় খনিজ পুরস্কার এবং ২০০৬ সালে এশিয়াটিক সোসাইটির পিএন বসু মেমোরিয়াল স্বর্ণপদক পেয়েছিলেন। [৩] এর মধ্যে ১৯৭৬ সালে বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ তাকে শান্তি স্বরূপ ভটনাগর পুরস্কার প্রদান করে, যা ভারতের অন্যতম সর্বোচ্চ বিজ্ঞান পুরস্কার। [১২] ১৯৭৭ সালে ভারতীয় জাতীয় বিজ্ঞান একাডেমি তাকে তাদের ফেলো হিসাবে নির্বাচিত করে এবং ১৯৮৩ সালে তিনি ভারতীয় বিজ্ঞান একাডেমির ফেলো নির্বাচিত হয়েছিলেন। [৪] তিনি ভারতের ভূতাত্ত্বিক সমিতিরও নির্বাচিত ফেলো ছিলেন।

নির্বাচিত গ্রন্থপঞ্জি[সম্পাদনা]

বই[সম্পাদনা]

নিবন্ধ[সম্পাদনা]

  • মিহির কুমার বসু (জুলাই ১৯৫৯)। "ব্লিচড হর্নব্লেন্ড বিষয়ে একটি নোট": ১৭৭–১৭৮। ডিওআই:10.1180/minmag.1959.32.245.11 
  • মিহির কুমার বসু (জুন ১৯৬৪)। "উড়িষ্যার কোরাপুতের ক্ষারীয় শিলাগুলোর অ্যাম্ফিবোলস": ৯১২–৯১৭। ডিওআই:10.1180/minmag.1964.033.265.07 
  • মিহির কুমার বসু (১৯৭৩)। "ভারতের গুজরাত প্রদেশের গিরনার পাহাড়ের আগ্নেয় ক্ষেত্রসমূহের ভূরসায়ন ও শৈলতত্ত্ব": ২৪৭–২৬৬। ডিওআই:10.1007/BF00383107 
  • চক্রবর্তী, মানস কুমার; বসু, মিহির কুমার (১৯৮৫)। "মূখ্য ও চিহ্নিত উপাদানসমূহ ব্যবহার করে পূর্ব ভারতের প্রিক্যামব্রিয়ান ডালমা আগ্নেয়গিরির বেল্টের গঠনাত্মক বিন্যাসের বিবর্তন": ২৫৩–২৬৮। ডিওআই:10.1016/0301-9268(85)90033-6 
  • বসু, মিহির কুমার (১৯৯৪)। "পূর্ব ভারতীয় ঢালে প্রোটেরোজিক সিংহভূম অববাহিকার পলিতকরণ বিন্যাস এবং গঠনাত্মক বিবর্তন": ৩২৫–৩৪৬। ডিওআই:10.1016/0040-1951(94)90042-6 

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "History"। Presidency University, Kolkata। ২০১৬। 
  2. "Brief Profile of the Awardee"। Shanti Swarup Bhatnagar Prize। ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ১২ নভেম্বর ২০১৬ 
  3. "Deceased fellow"। Indian National Science Academy। ২০১৬। ১২ আগস্ট ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  4. "Fellow profile"। Indian Academy of Sciences। ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ১২ নভেম্বর ২০১৬ 
  5. "View Bhatnagar Awardees"। Shanti Swarup Bhatnagar Prize। ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ১২ নভেম্বর ২০১৬ 
  6. "Mihir Kumar Bose (1933-2009)"Obituary। Geological Survey of India। ২০১৬। 
  7. "Handbook of Shanti Swarup Bhatnagar Prize Winners" (পিডিএফ)। Council of Scientific and Industrial Research। ১৯৯৯। ৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল (পিডিএফ) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১০ ডিসেম্বর ২০১৬ 
  8. Mihir K. Bose (২০১০)। Igneous Petrology। World Press। আইএসবিএন 9788187567783। ৩ মে ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  9. "On Geosocindia"। Geological Society of India। ২০১৬। 
  10. Please see Selected bibliography section
  11. "Browse by Fellow"। Indian Academy of Sciences। ২০১৬। 
  12. "Earth Sciences"। Council of Scientific and Industrial Research। ২০১৬। ২০১৬-০৩-০৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]