বিষয়বস্তুতে চলুন

মিহর নিগার খানম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মিহর নিগার খানম
মোগলিস্তানের রাজকুমারী
সমরকন্দের রাজমহিষী
বোখারার রাজমহিষী
শায়বানি সাম্রাজ্যের রাজমহিষী
দাম্পত্য সঙ্গীসুলতান আহমেদ মির্জা
মুহাম্মদ শায়বানি
পূর্ণ নাম
মিহর নিগার
রাজবংশবোরজিগিন (জন্মসূত্রে)
পিতাইউনূস খান
মাতাআইসান দৌলত বেগম
ধর্মসুন্নি ইসলাম

মিহর নিগার খানম (চাগাতাই এবং ফার্সি: مهر نگار خانم) ছিলেন সমরকন্দ ও বোখারার রাজা সুলতান আহমেদ মির্জার প্রথম স্ত্রী। তিনি জন্মসূত্রে মোগলিস্তানের একজন রাজকুমারী ছিলেন এবং মোগলিস্তানের গ্রেট খান ইউনূস খান ও তার প্রধান মহিষী আইসান দৌলত বেগমের জ্যেষ্ঠ কন্যা ছিলেন। তিনি ভারতের মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রথম সম্রাট বাবরের খালা ছিলেন।[১][২]

১৫০০ সালের জুলাই মাসে তার স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি উজবেকদের খান মুহাম্মদ শায়বানির হাতে বন্দি হন এবং যুদ্ধের লুণ্ঠিত অংশ হিসেবে তাকে জোরপূর্বক শায়বানির সাথে বিবাহ দেওয়া হয়।

পরিবার ও বংশধারা

[সম্পাদনা]

মিহর নিগার খানম মোগলিস্তানের রাজকুমারী হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মোগলিস্তানের গ্রেট খান ইউনূস খান এবং তার প্রধান মহিষী আইসান দৌলত বেগমের জ্যেষ্ঠ কন্যা ছিলেন।[৩] তার দাদা ছিলেন ওয়াইস খান, যিনি মোগলিস্তানের মোগল খান এবং তার পিতার পূর্বসূরি ছিলেন। এভাবে মিহর নিগার খানম সরাসরি মঙ্গোল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা এবং গ্রেট খান (সম্রাট) চেঙ্গিজ খানের বংশধর ছিলেন।


তার দুই ছোট বোন ছিলেন কুতলুগ নিগার খানম এবং খুব নিগার খানম।[৩] কুতলুগ পরবর্তীতে সুলতান আহমেদ মির্জার ভাই দ্বিতীয় উমর শেখ মির্জাকে বিবাহ করেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

একজন খানের কন্যা হিসেবে মিহর নিগার "খানম" উপাধি নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

বিবাহসমূহ

[সম্পাদনা]

সুলতান আহমেদ মির্জা

[সম্পাদনা]

মিহর নিগার খানম আবু সাঈদ মির্জার জ্যেষ্ঠ পুত্র এবং উত্তরাধিকারী সুলতান আহমেদ মির্জার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।[৩] ১৪৯৪ সালে আহমেদের মৃত্যু পর্যন্ত তিনি তার হেরেমেই ছিলেন।[৪]

শায়বানি খান উজবেক

[সম্পাদনা]

১৫০০ সালের জুলাই মাসের শুরুতে তিনি শায়বানির হাতে বন্দি হন এবং শায়বানি তাকে বিবাহ করেন। ১৫০০-০১ সালের দিকে শায়বানি যখন মিহর নিগারের ভাগ্নি খানজাদা বেগমকে বিবাহ করার ইচ্ছা পোষণ করেন, তখন নিগারকে তালাক দেওয়া হয়। এরপর তিনি কিছুকাল সমরকন্দে অবস্থান করেন। ১৫০১-০২ সালে তিনি তাশখন্দে যান এবং সেখানে সমবেত হওয়া বড় পারিবারিক দলের সাথে যোগ দেন। ১৫০৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে তার মা ও পিতার মৃত্যুর পর এবং তার বোন কুতলুগ নিগার খানমের মৃত্যুর শোকাচরণের সময় তিনি অন্যান্য আত্মীয়দের সাথে কাবুলে আসেন। বাবর তার রোজনামচায় লিখেছেন, "আমাদের শোক আবার নতুন করে জেগে উঠল।"

মির্জা হায়দার ১৫০৬-০৭ সালের একটি মনোরম বর্ণনা দিয়েছেন যখন বাবর কাবুল বিদ্রোহ দমন করার পর তার খালা মিহর নিগারকে স্বাগত জানিয়েছিলেন: "সম্রাট লাফিয়ে উঠে তার প্রিয় খালাকে গভীর স্নেহে আলিঙ্গন করলেন। খানম তাকে বললেন: 'তোমার সন্তান, স্ত্রী এবং পরিবার তোমাকে দেখার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। আমি কৃতজ্ঞ যে তোমাকে আবার দেখার সুযোগ পেলাম। এখন প্রাসাদে তোমার পরিবারের কাছে যাও। আমিও সেখানে যাচ্ছি।'"

১৫০৭ সালে যখন খান মির্জা তার দাদি শাহ বেগমের সাথে তাদের পূর্বপুরুষের ভূমি বদখশানে ভাগ্য পরীক্ষার জন্য রওনা হন, তখন মিহর নিগারও তাদের সাথে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। বাবর লিখেছেন, "তার জন্য আমার সাথেই থেকে যাওয়া বেশি ভালো এবং শোভনীয় হতো। আমিই ছিলাম তার নিকটতম আত্মীয়। কিন্তু আমি তাকে যতবারই নিষেধ করলাম, তিনি তার সিদ্ধান্তে অটল থাকলেন এবং বদখশানের পথে রওনা হলেন।"

মৃত্যু

[সম্পাদনা]

মিহর নিগার তার নিজের একগুঁয়েমি সিদ্ধান্তের জন্য অনুশোচনা করেছিলেন। তিনি এবং শাহ বেগম কিলা জাফরের পথে আবু বকর দুঘলাতের একটি 'লুটেরা দল' দ্বারা বন্দি হন। সেই পাপিষ্ঠের কারাগারেই তারা এই নশ্বর পৃথিবী থেকে বিদায় নেন।[৫]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. ↑ Bābur (Mogulreich, Kaiser), John Leyden, William Erskine (১৮২৬)। Memoirs of Zehir-ed-Din Muhammed Baber, Emperor of Hindustan। Longman।{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: একাধিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক)
  2. ↑ Babur (Emperor of Hindustan) (২০০৬)। Babur Nama: Journal of Emperor Babur। Penguin Books India। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৪৪-০০১৪৯-১।
  3. 1 2 3 Lal, Ruby (২০০৫)। Domesticity and power in the early Mughal world। Cambridge: Cambridge University Press। পৃ. ৮৪। আইএসবিএন ৯৭৮০৫২১৮৫০২২৩।
  4. ↑ Dughlt, Mirza Muhammad Haidar (২০০৮)। Elias, N. (সম্পাদক)। A History of the Moghuls of Central Asi: The Tarikh-i-Rashidi। Cosimo, Inc.। পৃ. ৯৬। আইএসবিএন ৯৭৮-১৬০৫২০১৫০৪।
  5. ↑ Begum, Gulbadan (1902). The History of Humayun (Humayun-Nama). Royal Asiatic Society. আইএসবিএন ৮১৮৭৫৭০৯৯৭.

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]